বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী গণহত্যা দিবস পালন করে না, পাকিস্তানই ওদের আপন

49

আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস পালন না করায় বিএনপি-জামাত জোটের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাকামী জনগণ নয়, একাত্তরের ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী-আলবদর ও পরাজিত পাকিস্তানকেই আপন মনে করে। এরা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। প্রমাণ করেছে তারা একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদরদের দোসর। যারা পরাজিত শক্তির পদলেহন করে, খুনিদের মদদ দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, গণহত্যা দিবস পালন করে না তারা কখনোই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ করতে পারে নাÑ এ কথাটি দেশের জনগণকে অনুধাবন করতে হবে। আর জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। এদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার তা সবই করা হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাও সচল রাখা হবে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গত ২৭ মার্চ রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানেই গেলেই কাদের মনে কষ্ট লাগে, মনবেদনার সৃষ্টি হয় তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। দেশ এগিয়ে গেলে, দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলেই এদের অন্তর্জ্বালা শুরু হয়। কীভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রক্ষা করবে, তাদের অপকর্ম কীভাবে ঢাকবে সে জন্য একই ভাঙা রেকর্ড তারা বাজিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা চাই না দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হোক। বিএনপি-জামাত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে দেশের মানুষ মোকাবেলা করেছে, এখন সময় এসেছে এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা ও প্রতিহত করার।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেনÑ সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি, সাবেক মন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় নেত্রী ড. শাম্মী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও বক্তৃতা করেননি।
জঙ্গিদের খুঁজে বের করে প্রতিরোধ গড়–ন
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি-সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। জঙ্গি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আর দেশের মানুষকে সেভাবেই সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজ নিজ এলাকায় জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিজের সন্তানরা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ কিংবা মাদকাসক্তের পথে যাতে পা না বাড়ায় সেদিকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা চাই না দেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো ঘটনা ঘটুক।
ঐতিহাসিক ১৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে গত ১৮ মার্চ বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমাদের সততা ও নিষ্ঠার শক্তি আছে বলেই যে কোনো অবস্থা আমরা মোকাবেলা করতে পারি। তাই যে যতই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করুক, সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে আমরা রাজনীতি করি বলেই বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। কারণ আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করতে ক্ষমতায় আসে। একমাত্র আওয়ামী লীগই যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি করতে পারে, যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে তা আমরা প্রমাণ করেছি।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ যখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, গৃহহারা মানুষ গৃহ পাচ্ছে, লেখাপড়ার জন্য বিনামূল্যে বই পাচ্ছেÑ তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অন্তর্জ্বালা ধরে। ক্ষমতায় থাকতে উনি একাত্তরের হানাদারদের মতোই দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছেন। আবার ক্ষমতার বাইরে থেকেও নির্বাচন ঠেকানোর নামে উনি ৯২ দিন ধরে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে হুকুম দিয়ে দিয়ে শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করিয়েছেন, জ্বালাও-পোড়াও, মসজিদে আগুন, শত শত কোরআন শরিফ পুড়িয়েছেন। খালেদা জিয়ার আন্দোলন মানেই জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ আর মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের কারণে বিএনপি নেত্রী ব্যর্থ হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন, গোলাম মাওলা নকশাবন্দী। সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ এমপি, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার আহকাম উল্লাহ।
দুটি স্বাধীনতা এনে দেন বঙ্গবন্ধু
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণার ম্যান্ডেট একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভোটের মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। জাতির পিতার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সুচিন্তিত ছিল বলেই দুটি স্বাধীনতা এনে নিতে সক্ষম হন। মাত্র ৫৪ বছর বয়সেই বঙ্গবন্ধু প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে বাংলাদেশ এই দুটি স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা মনগড়া ইতিহাস দিয়ে পঁচাত্তর-পরবর্তী প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেন। দীর্ঘ ২১ বছর দেশবাসীকে বিকৃত ইতিহাস শুনতে হয়েছে। এই সময়ে দেশে বঙ্গবন্ধুর নাম, ছবি প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। আসলে পঁচাত্তরের খুনি, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
