বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

অগ্নিদুর্ঘটনা : প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ নির্দেশনা

4-9-2019 6-51-16 PMউত্তরণ ডেস্ক: সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন ভবনে অগ্নিদুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে অগ্নিনিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি বনানীতে অগ্নিকা-েÑ হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে গত ১ এপ্রিল মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ-কথা বলেন। এছাড়া মন্ত্রীদের আবারও হুঁশিয়ার করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। না হলে ছিটকে পড়বেন। কে কী করছেন সব খবর আছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যখন ভবন তৈরি করা হবে, তখন ফায়ার সার্ভিস একটি ক্লিয়ারেন্স দেয়, এ ক্লিয়ারেন্স যথেষ্ট নয় এর সঙ্গে পরিদর্শন করে এটা ‘ভায়াবল’ কি না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ফায়ার সেফটির বিষয়টি নিয়মিত ইন্সপেকশন (পরিদর্শন) করা। ফায়ার সার্ভিস যে অনুমোদনটা দেয়, এটা ইন্ডাস্ট্রির মতো প্রতি বছর একবার করে নবায়ন করা যায় কি নাÑ সেটা দেখা।
প্রধানমন্ত্রী বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। ফ্রিকোয়েন্টলি এক থেকে তিন মাসের মধ্যে বা সুবিধামতো সময়ে অগ্নিমহড়া করা। যাতে সবাই সচেতন হয়। ধোঁয়ায় শ্বাসবন্ধ হয়ে অনেকে মারা যায়, ধোঁয়া কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিছু বিকল্প ব্যবস্থা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে। ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আগুনে মৃত্যুর হার অনেকটা কমে যাবে। ধোঁয়া বন্ধ করার টেকনিক যেটা আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে নেওয়া হয় সেটা আমরা কীভাবে নিতে পারি তা দেখাতে হবে। তিনি বলেন, পানির অভাবে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে পারে না। পানির অভাবজনিত সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ঢাকায় যে খাল, ডোবা, ঝিল ছিল তা বন্ধ হয়ে গেছে। যেখানে যেখানে সম্ভব জলাধার তৈরি করে পানির অভাব পূরণ করতে হবে। ভরাট হয়ে যাওয়া লেকগুলো সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধানমন্ডি ও গুলশান লেক এগুলো যাতে কেউ দখল করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। এখন ফায়ার সার্ভিসের সাকুল্যে ৩টি ল্যাডার আছে, যেগুলো ২৩ তলা পর্যন্ত যেতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও ল্যাডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
পরিবেশ ও বাস্তবতার দিকে চিন্তা করে যাতে স্থপতিরা প্ল্যানটা করেন। ঘর যেগুলো তৈরি করা হয় তা অনেকটা ম্যাচ বাক্সের মতো। এখানে কোনো দরজা-জানালা থাকে না, গ্লাস দিয়ে ব্লক, এসি করা। এবার এটা ভেঙে বেরোতে হয়েছে। এজন্য দরজা, জানালা বা বারান্দা থাক, তবে বের হওয়ার একটা সুযোগ যেন থাকে। ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা। শুধু হাইরাইজ নয়; প্রতিটি দালানে শতভাগ ফায়ার এক্সিট নিশ্চিত করা, যাতে সবাই যেতে পারে।
অনেক স্থানে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে দরজা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফায়ার এক্সিটগুলো সবসময় ওপেন থাকবে। এটা ইলেকট্রনিক সিস্টেম দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করলে যখন ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফেইল করবে বিদ্যুৎ থাকবে না তখন এটা চলবে না। এজন্য এটা যাতে ম্যানুয়ালি হ্যান্ডেল করা যায় এভাবে রাখতে হবে। তিনি বলেন, অনেক দেশে আছে তারপলিনে ঝুলে মানুষ নামতে পারে। এ সিস্টেমটা যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। শুধু ফায়ার সার্ভিস করবে তা নয়। তারপলিনে ঝুলে একসঙ্গে অনেক লোক উঁচু ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। লাফ দিয়ে পড়ার কারণে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে, মারাও গেছে। তারপলিন থাকলে এটা করা লাগবে না। অনেক জায়গায় নেট সিস্টেম আছে। সেটা ধরে ধরে নামা যায়। বিশেষ করে হাসপাতাল ও স্কুলগুলো যেখানে লোক সমাগম বেশি হয়, ওখানে অবশ্যই বারান্দা বা খোলা জায়গা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর’ যারা করে তারা অনেক সময় এগুলো ব্লক করে দেয়, এটা যেন না করে। আগুন লাগার সময় অনেকে লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু সারাবিশ্বেই আগুন লাগার সময় লিফট ব্যবহার করা নিষেধ। এ জিনিসগুলো ট্রেনিং কিংবা সচেতনতার অভাব আছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। প্রত্যেকটি ভবনে যেন কমপক্ষে একাধিক বের হওয়ার পথ থাকে। অনেক সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে মারা যায়। এটা যেন না হয়Ñ সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*