বিভাগ: ইতিহাস : প্রবন্ধ

একাত্তরে আমার ক’দিন

4-9-2019 6-45-18 PMবিষ্ণু বিশ্বাস: আমি তখন ক্লাস ফোরে উঠেছি। ১৯৭১। মার্চ মাস। একদিন সকালবেলা রান্নাঘর থেকে খেয়ে উঠোনে এসেছি। রেডিওতে কে যেন কথা বলছে! কণ্ঠের সে কি আওয়াজ, আমার গায়ের রোম শিউরে উঠেছে, আমি পা ফেলে আর নড়তে পারি না। কথা বলা শেষ হলে দাদু বললো, শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণ, রেডিও তার রেকর্ড বাজিয়েছে। শেখ মুজিবের ৭ই মার্চের ভাষণের পর থেকে খানসেনাদের সাথে বাঙালির যুদ্ধ হবে বলাবলি ছেয়ে যেতে থাকে। ঝিনেদার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিষয়খালী আসতে থাকেন এ-বেলা ও-বেলা। বিষয়খালী বাজারের পাশে আমাদের বাড়ি খড়িখালীতে। নদী আছে একটি তার এপারে। ওপারে ইপিআর-রা বাংকার খুঁড়তে শুরু করেছে। ব্রিজের এপারের মুখে স্থানীয়রা খাদ কাটছে। ব্রিজের মুখের পাশে হাজার বছর বয়সের কড়–ই গাছÑ তার একটা বিশাল ডাল কেটে খাদের ঠিক সামনে রাস্তার উপরে আড়াআড়ি করে রাখা হয়েছেÑ খানসেনারা যাতে কোনোভাবেই ব্রিজ পেরিয়ে ঝিনেদা, কুষ্টিয়া, উত্তরবঙ্গ এবং ঢাকায় যেতে না পারে। স্কুল বন্ধ। রোড দিয়ে গাড়ি চলাচল আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। শুধুমাত্র ঝিনেদা থেকে নেতা-কর্মীদের জিপ-ট্রাক বিষয়খালী বাজার পর্যন্ত আসে। যুদ্ধ হবে। যুদ্ধ কী রকম জানা নেইÑ অল্প বয়েস। আমরা অল্প বয়েসীরা এটাকে উৎসবের মতো দেখেছি। সকালে খেয়েই বাজারে চলে আসি। আম দেবদারু বনে বাংকার খোঁড়া হয়েছেÑ তাতে নামি উঠি, রাইফেল কী রকম তা দেখি। ব্রিজের দক্ষিণ দিকে রাস্তার উপরে গাছ কেটে রাখা হচ্ছে তা দেখে বেড়াই।
এপ্রিলের কাছাকাছি। আমের গুটি বড় হয়েছে, খেয়ে বেড়াচ্ছি আর লোকজন যা বলাবলি করছে তা শুনছি। ঢাকায় খানসেনারা রাতে গুলি চালিয়ে লোক মেরে ফেলেছে তা শুনেছি। ভয় এসেছে। আমরা রাত জেগে বারান্দায় বসে থাকিÑ কখন খানসেনারা যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এদিকে মারতে মারতে আসেÑ বাড়ির বড়রা আর পাড়ার বড়রা ভয় পেয়ে গেছেÑ বুঝেছি।
ঢাকায় খানসেনারা জনগণকে গুলি করে মারবার পরে দেশের শহরবাসীরা গ্রামে যেতে শুরু করে। এই সময় খুলনা যশোরের লোকেরা পায়ে হেঁটে রাস্তার পাশে গ্রামের পাড়ার ভিতর দিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি যেতে থাকে। আমাদের পাড়ার ভিতর দিয়ে আমাদের ছোট গাঙ পেরিয়ে লোকেদের যাওয়া আর ফুরোয় না। যেতে যেতে তারা বলতো যুদ্ধ এসেছে, জল খেতে চাইতো। আমরা ছোটরা কুয়ো থেকে বালতিতে জল তুলে জগে করে নিয়ে গিয়ে তাদের জল খাইয়েছি। মাঠে তখন পাকা গম আর পাকা ছোলা; ঘরে তুলে আনতে কিছু বাকি। সকালে খাওয়ার পরে আমি মামার সাথে ছোলা তুলতে গেছি। ছোলা তুলছি ছোলা তুলছিÑ এমন সময় খট খট, খট খট খট আওয়াজ আসছে কয়ারগাছির দিক থেকেÑ কয়ারগাছি বিষয়খালী থেকে দেড় মাইল দূরে দক্ষিণ দিকে। প্রথমবার আওয়াজের পরে আমি ভাবছি কাঠঠোকরা পাখি বুঝি গাছ ঠোকরাচ্ছে। দ্বিতীয়বার আওয়াজ হলে মামা বললো, মেশিনগানের গুলির শব্দ! খানেরা মারতে মারতে আসছেÑ চল্, বাড়ি চল্ তাড়াতাড়ি।
