বিভাগ: শোক সংবাদ/স্মরণ

চট্টলার গণনায়ক মহিউদ্দিন চৌধুরীর চির বিদায়

53উত্তরণ প্রতিবেদন: চট্টলা বীর এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বিদায় নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের অকুতোভয় সৈনিক, গণমানুষের নেতা চট্টলা দরদি মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নক্ষত্রের বিদায় হলো।
অত্যন্ত সম্মোহনী শক্তির অধিকারী মহিউদ্দিন চৌধুরী সহজেই যে কাউকে আপন করে নিতে পারতেন। তার আতিথেয়তা থেকে কেউ বঞ্চিত হতে পারত না। চশমা হিলের তার বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে না খেয়ে ফিরতে পারতেন না কেউ।
রাউজানের গহিরা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রেল বিভাগে পিতার চাকরির সুবাদে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে নোয়াখালীতেও শিশুকাল অতিবাহিত করতে হয়েছে। ছোটবেলা থেকে প্রতিবাদী ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। সামাজিক ত্যাগ-তিতিক্ষা, মানুষের অসহায়ত্ত ও কষ্ট তাকে নাড়া দিত। তাই তো ১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন নেওয়ার পরও তিনি নিজের জীবনকে জড়িয়ে ফেলেছেন মানুষের দাবি আদায়ের সংগ্রামে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হয়েছিলেন। একাধিকবার কারাবরণসহ হুলিয়া নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছেন। তিনি পত্রিকার হকার, চা-দোকানদার, রেডিও মেকানিকের কাজ করেছেন জীবনের চলার পথের কঠিন বাস্তবতায়। চশমা হিলের বাসা থেকে নগরীর নিউমার্কেট সংলগ্ন ঐতিহাসিক আলোচিত গ্র্যান্ড হোটেল ও দারুল ফজল মার্কেটের আওয়ামী লীগের কার্যালয় ঘিরে ছিল তার প্রধান বিচরণকেন্দ্র।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ’৭১-এর ২ মার্চ তারই নেতৃত্বে পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়েছিল লালদীঘিতে। একপর্যায়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি হয়ে আগরতলা ক্যাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর সপরিবার হত্যার পর তাকে চলে যেতে হয়েছে কলকাতায়। সেখানে অনেক কষ্টে জীবন পার করতে হয়েছে তাকে।
মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হয়েছেন ১৯৯৪ সালে। পরপর তিনবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে হ্যাট্রিক করেছেন। প্রায় ১৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেয়রের দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য-শিক্ষা ও আদর্শ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তিনি মেয়র হজ কাফেলার মাধ্যমে প্রতিবছর হাজিদের হজে নিয়ে যেতেন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদেরও বিদেশে তীর্থযাত্রার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভারত ও থাইল্যান্ডে তার পরিচিত অনেক চিকিৎসক ছিলেন। তার সুপারিশ নিয়ে অনেক রোগী যেতেন। এমনকি স্থানীয় পর্যায়ে ভিসা পেতেও তার শরণাপন্ন হতেন রোগীরা। বেওয়ারিশ লাশের দাফন করতে তিনি ছুটে যেতেন লোকজনের বাড়িতে। শিশিরের মতো ভেজা তার রাগ-অভিমানের মহিউদ্দিন চৌধুরী তার দাবি ও লক্ষ্য অর্জনে ছিলেন কঠোর। চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে দলমত নির্বিশেষে মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের দরদি ও আপসহীন নেতা।

