বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

আগরতলায় বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ

4-9-2019 6-56-33 PMউত্তরণ ডেস্ক: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একদল প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। লেখক-শিক্ষাবিদ ড. দেবব্রত দেব রায়ের নেতৃত্বে গঠিত বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন কমিটি গত ১০ জানুয়ারি আগরতলার সুকান্ত মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে বছরব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে লেখক, কবি, গায়ক-গায়িকা, আবৃত্তিকার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে। ভারতের কলকাতা ও দিল্লি থেকেও অনেকে অংশ নেয়। উল্লেখ্য যে, দেশ-বিদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের প্রথম অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায়। সদ্য একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি অসীম সাহা মঙ্গলদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। আরও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রোকেয়া সুলতানা রাকা, মোশতাক আহমেদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক বুলবুল মহালানবীশ, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, রূপশ্রী চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জনা সাহাসহ অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রধান অতিথি নূহ-উল-আলম লেনিনসহ অন্যান্য প্রতিনিধিগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আগরতলাবাসীর অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং রক্তের রাখিবন্ধনে আবদ্ধ বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
আমন্ত্রিতরা অনুষ্ঠানের পরে দুদিন ত্রিপুরার কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করেন। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের প্রতি ত্রিপুরাবাসীর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাদের মুগ্ধ করে। গত ২ মার্চ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল প্রথমে আগরতলা থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত মেলাঘর এলাকায় নীরমহল পরিদর্শন করেন। ত্রিপুরার সর্বশেষ রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য ১৯৩৮ সালে তার গ্রীষ্মকালীন অবকাশ কেন্দ্র হিসেবে মুঘল ও হিন্দু স্থাপত্যের আদলে জলাশয়ের ওপর একটি দৃষ্টিনন্দন প্রাসাদ নির্মাণ করেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*