বিভাগ: প্রতিবেদন

জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার অপচেষ্টা ব্যর্থ

45

জীবন না মানে পরাভব

উত্তরণ প্রতিবেদন: ১. চট্টগ্রামে গুলিবর্ষণ ॥ কয়েকজন নিহত ও শত শত আহত : ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে আটদলীয় জোটের মিছিলে শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে পুলিশ ও বিডিআর’র গুলিতে ৭ জন নিহত ও ৩০০ আহত হইয়াছে। ৫৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটদলীয় জোটের দাবি গুলিতে ১১ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করিয়াছেন। শেখ হাসিনা বেলা ২টায় পতেঙ্গা বিমান বন্দর হইতে মিছিল লইয়া লালদীঘি ময়দানের কাছে আসিয়া পৌঁছিলে মেট্রোপলিটন পুলিশের দাঙ্গা দমন বাহিনী ও বিডিআরের প্রচ- টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণে একজন প্রাণ হারায় এবং শত শত আহত হয়। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালেও ১২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ তিনজনসহ ৩৬ জনকে বিকেল ৩টার মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হইয়াছে।
২. ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলা : ১৯৮৯-এর ১১ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ফ্রিডম পার্টির একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডিস্থ ৩২ নম্বরের বাসভবনে হামলা চালায়। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তখন বাসভবনে ছিলেন। হামলাকারীরা ৭-৮ মিনিট যাবৎ বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। তবে গ্রেনেডটি বিস্ফোরিত হয় নাই।
৩. আমার প্রাণনাশের জন্য গুলি ছোঁড়া হইয়াছেÑ সাংবাদিক সম্মেলনে শেখ হাসিনা : ১৯৯১-এর ১১ সেপ্টেম্বর বেলা দেড়টায় টুঙ্গিপাড়া হইতে ঢাকায় ফিরিয়া বেলা আড়াইটায় গ্রীন রোডের কাছে ধানমন্ডি স্কুলে উপনির্বাচনের ভোট প্রদানের পর গ্রীন রোডে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ভোটের পরিস্থিতি দেখতে যান। গাড়ি হইতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির ওয়াহিদের নেতৃত্বে বিএনপির কর্মীরা গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণ করিতে শুরু করে। ২০-২৫ রাউন্ড গুলি ও বোমাবর্ষণ শুরু হয়।
৪. যশোর, দর্শনা, কুষ্টিয়া ঈশ্বরদী, নাটোর ও সান্তাহারে জনসভা শেখ হাসিনার অভিযোগ : গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়েছেÑ বিরোধীদলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, ২৩ সেপ্টেম্বর ’৯৪ তারিখে ঈশ্বরদী ও নাটোর রেল স্টেশনে প্রবেশের মুখে তাকে বহনকারী রেলগাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়েছে। তিনি বলেন, নাটোর স্টেশনে সমাবেশ প- করার জন্য আগে থেকে অসংখ্য বোমা ফাটানো হয়।
৫. শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয় : ১৯৯৫-এর ৭ ডিসেম্বর তারিখে শেখ রাসেল স্কোয়ারের নিকট সমাবেশে ভাষণ দানরত অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।
৬. শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে তার সমাবেশে গুলিবর্ষণ বোমা হামলা ॥ আহত ২০ জন : ১৯৯৬-এর ৭ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার বক্তৃতার পর আকস্মাৎ একটি মাইক্রোবাস হইতে সভামঞ্চ লক্ষ্য করিয়া গুলিবর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপ করা হইলে অন্তত ২০ জন আহত হয়।
৭. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকন্যাসহ ৩১ জনকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণার ই-মেইলটির প্রেরক ইন্টার এশিয়া টিভি মালিক শোয়েব চৌধুরী। শেখ হাসিনাকে হত্যা, গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত এবং বিদ্বেষ সৃষ্টির লক্ষ্যে ই-মেইল প্রেরণের অভিযোগে শোয়েব চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
৮. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ (হুজি) ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ও হ্যালিপ্যাডের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রেখেছিল। এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল। শনিবার (২২.০৭.২০০০) বেলা সাড়ে ১০টায় শেখ লুৎফুর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠের এক সভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাখার কথা ছিল।
৯. ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। জঙ্গি সংগঠন হুজি শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা পুঁতে রাখে, যা গোয়েন্দা পুলিশ উদ্ধার করে। হুজি এই হামলার চেষ্টা করে বলে পরে স্বীকার করে।
১০. শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সিলেটে আলীয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন স্থানে হুজির পুঁতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ : ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট গিয়েছিলেন। সেদিন রাত ৮টার দিকে জনসভাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি বাড়িতে বোমা বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। সেদিন সেখানে সন্ধ্যায় সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভা ছিল। আগেই বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যা প্রচেষ্টা। হরকাতুল জিহাদ হুজি এই বোমা হামলার দায় পরে স্বীকার করে।
