বিভাগ: প্রতিবেদন

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন ওবায়দুল কাদের

PddMউত্তরণ প্রতিবেদন: সিঙ্গাপুরে দুই মাস ১০ দিন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। গত ১৫ মে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দেশে ফিরে নিজের শারীরিক সুস্থতা ফিরে পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি। জনগণের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছি উল্লেখ করে নতুন উদ্যমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে বিমানবন্দরে প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হয়েছিলেন বিপুলসংখ্যক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওবায়দুল কাদের বেরিয়ে এলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এবং পরে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ-সময় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবেগ ভরা কণ্ঠে তার চিকিৎসার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলা হয় মাদার অব হিউম্যানিটি। আমার ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল। তার সুস্থতা কামনার জন্য বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানার কাছেও অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও দলের সব নেতাকর্মীসহ যারা তার খোঁজখবর রেখেছেন, সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেছেন, সবার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানান সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা। জনগণের ভালোবাসায় আমি নতুন জীবন পেয়েছি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার দলের সব নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা। জীবনটা আসলেই স্রোতের প্রতিকূলে চলার মতো। এই শিক্ষা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যা শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছি। মৃত্যুপথযাত্রী অবস্থায় শুধু শেখ হাসিনা নাম ধরে ডেকেছিলেন এবং সে-সময় আমি তার ডাকেও সাড়া দিয়েছিলাম।
গত ৩ মার্চ সকালে বুকে প্রচ- ব্যথা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৪ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। ওই রাতেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ডা. ফিলিপ কোহ’র নেতৃত্বে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ২০ মার্চ ওই হাসপাতালে তার বাইপাস সার্জারি করেন মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে গত ২৬ মার্চ ওবায়দুল কাদেরকে হাসপাতালের আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়। এক মাস পর হাসপাতাল ছাড়লেও চিকিৎসকরা ‘চেকআপের জন্য’ আরও কিছুদিন তাকে সিঙ্গাপুরে থাকার পরামর্শ দেন। এরপর একটি বাসা ভাড়া করে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন ওবায়দুল কাদের।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*