বিভাগ: অভিমত

আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত করতে হবে

41

রোহিঙ্গা সমস্যা ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যাটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
ইমতিয়াজ আহমেদ : দুটো জিনিস আমার মনে হয় খুব জরুরি। ১. মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে এক ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে এবং যেভাবে ফুটেজ এসেছে, নিউজ মিডিয়া কভার করেছে, বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া, সেখানে হয় মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় বা মিয়ানমার বাহিনীর নীরবতায় একটি সংঘর্ষ হয়েছে। সেই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রোহিঙ্গাদের ওখান থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। বের করার ফলে ইতোমধ্যেই ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
প্রথমত; মানবিক বিবেচনায় যেহেতু শিশু ও নারী রয়েছে সেহেতু এখানে তাদের আশ্রয় দেওয়া হলো প্রাথমিক কাজ এবং সেই কাজটা করার জন্য একটা ‘Pro-active Policy’ দরকার। ‘Pro-active Policy’-র মধ্যে বিশেষ করে যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আছে, যারা এ ধরনের রিফিউজি কন্ডিশনে কাজ করে তাদের সহায়তা নেওয়া, যা UNHCR থেকে শুরু করে এমন কী ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন যে আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে। সেখানে একটি ‘Pro-active Policy’ করা এবং তাদের জন্য এলাকাটি খুলে দেওয়া উচিত। কারণ তারা যেন দেখে রিপোর্ট করতে পারে এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক মিডিয়াকেও সেখানে নিয়ে দেখানো প্রয়োজন। এবং যেসব বর্ণনা আসছে সেই বর্ণনা প্রচার করা প্রয়োজন। এর একটা বড় কারণ হলো Mass Atrocities হয়েছে। তাতে ২ থেকে আড়াই লাখ লোক পালিয়ে এসেছে। যেভাবে পালিয়ে এসেছে একেবারে সবকিছু ছেড়ে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে বোঝা যাচ্ছে যে, সেখানে Crime Against Humanity হয়েছে। এখন Crime Against Humanity , ২০১৭-তে হওয়া আর সত্তর দশকে বা নব্বই দশকে যখন এসেছিল, তার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে।
সত্তর দশকে যখন ৩ লাখ বা ওই পরিমাণ লোক তখনও ওরা বিতাড়িত করেছে, আবার ফেরত গেছে UNHCR-এর মাধ্যমে। নব্বই দশকেও তাই হয়েছে। নব্বই দশকে বা সত্তর দশকে এতগুলো আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ছিল না। এটা এখন হয়েছে। সেটা ইন্টারন্যাশনাল সিভিল কোর্ট থেকে শুরু করে R2P (Responsibility to Protect) সেটা জেনারেল অ্যাসেম্বলি দ্বারা পাস করানো, তার ওপরে যেটা আমরা দেখতে পারছি সেটা হলো একেবারে Crime Against Humanity এমন কী ধর্ষণের ব্যাপারেও সুনির্দিষ্ট যেটা জেনোসাইডাল সেটাও একটা লিগ্যাল ইস্যু তৈরি হয়েছে। সেই হিসেবে একটা Mass Atrocities করে বা  Crime Against Humanity করে বা Ethnic Cleansing এমন কী ডেসমন্ড টুটু বলেছেন, জেনোসাইড ভালো যেই করে পার পাওয়া কোনো সুযোগ নেই। সেটা প্রচার করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেটা প্রচার করা প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া, জাতীয় মিডিয়া সব জায়গায় প্রচার করা।
