বিভাগ: কৃষি

গ্রীষ্মের ফলের পুষ্টিগুণ

4-9-2019 7-00-03 PMরাজিয়া সুলতানা: প্রকৃতির কৃপায় বাংলাদেশে সারাবছরই প্রচুর ফল উৎপাদন হয়। তবে এখানকার আবহাওয়া ও ভূ-প্রকৃতি গ্রীষ্মম-লীয় ফল উৎপাদনের জন্য বেশি উপযোগী। উৎপাদনের দিক থেকে গ্রীষ্মপ্রধান ফলগুলো ৭৯ শতাংশ জমি দখল করে আছে। অবশিষ্ট ২১ শতাংশ জমিতে হচ্ছে অন্য ফল। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য একজন মানুষের কমপক্ষে দৈনিক মাথাপিছু ৮৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। পরিসংখ্যানতাত্ত্বিক হিসাবে পাচ্ছে মাত্র ৩৫ গ্রাম। এর মধ্যে বেশির ভাগই গ্রীষ্মকালীন ফল।
‘মধু মাস বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ’র সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত। আর নামটি এসেছে সুমিষ্ট, সুস্বাধু ফল উৎপাদনের নিরিখেই। মোট ফল উৎপাদনের ৫৪ শতাংশই উৎপাদন শুরু হয় বৈশাখে। শেষ হয় প্রায় শ্রাবণ মাসে, অর্থাৎ বর্ষায়। বাকি ৪৬ শতাংশ ফলের উৎপাদন হয় অবশিষ্ট আট মাসে।
ঋতু বৈচিত্র্যের বাংলাদেশ উষ্ণপ্রধান হওয়ায় তাপমাত্রা সাধারণত থাকে ১০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বছরব্যাপী কম-বেশি বৃষ্টিপাত, মাটিও উর্বর। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত ফল চাষের জন্য অনুকূল। তাই ফলের আধিক্যও বেশি। ফলের প্রকারভেদ প্রায় ১৩০ রকমের। এর মধ্যে ৭০ রকম প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলের আবাদ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ রং, রূপ, ঘ্রাণ ও মিষ্টতার জন্য সাধারণত ২৮-৩৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত প্রয়োজন, যা গ্রীষ্মকালে থাকে। আর এ জন্যই এ-সময় ফলের প্রাচুর্যতা অনেক বেশি। এক নজরে আমাদের চারদিকের কিছু গ্রীষ্মকালীন ফলÑ আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আনারস, পেঁপে, তরমুজ, বাঙ্গি, জামরুল, পেয়ারা, সফেদা, আতা, শরিফা, কামরাঙা, নারিকেল, বেল, তাল, তালশাঁস, লেবু, খেজুর, প্যাশন ফল, গোলাপজাম, গাব, ডেউয়া, বেতফল, মুড়মুড়ি, ফলসা, হামজাম, বৈঁচি, লুকলুকি, তৈকর, আঁশফল ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু ফল সারাবছর পাওয়া গেলেও গ্রীষ্মে এদের আধিক্য থাকে বেশি।
নাম-জানা না-জানা অনেক ফল আমরা হারাতে বসেছি। আবার অনেক ফলের নতুন নতুন উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন গবেষণারত আমাদের কৃষিবিজ্ঞানীরা। ফল ভেষজ বা ঔষধি গুণসম্পন্ন। নিয়মিত ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সুস্থ সবল জীবন লাভ করা যায়। এত পুষ্টিগুণসম্পন্ন ফলের প্রার্চুযতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক পুষ্টিহীনতার শিকার। বাংলাদেশের প্রায় ৮৮ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ‘এ’, ৯০ শতাংশ মানুষ ভিটামিন ‘সি’, ৯৩ শতাংশ মানুষ ক্যালসিয়ামের অভাবে ভুগছে। একটু সচেতন হলেই আমরা এই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারি আমাদের স্বল্পমূল্যের ফলের মাধ্যমে। নিম্নের আলোচনা হতেই বুঝতে পারব পুষ্টিগুণ বিচারে আমাদের দেশি ফল অতুলনীয়। বাংলাদেশের কিছু প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফলের পুষ্টিগুণÑ
আম
পুষ্টির কথা বলতে গেলে প্রথমে যে ফলটির নাম চোখের কাছে জলজল করে ওঠে, তা হলো আম। আমার তো জিভে পানি চলে এলো, অন্যদেরও এলো কি না আমার জানতে ইচ্ছে করছে। আদি ভারতবর্ষের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন উষ্ণম-লীয় ফল আম। যা চাষ করা হচ্ছে প্রায় ৬ হাজার বছর ধরে। জাত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে আমের সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলো জন্মে। জাত ভেদে ফলের ওজন ১০০ থেকে ১ হাজার গ্রাম। ফসল উত্তোলনের সময় জুন-আগস্ট।

