বিভাগ: প্রতিবেদন

জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ রোল মডেল

আওয়ামী লীগের সেমিনার

আওয়ামী লীগের সেমিনার

উত্তরণ প্রতিবেদন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ যে দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে, বিশ্বের বড় বড় শক্তি ও দেশগুলোও তা দেখাতে পারেনি। তাই জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের রোল মডেল। গত ৩ মে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি আয়োজিত ওই সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজীবন সংগ্রাম করে এদেশে শান্তির ভিত রচনা করেছেন। দেশকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখার বিষয়টি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। শেখ হাসিনা সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতার সঙ্গে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমন করেছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১০ বছরে দেশে যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘শান্তির দর্শন’ মডেলটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ছয় স্তম্ভের এই মডেলটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।
সেমিনারে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দেশ থেকে জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সোচ্চার অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বমানবতাকে নাড়া দিয়েছেন। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মতো অরাজকতা কিংবা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নারীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন বলে মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী এমপি বলেন, তাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নারীদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে।
আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ এমপি বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের আঁতুড়ঘর। পাকিস্তানের মাধ্যমেই উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি-জামাতকে পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করে হানিফ বলেন, এদের সময়েই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও বাংলাভাইদের সৃষ্টি হয়েছে। একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও হয়েছে বিএনপি-জামাতের প্রত্যক্ষ মদদে। শেখ হাসিনা সাহসিকতার সঙ্গে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। তবে বিএনপি-জামাতের মতো অপশক্তি রাজনীতিতে থাকলে দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শঙ্কা থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন হানিফ।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসঊদ বলেন, গোটা বিশ্ব যখন জঙ্গিবাদ নিয়ে নাকানিচুবানি খাচ্ছে, বড় বড় রাষ্ট্রও যখন জঙ্গিবাদ দমনে প্রায় অক্ষমÑ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন শক্ত হাতে এসব দমন করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকারী নন, তিনি জাতির পিতার চিন্তা-চেতনারও উত্তরাধিকারী।
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাংলাদেশকে এখন আগামী দিনের কথাই ভাবতে হবে। অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে; কিন্তু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তা হলেই এদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শান্তির দেশ, সমৃদ্ধির দেশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) একে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালেই বোঝা যাবে শেখ হাসিনা এদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কতখানি ভূমিকা রেখে চলেছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে রোল মডেল। এটিও সম্ভব হয়েছে একমাত্র শেখ হাসিনার কারণেই। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রনায়ক হলে এই একটি কারণে শেখ হাসিনা নোবেল পুরস্কার পেতে পারতেন।
আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*