মাঠ থেকে বাড়ির দূরত্ব অল্প। এক দৌড়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বাড়ির এবং পাড়ার সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়ে গিয়েছে। বাজার থেকে পাড়ার নেতৃত্বস্থানীয়রা দৌড়ে পাড়ায় এসে ঢুকেছে। তারা বললোÑ খানসেনারা রাস্তার দু-পাশের গ্রামের ওপর গুলি ছুড়তে ছুড়তে আসছে, তাতে মরছে, পুড়ছেÑ এসব হচ্ছে, এখনই দূরের গ্রামের দিকে চলে যেতে হবেÑ বলে কয়েকজন শিশুকে কোলে কাঁধে তুলে নিয়ে তারা দৌড়াতে শুরু করলো। আমরা সবাই তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে লাগলাম। সাগরকলা বাগানের ভিতর দিয়ে গাঙ পার হয়ে আমরা আমাদের পুবের দিকের গ্রাম গড়েলা পৌঁছালাম।
এখানটি কতখানি নিরাপদ তা নিয়ে এখানকার লোকের সাথে আমাদের লোকের আলোচনা হলো। আমাদের লোকেরা আরও দূরের গ্রামে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো। সিদ্ধান্ত অনুসারে আমরা বড় মাঠের ভিতর দিয়ে আরও দূরের গ্রামে যেতে থাকলাম। আরও লোক আমাদের পিছে পিছে আসছে তা দেখলাম। পিছনে রাস্তার দিকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ। বাড়িঘরে আগুন লেগেছে, ধোঁয়া আকাশে উঠছে চোখে পড়ছে। আমাদের কুকুরটা আমাদের সঙ্গ নিয়েছে। আরও অনেক কুকুর লোকের সঙ্গ নিয়েছে চোখে পড়ছে।
প্রায় বারোটার দিকে আমরা তেঁতুলবেড়ে গ্রামে পৌঁছালাম। ওখানে শুনলাম, খানসেনারা গুলি চালাতে চালাতে বিষয়খালী ব্রিজের কাছাকাছি এসেছেÑ ইপিআররা ওদের বিরুদ্ধে পাল্টা গুলি ছুড়ছেÑ যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আমরা কিছুক্ষণ বসলাম ওখানে। জল খেলাম। একটা গুলি এসে কার গায়ে বিঁধেছে খবর রটলো। এ গ্রামের লোকেরা এখানে নিরাপদ বোধ করছে নাÑ তা বললো আমাদেরকে। তারা আমাদের আরও পুবের দিকের গ্রামের দিকে যেতে বললো।
আমরা আরও পুবের দিকের গ্রামে যেতে থাকলাম। আমরা পুবের দিকের আরও এক গ্রাম পেরিয়ে পরের গ্রামে গিয়ে উঠলাম। গ্রামটির নাম নারাণপুর। এখানে কুঠিবাড়ি। আমরা কুঠিবাড়িতে গিয়ে উঠলাম। বাড়ির উঠোন পেরোলে দক্ষিণের দিকে পুকুর। আমরা পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ায় গিয়ে বসলাম। সবুজ দূর্বা ঘাসে ছাওয়া পুকুর পাড়টি। দুপুর পেরিয়ে গেছে। এই প্রথম দুপুরের ওয়াক্তে খাওয়া নেই। যুদ্ধ তখনও শেষ হয়নি। আমাদের ঘরবাড়িতে আগুন লেগে পুড়ে গেছেÑ সে খবর এসেছে। আমার জামা-প্যান্ট, বইপত্র, বইয়ের পৃষ্ঠার ভাঁজে যতেœ রাখা একটি পাঁচ টাকার নোট পুড়ে গেছে বুঝে দুঃখে ভরে গেছে আমার হৃদয়।
