বিভাগ: প্রধানমন্ত্রী

‘একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি, অন্যজন রাজনীতির’

6-5-2018 6-02-48 PM

শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য সম্মান জানানো হলো শেখ হাসিনাকে। –কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-লিট ডিগ্রি গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

উত্তরণ ডেস্ক: গত ২৬ মে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিশেষ সমাবর্তনে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক এই ডিগ্রি দেওয়া হয়। এই ডিগ্রি দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাধন চক্রবর্তী বলেন, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এবং গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উন্নয়নে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য সম্মান জানানো হলো শেখ হাসিনাকে। ভারতে বাংলাদেশের জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকীর দিনে তার নামে প্রতিষ্ঠিত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হলো ডি-লিট ডিগ্রি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শেখ হাসিনা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাকে দেওয়া এ সম্মান ‘সমগ্র বাঙালি জাতিকে উৎসর্গ’ করার ঘোষণা দেন। ‘এই সম্মান শুধু আমার নয়, এ সম্মান বাংলাদেশের জনগণের।’
জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মবার্ষিকীর দিনে ভারতে তার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া হলো সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার জন্য আজকের দিনটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ এ কারণে যে, কবির জন্মদিন উপলক্ষে আমি তার জন্মভূমিতে আসতে পেরেছি এবং তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি প্রদান করা হলো।
বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এমপি, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, গওহর রিজভী, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন এ অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুল, যিনি সব সময় আমাদের চেতনায় জাগ্রত থাকেন, কারণ আমাদের বাংলা সাহিত্যের আকাশে নতুনের কেতন উড়িয়ে ধূমকেতুর মতো ছিল বিদ্রোহী কবির আগমন এবং বাংলা সাহিত্যে তিনি সোনার ফসলে ভরিয়ে গেছেন।
তিনি শুধু যে কবি ছিলেন তা নয়, তিনি ঔপন্যাসিক, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, সংগীত পরিচালক, নাট্যকার, নাট্যাভিনেতা, সাংবাদিক, সম্পাদক এবং সৈনিকÑ কোথায় না তার বিচরণ ছিল। কবি নজরুল ছিলেন এক বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী।
হামদ-নাতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম এবং শ্যামা সংগীত, কীর্তন বৈষ্ণব গীতি রচনা করে হিন্দুধর্মের মানুষের কাছে যাওয়ার বিরল প্রতিভা কবি নজরুলের ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাগ হতে পারে; কিন্তু নজরুল-রবীন্দ্রনাথ ভাগ হয় নাই। সকলেই দুই বাংলার।
এ সময় অন্নদাশঙ্কর রায়ের কবিতার উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে বিলকুল/সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে/ভাগ হয়নি কো নজরুল।’
‘সত্যিই নজরুল ভাগ হয়নি’ বলেন শেখ হাসিনা।
মুক্তিযুদ্ধ ও আওয়ামী লীগের ‘জয় বাংলা’ সেøাগান নজরুলের কবিতা থেকে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুর তরুণ বয়সে নজরুলের সঙ্গে পরিচয় এবং নজরুল সাহিত্য দ্বারা বঙ্গবন্ধুর উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একজন ছিলেন সাহিত্যের কবি, আর অন্যজন ছিলেন রাজনীতির কবি।’
দুজনই অসাম্প্রদায়িক ও শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
কবি নজরুল অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী ছিলেন। সেই চেতনায় আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি।
শেখ হাসিনা সমাবর্তনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান।
সকালে কলকাতা থেকে বিমানে দুর্গাপুরের কাজী নজরুল বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়কপথে দুপুরে আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী। এরপর শুরু হয় বিশেষ সমাবর্তন ও ডি-লিট প্রদান অনুষ্ঠান।
ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রীকে আওয়ামী লীগের অভিনন্দন
পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থেকে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ডি-লিট ডিগ্রি লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণকর নেতৃত্বে উন্নয়ন সমৃদ্ধি ও শান্তির স্নিগ্ধ কলরবে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
গত ২৭ মে এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে বাঙালির স্বপ্ন জয়ের কা-ারি হিসেবে আখ্যায়িত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তীতে তারই নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ বাংলাদেশের জন্য গৌরব ও মর্যাদার অনন্য মাইলফলক।
তিনি বলেন, নবজাগরণের অগ্নি-গিরি-গর্ভের মতো জননেত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে এ দেশের মানুষের প্রাণপ্রদীপ মুক্তির অগ্নিস্পর্শে প্রজ্বলিত হওয়ায় স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অর্জিত হয়েছে অভাবনীয় সাফল্য। সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অর্জন আজ বিশ্বসভায় রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের পশ্চিমবঙ্গের ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’-এর আচার্য, উপাচার্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*