দ্বিতীয়ত; একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। কারণ সত্তর দশকে একবার হয়েছে। নব্বই দশকে একবার হয়েছে। এই যে বারবার তারা করছে এবং Almost তিন জেনারেশন ধরে তারা stateless রয়ে গেছে। সেই জায়গায় আমার মনে হয়, ‘Pro-active Policy’ আমাদের দরকার, পররাষ্ট্রনীতিতে যেটা হয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে আর না হলে জাতিসংঘের মাধ্যমে যেভাবেই হোক। আন্তর্জাতিক সম্মেলন জাতিসংঘের মাধ্যমে হতে পারে, জাতিসংঘের বাইরেও হতে পারে।
এখানে মনে রাখা দরকার, বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গা রিফিউজি এসেছে শুধুমাত্র তা নাÑ একাধিক দেশে কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যে এমন কী ইউরোপেও আছে। সেই হিসাবে যতগুলো দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী আছে সব দেশকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটা আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতেই পারে। কারণ সবার তো একটা চিন্তা-ভাবনা আছে এ বিষয়টির ভবিষ্যৎ কী? সেই আন্তর্জাতিক সম্মেলন একেবারেই যে জাতিসংঘের মাধ্যমে করতে হবে তা না। কারণ জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রসেস করতে হলে অনেক ধরনের আমলাতান্ত্রিকতা থাকে এবং পাঁচ সদস্যের সমর্থন থাকতে হয় ইত্যাদি। সেটাও আমি বাদ দিতে চাচ্ছি না। সেই প্রসেসও চালু করা উচিত, যা ইতোমধ্যে আমাদের সরকার বলেছে তারা জাতিসংঘে উত্থাপন করবে। সেই সাথে জাতিসংঘের বাইরেও এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। ওখানে যে জিনিসটা হাইলাইটস করা দরকার তা হলো Crime Against Humanity..
এই দুটো ‘Pro-active policy’-এর যদি একটি Humanitarian ধরি, আরেকটি স্থায়ী সমাধান ধরি, তা হলে দ্বিতীয়টার মধ্যে কিছুটা অবস্থান আরও ভালো। যেহেতু ইতোমধ্যে অং সান সু চি’র কারণেই বলতে গেলে একটা ‘কফি আনান কমিশন’ রয়েছে। একটা রিপোর্টও তৈরি হয়েছে এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে। অনেকে হয়তো যে শব্দটা বলেছেন, Muslim Community in the Rakhain, মিয়ানমার সরকার বলছে তারা ‘বাঙালি’, সেই শব্দটা রাখেনি; আর আমরা বলছি রোহিঙ্গা সেই শব্দটিও রাখেনি। কিন্তু না রাখলেও শব্দটা তারা মিলিতভাবে রেখেছেন Muslim Community in the Rakhain. এ ব্যাপারে বলাই হয়েছে ঝঃধঃবষবংং. শেক্সপিয়রের সেই কথাÑ ‘নামে কী আসে যায়’ আমার কথাও নামে কী আসে যায়, সমাধান করতে হবে। সেই জায়গায় নাম যারা যেভাবে চায়, আজ বা কাল যে কোনো সময় রাখা যাবে। কিন্তু আমাকে তো প্রথমে তাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। অধিকার রক্ষা করার ব্যাপারেই সুনির্দিষ্টভাবেই কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট আছে। যেটা অং সান সু চি নিজেই বলেছিলেন যে, তিনি এটা Abide (মেনে চলবেন) করবেন।
