এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ : চূড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ

Posted on by 0 comment

Mfdআরিফ সোহেল: আবারও প্রমাণিত হয়েছে বাঙালি মেয়েরা এই অঞ্চলের ফুটবলে অনবদ্য। তারা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে। ৩ মার্চ ২০১৯ শেষ ম্যাচে শক্তিশালী চীনের কাছে হারলেও ফিলিপাইন এবং স্বাগতিক মিয়ানমারকে হারিয়ে মূলপর্বে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচ অনায়াসে জিতে চীনও মূলপর্ব নিশ্চিত করেছিল। শেষ ম্যাচটি দুই দলের জন্যই হয়েছিল আনুষ্ঠানিকতার। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে। এর আগে ২০১৮ সালেও এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপের মূলপর্বে খেলেছিল মেয়েরা। অবশ্য গতবার দ্বিতীয় রাউন্ড ছিল না। প্রথম পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূলপর্বে খেলেছে। থাইল্যান্ডে গিয়ে মূলপর্বে প্রত্যাশিত সাফল্য স্পর্শ করতে পারেনি নারী ফুটবলাররা। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে আসর শেষ করেছিল বাংলাদেশ।
এটা সত্যি, এশিয়া অঞ্চলে অনেক দলের কাছে বাংলাদেশ এক বিভীষিকার নাম হলেও শীর্ষ দলগুলোর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। মিয়ানমারের মাটিতে চীন যেন মারিয়ামান্দাদের সেটাই বুঝিয়ে দিয়েছে। তারপরও ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে মূলপর্বে যাওয়াটই বড়প্রাপ্তি বাংলাদেশের জন্য।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন তারপরও শীষ্যদের বাহবা দিয়েছেন সর্বোচ্চ চেষ্টা করায়। বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে যে-রকম নির্দেশনা ছিল সেভাবেই মেয়েরা খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে গোলকিপার রুপনার ভুলে একটা গোল খেয়ে যাই। তারপরও মেয়েরা বাকিটা সময় চেষ্টা করে গেছে।’
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে বসতে যাচ্ছে ৮ দলের মূলপর্ব। যেখানে খেলা নিশ্চিত করেছে ৬ দল। গতবারের সেরা ৩ দল উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের পাশাপাশি সরাসরি খেলছে স্বাগতিক থাইল্যান্ড। আর ‘বি’ গ্রুপ থেকে চীন ও বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে সেখানে।
সূচনা ম্যাচে ফিলিপিনকে ১০-০ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি আসরের প্রথম ম্যাচে তহুরা খাতুনের হ্যাটট্রিকে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে ফিলিপিনসকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। আর ১ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে জয় পায় ১-০ গোলে। বাংলাদেশের জন্য এই আসরে মিয়ানমারই ছিল কঠিন প্রতিপক্ষ।
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে ৮ দলের চূড়ান্ত লড়াই। এই লড়াইটি আবার বিশ্বকাপের বাছাই পর্বও। ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই। এই আসরের সেরা ৩ দল সরাসরি খেলবে আগামী অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে। চতুর্থ দলের সামনেও থাকবে সুযোগ। সেক্ষেত্রে প্লে-অফ খেলতে হবে তাদের। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বে, নাম লেখানোর পর এখন বাংলাদেশের সামনেও আশা জাগানিয়া স্বপ্ন বিশ্বকাপ মঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার।
নারী ফুটবল দলের কোচ ছোটন মনে করেন, ‘মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে বড় অভ্যুত্থানটা ঘটেছে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট দিয়ে। কারণ ক্রীড়াবান্ধব সরকার এই টুর্নামেন্টে খেলা স্কুলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে এখান থেকে ভালো ভালো ফুটবলার বেরিয়ে আসছে।’
জাতীয় কিংবা বয়সভিত্তিকÑ বাংলাদেশের মেয়েদের সব রকমের ফুটবলে একের পর এক সাফল্য আসছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে। সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সিনিয়ররা খেলেছে সাফের ফাইনালে।
স্বপ্না, মারিয়া, আঁখিদের খেলায় মনরাঙানো নৈপুণ্য-স্কিল রয়েছে। এক সময়ের জাপানের কাছে ২৪-০ গোলে হারা বাংলাদেশ উঠে গেছে অন্য উচ্চতায়। দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, আসিয়ান অঞ্চল, এশিয়ার মধ্যাঞ্চলের দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে ভয় পায় না তারা।

Category:

Leave a Reply