বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

জ্বালানি খাতে সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হবে

PM

বাংলাদেশ-ব্রুনাই যুক্ত বিবৃতি

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ব্রুনাই গত ২৩ এপ্রিল এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে সমন্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে।
যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার জোগান দিতে বাংলাদেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহসহ সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দুই দেশ জ্বালানি খাতে সমন্বিত সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। এতে বলা হয়, পেট্রোকেমিক্যাল, সমুদ্রে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কারিগরি সহযোগিতা ও সক্ষমতা উন্নয়নের মতো খাতে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসান আল বলকিয়াহ সম্মত হয়েছেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৩৫তম বার্ষিকীতে সুলতান বলকিয়াহর আমন্ত্রণে ব্রুনাই দারুসসালামে তিন দিনের সরকারি সফর ২৩ এপ্রিল শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা বিনিয়োগের সম্ভাবনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জ্বালানি, আইসিটি, জাহাজ নির্মাণ, ম্যানুফ্যাকচারিং, পর্যটন অবকাঠামো, ব্লু ইকোনমি এবং পাট শিল্পের মতো খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে সম্মত হয়েছেন। ব্রুনাই দারুসসালাম বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের সুযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘হালাল ফুড মার্কেটে’ প্রবেশের সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। হালাল ফুড শিল্পে ব্রুনাইয়ের দক্ষতা প্রমাণিত।
পারস্পরিক চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে উভয় দেশ। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, হেলথ কেয়ার প্রফেশনাল নিয়োগ ও ওষুধ উৎপাদন ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতায় সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কার্যকর সুযোগ-সুবিধা দিতে আর্থিক কার্যক্রম জোরদারে দুদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রতি উভয় পক্ষ জোর দিয়েছে। অভিন্ন স্বার্থ এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), কমনওয়েলথ এবং আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে অব্যাহত চেষ্টার প্রতি দুই নেতা সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং এই সম্পর্ক উন্নয়নে পারস্পরিক লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তারা সম্মত হয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা প্রদান এবং তাদের প্রত্যাবাসন উদ্যোগের প্রতি ব্রুনাই দারুসসালাম সমর্থন দিয়েছে। এতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ায় পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার জন্য ব্রুনাই বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে।
অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য সুলতানের সরকার এবং কক্সবাজারে ফিল্ড হাসপাতালে জরুরি ওষুধ ও স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহ এবং আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ইয়াং ডি পারতুন অব ব্রুনাই দারুসসালামের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবৃদ্ধি লাভ এবং সামাজিক খাতে অসামান্য সাফল্য অর্জন করায় ব্রুনাইয়ের সুলতান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত করা ও স্বীকৃতি লাভ করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ নির্ধারিত যোগ্যতার মানদ- সফলভাবে পূরণ করায় অভিনন্দন জানান। ব্রুনাই দারুসসালাম খাদ্য ও কৃষি খাতে বাংলাদেশের সফলতা স্বীকার করেছে এবং কৃষি, মৎস্যচাষ এবং গবাদি পশু পালন খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষ কৃষি ও খাদ্য পণ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনা অন্বেষণ করবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে সহযোগিতা করবে। নেতৃবৃন্দ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা স্বীকার করে সর্বাধিক রপ্তানি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে নিজ নিজ দেশের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সক্রিয় বিনিময় উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তারা সক্রিয়ভাবে যথাযথ ব্যবস্থার অধীনে একটি অগ্রাধিকার বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্ভাবনা বিবেচনা করবেন এবং এ লক্ষ্যে একটি যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। দুদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নেতারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। তারা এ-সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে তাদের সহযোগিতা জোরদার করার উপায় অন্বেষণ করার ওপর জোর দিয়েছেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারকরণে জনগণের সঙ্গে জনগণের ভাববিনিময়ের গুরুত্ব স্বীকার করে নেতৃবৃন্দ সফর, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ছাত্র ও কর্মীদের আসা-যাওয়া, তথ্যবিনিময় এবং গবেষণা ও উন্নয়ন প্রয়াসের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যাপকতর ও গভীর সহযোগিতা উৎসাহিত করার জন্য অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যেতে একমত হয়েছেন। উভয় পক্ষ দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ উন্নত করার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে এবং অবিলম্বে বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষর করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। উভয় পক্ষ কর্মীদের প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক কল্যাণমূলক ক্ষেত্রে দুদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা ও সম্পর্কের বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।