বেলা প্রায় চারটের দিকে পুকুর পাড়ের দিকে গুলি আসতে লাগলো। দাদু পুকুর পাড়ের ঢালুতে তাড়াতাড়ি উপুড় হয়ে শুয়ে পড়তে বললো। আমরা তাই করলাম। গুলি আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যেতে থাকলো। ভয়ে মাটিতে শরীর মিশিয়ে দিয়ে চোখ বুজে শুয়ে থাকলাম। কিছুক্ষণ পর গুলি যাওয়া বন্ধ হয়েছে, চোখ খুলে পশ্চিমের মাঠের দিকে তাকিয়েছি, দেখি মাঠের পাশে কিছু বাড়িÑ তাতে আগুন লেগেছে। খানসেনাদের কিছু এ পর্যন্ত এসেছে। দেখলাম মাঠের ভিতরে সামনাসামনি বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে। তাতে একজন মরলো বলে মনে হচ্ছে। আমি অবাক হয়ে যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে থেকেছি। ছ’টার দিকে যুদ্ধ শেষ হলো। আমরা উঠে দাঁড়ালাম। হতাহতের খবর আসতে শুরু করেছে। ব্রিজ উড়িয়ে দেবার কথা আগেই শোনা গিয়েছিল। খানসেনারা ব্রিজ পেরিয়ে আর সামনের দিকে যেতেই পারেনি। তাদের সরাসরি রুখে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা। আমাদের পরিচিত কয়েকজনের মৃত্যু সংবাদ এসেছে। খানসেনারা না-কি অনেক মরেছে। তারা তাদের লাশ তুলে নিয়ে যশোর ক্যান্টনমেন্টে ফেরত গেছেÑ তারা হেরে গেছে।
সন্ধ্যায় আমাদের খিচুড়ি ভাত খেতে দেয়া হলো। আমরা খেলাম। তারপর শুয়ে পড়লাম। কুঠিবাড়িতে রাত কাটিয়ে আমরা ভোরে উঠে কুলাবাজারের কাছে আমাদের আত্মীয় বাড়ি গ্রাম খালকুলো গেলাম। সেখানে পনেরো দিন মতো ছিলাম। আত্মীয়রা পালা করে আজ এ-বাড়ি কাল ও-বাড়ি করে খাওয়ালোÑ শুতে দিলো।
যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। দেশ স্বাধীন হতে অনেক দিন লাগবেÑ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের গ্রামে গিয়ে বাড়ি তুলতে পারবো নাÑ বড়রা বলাবলি করে শরণার্থী হয়ে ইন্ডিয়া যেতে মন স্থির করলো। যে পনেরো দিন ওই গ্রামে থাকা হলো, ওই গ্রামের আমার বয়েসী ছেলে-মেয়েদের সাথে দাড়িপাল্লা নামের আমবাগানে কাঁচামিঠে আম খেয়ে বেড়ানো, বৈচী ফল খাওয়া, মৌচাক ভাঙার পদ্ধতি শিখে ক্ষুদে মৌমাছির চাক ভেঙে মধু খাওয়া ইত্যাদির মধুর স্মৃতি ঘটলোÑ যাবার আগে কান্নায় চোখ ভাঙলো।
পশ্চিম বাংলা যাবার পথে আমরা আমাদের গ্রাম হয়ে গেলাম। আমাদের পাড়ায় ঢুকে দেখলামÑ আমাদের ঘরবাড়ির কোনো চিহ্ন নাই। পাড়ায় যে দুটি বাড়ি টিকে আছে তার একটিতে আমরা খেলাম। এই বাড়িতে একটি ঝুট শালিক খাঁচায় পোষা। সে দুপুরেÑ স্নান করতে যাবি তো চল্, চল্Ñ বলেÑ আমাদের বললো। আমরা স্নান না করে ভয়ে ভয়ে কোনো রকমে খেয়ে রাস্তা পার হয়ে পশ্চিমের গ্রামের দিকে যেতে থাকলাম। যারা থাকলোÑ তারা খুব ভয়ে ভয়ে আছেÑ স্নান রান্না খাওয়া- দাওয়াÑ সব লুকিয়ে লুকিয়ে করছে। আবার খানসেনারা আসবার আগেই তারাও ইন্ডিয়া যাবেÑ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
সৌজন্য : যুক্ত
মহান মুক্তিযুদ্ধে আমি ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য ছিলাম। মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার বাঘমারা থানার সীমান্তবর্তী মালিকোনা নামক স্থানে বিশেষ গেরিলা বাহিনীর ইয়থ ক্যাম্প ছিল। আমি ঐ ক্যাম্পের দায়িত্ব পালনকালে সীমান্ত এলাকায় কর্তব্যরত একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের সাথে আমার যোগাযোগ হয় এবং গেরিলা বাহিনীর ইয়থগণ যখন ক্যাম্পে না থাকে তখন ঐ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সীমান্তে