কিন্তু দেখা গেল রিপোর্টের পরের দিনই একটা ঘটনা ঘটল। এই যে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী বলা হচ্ছে, সেটা মিয়ানমারের দ্বারা তৈরি কি না সেটাও তো আমরা জানি না। এটা কারা তৈরি করছে? কারণ এ ধরনের পরিবেশে এটা হওয়াটা অস্বাভাবিক না। কারণ যারা বছরের পর বছর Stateless রয়ে গেছে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের মেলিটেন্সি এমন কী সেলফ ডিফেন্স মেলিটেন্সি তৈরি হতে পারে। আমার মনে হচ্ছে, সেখানে বড় আকারে ‘Pro-active Policy’ দরকার। এই কফি আনান কমিশনের রিপোর্টটা আছে এবং সেখানে অনেকে হয়তো বলছে যে একটা দুটি দেশ এখানে আসেনি; কিন্তু আমি মনে করি, বিভিন্ন দূত পাঠাবার মাধ্যমে তাদের বুঝানোর একটা বিষয় আছে এবং হাইলেভেল দূতও যেতে পারে। একাধিক দূতও যেতে পারে। যারা এই বিষয়ে জানেন তাদের নেওয়া যেতে পারে। তাদের সমর্থন না পেলেও অন্তত আমাদের বুঝাতে হবে। কারণ তারা হয়তো বলবে আমরা তো বুঝি না, আমরা তো অন্য সাইটে বুঝেছি। ইতোমধ্যে আমরা দেখেছি মিয়ানমার সরকার একটা ‘Pro-active Policy’ করছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই জায়গায় আমরা যদি থেমে থাকি তা হলে যতদিন যাবে তত আমাদের ক্ষতি। আমার মনে হয়, একটা বড় ধরনের ‘চৎড়-ধপঃরাব চড়ষরপু’ দরকার।
এখানে সবকিছু যে বাস্তবায়ন হবে তা না। এখানে একটু বলে রাখি ওই যে, Crime Against Humanity, ওই কারণে আমাদের যুক্তি আরাকানে যেহেতু মিয়ানমার মিলিটারি ফেইল করেছে, To protect the resident। R2P-তে বলাই হচ্ছে Citizen and Non-Citizen। শুধু সিটিজেনের প্রোটেকশন নয়, নন-সিটিজেনেরও কথা বলা হচ্ছে। আমি ধরে নিচ্ছি, তারা নন-সিটিজেন, তারপরও প্রোটেকশন কিন্তু মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব, যেহেতু তারা মিয়ানমারের ভূমিতে থাকে। সেই হিসেবে যেহেতু তারা ব্যর্থ হয়েছে কাজেই আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ফোর্স আমরা দাবি করতেই পারি। তবে মনে রাখতে হবে, দাবি করলেই সবকিছু রাতারাতি হবে তা নয়। দাবির মাধ্যমেই প্রকাশ পাবে আমরা কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছি এবং সত্তর দশক আর নব্বই দশকের সেই ইতিহাসের মধ্যে থাকতে চাচ্ছি না। এবার বড় ধরনের সমাধান চাচ্ছি। আমার মনে হয়, বাংলাদেশ বড় আকারের কাজে নেমে পড়লে আন্তর্জাতিকমহলকে পাশে পাবে। ইতোমধ্যে আমরা কিছুটা সাড়া পাচ্ছি। আমেরিকা থেকে কিছুটা পজিটিভ রেসপন্স এসেছে। ডেসমন্ড টুটু থেকে শুরু করে কলকাতায় মিছিল হয়েছে, ইন্দোনেশিয়ায় মিছিল হয়েছে, মিছিল হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। সেই জায়গায় আমার মনে হয় যদি ভালো স্পেস তৈরি করতে পারে তা হলে আশা করি, তাদের ফেরত যাওয়ার মাধ্যমে একটা স্থায়ী সমাধান হবে। কূটনৈতিক তৎপরতা বড় আকারে বাড়ানো দরকার, ‘Pro-active Policy’ দরকার।
আরেকটি বিষয়, আমাদের দেশের এনজিওগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী। পৃথিবীর অন্যতম এনজিওগুলো বাংলাদেশে রয়ে গেছে। এদের কাজে লাগানো উচিত। তার চেয়ে বড় কথা যেহেতু দু-দুবার আমাদের অভিজ্ঞতা আছে আমরা জানি যে, এটা কীভাবে করতে হবে। সেখানেও একটা বড় পলিসি দরকার। কারণ সেখানেও আর্থিক এবং বিভিন্ন ধরনের সাহায্য অবশ্যই আমাদের দরকার।
উত্তরণ : মিয়ানমার সরকার যে রোহিঙ্গাদের বহিরাগত ঘোষণা করেছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং ঐতিহাসিকভাবে তার কী কোনো ভিত্তি আছে?