১১. নওগাঁয় শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা : ২০০২-এর ৪ মার্চ যুবদল ক্যাডার খালিদ বিন হেদায়েত নওগাঁয় বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজের সামনে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালায়।
১২. শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে হামলা : ২০০২ সালে ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি-জামাত নেতাকর্মীরা সাতক্ষীরার কলারোয়ার রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালায়। ক্ষমতাসীন জোটের এমপির প্রত্যক্ষ মদদে জোট সন্ত্রাসীরা শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সকাল ১০টায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলি গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আসেন। সেখান থেকে যশোরে ফিরে যাওয়ার পথে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে রাস্তার ওপর জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও বিএনপি নেতা রঞ্জুর নির্দেশে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস (সাতক্ষীরা-জ-০৪-০০২৯) রেখে সড়কে বেরিকেড দিয়ে তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। ওই হামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রকৌশলী শেখ মুজিবুর রহমান, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে একডজন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন।
১৩. ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণ করে জামাত-বিএনপির ঘাতক চক্র।
১৪. ২০০৪ সালে ২১ আহস্ট গ্রেনেড হামলা : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশস্থলে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েক নেতা অল্পের জন্য এই ভয়াবহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও আকস্মিক এই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী ও আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান এবং আরও ২৩ জন নেতাকর্মী নিহত হন। এ ছাড়াও এই হামলায় আরও ৪০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। তাদের কেউ কেউ আর স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি।
১৫. সাব জেলে খাবারে স্লো পয়জনিং-এর মাধ্যমে হত্যা চেষ্টা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তারিখে অন্যায়ভাবে বিনা ওয়ারেন্টে দিনে সেনাবাহিনী সমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল। গ্রেফতারের জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় স্থাপিত বিশেষ সাব-জেলে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় শেখ হাসিনার খাবারে ক্রমাগত পয়জন দিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। স্লো পয়জনিং-এর কারণে সেখানে আটক থাকাকালে শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ জুন ১১ মাস কারাভোগের পর শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি পান।
১৬. ২০১১ সালে শ্রীলংকার একটি সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের সাথে বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র সুইসাইড স্কোয়াড গঠন করে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চুক্তি করে এবং সেজন্য আগাম পেমেন্টও প্রদান করা হয় শ্রীলংকার সেই সন্ত্রাসবাদী গ্রুপের আততায়ীদের। সে সময় সেই আততায়ীদের টিম গাড়ি করে কলকাতা বিমান বন্দরে যাবার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলে ভেস্তে যায় শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা।
১৭. ২০১১ সালে তিন দেশে বসে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দ্বারা শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত করা হয় : ২০১১ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করার লক্ষ্যে একটি সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যা পরে ব্যর্থ হয়ে যায়। বিশ্বজুড়ে তথ্য ফাঁসে আলোচিত প্রতিষ্ঠান উইকিলিকস প্রকাশিত সৌদি আরবের এক গোপন বার্তায় দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকা-ের মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি লে. ক. শরিফুল হক ডালিম এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন, তিন দেশে বসে এ অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা চলছিল এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। শুধু তাই নয়, হংকংয়ে বসবাসরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এই পরিকল্পনায় অর্থায়ন করেন বলে গোপন বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত নথি অনুসারে, বাংলাদেশে অবস্থিত সৌদি রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে (আরবি ২৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৩৩ হিজরি) দেশটির পররাষ্ট্র দফতরে আরবি ভাষায় পাঠানো ‘অত্যন্ত গোপনীয়’ ওই নথিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ব্যর্থ করে দেয়া এক সামরিক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা হয়েছিল হংকং, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় বসে। নথিতে বলা হয়েছে, তিন দেশ হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় বসে ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়, যার সমন্বয় করছিলেন শরিফুল হক ডালিম যিনি তখন আফগানিস্তানে অবস্থান করছিলেন। পাশাপাশি এ ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় এ পরিকল্পনায় খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত এই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছে এবং ভারত এজন্য খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকেও অভিযুক্ত করেছে বলে ওই সৌদি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অভ্যুত্থান পরিকল্পনায় হংকংয়ে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ইশরাক আহমেদ অর্থায়ন করেন বলে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, অভিযোগ রয়েছে যে তিনি (ইশরাক আহমেদ) নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ করে দেয়া ওই অভ্যুত্থান চেষ্টার কথা প্রকাশ করে।
১৮. ২০১৪ সালের শেষ দিকে প্রশিক্ষিত নারী জঙ্গি দ্বারা মানববোমায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র এবং অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তার। শনিবার রাতে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থার গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির এই নেতা আদ্যোপান্ত স্বীকার করেন। রোববার টাইমস অব ইন্ডিয়া, জি-নিউজসহ বেশ কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর আসামের কামরূপের আদালতের মাধ্যমে শনিবার রাতেই শাহানুরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এনআইএ কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের কথা তারা আরও আগেই বর্ধমান বিস্ফোরণের তদন্তকালে ফাঁস করেছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে আসামের নলবাড়ী জেলার লালকুর্চি গ্রাম থেকে শাহানুরকে গ্রেফতার করে আসাম পুলিশ। পরে তাকে এনআইএ কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শনিবার শাহানুরকে আসামের কামরূপ আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে দিয়েছেন। অক্টোবর মাসে শাহানুরের স্ত্রী সুজেনা বেগমকে আসামের গৌহাটি থেকে এক ছেলেসহ গ্রেতফার করে পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহানুর বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা এবং অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘বৃহত্তর ইসলামিক রাষ্ট্র’ গড়ার ষড়যন্ত্র করছিল জেএমবি। সুজেনা বলেছেন, রাজীব গান্ধী হত্যাকা-ের মতো নারী ‘মানববোমা’ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এজন্য ভারতে দুটি মাদ্রাসায় নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৫০ জন নারী ও ১৫০ জন যুবককে বিশেষ প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে। এদের নেতৃত্বে রয়েছে ১৩ জঙ্গি দম্পতি। বাংলাদেশে সেই সময় প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। প্রসঙ্গত, ২০১৪-এর ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক বিস্ফোরণে শাকিল আহমেদ ও সুবহান ম-ল নামে দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় জেএমবি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় ঘটনায় জড়িত হিসেবে ১১ জনের তালিকা প্রকাশ করে এনআইএ। এর মধ্যে পল্লী চিকিৎসক শাহানুরও ছিলেন।
১৯. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা করে তাকে হত্যার চেষ্টা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫-এর ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময়ে কারওয়ান বাজারে তার গাড়িবহরে বোমা হামলা চালানোর চেষ্টা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশে (জেএমবি) জঙ্গি গোষ্ঠী। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে কারওয়ান বাজার এলাকায় পরপর কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ হয়। বর্ধমান খাগড়াগড় থেকে পালিয়ে আসা জেএমবির জঙ্গিরাই প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে বোমা হামলা চালিয়েছে। এই বোমা হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে কওসর ওরফে বোমা মিজান। তার সঙ্গে রয়েছে হাত কাটা নাসিরুল্লাহ ওরফে সুহেল, তালহা শেখ, সালাউদ্দিন শেখ ওরফে হাফিজুর রহমান ওরফে মাহিন ও রফিক।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*