পুষ্টিগুণ
®    আম ক্যারোটিনসমৃদ্ধ সহজপাচ্য সুমিষ্ট ফল।
®    আমের আকার ও ধরনের ওপর এর ক্যালরির পরিমাণ নির্ভর করে।
®    একটা মাঝারি আকারের আমে ৫০ থেকে ১০০ ক্যালরি আছে।
®    পাকা আমে ক্যারোটিনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ।
®    কাঁচা আমে আছে পেকটিন, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।

তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম আমে আছেÑ
®    প্রায় ৪০০ ইউনিট ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে।
®    ১২ গ্রাম শর্করা।
®    ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’র সাথে আছে প্রায় ২৫ রকমের বিভিন্ন কেরাটিনোইডস, যা শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রাখে অক্ষুণœ।
®    টারটারিক এসিড, ম্যালিক এসিড ও সাইট্রিক এসিড রয়েছে আমে, যা শরীরে অ্যালকালাই বা ক্ষার ধরে রাখতে সাহায্য করে।

আমে আরও আছে ভিটামিন ‘বি’, খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম ও প্রচুর খাদ্যশক্তি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলোÑ আমের মধ্যে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা কি না ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। স্তন, লিউকেমিয়া, কোলনসহ প্রোস্টেট ক্যানসারও প্রতিরোধেও সহায়তা করে আম। এতে প্রচুর এনজাইমও পাওয়া যায়, যা শরীরের প্রোটিন অণু ভেঙে হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আম খেলে কিছুটা ওজন বাড়লেও কোলেস্টেরল কমে যায়, তা আবার রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল যেমন কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন। সৌন্দর্য পিপাসুদের জন্য সুখবর হলোÑ ত্বকের যতেœও আমের তুলনা হয় না। ভেতর ও বাইরে থেকে উভয়ভাবে ত্বককে সুন্দর রাখতে সাহায্য করে আম। ত্বকের লোমের গোড়া পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে আম। তাই অতি সহজেই পাকা আমের প্যাক ব্যবহার করতে পারবেন ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে। ফলে মুক্তি পেতে পারেন ব্রণের সমস্যা থেকে।

জাম
জাম অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি ফল। এটি কালোজাম হিসেবে অধিক পরিচিত। জামগাছ বড় আকারের বৃক্ষ। পরিপক্ব ফল কালো, লম্বাটে। ফলের অর্ধেকটাই বীজ। ফল পাকে জুলাই মাসে। খুবই অল্প সময় এটি বাজারে দেখা যায়।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম জামেÑ
®    শর্করার পরিমাণ ১.৪ গ্রাম।
®    ক্যালরির পরিমাণ ১১ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ২২ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ৪.৩ মিলিগ্রাম আর
®    ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে ৬০ গ্রাম।

মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে জাম অতুলনীয়। এছাড়া শরীরের হাড়কে শক্তিশালী করে। প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে জামে। রক্তশূন্যতার রোগীদের তাই জাম খেতে বলা হয়। এতে শর্করা খুবই কম। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে জাম খেতে পারেন। জামে জৈব অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি। তাই কখনও কখনও পেটে গ্যাস হতে পারে। জাম খেলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়, দাঁত ও মাড়ি শক্ত এবং মজবুত হয়। দাঁতের মাড়ির ক্ষয়রোধ করে। তাছাড়া কালোজাম টিস্যুকে টানটান হতে সাহায্য করে, যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে। জাম ব্রেইন অ্যালারট হিসেবে কাজ করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জামে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকে বলে পানি শূন্যতাকে রোধ করে ত্বককে স্বাস্থ্যবান করতে সাহায্য করে। ডিটক্সিফায়ার হিসেবেও কাজ করে জাম। জাম কেমোপ্রোটেক্টিভ। এর নির্যাস রেডিওপ্রোটেক্টিভ এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ফ্রি র‌্যাডিকেলের কাজে এবং বিকিরণে বাধা দেয়। কাঁচা জামের পেস্ট পেটের জন্য উপকারী। বর্তমানে কিছু দেশে জাম দিয়ে বিশেষ ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে, যা ব্যবহারে চুল পাকা বন্ধ হবে। গলার সমস্যার ক্ষেত্রে জাম ফলদায়ক। জাম গাছের ছাল পিষে পেস্ট তৈরি করে তা পানিতে মিশিয়ে মাউথওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে গলা পরিষ্কার হবে, মুখের দুর্গন্ধ দূর হবে, মাড়িতে কোনো সমস্যা থাকলে তাও কমে যাবে।