ইমতিয়াজ আহমেদ : না, কোনোভাবেই না। এটা তো ওরা যখন সত্তর দশকে ’৭৮-এ যখন ফেরত গেল সেই অ্যারেজমেন্টে তারা নিজেরাই বলেছে যে ওরা ওখানকার বাসিন্দা। ওরা তো দু-দুবার ফেরত নিয়েছে। ফেরত আমি যখন নিই তার মানে কি? স্বাভাবিকভাবেই সে আমার। আমি তো ফেরত নিয়েছি। এই যে ফেরত নিয়েছে, তার সংখ্যা আছে, ঠিকানা আছে এবং তারা যদি ওদের কাগজপত্র নিয়ে যায় তা হলে কিন্তু UNHCR-এ আছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আছে, সেই হিসেবে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কথা হচ্ছে, যে সমস্যাটা আমরা এখন দেখছি এটা বহু বছরের সমস্যা। সবাই ভালো করে জানে মিয়ানমার সরকার প্রথম দিকে কিছুটা অধিকার দিয়েছিল; কিন্তু আস্তে আস্তে এই অধিকার নিয়ে যাচ্ছে, তারও রেকর্ড আছে।
উত্তরণ : এছাড়া ইতোমধ্যে রোহিঙ্গাদের মাঝখান থেকে একাধিকজন মিয়ানমারের মন্ত্রী হয়েছেন; এমপি হয়েছেন, সেক্ষেত্রে এটা কী করে বলেন তারা?
ইমতিয়াজ আহমেদ : সেটা বলে পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। যদি ওই অবস্থা-ই হতো তা হলে আন্তর্জাতিকমহল এতটা সোচ্চার হয়ে উঠত না। কফি আনান কমিশনও হতো না। কারণ ওখানে বলাই হয়েছে Stateless। একেবারে বলাই হচ্ছে কীভাবে তারা সিটিজেনশিপ পেতে পারে। কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেতে পারেÑ সবকিছু বলা হচ্ছে। সেই জায়গায় ওই কথা বলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
উত্তরণ : কোনো কোনো দেশি-বিদেশি শক্তি রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তৎপরতায় ইন্ধন দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, এ ব্যাপারে অভিমত বলুন।
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয় না, এই শরণার্থীর মাধ্যমে বাংলাদেশ এক ধরনের ইনস্টাবল বা ওই ধরনের সমস্যায় পড়ে যাবে। বাংলাদেশে বড় ধরনের কনশাসনেস আছে রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে হবে। বড় আকারে মেজরিটি শরণার্থী হলো মুসলমান। সেই হিসেবে একটা সহানুভূতি আছে। জার্নালিস্টরা ভালো বলতে পারবে। জার্নালিস্টরা জানিয়েছে, তারা (রোহিঙ্গা শরণার্থীরা) আমাদের লোকাল লেবেলে এখনও সাপোর্ট পাচ্ছে; সহানুভূতি পাচ্ছে তাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে। এর বড় কারণ হতে পারে তারা মুসলমান, ভাষাগত মিল আছে। আরেকটি জিনিস একাত্তরের কারণে আমাদের মধ্যে শরণার্থীর (ভারত আমাদের তখন সাপোর্ট দিয়েছে, সেহেতু একাত্তরের সাথে শরণার্থীর একটা সম্পর্ক আছে, যার জন্য প্রতিটি বাসায় এক-দুজন শরণার্থী পাওয়া যাবে আত্মীয়-স্বজন মিলিয়ে।) সেই অর্থে শরণার্থীর ব্যাপারে আমাদের সব সময় একটা দুর্বলতা রয়েছে। সব সময় চাই তারা আশ্রয় যেন নিতে পারে। তারপর আশ্রয়ের পর যে সমাধান সেই সমাধানটা যেন হয়। সেই জায়গায় আমার মনে হয় না বাংলাদেশের রাজনীতির অন্য কোনোভাবে নেওয়া। কারণ এ ব্যাপারে বড় কনশাসনেস আছে। আরেকটা বিষয় মনে রাখতে হবে, দু-দুবার কিন্তু তারা এসেছে, থেকেছে আবার চলে গেছে। কোনোবারই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়েনি।
উত্তরণ : রোহিঙ্গাদের ওপর নেমে আসা মানবিক বিপর্যয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনও তেমন সাড়া দিচ্ছেন না। আপনার কী মনে হয়?
