বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

ইলিশ একান্ত আমাদের জিআই সনদ লাভ

39উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির সনদ পেল ইলিশ। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি গত ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদফতরের কাছে এই সনদ তুলে দেন।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৬ আগস্ট পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর জিআই পণ্য হিসেবে ইলিশের স্বীকৃতি পাওয়ার কথা জানায়। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদের কাছে এই সনদ তুলে দেওয়া হয়। ফলে জামদানির পর দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসেবে সারাবিশ্বে স্বীকৃতি পেল। সেই সাথে দেশীয় ঐতিহ্যগত সুরক্ষার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এমপি উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কোনো একটি দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া এবং ওই জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা হলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। গত বছরের নভেম্বরে দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর থেকে জিআই সনদ দেওয়া হয়।
ইলিশের একক মালিকানা পাওয়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিকভাবে জিআই নিবন্ধনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে মৎস্য অধিদফতর। তথ্য প্রমাণাদি যাচাই ও বিশ্লেষণের পরে চলতি বছরের ১ জুন নিজস্ব জার্নালে ৪৯ পৃষ্ঠার একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে পেটেন্ট ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদফতর। আশঙ্কা ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার ইলিশের জিআই নিবন্ধনের ব্যাপারে আপত্তি জানাতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত আপত্তি তোলেনি কোনো দেশই।
ওয়ার্ল্ড ফিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। ভারতে ১৫ শতাংশ, মিয়ানমারে ১০ শতাংশ, আরব সাগর তীরবর্তী দেশগুলো এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দেশগুলোতে বাকি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে বিশ্বেও অন্য দেশগুলোতে ইলিশের উৎপাদন কমলেও বাংলাদেশে বাড়ছে। এই বৃদ্ধির হার প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ। গত ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন ১ লাখ টন বেড়ে ৫ লাখ টন হয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*