বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

এসডিজি বাস্তবায়নে দরকার সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেমিনার
উত্তরণ ডেস্ক: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন অংশের সাথে নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি। আর দক্ষিণ এশিয়ায় এই লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় অগ্রাধিকারের পরিবর্তে আঞ্চলিক পন্থায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বক্তারা এই অভিমত দেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট ‘এচিভিং সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজিস) : কি পলিসি প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন চ্যালেঞ্জেস ফর সাউথ এশিয়া অ্যান্ড বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (ইউএন-এসকাপ) দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিম এশিয়া দফতরের প্রধান নাগেশ কুমার। স্বাগত বক্তব্য দেন জিআইইউর মহাপরিচালক আবদুল হালিম।
নাগেশ কুমার তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের (এমডিজি) ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এসডিজি পূরণের পথে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ। এমডিজি অর্জনে সাফল্য ও অর্থনীতিতে বহুমাত্রিকতা থাকার পরও বিশ্বের প্রায় ৩৭ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী, প্রায় অর্ধেকের মতো অপুষ্টির শিকার হওয়া শিশুর বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। দক্ষিণ এশিয়ায় এসডিজি পূরণ না হলে সারাবিশ্ব তা পূরণ করতে পারবে না। এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হলেও তা যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে না। এই পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সহায়ক নয়।
সেমিনারের সূচনা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, এমডিজির অভিজ্ঞতায় আমরা অনেক কিছু শিখেছি। এসডিজি অর্জন দুরূহ। কারণ, এবার অনেকগুলো লক্ষ্য পূরণ করার আছে। সরকার একা এবং সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়, সংস্থা এককভাবে তা পূরণ করতে পারবে না। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও নাগরিক সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে। সেমিনারের নির্ধারিত আলোচক পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, এসডিজিতে বাংলাদেশের জোরালো রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
মুক্ত আলোচনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, উন্নয়নের জন্য যে সম্পদের প্রয়োজন, তা দেশগুলোর আছে। তবে বিদেশি যে সহায়তা পাওয়া যায়, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিয়ে ভাবতে হবে। টেকসই পরিবেশের বিষয়টিকে বিবেচনায় নিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসডিজি অর্জনে সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন। তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক জোরদার করা, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধসহ শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অতীতে যেভাবে বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে ফোরাম হয়েছিল, তেমনি এসডিজিতে দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী ১৫ বছরের প্রতিফলন ঘটাতে ওই নাগরিক ফোরাম গঠনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তেমনি নাগরিক সমাজসহ সব পক্ষকে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় যুক্ত করাটাও জরুরি।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*