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয় এটা দেখা দরকার দুই পর্যায়ে। একটা হলো স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে। আমি মনে করি, কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে যেভাবে আছে সেটাকে অং সান সু চি সরকারকে সেটা ইমপ্লান্টেশন করতে বাধ্য করানো। তাদের সহায়তাই এটা হয়েছে এবং তাদের বলেছেও এটা অনরফব করব। সেই হিসেবে সেই ল্যাঙ্গুয়েজই এটা সমাধান করতে চায় না কেন। আমি যদি ধরেও নিই Muslim Community in the RakhainÑ GB k‡ã Zviv mgvavb Ki‡Z Pv‡”Q, As a Muslim Community হিসেবে ওই জায়গায় প্রথমে একটা লিগ্যাল ইন্সট্রুমেন্ট না হলেও মোরাল ইন্সট্রুমেন্ট তৈরি হয়েছে এই কফি আনান কমিশনের রিপোর্টটি। যেহেতু কফি আনান কমিশন রিপোর্ট বের করার পর বলতে গেলে সাথে সাথে এ ধরনের রি-অ্যাকশনের। একই সাথে আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে এ বিষয়টি পড়ে না যায়। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বলতে আমি বুঝাচ্ছি বাংলাদেশের না, মিয়ানামারের যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি মূলত অং সান সু চি’র সাথে আর্মিদের মারামারিটি। এই মারামারি একেবারে সিরিয়াস মারামারি। আর্মির দল স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করছে বুঝাতে যে, অং সান সু চি (has failed to protect) মিয়ানমারের নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ। এখন যদি সু চি রোহিঙ্গাদের পক্ষ নেয় তখন ‘এত বৌড্ডিষ্ট নয়’ এভাবে বলবে। এই জায়গায় অং সান সু চিও বিপদে পড়েছে। তার ওপর সব ফোকাস পড়েছে। সেখানে আমি মনে করি, Focus should be Military. Military এই কর্মকা- শুরু করেছে অন্তত অং সান সু চি একটি কমিশন রিপোর্ট তৈরি করেছে। অনেকে বলছে চোখ দেখানোর জন্য। তাই যদি হয় সেটা তো বের হয়েছে। সেই জায়গায় আমাদের ফেইস হওয়া উচিত। ওখানকার সেনাবাহিনী প্রথমত; ওখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, দ্বিতীয়ত; তারা একটা Mass Atrocities মাঝে জড়িত। ওই Mass Atrocities যদি আমি লিগ্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট দেখি তা হলে ওই জায়গায় সেইভ জোন না বললেও অন্তত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী যেন নিরাপত্তা দিতে পারে। যেহেতু মিয়ানমার সেনাবাহিনী ব্যর্থ।
আজকে যদি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ফেইল না করত তারা যদি নিরাপত্তা দিতে পারত সেই হিসেবে তারা যদি এমন একটা ব্যবস্থা করত যেখানে আড়াই লাখ লোককে পালিয়ে আসতে হতো না এপারে। তা হলে আমরা বুঝতে পারতাম, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট প্রফেশনাল। তারা কেবল ইনডিপেনডেন্ট। অনেকে বলে তারাই ইন্ধন জোগাচ্ছে যেহেতু তারা ফেইল করেছে। সেই হিসেবে একটা সুযোগ তৈরি হয়েছে সেখানে একটা আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী তৈরি করা। সেটা আশিয়ান ফোর্স দিয়েও হতে পারে। আশিয়ানের বাইরের ফোর্স দিয়েও হতে পারে এবং তার পরে স্থায়ী সমাধান। স্থায়ী সমাধান তখনই আসবে যখন নাগরিকের বিষয়টি আসবে। এবারও যদি নাগরিক না হন আবার ফেরত গেল আবার দু-এক বছর পর আবার এলো, সেই জিনিসটি যেন না হয়।
উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপায় কী?