গত ১০ মার্চ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর আয়োজিত সেমিনারে সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট এই সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণের মধ্যেই আপনারা ইতিহাস পাবেন। মূলত ভাষণটি ছিল ২৩ মিনিটের। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল সেই সময় মাঠে উপস্থিত ছিলাম। মঞ্চের সামনে নয়, ঠিক পাশেই। যেটা রেকর্ড করা হয়েছিল সেটা ১৯ মিনিটের রেকর্ড। সেই ভাষণে গেরিলাযুদ্ধের সার্বিক প্রস্তুতি বিষয় ছিল। এমনকি তিনি যদি না থাকতে পারেন বা হুকুম দিতে নাও পারেন তখন কি করতে হবে সেই কথাগুলোও তিনি বলে গেছেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেখানে সুযোগ পেয়েছে তারা প্রতিবছর ৭ই মার্চের এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল এবং অনেককে জীবনও দিতে হয়েছিল। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের তাৎপর্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৭ই মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা। ৪৬টি বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি জনগণকে উজ্জীবিত করে যাচ্ছে। পৃথিবীর আর কোনো ভাষণ নেই যে ভাষণটি এত বছর ধরে মানুষ শুনছে, যার আবেদন এখনও এতটুকুও কমেনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর সংখ্যাগরিষ্ঠরা কখনও বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত এবং এই ভূ-খ-ের নাম যে বাংলাদেশ হবে সেটাও বঙ্গবন্ধু ঠিক করে দিয়েছিলেন। জয় বাংলা স্লোগান মাঠে নিতে ছাত্রলীগকে নির্দেশ দিয়েছিলেন জাতির পিতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পর দেশবাসী স্বাধীনতার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। পৃথিবীর কোনো দেশ এত সফল অসহযোগ আন্দোলন করতে পারেনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটানা কখনও দুই বছর জেলের বাইরে থাকেননি। তার মহান আত্মত্যাগ সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরির্তনের জন্য ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলেন। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে যে কত বড় সর্বনাশ হয়ে গেছে তা পরবর্তীতে অনেকে উপলব্ধি করেন। আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। তবে তিনি অমর, অব্যয়, অক্ষয়। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে বঙ্গবন্ধু কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।
‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামো পরিবর্তনের দিকদর্শন’ শীর্ষক এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী মাসরুবা হোসেন, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মো. এ আরাফাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিন্নাত হুদা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য সচিব কবি শেখ হাফিজুর রহমান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান।
বিএনপি অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসবে
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে নিয়ে আসার প্রয়োজন নেই। বিএনপি তার অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসবে।
গত ৭ মার্চ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রসঙ্গে ‘ফখরুল সাহেব কখনও গুলশানের চাপে, কখনও টেমস নদীর তীর থেকে আসে চাপ। সেই চাপে তিনি (ফখরুল) এমন সব কথা বলেন যা শুনে শিহরিত হই। আমরা না-কি ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে আনতে চাই। কি কারণে? আমাদের দরকারটা কী? আমাদের কী প্রয়োজন বিএনপিকে ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে নিয়ে আসার? বিএনপি তার অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নির্বাচনে আসবে।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে কোনো রাজনৈতিক দল অপ্রাসঙ্গিক থাকতে চায় না। আরেকটা নির্বাচন না করলে বিএনপি কতটা অকার্যকর, অপ্রাসঙ্গিক এবং অস্তিত্বের দিক থেকে কতটা ঝুঁকিতে পড়বে এটা তাদের নেতারা ভালো করেই জানেন। নির্বাচনের এখনও দেড় বছর বাকি। আমি জানি নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত বিএনপি ভাঙা রেকর্ডটা বাজাবে। নির্বাচনে অংশ নেবে, আবার ভাঙা রেকর্ড বাজাবে।
বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের কেউ ভয় দেখাতে হয় না। আপনারা আপনাদের ঘরেই ভয়ের কারণ সৃষ্টি করেছেন। আপনাদের নেতা নেতাকে বিশ্বাস করে না। অফিসের মধ্যে মারামারি করে। একজন আরেকজনকে বলে সরকারের এজেন্ট। কেউ বলে আওয়ামী লীগের এজেন্ট, কেউ বলে সরকারের এজেন্ট।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপি হচ্ছে ক্ষমতার দল। ক্ষমতা না থাকলে বেপরোয়া হয়ে যায়। হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়ার জন্য একেবারে বেসামাল, বেপরোয়া বিএনপি। জল ঘোলা করে গাধা পানি খায়। আপনাদের শত্রু আওয়ামী লীগ নয়। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে না। আওয়ামী লীগ বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। ‘তোমারে বোধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষাক্ত আলিঙ্গনে আপনারা। এই আলিঙ্গন ছিন্ন করতে না পারলে আপনারা দল হিসেবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবেন।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের একসাথে দুটো কাজ করতে হবে। এক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এবং তাদের দোসররা। তারা কিন্তু এখনও হুমকি হয়ে আছে। এখনও তারা তলে তলে ভয়াবহ আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যদি মনে করি তারা দুর্বল হয়ে গেছে, নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, আমরা তা হলে ভুল করছি। এর মাশুল আমাদের দিতে হবে। একূল-ওকূল কোনোটাই সামলাতে পারবেন না। একদিকে এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা আরেকদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি। সময় অত্যন্ত কম।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*