বিভাগ: প্রবন্ধ

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন

PMশেখ হাফিজুর রহমান কার্জন

ভূমিকা
শেখ হাসিনা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তার চেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে, তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, যিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাচীনতম গণতান্ত্রিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, যিনি তার সংগ্রাম, মেধা, সাহস ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক কর্মকা- দিয়ে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে দলকে উজ্জীবিত করেছেন, তারপর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলকে তিনি অভিষিক্ত করেছেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন, জঙ্গিবাদের সফল মোকাবেলা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ‘মানবতার মাতা’ হিসেবে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় প্রদানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হাসিনা এক ভিন্ন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তার সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের প্রাথমিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে; সামাজিক উন্নয়নের সূচকে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশ।
‘ফরচুন’ নামক সাময়িকী ২০১৬ সালের মার্চ মাসে বিশ্বের ৫০ জন প্রভাবশালী নেতৃত্বের নাম প্রকাশ করেছিল, যেখানে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান ছিল দশম। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘ফরেন পলিসি’ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে ‘ডিসিশন মেকার’ ক্যাটাগরিতে বিশে^র শীর্ষ ১৩ জন বুদ্ধিজীবীর তালিকায় স্থান দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ফোবর্স’ সাময়িকী ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে বিশে^র ৩৬তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। উল্লেখ্য, ‘ফোবর্স’ সাময়িকী প্রতিবছর বিশে^র শীর্ষ ১০০ জন ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের নাম প্রকাশ করে থাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করে নিঃসন্দেহে এ-কথা বলা যেতে পারে যে, আশির দশকে হাতেখড়ি হওয়ার পর নব্বই দশকের রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনা এখন শুধু সফল সরকারপ্রধানই নন; বৈশি^কভাবে স্বীকৃত রাষ্ট্রনায়ক ও ‘মানবতার জননী’। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু-কন্যা  জঙ্গিবাদ ও মাদকবিরোধী সংগ্রামে সাহসী এক যোদ্ধা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রূপকার। আজকের এই সেমিনারে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন’ বিষয়ে আলোচনা হবে।