ইমতিয়াজ আহমেদ : আমার মনে হয়, এমনিতেই কিছুটা হয়তো দেরি হয়েছে। তবে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন, এক. এদের আশ্রয় আমরা দেব, সেটা যথেষ্ট পজেটিভ। দ্বিতীয়. ইতোমধ্যে বলা হচ্ছে আমরা এটা জাতিসংঘে উত্থাপন করব। এবং পরে সেভ জোনের কথা বলা হচ্ছে। এগুলো স্বাভাবিকভাবে একটা সিগন্যাল দিবে মিয়ানমার সরকারকে। কিন্তু এটাকে বাড়ানো দরকার। আমি মনে করি, একাধিক দূত পাঠানো দরকার বিভিন্ন দেশে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, ভারত এবং চীন এই দেশকে আমরা নিয়ে আসতে পারছি এবং মিয়ানমার উল্টো দেখাচ্ছে ওই দুই শক্তি তো আমাদের সাথে। এই জায়গায় আমি মনে করি, যেহেতু দুই দেশেই আমাদের কাছের এবং এই সরকারের সাথে ভারতের সাথেও ভালো সম্পর্ক, চীনের সাথেও ভালো সম্পর্ক, সেহেতু হাইলেভেল ডেলিগেশনে অন্তত বসে একটা ব্রিফ করা, নরেন্দ্র মোদিকে ব্রিফ করা, শি পিন জিংকে ব্রিফ করা। এবং ব্রিফ করে বলা এই হলোÑ এটা বারবার ঘটছে। ফলে একটি ট্রান্সপারেন্ট প্রসেসে এটা করতে হবে।
ওরা (মিয়ানমার) যদি বলে থাকে রোহিঙ্গারা আমাদের দিক থেকে এসেছে এবং ওরা বলছে, ওরা (রোহিঙ্গারা) ওরা এসেছে ৬০০ বছর আগে; ৬০০ বছর আগে বা ১৯৪৭-এর আগে যদি মিয়ানমার এসে থাকে তা হলে যে কোনো আন্তর্জাতিক আইনের তারা ওখানকার বাসিন্দা। সেই বিষয়টি আমরা রক্ষা করতে চাচ্ছি। এখানে যদি তোমরা ট্রান্সপারেন্সির মাধ্যমে আসতে চাও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এভাবেই ঈৎরসব অমধরহংঃ ঐঁসধহরঃু হয়ে যাবে! আজকে না হয় আমার বর্ডারে হলো, কাল-পরশু তো তোমার বর্ডারে হতে পারে। অন্য বর্ডারে হতে পারে। তখন কি হবে।
এটা যদি আন্তর্জাতিকমহল মেনে নেয় তা হলে ভয়ঙ্কর ব্যাপার। তা হলে যে কোনো লোক তার হিসেবে বলবে, আমি এই ধর্মের লোক চাচ্ছি না বা আমি ওই ভাষার লোক চাচ্ছি না। তখন কী হবে? সেই ব্যাপারে আমি মনে করি, যে কাজটি করা হয়েছে এটাকে আরও বাড়িয়ে দেওয়া এবং এই বাড়ানোর মাধ্যমে তারাও একটা মেসেজ পাবে। Quite Diplomacy-এর সময় আর নেই। কারণ যেহেতু সবার হাতে মোবাইল ফোন, টুইটার, ফেইসবুক, সেই জায়গায় আমি যদি Quite Diplomacy করি তা হলে দেখা যাবে অন্য সাইট একাকে এমনভাবে ব্যবহার করবে তখন কিন্তু আমাদের ভয়েজটা শোনা যাবে না। তখন ওরা ভাববে কিছু শোনা যাচ্ছে না, হৈচৈ করছে না, তা হলে আমাদের এত মাথা ব্যথা কিসের? যাতে মাথা ব্যথা হয় সেদিকে আমাদের নিয়ে যেতে হবে। যার জন্য আমি মনে করি, এটাকে (রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা) আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
উত্তরণ : রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কতটুকু? এ ব্যাপারে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভূমিকাকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তির আবেদন জানান, বরাবরই তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে অনেক সময় হাতে নিয়ে যান এবং বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন?