আমি কাজ করি। ফলে স্থানীয় বিএসএফ-র অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মুরারীর সাথেও আমার পরিচয় হয়। ক্যাপ্টেন মুরারী একজন বাঙালি-প্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি খুবই দরদি এবং রসিক মানুষ ছিলেন। মাঝে মধ্যে কথাবার্তা হলে আমাদের উৎসাহ দিতেন, সাহস দিতেন। নানারকম কথাবার্তা বলে হাস্যরস করতেন। ফলে তিনি ছিলেন সবার কাছে একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব।
বাঘমারা সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিমি দূরে পাকবাহিনীর রানীখং নামক স্থানে ক্যাম্প ছিল। প্রায়ই পাকবাহিনী গুলিবর্ষণ করত এবং বিএসএফ বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধারাও প্রতিউত্তর দিয়ে পাকবাহিনীকে জবাব দিত। এসব ঘটনার সময় ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সাথী বাঙালি জাতির বন্ধু ক্যাপ্টেন মুরারী মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস এবং মনোবল জোগাতেন।
তখন সন্ধ্যার পর হতে ভোর পর্যন্ত সমস্ত বাঘমারা এলাকায় কারফিউ জারি থাকত। বাঘমারা সীমান্তের অদূরে পাহাড়ের ওপর বিএসএফ ক্যাম্প ছিল। ক্যাপ্টেন মুরারী ঐ ক্যাম্পের প্রধান ছিলেন এবং তিনি সেখানে থাকতেন।
যে পাহাড়ে বিএসএফ ক্যাম্প ঐ পাহাড়েই ওঠার পথে নিচে গাছ দিয়ে বেরিকেড দেওয়া হতো এবং নিচে পালাক্রমে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। একদিন রাত ৮-৯টার সময় ক্যাপ্টেন মুরারী জিপ নিয়ে পাহাড়ে ওঠার সময় ঐ বেরিকেডের কাছে এসে গাড়ি থামিয়ে হর্ন বাজান।
তখন কর্তব্যরত বীর মুক্তিযোদ্ধা চিৎকার দিয়ে বলেন, কেলা গো? ক্যাপ্টেন মুরারী গাড়ি থেকে নামলে বীর মুক্তিযোদ্ধা তাকে স্যালুট করেন। মুরারী সাহেব গাড়িতে উঠলে বেরিকেড উপরে উঠালে গাড়ি পাহাড়ের ওপর চলে যায়।
পরদিন সকালে আমি আমাদের ইয়থ ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তখন ক্যাপ্টেন মুরারী মর্নিংওয়াক করে ফিরছিলেন। তিনি আমাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেনÑ
ব্যাটা বাতাওতো কেলা গো কিয়া হে। আমি প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তখন ক্যাপ্টেন সাহেব ঘটনাটি বর্ণনা করলে আমি বুঝতে পারি এবং বলি যে, স্যার ও লোক আপকে পূছা হে-আপ কোন হু? এই কথা শুনে ক্যাপ্টেন সাহেব হাসতে হাসতে আমার পিট চাপড়ালেন এবং বললেন এঁহিবাতÑ আচ্ছা হ্যায় আচ্ছে হ্যায়। আমি উনাকে স্যালুট করলাম, তিনি চলে গেলেন।
ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নেত্রকোনা বা কিশোরগঞ্জ মহকুমায় ছিল। এরপর ঘটনাটি মুখে মুখে প্রচার হলে ঐ মুক্তিযোদ্ধার নাম পড়ে যায় ‘কেলা গো’।
আজ অনেক বছর পরে একটি স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে ঐ বীর মুক্তিযোদ্ধার চেহারা হৃদয়পটে ভাসছে; কিন্তু কেলা গো ছাড়া তার আসল নাম কোনোভাবেই মনে করতে পারছি না। জয়তু বীর মুক্তিযোদ্ধা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*