কাঁঠাল
কাঁঠাল খুবই জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি ফল। এই ফল বেশ রসালো ও সুস্বাদুও বটে। তবে এটি সহজপাচ্য নয়। পেটে গ্যাস সৃষ্টি করতে পারে। ক্যারোটিনসমৃদ্ধ এই ফল রুচি ও শক্তিবর্ধক। এটি আমাদের জাতীয় ফল। উৎপত্তিস্থল ভারতের পশ্চিমঘাট। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্রই দেখা যায়। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না গাছটি। কাঁঠাল উদ্ভিদ জগতের সর্ববৃহৎ ফলের একটি। ওজন ৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালেÑ
®    খাদ্যআঁশ ২ গ্রাম।
®    আমিষ ১ গ্রাম।
®    শর্করা ২৪ গ্রাম।
®    চর্বি ০.৩ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ৩৪ মিলিগ্রাম।
®    ম্যাগনেশিয়াম ৩৭ মিলিগ্রাম।
®    পটাশিয়াম ৩০৩ মিলিগ্রাম।
®    ম্যাঙ্গানিজ ০.১৯৭ মিলিগ্রাম।
®    লৌহ ০.৬ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন ‘এ’ ২৯৭ গ্রাম আইইউ।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৬.৭ মিলিগ্রাম।
®    থায়ামিন (ভিটামিন বি-১) ০.০৩ মিলিগ্রাম।
®    রিবোফেবিন (ভিটা বি-২) ০.১১ মিলিগ্রাম।
®    নায়াসিন (ভিটা বি-৩) ০.৪ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন বি-৬ ০.১০৮ মিলিগ্রাম।
কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন আছে। যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত দরকার। অন্যদিকে চর্বির পরিমাণ কম। ফলে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই বললেই চলে। কাঁঠাল পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। ফলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। কাঁঠালে ভিটামিন ‘এ’-এর আধিক্যের কারণে রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। মানব দেহে ভিটামিন ‘সি’ তৈরি হয় না। আবার রান্না করা সবজিতেও ভিটামিন ‘সি’ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে। আর এই ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম উৎস হচ্ছে কাঁঠাল। কাঁঠালে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস; যা আলসার, ক্যানসার, উচ্চ রক্তচাপ ও বার্ধক্য প্রতিরোধে সক্ষম। কাঁঠালে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা আমাদের দেহকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। এছাড়া সর্দি-কাশি, টেনশন এবং নার্ভাসনেস কমাতে কাঁঠাল বেশ কার্যকরী।

কলা
গ্রীষ্মম-লীয় এলাকার এক সুপরিচিত সুস্বাদু ফল কলা। এর আদি নিবাস দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা। খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দ নাগাদ ভারতে আসে। এরপর থেকে উষ্ণম-লীয় বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। এমনকি খ্রিষ্টপূর্ব ২০০-৩০০ অব্দেও প্রশান্ত মহাসাগরের কতিপয় দ্বীপে এবং আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ভাগ এলাকায় কলা বিস্তার লাভ করেছিল বলে ধারণা করা হয়।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলায় রয়েছেÑ
®    পানি (জল) ৭০.১ শতাংশ।
®    আমিষ ১.২ শতাংশ।
®    ফ্যাট (চর্বি) ০.৩ শতাংশ।
®    খনিজ লবণ ০.৮ শতাংশ।
®    আঁশ ০.৪ শতাংশ।
®    শর্করা ৭.২ শতাংশ।
®    মোট ১০০.০ শতাংশ।

খনিজ লবণ এবং ভিটামিনের পরিমাণÑ
®    ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম।
®    ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’, অল্প ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ৮ মিলিগ্রাম।
®    মোট ক্যালরি ১১৬।

এই ফলে শর্করার পরিমাণ যথেষ্ট বেশি। তাই যখন খুব দ্রুত শক্তির দরকার হয় তখন কলা খেয়ে নেওয়া হয়। কলা থেকে উৎপন্ন রস অতি পুষ্টিকর ও উপাদেয়। পাকা অবস্থায় এই ফল খুব সুস্বাদু। কাঁচা কলা উত্তম সবজি। এছাড়াও কলা গাছের থোড় সবজি হিসেবেও খাওয়া হয়।

লিচু
উনিশ শতকের শুরুর দিকে চীন থেকে ভারতবর্ষে লিচুর অনুপ্রবেশ ঘটে। লিচু গাছ অধিক শাখাযুক্ত ও চিরসবুজ। বাংলাদেশের সর্বত্র ভালোভাবে জন্মে। তবে উন্নতমানের ফল উৎপন্ন হয় দিনাজপুর, রাজশাহী, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে। ফল পাকার সময় জুন ও জুলাই।