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা এবং এটি মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা সরকারের কর্মকা-
বাংলাদেশ পুলিশ তাদের কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৮-২০২০ এ (ঝঃৎধঃবমরপ চষধহ ২০১৮-২০২০, ইধহমষধফবংয চড়ষরপব), বাংলাদেশের চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদকে ৩টি ভাগে ভাগ করেছে। পুলিশের ওই কৌশলগত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর চরমপন্থা বা জঙ্গিবাদ প্রথম শুরু হয় মাওবাদী ও নকশালপন্থি সহিংসতার মধ্য দিয়ে, যে সন্ত্রাস ও সহিংসতার কারণে সত্তরের দশকে বাংলাদেশের অনেক গ্রাম ও শহরের জনজীবন অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। জঙ্গিবাদের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছিল ২০০১ সাল থেকে যখন রমনা বটমূল, উদীচীর সভাসহ সিনেমা হলগুলো আক্রান্ত হয়েছিল, হামলার শিকার হচ্ছিল বাংলার আবহমান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং ওই চেতনায় বিশ^াসী নর-নারী ও সংগঠন। জঙ্গিবাদের তৃতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, পুলিশের ন্যারেটিভ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জুলাই থেকে যখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জঙ্গি তরুণরা হলি আর্টিজান ক্যাফেতে আক্রমণ করে, যে আক্রমণে জাপান, ইটালি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ২২ জন নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সফলভাবে তৃতীয় পর্যায়ের জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করেছেন যেটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
জঙ্গিবাদের প্রথম পর্যায়ে মাওবাদী ও নকশালপন্থিরা তাদের গুপ্ত ও সহিংস সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে নব্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়; অন্যদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে থাকে। সকল প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে আফগান ফেরত বাংলাদেশি চরমপন্থিরা সংগঠিত হয়ে ছোটখাটো জঙ্গি সংগঠন গড়ে তুলতে শুরু করে। তবে জঙ্গিবাদ চরম আকার ধারণ করে ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতা গ্রহণের পরে। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বোমা হামলায় ১০ ব্যক্তি নিহত হন এবং আহত হন শতাধিক। এর আগে ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলায় শিল্পীসহ ১০ ব্যক্তি নিহত হন, আহত হন অসংখ্য ব্যক্তি।
২০০১-০৫ সময়কালে বোমা হামলায় দুজন মাননীয় বিচারককে হত্যা করা হয়, বাংলাভাইদের উত্থান হয়, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা হয়, আক্রান্ত হতে থাকে সিনেমা হলগুলো। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সারাদেশের ৬৩ জেলায় ৩০০ জায়গায় একযোগে বোমা হামলা হয়। ২০০১-০৫ সময়কালের জোট সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের গাড়িতে পতপত করে উড়তে থাকে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিবাদীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালির আবহমান ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করতে থাকে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ছিল এক নৃশংসতম দিন, যেদিন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশের ওপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিল, যে হামলায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী, আহত হয়েছিলেন অসংখ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ওইদিন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার প্রথম ঘটনা। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রদান করা হয়, রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদ- প্রদান করা হয়।
দীর্ঘদিন পরে ২০১৩ সাল থেকে জঙ্গিবাদ আবার মাথা তুলতে শুরু করে, যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালগুলোতে ’৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চলছিল, যে বিচারে মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক কাদের মোল্লা, নিজামী, মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অনেককেই মৃত্যুদ- প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে সরকার দ-গুলো কার্যকর করে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দলগুলো বিচার ও বিচারের রায় বানচাল করার জন্য সারাদেশে নাশকতা ও সহিংসতা করতে থাকে। বঙ্গবন্ধু-কন্যা তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা ও বিচারের রায় বাস্তবায়নের জন্য তার সরকারের তরফ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখেন। এমন এক পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ তার ভয়াল থাবা বিস্তার করতে শুরু করে, যার ধারাবাহিকতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছয় তরুণ জঙ্গি ২০১৬ সালের জুলাই মাসে পবিত্র রমজানের এক রাতে বারিধারায় অবস্থিত ‘হলি আর্টিজান’ ক্যাফেতে হামলা চালিয়ে বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ২২ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করে।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশসহ সারাবিশ^ স্তম্ভিত হয়ে যায়। উৎকণ্ঠা, শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করে সমগ্র বাংলাদেশকে। এরপর জঙ্গিবাদ মোকাবেলাকে শেখ হাসিনার সরকার তার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করার জন্য তার সরকার সকল ধরনের ‘কনভেনশনাল’ এবং ‘নন-কনভেনশনাল’ কৌশল গ্রহণ করেন। ‘হলি আর্টিজানে’র ঘটনার পর পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঢাকার কল্যাণপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট, কুমিল্লাসহ সারাদেশে অনেকগুলো অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানের প্রেক্ষিতে একদিকে জঙ্গিবাদ ও তাদের পৃষ্ঠপোষকরা দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতে থাকে; অন্যদিকে জনগণের মধ্যে ফিরে আসে আস্থা ও নিরাপত্তা।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সফল অভিযান পরিচালনা করেই সরকার থেমে থাকেনি, জঙ্গিবাদ নির্মূলের জন্য রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন এবং এর ভয়াল থাবা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য তিনি সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু-কন্যা জানেন যে, শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে জঙ্গিবাদকে প্রতিরোধ করা যাবে না। সেজন্যে তার সরকার জঙ্গিদের যারা বিচ্যুত হয়েছে স্বাভাবিক জীবন থেকে, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছেন, যাতে তারা ভুল পথ থেকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। কেননা, বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা শান্তিতে বিশ^াস করেন। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা মনে করেন যে, জঙ্গিদের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসন এবং জনগণের ক্ষমতায়নই প্রকৃত শান্তির ভিত্তি, যে শান্তি বাংলাদেশের উন্নয়নকে নিয়ে যাবে ভিন্ন এক উচ্চতায় এবং গড়ে তুলবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শন
১৯৯৮ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর শেখ হাসিনার শান্তির উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক বক্তৃতা প্রদান করেন যেটি শেখ হাসিনার ‘শান্তির তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করে তিনি ‘মানবতার জননী’ হিসেবে বৈশি^কভাবে পরিচিতি পেয়েছেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশের আরোহণের পেছনেও তার রয়েছে অনুঘটকের ভূমিকা।
