বিভাগ: অভিমত

উন্নয়ন অগ্রগতির পথে বাংলাদেশ

জননেত্রী শেখ হাসিনার মহা-উন্নয়ন নীতির প্রভাবে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি উন্নয়নের মডেলে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক বিনিয়োগ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ, সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্কে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টির ফলে এই সময়ে গ্রামীণ দারিদ্র্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত নির্বাচনী ইশতেহারে ৫টি অগ্রাধিকার বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এগুলো হচ্ছেÑ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস ও বৈষম্য ঘুচানো, দ্রব্যমূল্য হ্রাস ও বিশ্বমন্দার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। ইতোমধ্যে ইশতেহারের সব কটি প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালিত হওয়াতে এই সাফল্যগুলো জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের ওপর ব্যক্তিগত নজরদারি এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের সাথে সভা করা ব্রিফিং প্রদানে কাজের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। যার সুফল জনগণ পাচ্ছে। ইতোমধ্যে গড় প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ অর্জন সম্ভব হয়েছে। মাথা পিছু আয় ১ হাজার ২০০ ডলারের ওপরে উঠে এসেছে। দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ২৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২২.৩৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে। এমডিজি লক্ষ অর্জনে বাংলাদেশ এ বিষয়ে এগিয়ে গিয়েছে। ইতোমধ্যে ৮টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। আরও ১০টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই সাফল্যের কারণে ইতোমধ্যে ৩টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছে বাংলাদেশ। সামাজিক সূচকে অগ্রগতি হয়েছে বলে স্বীকার করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন ও বাণিজ্য সংস্থা। শিক্ষার হারের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশে উপনীত হয়েছে দেশ। বর্তমানে দেশে স্কুলগামী শিশু শতভাগ। প্রাথমিক ৭৮ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ জনকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। মাধ্যমিকে ৪০ শতাংশ উপবৃত্তি পাচ্ছে।
নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য কমিয়ে আনা হয়েছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ উঠেছে বাংলাদেশ। স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পাঁচ বছরের শিশুমৃত্যু হার ক্রমেই কমে আসছে।
মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়ে ৬৯ দশমিক ও ৪ বছরে উপনীত হয়েছে। নিরাপদ পানি ব্যবহারের হার ৯৮ দশমিক ৩ শতাংশ। স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের হার ৬৩.৮ শতাংশ। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশ্বের মধ্যে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩৩ আইটেমের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ঔষধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। পোলিওমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি, খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ, ১১ লাখ ৩২ হাজার ২০২ টন চাল এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ৭১৩ টন গম মজুদ রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সর্বমোট ১২৮টি কর্মসূচি চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৩০ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। সড়ক, সেতু, নৌ-পরিবহন সেক্টরে, পদ্মা ব্রিজ, প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। এ ছাড়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে, বাণিজ্য ও রপ্তানিতে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.১৮ বিলিয়ন ডলার। বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। ফলে দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। গত ছয় বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ৫ হাজার ৬১৯ মেগাওয়াট। প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তি রপ্তানিতে এ পর্যন্ত ১৬০টি দেশে ৯০ হাজার বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। বছরে আয় হচ্ছে ৬১.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডিজিটালসেবার ক্ষেত্রে ৭ কোটি অনলাইন জন্মনিবন্ধন সম্ভব হয়েছে। ৪ কোটি ৮৪ লাখ ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। দেশে বর্তমানে ১১ কোটি ৮৪ লাখ মোবাইল গ্রাহক ২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম পোর্টাল জাতীয় তথ্য বাতায়ন চালু করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর তিন শাখাতেই ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। কৃষি খাতে কৃষি ঋণের সুদ হার ২.০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৫ লাখ টন আলু উৎপাদন করে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে পাবলিক সেক্টরে এক্সিলেন্স পাবলিক ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ।
জনগণের আয় বৈষম্য ক্রয় ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্য সব দেশের তুলনায় আয় বৈষম্য কমছে বাংলাদেশে। বাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০.১৮ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্স সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাণিজ্য উদারিকরণে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।
প্রবাসী কল্যাণ ও জনশক্তির ক্ষেত্রে ১৬০টি দেশে ৯০ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বিভিন্ন পেশায় কর্মরত আছেন। বর্তমানে প্রবাসী আয়ের ৬১.৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কারের ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে পাবলিক সেক্টরে এক্সিলেন্স ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল আইসিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ।

ফজলুল কাদের মজনু, সভাপতি, ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*