বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সঠিক পথে বাংলাদেশ

উত্তরণ ডেস্ক: আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সঠিক পথে হাঁটছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার কর্তৃক বেশ কিছু উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে সংস্থাটি। উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে। বর্তমান বিশ্বে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে ৭০ কোটির বেশি মানুষ। কিন্তু জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১০ বছরের মধ্যে স্থায়িত্ব উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিশ্ব থেকে দারিদ্র্য দূর করতে হবে। আর এটি করতে হলে ৬৮ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের নিচ থেকে বের করে আনা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন সভার শেষ দিনে দারিদ্র্য নির্মূল সংক্রান্ত এক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। গত ৮-১৫ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সভায় ১৮৯টি সদস্যরাষ্ট্র অংশগ্রহণ করে। সভায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় দারিদ্র্য বিমোচন। বিশ্বব্যাংক বলছে, বর্তমান বিশ্বে আর দারিদ্র্য নয়। এখন দারিদ্র্য একেবারে বিদায় করার সময়। দারিদ্র্য বিমোচনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামতও চাওয়া হয়েছে এবারের বৈঠকে।
PMশুধু তাই নয়, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দারিদ্র্য সংখ্যা নির্মূল করতে প্রতিটি দেশে অ্যাকশন প্লান গঠনের আহ্বান জানানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে। দারিদ্র্য নিরসনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশ্বের ১৮৯টি দেশকে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। আর এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আট দিনব্যাপী বিশ্বব্যাংক-আইএমফের বসন্তকালীন বৈঠক শেষ হয়েছে। এবারের বৈঠকের শেষের দিন বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড মালপাস বলেছেন, বিশ্বের অনেক দেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর চ্যালেঞ্জের প্রতি আমরা মনোযোগ দিয়েছি। বর্তমান বিশ্বেও ৭০ কোটি মানুষ চরম দারিদ্র্যের নিচে বাস করছে। এদের আয় বৃদ্ধিও সমৃদ্ধ অর্জন অপ্রতুল। এ জন্য তাদের তুলে আনতে চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিতে নারী ও যুবকদের পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংক নিরলসভাবে কাজ করছে।
এদিকে বসন্তকালীন বৈঠকে আলোচনায় গুরুত্ব পায় দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা ও বিশ্ব অর্থনীতি। সেখানে বলা হয়, এ-মুহূর্তে ৭০ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। যাদের প্রত্যেকের গড় আয় প্রতিদিন ১৬১ টাকা (১ দশমিক ৯০ ডলার)। এই দারিদ্র্যের হার ১৯৯০ এবং ২০০০ দশকের চেয়ে বেশি। তবে এ দারিদ্র্যের সংখ্যা বেশি হচ্ছে সাব সাহারাতে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮ কোটি দারিদ্র্য মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনতে একমত পোষণ করেন বিশ্ব অর্থনৈতিক নেতারা। এ কাজটি সুন্দরভাবে সফল করতে প্রত্যেক দেশকে নিজস্ব কৌশল ও অ্যাকশন প্ল্যান জরুরিভিত্তিতে প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের মন্দার পূর্বাভাস বিরাজ করছে বলে আভাস দেওয়া হয়। এর ফলে নিম্নমানের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি তুলে ধরা হয় এ-মুহূর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য হ্রাস পাওয়া বিনিয়োগের সম্ভাবনা কমে যাওয়ার বিষয়কে। এ জন্য চাকরি বাজার কমছে ও ঋণ দুর্বলতা অব্যাহত আছে। আর নীতি অনিশ্চয়তার আস্থা নষ্ট হচ্ছে। সেখানে এসব সূচক পর্যালোচনা করে বলা হয়, এগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই উদ্বেগগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংক কাজ করছে। সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতির দিকগুলো তুলে ধরে বলা হয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মোকাবেলা হচ্ছে। ২০১৮ অর্থবছরে শেষ কোয়াটারে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বৈঠকে বাংলাদেশও বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে PM2সহায়তা চাওয়া হয়েছে। সহায়তা চাওয়ায় দেশে আধুনিকমানের শিক্ষা-ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। এছাড়া বড় প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নে অর্থায়ন করতে বলা হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান ছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনেক ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। শিক্ষা খাতে সব বেশি সহায়তা এই বৈঠকে চাওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বব্যাংক এই বৈঠকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ করতে। সেগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ব্যাংকিং খাত নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
জানা গেছে, এ-মুহূর্তে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওই বৈঠকে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বসন্তকালীন সম্মেলন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জন অর্থমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেকে কথা বলেছেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। মোট অর্থের পরিকল্পনা নিরূপণ করেছে। বাংলাদেশ নিরূপণ করেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। সেখানে আরও বলা হয়, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেছে। এ জন্য প্রতিটি দেশ এ-ধরনের রূপরেখা প্রণয়ন করলে এ-খাতে কত টাকার প্রয়োজন সেই হিসাব পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে এসডিজি বাস্তবায়নে সহজ হবে।

দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তালিকায় বিশ্বে দ্বিতীয় বাংলাদেশ
বিশ্বে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এই তালিকায় প্রথমে রয়েছে আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। একই হারে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ভারতেরও। অন্যদিকে দ্রুত প্রবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে থাকা রুয়ান্ডার প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
এর আগে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক জানিয়ে ছিল বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক দেশ। চলতি বছর ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশের।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভুটানের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, মালদ্বীপের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ, নেপালের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, শ্রীলংকার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ২ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে বৈশ্বিকভাবে অর্থনীতি কিছুটা ধীরগতির হবে। চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও জাপানের মতো বড় অর্থনৈতিক দেশগুলোর কারণে এই প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

