বিভাগ: প্রবন্ধ

আওয়ামী লীগ : বঙ্গবন্ধুর কিছু ভাবনা

june2018সরদার মাহামুদ হাসান রুবেল: বঙ্গবন্ধুর ভাবনার বহিঃপ্রকাশ হলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যে দলের সৃষ্টি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের রাজনৈতিক ইতিহাস। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে এমন আওয়ামী লীগের স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধু মুুজিব। যে দল জনগণকে করবে প্রজাতন্ত্রের মালিক। জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংরক্ষণ করতে থাকবে বদ্ধপরিকর। বঙ্গবন্ধু তার সমস্ত স্বত্বাকে নিবেদন করেছিলেন জনগণের ভাষা শেখার কাজে। লক্ষ কোটি মানুষ যখন নিজেদের সুখ-দুঃখ কষ্ট-ভালোবাসা জীবনায়নে ব্যস্ত, তখনই যে অব্যক্ত ভাষার সৃষ্টি হয় সেই ভাষাটি পড়তে শিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তারই ভাবনার ওপর ভিত্তি করে তিনি রচনা করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ধাপে ধাপে আওয়ামী লীগ বাংলার মানুষের অনেক গভীরে চলে গেছে। বঙ্গবন্ধু একসময় তৃপ্ত হয়েছেন যখন দেখেছেন তার নিজের হাতে গড়া সংগঠন জনগণের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তার একটা নির্দেশে সমগ্র জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছে মুক্তি সংগ্রামে। তিনি জানতেন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে। সে কারণেই ৭ মার্চের ভাষণে সর্বদলীয় নয় শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলতে বলেছিলেন।
ভারত ভাগের সময়, সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের সম্পৃক্ত থাকলেও বঙ্গবন্ধু তখনও স্বাধীন বাংলার পক্ষে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে ঢাকার অনুষ্ঠিত সাহিত্য সম্মেলনে আগত অন্নদা শঙ্কর রায় বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে জানতে চেয়েছিলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের কথা আপনি কবে থেকে ভাবতে শুরু করলেন?’ এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘শুনতে চান, ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্টের আগে থেকে।’ ভারত পাকিস্তান ভাগের সময় ১৪ বা ১৫ আগস্ট আগের কলকাতার পার্ক সার্কাসের একটি বাসায় মুসলিম ছাত্রদের এক বৈঠকে শেখ মুজিব তার এই চিন্তাধারা ও মতামত সহকর্মীদের কাছে প্রকাশ করেছিলেন। এ কারণেই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও বঙ্গবন্ধুর ভাবনায় গঠিত আওয়ামী লীগের ইতিহাস এ সূত্রে গ্রথিত। দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে উপমহাদেশে পাক-ভারত বিভক্তির পরপরই আটচল্লিশ বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের ভেতর দিয়ে নতুনভাবে আমাদের জাতিসত্ত্বার ভ্রƒণ থেকে তিনি সংগঠিত করেন ‘ছাত্রলীগের’। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ সংগঠনের দিকে নজর দিলাম। প্রায় সকল কলেজ ও স্কুলে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠল। বিভিন্ন জেলায় ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে উঠতে লাগলো (পৃষ্ঠা-১০৯)।’ ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগ কাউন্সিল উদ্বোধনী ভাষণে ছাত্রলীগ সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমরা ভাষার ওপর এ আঘাত সহ্য করতে পারলাম না। তারই ফলশ্রুতিতে আটচল্লিশ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্ম হয়। ১১ মার্চ তারিখে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন শুরু করি।’ কেন আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছে? সেদিন তার ব্যাখ্যায় বলেছিলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য চারটি জিনিসের প্রয়োজন এবং তা হচ্ছে নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন। আমি আনন্দের সাথে বলতে পারি যে, আওয়ামী লীগের ১৯৪৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত নেতৃত্ব ছিল। নিঃস্বার্থ কর্মী ছিল সংগঠন ছিল। এই ভিত্তির ওপর সংগ্রামে এগিয়ে গিয়ে আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টি করতে পেরেছে।’ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শুধু একটা কথা বলে যাইÑ শেষ কথা আমার যে কথা আমি বারবার বলেছিÑ সোনার বাংলা গড়তে হবে। এটা বাংলার জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের প্রতিজ্ঞা। আমার আওয়ামী লীগের কর্মীরা যখন বাংলার মানুষকে বলি তোমরা সোনার মানুষ হও তখন তোমাদেরই প্রথম সোনার মানুষ হতে হবে। তাহলেই সোনার বাংলা গড়তে পারব। আর যারা দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংগ্রাম করেছেন, তারা বাংলার দুঃখী মানুষের কাছ থেকে সরে যেয়ো না।’
আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় বঙ্গবন্ধু জেলে থেকেই অনুভব করেছিলেন, ‘আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম, সময় এখনও আসে নাই। তাই যারা বাইরে আছেন চিন্তা-ভাবনা করেই করেছেন (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-১২১)।’ আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বঙ্গবন্ধু দলীয় ম্যানিফেস্টোতেই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ ৪২-দফা কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে বাংলার স্বীকৃতির জন্য জনমত গঠন। এক ব্যক্তি এক ভোট, গণতন্ত্র সংবিধান প্রণয়ন সংসদীয় পদ্ধতির সরকার, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রচলন, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদসহ প্রকৃত চাষিদের মধ্যে ভূমির পুনর্বণ্টন করবার জন্য শক্তিশালী জনমত গঠন। কর আদায়ের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া, সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ জীবনযাত্রা প্রতিষ্ঠাসহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম ও জনমত গঠন। সর্বোপরি তৎকালীন পাকিস্তানের দু-অঞ্চলের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণের জন্য জনমত গঠন করবে।
বঙ্গবন্ধু বিশ্বাস করতেন আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে মুসলিম সরকার অত্যাচার করতে সাহস পাবে না। আওয়ামী লীগ সর্বদা সকল প্রকার শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থা সুস্পষ্ট করেছে। তিনি ১৯৫৩ সালে প্রথম সাংগঠনিক রিপোর্টে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘শোষক আর শোষিতের সংঘাত ভঙ্গুর ধ্বংসোম্মুখ সমাজকে ধ্বংসের হাত হইতে উদ্ধার করিবার জন্য শোষণের অস্ত্রগুলোর ওপর আক্রমণই আমাদের প্রধান কাজ।’ রিপোর্টে কাউন্সিলারদের উদ্দেশ্যে আরও বলেছিলেন, ‘ঢাকা সিটি হইতে আরম্ভ করিয়া সুদূর মফঃস্বল পর্যন্ত সর্বশ্রেণির লোকের মধ্যে আমরা নিশ্চয়ই সমালোচনা শুনতেছি যে, আওয়ামী মুসলিম লীগ আদর্শগতভাবে সকল স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করিলেও উহার সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার জন্য সকলকে সমবেত করিতে পারিতেছে না। পূর্ব বাংলার সাধারণ নির্বাচন প্রাক্কালে এই কাউন্সিল। অধিবেশন এই দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিবেন বলিয়া আমাদের একান্ত বিশ্বাস।’ এই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে বঙ্গবন্ধু লিখেছে, ‘মওলানা ভাসানী আমি ও আমার সহকর্মীরা সময় নষ্ট না করে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করলাম। পূর্ব বাংলার জেলায়, মহকুমা, থানায় ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে এক নিঃস্বার্থ কর্মীবাহিনী সৃষ্টি করতে সক্ষম হলাম (পৃষ্ঠা-২৪৩)।’ ১৯৫৪ সালের ৪ ডিসেম্বর দলটি কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাকিস্তান গণতন্ত্র দল ও পাকিস্তান খেলাফত পার্টির সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এই সর্বদলের নেতারা আওয়ামী লীগে যোগদান করবে অথবা আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করবে। এই ঐক্য সম্পর্কে বঙ্গবন্ধুর ধারণা ছিল, ‘ক্ষমতায় যাওয়া যেতে পারে, তবে জনগণের জন্য কিছু করা সম্ভব হবে না। আর ক্ষমতা বেশি দিন থাকেও না। যেখানে আদর্শের মিল নাই সেখানে ঐক্যও বেশি দিন থাকে না (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-২৫০)।’ এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু বাংলার দুঃখী মানুষের সাথে আরও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেলেন। এই আবেগের বহিঃপ্রকাশ করতে অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মনে আছে খুবই গরিব এক বৃদ্ধ মহিলা কয়েক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে শুনেছে এই পথে আমি যাব, আমাকে দেখে আমার হাত ধরে বলল, ‘বাবা আমার এই কুড়েঘরে তোমার একটু বসতে হবে।’ আমি তার হাত ধরেই তার বাড়ি যাই। অনেক লোক আমার সাথে, আমাকে মাটিতে একটি পাটি বিছিয়ে বসতে দিয়ে এক বাটি দুধ, একটা পান ও চার আনা পয়সা এনে আমার সামনে ধরে বলল, ‘খাও বাবা, আর পয়সা কয়টা তুমি নেও, আমার তো কিছুই নাই।’ আমার চোখে পানি এল। আমি দুধ একটু মুখে নিয়ে, সেই পয়সার সাথে আরও কিছু টাকা তার হাতে দিয়ে বললাম, ‘তোমার দোয়া আমার জন্য যথেষ্ট, তোমার দোয়ার মূল্য টাকা দিয়ে শোধ করা যায় না।’ টাকা সে নিল না। আমার মাথায় মুখে হাত দিয়ে বলল, ‘গরিরের দোয়া তোমার জন্য আছে বাবা।’ নীরবে আমার চক্ষু দিয়ে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়েছিল, যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি সেই দিন আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, মানুষকে ধোঁকা আমি দিতে পারব না (পৃষ্ঠা-২৫৬)।’
২৪ বছরের পাকিস্তান শাসনামলে আওয়ামী মুসলিম লীগ আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে দু-বছর প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে ১৩ মাস কোয়ালিশন সরকারের অংশীদার ছিল।
ডায়রিতে ’৫৪ নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ কর্মীদের ভাষা আরও নিপুণভাবে পড়তে শিখেছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ও তার কর্মীর যে কোন ধরনের সাম্প্রদায়িকতাকে ঘৃণা করে। আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক নেতা-কর্মী আছে যারা সমাজতন্ত্র বিশ্বাস করে, এক তারা জানে সমাজতন্ত্রের পথই একমাত্র মুক্তির পথ। গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনগণকে শোষণ করা চলে। যারা সমাজতন্ত্র বিশ্বাস করে, তারা কোনদিন কোন রকমের সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করতে পারে না। তাদের কাছে মুসলমান, হিন্দু, বাঙালি অবাঙালি সকলেই সমান (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-২৫৮)।’ ২১ অক্টোবর ১৯৫৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত তৃতীয় সম্মেলনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১৯৫৫ সালে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে দলে ভাঙন দেখা দেয়। ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি কাগমারি সম্মেলনে দলে বিভক্তি ঘটনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় মওলানা ভাসানী ‘ন্যাপ’ নামে একটা নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৫৫-এর পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ব্যাপক গণভিত্তিক সংগঠনে পরিণত হয়। ধাপে ধাপে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কখনও কৌশলে, কখনও রাজপথের সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এগিয়ে যান। ’৫৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ-এইড দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে ৩০ মে সকলকে অবাক করে দিয়ে সংগঠনকে সুসংগঠিক করার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ’৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কয়েকবার মুক্তি পেলেও জেল গেটেই গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতি মহকুমায় এবং থানায় নিউক্লিয়াস গঠন করেন।