পুষ্টিগুণ
১০০ গ্রাম লিচুতেÑ
®    শর্করা রয়েছে প্রায় ১৩.৬ গ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ১০ মিলি গ্রাম।
®    ভিটামিন ‘সি’ ৩১ মিলি গ্রাম।

প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুর ক্যালরি মূল্য ৭৯ কিলোক্যালরি। লিচুর ক্যালরি মূল্য বেশি বলে ডায়াবেটিক মানুষের পরিমিতভাবে লিচু খাওয়া ভালো। টসটসে এই ফলে জলীয় অংশ অনেক। তাই এই ফল শরীরের পানির চাহিদা ও পিপাসা মেটায়। এছাড়া লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শ্বেতসার, ভিটামিন ও খনিজ লবণ।

তরমুজ
একটি গ্রীষ্মকালীন সুস্বাদু ফল। ঠা-া তরমুজ গ্রীষ্মকালে বেশ জনপ্রিয়। এতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে। এই ফলে ৬ শতাংশ চিনি এবং ৯২ শতাংশ পানি এবং অনন্য উপাদান ২ শতাংশ। এটি ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় ফল।
পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছেÑ
®    ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম পানি।
®    আঁশ ০.২ গ্রাম।
®    আমিষ ০.৫ গ্রাম।
®    চর্বি ০.২ গ্রাম।
®    ক্যালরি ১৫ থেকে ১৬ মিলিগ্রাম।
®    ক্যালসিয়াম ১০ মিলিগ্রাম।
®    আয়রন ৭.৯ মিলিগ্রাম।
®    কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম।
®    খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম।
®    ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম।
®    নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম।

আরও রয়েছে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, ভিটামিন ‘বি’ ও ভিটামিন ‘বি-২’। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত অসুস্থতা কমে যায়। এছাড়াও নিয়মিত তরমুজ খেলে প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। তরমুজে আছে ক্যারোটিনয়েড। আর তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যারটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।

বাঙ্গি
ফুটি, বাঙ্গি বা কাঁকুড় এক রকমের শশা জাতীয় ফল। ছোট এবং লম্বাটে জাতকে চিনাল বলা হয়। ফুটি আকারের বেশ বড়, কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকলে হলুদ এবং ফেটে যায়। খেতে তেমন মিষ্টি নয়, বেলে বেলে ধরনের। এর ভেতরটা ফাঁপা থাকে।
পুষ্টিগুণ
এ ফলটি খুব রসালো। এর পুরোটাই জলীয় অংশে ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা হজমশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। চিনির পরিমাণ কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন। বাঙ্গি ভিটামিন ‘সি’, শর্করা ও সামান্য ক্যারোটিনসমৃদ্ধ।

পেয়ারা
বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। আমেরিকার নিরক্ষীয় অঞ্চল এর আদি নিবাস। পেরু থেকে মেক্সিকো পর্যন্ত দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, হাওয়াই, ফিলিপাইন, ফ্লোরিডা প্রভৃতি দেশে ব্যাপকভাবে পেয়ারার চাষ হয়।

পুষ্টিগুণ
®    পেয়ারা ভিটামিন ‘সি’ এবং পেকটিনের অন্যতম উৎস।
®    পেয়ারায় ৮০-৮৩ শতাংশ পানি।
®    অমø ২.৪৫ শতাংশ।
®    বিজারিত চিনি ৩.৫০-৪.৪৫ শতাংশ।
®    অবিজারিত চিনি ৩.৯৭-৫.২৩ শতাংশ।
®    দ্রবনীয় শুষ্ক পদার্থ ৯.৭৩ শতাংশ।
®    পটাশিয়াম ০.৪৮ শতাংশ।
®    ২৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে ১০০ গ্রাম পেয়ারায়।

মৌসুম, পরিপক্বতা ও জাতভেদে এর পুষ্টিগুণের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। পেয়ারা পরিণত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। টাটকা অবস্থায় পরিপক্ব ফল থেকে সালাদ, পুডিং এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সুস্বাদু জেলি, শরবত, পাউডার, আচার ও আইসক্রিম তৈরি করা হয়।

লেখক : শিক্ষক, পিএইচডি গবেষক, প্ল্যান্ট প্যাথলজি
শেরে বাংলা কৃষি ইউনিভার্সিটি, শেরে বাংলা নগর, ঢাকা-১১০০
raziasultana.sau52@gmail.com
[চলবে]

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*