কর্মসংস্থানে বছরে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা দেবে আইএফসি
আইএমএফের পর এবার সুখবর দিল বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আইএফসি। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশে প্রতিবছর সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনশীল খাতগুলোতে বেকারদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের দুর্বল ব্যাংক মার্জারসহ আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। পুঁজিবাজার গতিশীল করার লক্ষ্যে বেশ কিছু সুপারিশও দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন সভায় বাংলাদেশের অনুকূলে কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দেয় আইএফসি। সংস্থাটি মনে করে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে। বিশ্বের যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশের পেমেন্ট সবচেয়ে ভালো। এজন্য বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী শিল্প খাতে আইএফসি বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সভা শেষে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আর্থিক খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাতে বলেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আরও কার্যকর করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশকে অবকাঠমো খাতে আরও সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এদিন বিশ্বব্যাংক গ্রুপ, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, আইএমএফের নির্বাহী পরিচালক, আইএফসি, ভি-২০ গ্রুপের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশররফ হোসেন ভুঁইয়াসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর বিশ্বব্যাংক একটি স্ট্যাডি পেপার তুলে ধরেছে। সেখানে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও করণীয় সম্পর্কে বলা হয়। বলা হয়, দেশের অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করতে হবে। এ জন্য দুর্বল ও ছোট ব্যাংকগুলোকে বড় ব্যাংকের সঙ্গে মার্জার করতে হবে। বৈঠকে আরও বলা হয়, সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। এটি কমিয়ে আনতে হবে। তবে এটিও স্বীকার করা হয় যে, সরকারি ব্যাংক অনেক সেবা দিচ্ছে কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ ছাড়া। পাবলিক সেবা দিতে গিয়েও খেলাপির ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।
আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি সাংবাদিকদের আরও বলেন, বাংলাদেশে দুটি কৃষি ব্যাংক আছে। বর্তমান খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ওই দুটি ব্যাংকের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কারণ কৃষকদের সহায়তা করতে গিয়ে তাদের অনেক খেলাপি হচ্ছে। কিন্তু এই খেলাপির দিকে চিন্তা করে কৃষি খাতে সহায়তা বন্ধ, ঋণ ও বিদ্যুৎ এবং বীজ সময়মতো সরবরাহ না করলে ভয়াবহ পরিস্থিতি দাঁড়াবে। তখন এই পণ্য আমদানি করতে হবে। তবে বর্তমানে কৃষি খাতে যা দেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে বেশি ফেরত পাচ্ছি। এ-ধরনের সহায়তা না করলে বিপর্যয় দেখা দেবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আমার মতে এই বিপর্যয়ের চেয়ে কৃষি ব্যাংকের খেলাপিই ভালো। কারণ এসব কাজ করতে হচ্ছে জনগণকে সামনে রেখে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির পরিমাণ মোট ঋণের ৫ শতাংশের ওপরে যায়নি। তবে সার্বিকভাবে খেলাপির হার ১০ শতাংশ থাকলেও সেটি পাবলিক খাতের ব্যাংকের হিসাব ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা বেশি বলে মার্জার করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশেষ করে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে মার্জার করতে বলেছে। বৈঠকে আমি বলেছি, ব্যাংকের সংখ্যা কতটা সেটি বড় বিষয় নয়। কারণ অনেক ব্যাংকের সাইজ খুবই ছোট। তাদের মূলধন বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোর মূলধনের পরিমাণ ৩০০ কোটি টাকা থেকে ৪০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। সেখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে। তবে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করার সুপারিশ মেনে নেওয়া হয়েছে। খেলাপি আদায়ে এস্টেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন করা হবে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এ-মুহূর্তে মার্জার করা হবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান খেলাপি ঋণের হিসাব পদ্ধতি ভুল।
এটি সঠিকভাবে করা হয় না। খেলাপি ঋণের সঠিক হিসাবটি করতে ইতোমধ্যে কয়েকটি অডিট ফার্মকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা অডিট করে খেলাপি ঋণের সত্যিকার চিত্রটি আমাদের কাছে দেবে। এতে খেলাপি ঋণের পজিশন জানা যাবে। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো মার্জার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মার্জার করতে আইন আছে কি না জানতে চাইলে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন আছে। সেখানে এ-ধরনের বিধান না থাকলে সংশোধন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইন করে নেওয়া হবে। এদিকে, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই বাজার আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে বলা হয়। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার কার্যকর করতে যে কৌশল আছে, তা হচ্ছে আর্থিক বছরের হিসাব। এটি করা হবে। তবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি অনেক শক্তিশালী। একটি ভালো হলে অন্যটিও ভালো হবে। তবে স্বল্পমেয়াদে অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন বন্ধ করা হবে। এ জন্য বন্ড মার্কেটে যাওয়া হবে। পর্যাপ্ত বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে কর অর্থায়ন করা হবে। এদিকে, বসন্তকালীন সম্মেলনে দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক অর্পনার সঙ্গে। বর্তমান তিনি ভুটান, ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার দায়িত্বে আছেন। ওই বৈঠকে বাংলাদেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে এমন প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এরপর বৈঠকটি হয় আইএমএফের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে। এই দাতা সংস্থার বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশ এখন চেনে। আগে বাংলাদেশকে পরিচয় করাতে কষ্ট হতো। আইএমএফ সক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করবেন বলে আশ্বস্ত করে। এরপর টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে একটি বৈঠক হয়। সেখানে ৩৫ জন অর্থমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেছেন। প্রত্যেকে কথা বলেছেন। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন অর্থায়ন। মোট অর্থের পরিকল্পনা নিরূপণ করেছে। বাংলাদেশ নিরূপণ করেছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার। অপর বৈঠক ভি-২০ আওতায় একটি ক্লাইমেট ফান্ড গঠন করতে সকলে একমত পোষণ করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*