১৯৬২ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বিরোধীদলীয় মোর্চা জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করেন। এ জোট পাকিস্তান-ভিত্তিতে গণগন্ত্র সংগ্রাম অগ্রসর করে নিতে সচেষ্ট ছিল। অসুস্থ হয়ে বিদেশে যাওয়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনের বিরোধীকারী ডানপন্থি রাজনীতিক নুরুল আমিন এনডিএফ প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে যান। এনডিএফ’র নেতৃত্বে জনগণকে আন্দোলনকে অগ্রজ করা অসম্ভব হচ্ছিল। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে ছিলেন। এই অনুমতি নেওয়ার জন্য তিনি ১৯৬৩ সালে লন্ডনে গেলেও পুরুজ্জীবনের জন্য নেতার অনুমতি না পেয়ে ভঙ্গ মনোরথ হয়ে দেশে ফিরে এলেন।
’৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন। ১৯৬৪ সালে ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবিসহ সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার সম্বলিত বিভিন্ন প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও আন্দোলনমুখী হতে থাকে।
এই পুনরুজ্জীবন কেবল দলের ছিল বা ছিল বাঙালি সত্তারই পুনরুজ্জীবন। এর ভেতর দিয়েই বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানভিত্তিক রাজনৈতিক ধারাকে ছিন্ন করলেন। ১৯৬৬ সালে ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবি পেশ করেন। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বাঙালি মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা সাথে সাথে পূর্ব বাংলার জনগণ যেন রূপকথার গল্পের মতো সোনার কাঠির স্পর্শে জেগে ওঠে। সৃষ্টি হয় জনতার সাথে নেতার সুদৃঢ় বন্ধন। বঙ্গবন্ধু সারাবাংলার সফর শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বারবার গ্রেফতার হতে থাকেন। সর্বশেষ তাকে ৮ মে গ্রেফতার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় মনু মিয়াসহ ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়। বঙ্গবন্ধু ৮ জুন ’৬৬ ডায়েরিতে লিখেছে, ‘তবে এদের ত্যাগ বৃথা যাবে না। এই দেশের মানুষ তার ন্যায্য অধিকার আদায় করবার জন্য যখন জীবন দিতে শিখেছে তখন জয় হবেই, কেবলমাত্র সময়সাপেক্ষ (কারাগারের রোজনামচা, পৃষ্ঠা-৭৩)।’ ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তান বিছিন্ন করার অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। পরদিন ১০ লক্ষ মানুষের এক সম্বর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
এই বছর ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “এক সময় এদেশের বুক হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকু ও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে।… একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই।… জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছিÑ আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তান’-এর পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।”
১৯৭০ সালে ৪ জুন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেন, ‘বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনে আওয়ামী লীগকে একাই লড়ে যেতে হবে। আওয়ামী লীগের যে কোন বন্ধু নেই, বিগত সংগ্রামগুলো থেকে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ৬-দফা ঘোষণার সময় লাহোরে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে কেউ তাকে সমর্থন করেনি। সমর্থন পাওয়া যায়নি আইউবের গোলটেবিল বৈঠকেও।’ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সকল সদস্যের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগের দলাদলির স্থান নেই। ক্ষমতার জন্য যারা এসেছেন তার চলে যেতে পারেন। কেননা আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাজনীতি করে না। আওয়ামী লীগ চায় জনগণের মুক্তি।’ তিনি আরো বলেন, ‘৬-দফার জন্য প্রয়োজনে সব কিছু ত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত আপনারাও যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবেন। যে কোন রকম ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু কোন অবস্থায় আমি আপোষ করবো না। চারদিক থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সাবধান।’ ৭ ডিসেম্বর ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় বাংলার ইতিহাসে সৃষ্টি করল এক নবতর অধ্যায়।
১৯৭১ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু সুনির্দিষ্টভাবে বললেন, ‘৬-দফা ও ১১-দফা দাবি আদায়ের সংগ্রামে, তোমরা আমাকে সহযোগিতা করো। তোমাদের আশ্বাস দিচ্ছি, ৬-দফা ও ১১-দফা দাবি ব্যর্থ হলে কয় দফা দিতে হবে সেটা আমার জানা আছে। তবে সব কিছুই আমি চাই অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে করতে। বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে নয়। সকলে জানুক আমরা অন্যায় কিছু করিনি। আর সেজন্য চাই শান্তি ও শৃঙ্খলা। আমি তোমাদের আগামী দিনগুলোর জন্য প্রস্তুত হবার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ ও দেশবাসীকে এক আসন্ন জনযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বিজয় হলো, বাঙালির জন্ম হলো বাংলাদেশের। এই সুদীর্ঘ আন্দোলনের পথ সম্পর্ক বলতে গিয়ে ৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বলেন, ‘আমাদের অস্ত্র ছিল না। সামান্য যা জোগাড় করতে পেরেছিলাম যেগুলো সমস্ত জায়গায় বাংলাদেশের মহকুমায় পাঠানো হয়েছিল। প্রত্যেক মহকুমায় আমাদের কমান্ডার ঠিক করা ছিল। প্রত্যেক জেলায় জেলায় আমাদের কমান্ডার ঠিক করা ছিল। স্বাধীনতা আন্দোলন একদিনে হয় নাই। স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছে ২৫ বছর আগে। আওয়ামী লীগের জন্ম সংগ্রামের জন্ম। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠান জন্ম হয়েছে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠান আজ যদি মৃত্যু হয় তবে আমি দেখতে চাই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেন মৃত্যু হয়।’ এই কাউন্সিল ছিল বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগে শেষ কাউন্সিল। দীর্ঘ ভাষণে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে ভাবনার প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের অনেক সময় নষ্ট করেছি এই জন্য যে, আজ প্রয়োজন ছিল আওয়ামী লীগের কিছু ইতিহাস বলার, প্রয়োজন ছিল আপনাদের কিছু পথ দেখানোর। শুধু একটা কথা বলে যাইÑ শেষ কথা আমার যে কথা আমি বারবার বলেছি সোনার বাংলা গড়তে হবে। এটা বাংলার জনগণের কাছে আওয়ামী লীগের প্রতিজ্ঞা। আমার আওয়ামী লীগের কর্মীরা, যখন বাংলার মানুষকে বলি তোমরা সোনার মানুষ হও। তখন তোমাদেরই প্রথম সোনার মানুষ হতে হবে। তাহলেই সোনার বাংলা গড়তে পারবা। আর যারা দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সংগ্রাম করেছো, তারা বাংলার দুঃখী মানুষের কাছ থেকে সরে যেয়ো না।’
বাকশাল সম্পর্কে মুখে না বললেও আওয়ামী লীগ নিয়ে নতুন স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৪৯ সাল থেকে তোমরা এ পর্যন্ত বিপদ, মুসিবত, অত্যাচার, অবিচার, জুলুম, গুলি সব অগ্রাহ্য করে আমার পাশে দাঁড়িয়েছো। বাংলার মানুষকে স্বাধীন করার জন্য। স্বাধীন তোমরা করেছো। এবার বাংলার মানুষকে মুক্তি দিতে হবে। দিতে হবে অর্থনৈতিক মুক্তি। সমাজতান্ত্রিক সমাজ। সমাজতন্ত্র ছাড়া রাস্তা নাই। শোষণহীন সমাজ গাছ থেকে পড়ে নাই। শোষণহীন সমাজ বা সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক গড়তে হবে। ক্যাডার