বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

এবারও বিশ্বের ১১০তম সুখী দেশ বাংলাদেশ

উত্তরণ ডেস্কঃ গত বছরের মতো এবারও বিশ্বে ১১০তম সুখী দেশ বাংলাদেশ। ভারত, শ্রীলংকা, মিয়ানমারের মতো দেশ রয়েছে বাংলাদেশের পরে। জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সল্যুশন্স নেটওয়ার্কের (এসডিএসএন) আওতায় পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী সুখী দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে নরওয়ে আর সবচেয়ে কম সুখী দেশ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
২০১২ সাল থেকে ১৫৬টি দেশেও ওপর জরিপটি চলে আসছিল। এবার ১৫৫টি দেশের ওপর জরিপ হয়েছে। প্রতিটি দেশের ১ হাজার নাগরিকের কাছে তাদের জীবন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এবং শূন্য থেকে দশের একটি পয়েন্ট তালিকায় নম্বর দেওয়ার জন্য বলা হয়। যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন, সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, দাতব্য সেবা এবং দুর্নীতিহীনতা। দশের মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪ দশমিক ৬০৮ পয়েন্ট। জরিপে দেখা গেছে, যেসব দেশে বৈষম্য বা ভেদাভেদ কম, সেখানকার মানুষ বেশি আনন্দে থাকে। বিশেষ করে যেসব দেশে সামাজিক সহায়তা বেশি, বিপদে সমাজ বা রাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া যায়, সেসব দেশের নাগরিকরাই বেশি সুখী।
নরওয়ের পরে শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে রয়েছেÑ ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। সুখী দেশ বাছাইয়ের এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে ১৪ নম্বরে। গত বছর তারা ছিল ১৩ নম্বরে। যুক্তরাজ্য রয়েছে ১৯ নম্বরে। গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ২৩তম। চীনের অবস্থান ৭৯। গত বছর ছিল ৮৩। আর প্রতিবেশী দেশ ভারত রয়েছে ১২২তম অবস্থানে যদিও গত বছর তাদের অবস্থান ছিল ১১৮তম। তালিকায় সবচেয়ে নিচে থাকা ৫টি দেশ যথাক্রমেÑ রুয়ান্ডা, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, বুরুন্ডি ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক।
এসডিএসএন’র পরিচালক এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা জেফ্রে স্যাকস এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সাধারণ মাপকাঠিতে সুখী হলো সেই দেশগুলো যাদের সমৃদ্ধির মধ্যে ভালো রকমের ভারসাম্য আছে। এর অর্থ সমাজে চূড়ান্ত পর্যায়ের আস্থা রয়েছে, অসমতা কম এবং সরকারের আত্মবিশ্বাস আছে।
ওই তালিকায় বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্য থেকে সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অষ্টম অবস্থানে রাখা হয়েছিল।
‘হ্যাপি প্ল্যানেট ইনডেক্স ২০১৬’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৩৮ দশমিক ৪। একটি দেশের নাগরিকদের সন্তুষ্টি, গড় আয়, পরিবেশের ওপর প্রভাব ও বৈষম্যÑ এই চার মানদ- বিবেচনায় নিয়ে সুখী দেশের সেই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। দেখা যাচ্ছে, সুখী দেশ নিরূপণ করতে গিয়ে জাতিসংঘ ও নিউ ইকোনমিক ফাউন্ডেশন আলাদা মানদ- ব্যবহার করেছে। সুখী দেশ হিসেবে দুই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আলাদা আলাদা অবস্থানের পেছনে মানদ-জনিত ভিন্নতাকেই কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*