বিভাগ: সংস্কৃতি

চারুকলায় ‘জয়নুল উৎসব’

22উত্তরণ প্রতিবেদন: শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ১০২তম জন্মদিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজন করে ‘জয়নুল উৎসব’। ২৯ ডিসেম্বর সকালে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পাচার্যের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শিল্পী হাশেম খান, চারুকলা অনুষদের ডিন নিসার হোসেন ও ভারতের শিল্পী যোগেন চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে শিল্পাচার্যের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগসহ চারুশিল্পীরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘জয়নুল সম্মাননা’ দেওয়া হয় শিল্পী হাশেম খান ও ভারতের শিল্পী-অধ্যাপক যোগেন চৌধুরীকে। তারপর ‘জয়নুল শতবর্ষ প্রবন্ধাবলী’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা। এই আসরে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ভাস্কর তারক গড়াইয়ের নির্মিত জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন শিল্পাচার্যের সহধর্মিণী জাহানারা আবেদিন। এরপর চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে শুরু হয় ‘জয়নুল মেলা’। বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ পণ্যের মেলা জমে ওঠে নানা বয়সী মানুষের আনাগোনায়।
১২ জানুয়ারি থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে পঞ্চদশ ঢাকা 23আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এখন চলছে এই আয়োজনের প্রস্তুতিপর্ব। পঞ্চদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬৭টি দেশের ১৮৬টিরও বেশি ছবির প্রদর্শনী হবে। রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তন, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন, আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ, স্টার সিনেপ্লেক্স এবং আমেরিকান সেন্টার মিলনায়তনে এগুলো দেখানো হবে। এশিয়ান কম্পিটিশন, রেট্রোস্পেকটিভ, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, চিলড্রেনস ফিল্মস, স্পিরিচুয়াল ফিল্মস, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মস, নরডিক ফিল্ম সেশন এবং উইমেন্স ফিল্মমেকারস সেকশন-এ চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া বিশ্বের ৬৭টি দেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার-সমালোচক, সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তা, রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদ ও অন্যান্য চলচ্চিত্র সংসদের সদস্যসহ দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উৎসবে অংশ নিয়ে দর্শকদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। উৎসবের অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রে নারীর ভূমিকা বিষয়ক ‘তৃতীয় ঢাকা আন্তর্জাতিক উইমেন ফিল্ম মেকারস্ কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হবে। আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ মিলনায়তনে এই সম্মেলন থাকবে আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি। এতে বিভিন্ন দেশের নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারী নির্মাতারা অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মদিন উদযাপিত
২৭ ডিসেম্বর ছিল সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মদিন। সদ্যপ্রয়াত এই লেখকের ৮২তম জন্মদিনে ছিল দুটি আয়োজন। ‘ফুলের গন্ধের মতো থেকে যাব তোমার রুমালে’ শিরোনামের আয়োজন ছিল শিল্পকলা একাডেমিতে। আর বাংলা একাডেমিতে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজন করে আলোচনা আর কবিতা পাঠের। ওইদিন শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠান। যার শুরুতেই সৈয়দ হকের প্রতিকৃতিতে আলোক প্রজ্বলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণের সাথে বেজে ওঠে শিল্পী মনিরুজ্জামানের বাঁশির সুর। এরপর নাট্যজন আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় সূচনা বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। সৈয়দ শামসুল হকের দুটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর মধ্যে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে কাব্যগ্রন্থ ‘কর্কটবৃক্ষের শব্দসবুজ শাখায়’ এবং অন্যপ্রকাশ থেকে অনুবাদ নাটকের বই ‘শেক্সপিয়রের হ্যামলেট’ প্রকাশিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে ‘সৈয়দ শামসুল হক সৃজনের জাদুকর : নাট্য নির্দেশকের নিবেদন’ বিষয়ে নাট্যজন আতাউর রহমান, ‘চলচ্চিত্রে সৈয়দ শামসুল হক : বড় ভালো লোক ছিল’ বিষয়ে চলচ্চিত্র গবেষক অনুপম হায়াত, ‘জাদুবাস্তবতার পথিকৃৎ সৈয়দ শামসুল হক’ বিষয়ে কথাশিল্পী আনিসুল হক, ‘চিরজীবিত বিশ্ববাঙালি’ আলোচনা করেন কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কবিপতœী কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা আবৃত্তি করেন হাসান আরিফ, গোলাম সারোয়ার ও আহকামউল্লাহ। নাট্যদল থিয়েটারের পরিবেশনায় সৈয়দ হক রচিত ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ এবং নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের পরিবেশনায় ‘ঈর্ষা’র অংশবিশেষ মঞ্চস্থ করে। সৈয়দ শামসুল হকের লেখা সংগীত পরিবেশন করেন এন্ড্রু কিশোর। সৈয়দ শামসুল হককে নিবেদন করে সমাপনী নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা সেনগুপ্ত। সৈয়দ হকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে বিভিন্ন সংগঠন। এর আগে সকালে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে জাতীয় কবিতা পরিষদ আয়োজন করে আলোচনা, স্মৃতিচারণ, নিবেদিত কবিতাপাঠ ও কবির কবিতা থেকে আবৃত্তি। সৈয়দ হককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, কবি রবিউল হুসাইন, কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ ও কবি সাজ্জাদ কাদির। জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত।
সাংস্কৃতিক জোটের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠান
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট রাজধানীর ৫টি স্থানে সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ‘বিজয় উৎসব-২০১৬’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠান শুরু হয় ১৩ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ১৯ ডিসেম্বর। ১৩ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মঞ্চে সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবের উদ্বোধন করেন একুশের গানের অমর রচয়িতা ভাষাসৈনিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী। উৎসবের এবারের স্লোগান ছিল ‘ঐক্য গড়ো বাংলাদেশ, সাম্প্রদায়িকতা হবে শেষ’। রাজধানীতে বিজয় উৎসব চলেÑ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মঞ্চ, রবীন্দ্র সরোবর কবি রফিক আজাদ মঞ্চ, রায়ের বাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ মঞ্চ, বর্ণমালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ দনিয়া মঞ্চ ও খোন্দকার নূরুল আলম মঞ্চ মিরপুর। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে ৫টি মঞ্চেই চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
সাংস্কৃতিক বিনিময় উদ্যোগে
ভারত ও বাংলাদেশের দুটি প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয় হাত মিলিয়ে এই প্রথম শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির এক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবেই ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দুদিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উৎসব। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে এর পাল্টা রবীন্দ্রভারতী উৎসব। দুপক্ষের উদ্যোক্তারাই বলছেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যখন যোগাযোগের নানা নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে, তখন এই উদ্যোগ দুদেশের মধ্যে শিক্ষাগত বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগের পথকে প্রশস্ত করবে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*