তৈরী করতে হবে। ট্রেনিং দিতে হবে। না হলে পারব না কিছু করতে। তোমাদের নিঃস্বার্থ কর্মী হয়ে ট্রেনিং দিতে হবে। সমাজতন্ত্রে আমরা গণতন্ত্রের মাধ্যমে যাবার চাই এবং আমরা দুনিয়াকে দেখাতে চাই যে, গণতান্ত্রিক পন্থায় নতুন সিস্টেমে আমরা শোষণহীন সমাজ গড়ে তুলব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবশ্য অনেক লোক আছে যারা সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতিকে গ্রহণ করতে পারে নাই। তার পিছন থেকে ঢেলা মারার চেষ্টা করছে। যারা প্রগতির নামে সাম্প্রদায়িকতা করছে তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। গ্রামে গ্রামে দেশের মানুষকে সংঘবদ্ধ করে বুঝতে হবে, একেই বলে সমাজতন্ত্র। একেই বলে শোষণহীন সমাজ। একে বলে সুষম বণ্টন। তাহলে বাংলার মানুষ তোমাদের পিছনে থাকবে।’
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারির এ দেশের ইতিহাসে রচিত হয়েছিল নতুন অধ্যায়ের এই দিনে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, কর্মস্থান, চিকিৎসা শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দেন। যার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি দমন : ক্ষেত-খামার ও কল-কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
আওয়ামী লীগ থেকে প্রকাশিত ‘ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থে আলমগীর সাত্তার (বীরপ্রতীক), তার সঙ্গে কথোপকথনের বাকশাল সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু মন্তব্য লিখেছেন, ‘দ্যাখ স্বাধীনতার পর থেকে গণতন্ত্রের চর্চা করে দেখলাম। অবাধ গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী পক্ষের লোকজন দেশের মধ্যে অরাজকত আর নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আমি একদল সৃষ্টি করছি সত্যি, কিন্তু সে দলে পূর্ণ গণতন্ত্র চর্চার অধিকার থাকবে। নির্বাচন সময় প্রতিটি সংসদ আসনের জন্য তিন-চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। যে প্রার্থী সৎ এবং উপযুক্ত, জনগণ তাকে ভোট দেবে। যদি দেখা যায় ওই একদলীয় ব্যবস্থা দেশের জন্য ভালো বলে প্রমাণিত হচ্ছে তবে এটা বহাল থাকবে। না হলে আবার বহুদলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া যাবে। তবে সব কিছুর আগে লুটেরাদের শেষ করতে হবে (পৃষ্ঠা-৯৭)।’
বঙ্গবন্ধু গণমানুষ ও বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য জীবনভর রাজনীতি করেছেন। স্বপ্ন দেখতেন বাংলার অগণিত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যপীড়িত জনগণের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করবেন। বাঙালি জাতির ভাগ্য খারাপ। চোর-চ্যচ্চোর ষড়যন্ত্রকারী সমূলে উৎপাটন সময় তিনি পেলেন না। তার আগেই ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে হত্যা করল।
বাঙালির প্রতি বঙ্গবন্ধুর বেহিসেবি ভালবাসা, তাকে রাজনীতিবিদের ঊর্ধ্বে এক অন্ধ প্রেমিক পরিণত করেছিল, যে প্রেমিক বাংলার দুঃখী মানুষের জন্য জীবন পর্যন্ত বিলিয়ে দিতে পারেন। আর এ জন্যই তিনি জেনেশুনে বারবার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। জীবন দিয়েই জীবন লাভ করলেন বঙ্গবন্ধু; সিদ্ধিলাভ করছেন অমরত্বের সাধনায়।
আজ বঙ্গবন্ধু সশরীরে আমাদের মধ্যে নেই কিন্তু তার আদর্শের বাতিঘর আওয়ামী লীগ আছে। এই বাতিঘরের আলোয় আমাদের পথকে আলোকিত করে আরও সামনের দিকে নিয়ে যাবে। গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র আদর্শ চেতনায় ধারণ করে আমরা আমাদের সোনার বাংলাকে একটি আধুনিক ও প্রগতিশীল ডিজিটাল রাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলব। এখানে মৌলবাদ ও ধর্মান্ধতার কোনো স্থান থাকবে না। আমাদের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ভাবনাগুলো চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে অনন্তকাল।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*