‘উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন’

৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা, বাংলামটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌচাক, রাজারবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ অংশের বাকি সব পথও খুলে দেওয়া হয়।

28উত্তরণ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলমান অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করতে সরকারের ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। ২০০৮ সালের পর ২০১৪ সালে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় বসানোর কারণেই উন্নয়নের কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। সবাইকে মনে রাখতে হবে, দেশের উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
গত ২৬ অক্টোবর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থেকে লুটপাট আর দুর্নীতি করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই তাদের সৃষ্টি আর ক্ষমতার বাইরে থেকেও জ্বালাও-পোড়াও করে দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করেছে। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তার সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপরই দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিপুল কর্মযজ্ঞ শেষে বহুল প্রতীক্ষিত মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য উš§ুক্ত হয়েছে। ৮ দশমিক ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এ ফ্লাইওভারের সাতরাস্তা, বাংলামটর ও হলি ফ্যামিলি অংশের ওঠানামার পথ আগেই খুলে দেওয়া হয়েছিল। ২৬ অক্টোবর উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মৌচাক, রাজারবাগ, শান্তিনগর ও মালিবাগ অংশের বাকি সব পথও খুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সকলের প্রতি অনুরোধ, ফ্লাইওভার ব্যবহারে যতœবান হবেন। ট্রাফিক রুল মেনে চলবেন। জাতীয় সম্পদ মনে রেখে সেটা ব্যবহার করবেন। ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই ফ্লাইওভার যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে, কর্মচাঞ্চল্য বাড়বে। তার সরকার ইতোমধ্যেই রাজধানীতে ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে, যেগুলো ব্যবহারে মানুষের চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য আসার পাশাপাশি কর্মঘণ্টাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে পুরনো উন্নয়ন কর্মকা-গুলো পুনরায় চালুর সাথে সাথে অনেক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করে। তার সরকারের আমলেই দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ার সাথে সাথে আমরা দেখছি, যারা আগে একটা গাড়ি ব্যবহার করত তারাই এখন একাধিক গাড়ি ব্যবহার করছে। এর ফলে কিছুটা যানজট বৃদ্ধি পেলেও গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি মানুষের সেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি সূচক বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। যত উন্নয়ন হবে ততই মানুষের সবকিছু ব্যবহারের সক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
ঢাকা শহরের যানজট প্রশমনে তার সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা বিজয় সরণি ফ্লাইওভার, জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছি। হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ইস্টার্ন বাইপাস নির্মাণের কাজও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি একটি দীর্ঘ ফ্লাইওভার। আমি মনে করি, এটি রাজধানীর যানজট নিরসনে বিরাট ভূমিকা রাখবে এবং মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে এবং মানুষের সময় বেঁচে গিয়ে কর্মচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি পাবে। কারণ এতে ৩টি লেভেল ক্রসিং পার করা হয়েছে, তাই গাড়িগুলো খুব দ্রুত চলতে পারবে। প্রধানমন্ত্রী ফ্লাইওভার নির্মাণে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি নিজে বিভিন্ন সময় ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ পরিদর্শনে গিয়ে পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী এর নকশাতেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেন। দেশকে এগিয়ে নেওয়ায় তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সম্মানজনক অবস্থায় আছে। গোটা বিশ্বে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল।
ফ্লাইওভার উদ্বোধনকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি এবং সৌদি আরব দূতাবাসের ইসলামি বিভাগের প্রধান সাদ আল খাতানি আর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছিলেন মৌচাক এলাকায় বানানো অনুষ্ঠান মঞ্চে। মৌচাকে উপস্থিত সবাই ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন; প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় করেন।

‘দেশে কেউ আবাসনহীন থাকবে না’
একইদিন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কেউ আবাসনহীন থাকবে না। আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, প্রত্যেক মানুষের জন্য আমরা আবাসন ব্যবস্থা। আর এটা জাতির পিতার নির্দেশ। সরকার জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল দীর্ঘ ৯ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করেছি। উন্নয়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত জরুরি। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে পরিত্যক্ত বাড়িগুলোতে প্রথমবারের মতো আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই না বস্তি থাকুক। এটা কোনো দেশের জন্য সম্মানজনক ব্যাপার নয়। তাছাড়া বস্তিতে যারা থাকে তারাও তো মানুষ। তাদেরও ভালোভাবে বাঁচার অধিকার আছে। তারা কেন মানবেতর জীবনযাপন করবে? এজন্যই আমরা বস্তিবাসীর জন্য ফ্লাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।
সবার জন্য পরিকল্পিত বাসস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্লাট নির্মাণের পাশাপাশি ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে সরকারী কর্মচারী এবং সাধারণ লোকদের জন্য ২০২টি আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতীয় গৃহনির্মাণ কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) নিজস্ব অর্থায়নে মিরপুর-১১ তে ১০ একর জমির ওপর ­বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্লাট নির্মাণ করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহীত পদক্ষেপের ধারণা এবং জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২ একর জমির ওপর ৫টি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করে ৫৩৩ ফ্ল্যাট করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৮ একর জমির ওপর ৮০টি ১৪ তলা ভবন নির্মাণ করে ৯ হাজার ৪৬৭টি ফ্লাট তৈরি করা হবে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১১ কোটি টাকা।
অন্যদিকে এনএইচএ ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে ৩৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক শূন্য ৭ একর জমিতে ২৫৩টি ফ্লাট নির্মাণ করবে। এর মধ্যে ২০২ ফ্ল্যাট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ লোকদের কাছে বিক্রি করা হবে। বাকি ৫১টি ফ্ল্যাট এনএইচএ’র কাছে থাকবে।

Category:

Leave a Reply