ইমতিয়াজ আহমেদ : বিষয়টি বড় আকারে উঠাতে হবে। তার দেশে আড়াই-৩ লাখ, আমি যদি আগেরগুলো ধরি তা হলে ৫ থেকে ৬ লাখ লোক অন্য দেশে বাস করছে। এটা তো বড় একটা unthinkable at refugee situation। এটা তো নাম্বার ওয়ান বিষয় হিসেবে আনতে হবে। তবে ওখানে বলার আগে সে সময়টা এখন থেকে ১৬ তারিখ যদি আমি ধরিÑ তার মধ্যে কার্যক্রমটা না করি, আমাকে ঐড়সবড়িৎশ করতে হবে। হঠাৎ করে একজন যদি শোনে প্রথমবার সে তো চৎবঢ়ধৎবফ না। তবে আগে থেকে যদি ব্রিফ করে তখন জবধপঃরড়হ হিসেবে তারাও একটা স্ট্যান্ড নিতে পারে। সেই জায়গায় যতগুলো দূতাবাস আছে তাদের আমাদের অ্যাকটিভ করতে হবে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হলো এটাকে আরও সিস্টেমেটিক্যাল যারা সরকারে আছেন, বিষয়টি ভালো করে জানেন, তাদের নিয়ে চতুর্মুখী কূটনীতি এবং বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো। কারণ জাতিসংঘে বা নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে যদি এই কাজটা না করি, নিউইয়র্কে এসে প্রথমবার যদি মোদি শোনেন, বা শি জিন পিং শোনেন বা চাইনিজরা শোনেন তখন তারা বলবে আমরা তো কিছুই জানি না, আমরা খোঁজ নেই, পরে জানাব। যার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে পুরো বিষয়টিই আগে থেকে যতগুলো দেশ এমন কী যেহেতু Muslim Country  Rakhainরা বিশেষ করে মেজরিটি অনেকে হিন্দুও আছে। যেহেতু মেজরিটি অনেক মুসলিম দেশ যেমন অ্যাকটিভ। ইন্দোনেশিয়াকে আমরা দেখেছি, তার্কি আমরা দেখেছি, সৌদি আরবকে দেখেছি, সেসব জায়গাতে অ্যাকটিভ করা। আমাকে দুই জায়গায় অ্যাকটিভ করতে হবে। একটি হলো মুসলিম, আরেকটি হলো মানবিক। নন-মুসলিম রয়েছে মানুষ হিসেবে। আশিয়ানের মতো। আশিয়ানে ইতোমধ্যে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া দুই দেশ কিন্তু ওখানে আক্রান্ত, থ্যাইল্যান্ডও ওখানে আক্রান্ত। চতুর্মুখী তৎপর থাকা দরকার, যখন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে নিয়ে যাবেন তখন যেন অন্তত একটা রেজ্যুলেশন আসে এবং কর্মকা- যেন আসে এবং তার কিছুটা পথ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে আমেরিকা সরকার স্ট্যান্ড নিয়েছে। সেই জায়গায় মনে করি, আমি যদি অপেক্ষা করি আগে উনি বলুক তা হলে আমার মনে হয় না এটা কাজ দেবে। তাই আগে থেকেই কাজটা শুরু করতে হবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : আনিস আহামেদ

অনুলিখন : রায়হান কবির

আলোকচিত্রী : আরিফুল ইসলাম সোহেল

 

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*