মাদক ও জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কৌশল ও দর্শন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ পেয়েছে। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জননত্রেী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিবেশী দেশের বিচ্ছন্নতাবাদীদের সকল প্রশিক্ষণ ও তৎপরতা বন্ধ করে তিনি দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। যে কারণে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ ও বিশ^ নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে সাধুবাদ পেয়েছেন। এজন্য ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার সক্ষমতার প্রশংসা করেছেন।
জঙ্গিবাদের ব্যাপারে ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি গ্রহণ করায় শেখ হাসিনার সরকার দেশীয় সন্ত্রাস, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে অগ্রণী ভূমিকার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘কান্ট্রি রিপোর্ট অন টেরোরিজম’ বা ‘তুলনামূলক সন্ত্রাসবাদ প্রতিবেদনে’ বিশেষ প্রশংসায় ভূষিত হয়েছেন।
২০১৭ সালের ২১ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব-ইসলামিক-অ্যামেরিকান সম্মেলনে যোগ দিয়ে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অস্ত্র এবং অর্থ জোগান বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থের উৎস বন্ধ করতে চাই।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে গত ২১ মে একদিনের এই সম্মেলনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সৌদি আরবের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবিরোধী জোটের ৪১টি মুসলিম রাষ্ট্রসহ ৫৫টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নেন। ঐদিন রিয়াদে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আরব-ইসলামিক-অ্যামেরিকান (এআইএ) সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও চরমপন্থা কেবল বিশ্বের শান্তির জন্যই নয়, এটি উন্নয়ন ও মানব সভ্যতার জন্যও হুমকির কারণ। এটি কোনো দেশ, ধর্ম ও জনগণের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ সব ধরনের চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং সব সময়ই যে কোনো ধরনের একক বা সম্মিলিত সন্ত্রাস ও উৎসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।
ইসলামকে সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম, বিশ্বাস বা মৌলিক পরিচয় নেই। আর আমরা যে কোনো ধরনের চরমপন্থা ও সহিংসতায় ধর্মকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিচার্য মনে করি না।
একইসঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর প্রতি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি বন্ধ ও শান্তির নীতি অবলম্বনের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংলাপে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সবার জন্য বিজয়-বিজয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কার্যকরভাবে দেশে গজিয়ে ওঠা উগ্রবাদীদের মোকাবিলা করছি। বেশ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকার এদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচারাভিযান চালাচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো প্রস্তুত এবং অস্ত্রসহ যথাযথ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তারা সন্ত্রাসীদের কার্যকরভাবে মোকাবেলা করছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরব-ইসলামিক-অ্যামেরিকান সম্মেলনে ৫৫টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উদ্দেশ্যে যে আহ্বান জানান, সেই বক্তব্য থেকে যে কেউ জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তার শান্তির দর্শন সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবেন। ১৯৯৮ সালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে যে শান্তির অভিযাত্রা শুরু হয়; ২০১১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সেটি এক ভিন্ন মাত্রা লাভ করে, যখন বঙ্গবন্ধু-কন্যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ‘জনগণের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক এক বক্তৃতা প্রদান করেন যেটি শেখ হাসিনার ‘শান্তির তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। একই ধারাবহিকতায় বিপন্ন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন ‘মানবতার জননী’। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার শান্তির দর্শনও অনন্য গুরুত্ব বহন করে।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ‘শান্তি তত্ত্ব’ ও তার সামগ্রিক কর্মকা- নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মন্তব্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়ন দিয়ে আজকের সেমিনারের মূল প্রবন্ধ সমাপ্ত করতে চাই।World Health Organization (WHO) Director General Dr Margaret Chen (Place of discussion : Geneva, Headquarter of World Health Organization; Date 26 May 2011) told, “We work on the health of the world people. But in the 6-point key elements of Sheikh Hasina’s peace theory, issues on human health are apparent. It has universality because it speaks of people’s empowerment placing the human at the center of development. This theory should be infiltrated into all organizations of the UN because our policy shall be people-oriented if we can realize this. As such our duty will be to discuss the matter with the organization’s chief.”
World Trade Organization (WTO) Director General Dr Pascal Lammy and Miss Erancha Gonzales told, “We work as house keeper of 153 countries of WTO. We frame policy of equitable business which we think can be major for people’s empowerment and eradicating poverty. Developing and developed nations have difference on this. After 10 of WTO our concern is how to deliver about what we say. In this question we believe Sheikh Hasina’s peace theory can play effective role- so this should come into more propaganda… What is best to us about Sheikh Hasina’s peace theory is that empowerment is not a sole economic matter, Challenge of development to be taken collectively’ Sense ownership in support of peace theory is important. This theory is a must need to ensure peace and development whether you are in power or in opposition.”
International Labor Organization (ILO) Director General Dr Juan Sumavia told, “In economic development the growth theory is proved wrong. Growth is a need but its equality and social justness to be ensured. And on this the peace theory of Sheikh Hasina life. What new balance was told inequality and new balance was about this was very powerful. Leadership and women empowerment and public participation of peace theory of Sheik Hasina is specially important. It is necessary to propagate the world peace development model of Sheikh Hasin.”
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলেন, “শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আছে।” ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নারী পুরুষের সামাজিক সমতা অর্জন বিশে^র বুকে অনুকরণীয়।” জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি প্রশমনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, “শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে যাচ্ছে।” ভারতীয় লোকসভার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান শশী থারুর বঙ্গবন্ধু-কন্যার জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কর্মকা- সম্পর্কে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি অস্বীকার করেন নি। বরং তার সরকার তাদের গ্রেফতার করেছে, ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে। আসামে যদি এখন বোমা বিস্ফোরণ না হয়, তার জন্য ধন্যবাদ দিতে হবে শেখ হাসিনার সরকারকে।

লেখক : অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়
sheikhrahman2@gmail.com

[বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারের মূল প্রবন্ধ]

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*