মহিউদ্দিনের বাসভবনে শোকার্ত শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে সদ্য প্রয়াত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ ও গোটা দেশ একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছে। জীবদ্দশায় মহিউদ্দিন চৌধুরী দলের জন্য, চট্টগ্রামের জন্য যে ভূমিকা রেখে গেছেন সে আদর্শ ধরে রাখার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলশহর চশমা হিলের বাসভবনে প্রবেশের পর ড্রয়িংরুমে টাঙ্গানো ছবিগুলো একেক করে প্রত্যক্ষ করেন। যেখানে রয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ছবি, তার (প্রধানমন্ত্রী) ও রাজনৈতিক কর্মকা-ের বেশ কিছু ছবি। এসব ছবি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী কিছুটা আবেগাপ্লুত হন। এরপর তিনি সরাসরি মহিউদ্দিনের বেডরুমে প্রবেশ করেন। সেখানে আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রীর বসার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। বেডরুমে মহিউদ্দিন পরিবারের ১৫ সদস্যকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছিলেন পূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মহিউদ্দিন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশে বসেন মহিউদ্দিনের স্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন, জ্যেষ্ঠপুত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কনিষ্ঠপুত্র বোরহানুল হাসান সালেহীন, তিন কন্যা, জামাতা ও তিন নাতি-নাতনি।
ঘরোয়া পরিবেশের এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪০ মিনিট সময় কাটান। বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন তার পুত্র-কন্যাদের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জন্মাইলে মরিতে হইবে, আমাদেরকেও একে একে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমাকে ছেড়ে একে একে সকলে চলে যাচ্ছেন। এটা আমার জন্য বেদনার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা-মা’সহ অন্য সদস্যদের হত্যা করার পর আমরা দুবোন বিদেশে ছিলাম। আমাদের হাতে ছিল সামান্য পরিমাণ ডলার। আমরা দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমরা আজকের অবস্থানে আসতে কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে অবদান রাখার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আজীবন মানুষের সঙ্গে ছিলেন। তৃণমূল থেকে তিনি উঠে আসেন এবং তৃণমূলের সঙ্গে থেকে জীবনের শেষ মুহূর্তটি সম্পন্ন করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুটা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তিনি মহিউদ্দিনের পুত্র-কন্যাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন ত্যাগী নেতাকে হারিয়েছে। দলের জন্য, দেশের জন্য ও চট্টগ্রামের জন্য তিনি অনন্য সাধারণ ভূমিকা রেখে গেছেন। তার আদর্শ ও ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিকেল ৩টার পর প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিনের বাসভবনে পৌঁছলে গেটে তাকে অভ্যর্থনা জানান বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন ও পুত্র ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। মহিউদ্দিনের বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়াকে কেন্দ্র করে ২৩ বিকেল থেকেই ষোলশহর এলাকা, মেয়র গলি ও চশমা হিলকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পদপিষ্টে নিহত পরিবারদের আর্থিক সহায়তা : মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কথাবার্তা বলার পর প্রধানমন্ত্রী বাসভবন প্রাঙ্গণে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ১০ পরিবারের সদস্যদের নগদ ৫ লাখ টাকা হারে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, মহিউদ্দিনের মৃত্যুর পর তার মেজবানির অনুষ্ঠানে নগরীর রীমা কনভেনশন সেন্টারে প্রচ- ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে ১০ জন প্রাণ হারান। তারা সকলেই সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সদস্য। ওই কনভেনশন সেন্টারে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য মেজবানির আয়োজন করা হয়েছিল গত ১৮ ডিসেম্বর। প্রধানমন্ত্রী নিহত পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের ইচ্ছে ব্যক্ত করলে তাদের মহিউদ্দিনের বাসভবন প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি পরিবারের হাতে সাহায্যের নগদ টাকা হস্তান্তর করেন। পাশাপাশি প্রশাসনকে নিহত ১০ পরিবারের সকলের বায়োডাটা তার কাছে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এমপি
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ ছায়েদুল হক এমপি গত ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)। ছায়েদুল হকের বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার একমাত্র ছেলে এসএম রায়হানুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের খ্যাতনামা আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক ১৯৪২ সালের ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলাধীন পূর্বভাগ গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাতা মরহুমা মেহের চান্দ বিবি ও পিতা মরহুম আলহাজ মোহাম্মদ সুন্দর আলী। তিনি ১৯৬৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া, তিনি আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘদিন আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৬ সালে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬-দফায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বাধীনতা-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতের ত্রিপুরায় অবস্থিত লেম্বুছড়া প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর একাধারে সপ্তম থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদীয় কাজে তার অভিজ্ঞতা ব্যাপক।

সুন্দরগঞ্জের এমপি গোলাম মোস্তফা পরলোকে
গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ (৭২) সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা সিএমএইচএ মারা গেছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শিক্ষাজীবন শেষ করে রাজনীতির পাশাপাশি এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ চ-িপুর তহুরুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন আদর্শ সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ৩৩ বছর থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে অধিষ্ঠ হয়ে ন্যায়নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৪নং চ-িপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৯ ডিসেম্বর সকাল অনুমানিক ৮টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্যা গুণগ্রাহী রেখে যান। ওই দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথম নামাজে জানাজা শেষে তার লাশ নিয়ে বিশেষ হেলিকপ্টার গাইবান্ধায় অবতরণ করলে কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*