উভয় পক্ষ বিশেষ করে প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা অর্জন, জ্ঞানবিনিময়, শান্তি স্থাপন এবং মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে গভীর সহযোগিতা প্রদান উৎসাহিত করবে। পারস্পরিক কল্যাণে নতুন সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সব স্তরের কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নেতৃবৃন্দ ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন আহ্বানকে স্বাগত জানান এবং বন্দর সেরি বেগওয়ান নগরীতে ২০২০ সালে দ্বিতীয় ফরেন অফিস কনসালটেশন অনুষ্ঠানের অপেক্ষায় রয়েছেন। নেতৃবৃন্দ উভয় রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসী শ্রমিকদের মূল্যবান অবদান স্বীকার করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে শ্রম সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খুঁজে দেখার জন্য কর্মকর্তাদের উৎসাহ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীনে ব্রুনাই দারুসসালামের প্রশংসিত অগ্রগতিতে অবদান রাখার জন্য সুলতানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সুলতানের অবদান ব্রুনাই দারুসসালামে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী ওয়াওয়াসান ২০৩৫-এর অধীনে ব্রুনাই দারুসসালামের কৌশলগত জাতীয় উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের জন্য সুলতানের প্রশংসা করেন।
সুলতান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী শান্তি, অভিবাসন, পরিবেশ সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং মানবিক কর্মসূচির পাশাপাশি জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যাপক অংশগ্রহণসহ বাংলাদেশ সরকারের অবদান স্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ও তার সফরসঙ্গীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তা প্রদর্শন করার জন্য সুলতান, ব্রুনাই দারুসসালামের ইয়াং ডি-পারতুয়ান ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিকটতম সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফর করার জন্য সুলতানকে আমন্ত্রণ জানান। ২২ এপ্রিল ইস্তানা নূরুল ইমানে আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে দুই নেতার নেতৃত্বে একটি আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরকালে নেতৃবৃন্দ কৃষিতে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতা, মৎস্য ও পশুসম্পদ; তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ (এলএনজি); যুব এবং ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি ও শিল্প ক্ষেত্রে ৬টি স্মারকলিপি স্বাক্ষর করেন। নেতৃবৃন্দ উভয় দেশের কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত সফর সুবিধা চালুর বিনিময় নোট স্বাক্ষরকে স্বাগত জানান। দুই নেতা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো ভবিষ্যতে দুদেশের মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ব্রুনাইয়ের এম্পায়ার হোটেল অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবের ইন্দেরা সামুদেরা বলরুমে ব্রুনাই দারুসসালামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাকে দেওয়া এক গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো বর্ণ, ধর্ম ও দেশ নেই। তারা সন্ত্রাসী এবং মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং, আমি তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানাই।
এদিকে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় অঞ্চলে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য ৫টি দেশের সমন্বয়ে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২২ এপ্রিল সকালে ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নুরুল ইমান এ ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার সঙ্গে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব করেন। আলোচনা শেষে দুই দেশের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বলেন, প্রস্তাবিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ফোরাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (সিয়াকো)-এর সদস্য হবে দক্ষিণ এশিয়া থেকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ব্রুনাইয়ের সুলতান আশ্বস্ত করেন যে, তিনি বিষয়টি নিয়ে ‘অনুকূল বিবেচনা’ করবেন। ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও বক্তৃতা লেখক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটসহ দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্থান পায়। বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু প্রস্তাব করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী ব্রুনাইয়ের প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে অগ্রাধিকার দেন এবং বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও ফার্মাসিউটিক্যালসের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহযোগিতা গড়ে তোলা যেতে পারে। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সুলতান উভয়ই বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরুর কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী মানবিক কর্মসূচি ও জ্ঞানবিনিময়ের মতো অস্ত্রশস্ত্রবিহীন ক্ষেত্রে সামরিক সহযোগিতার প্রস্তাব দেন। এ প্রসঙ্গে সুলতান বিশ্বজুড়ে সমস্যাক্রান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ব্রুনাইয়ের সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়া গত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ এবং চতুর্থবার সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। সুলতানের উদ্ধৃতি দিয়ে শহীদুল হক বলেন, এটি জনগণের রায় এবং বিজয়টি হলো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্বীকৃতি, যা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে। একই সঙ্গে সুলতান বলেন, ব্রুনাই ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ও সম্প্রসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সফর একটি মাইলফলক। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির এক বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আলোচনাকালে শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের সুলতানকে তার স্ত্রীসহ বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এর আগে, সুলতান ব্রুনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় প্রোটোকল ভেঙে প্রাসাদের সিঁড়ির দিকে অগ্রসর হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রীলংকায় ভয়াবহ বোমা হামলার তীব্র নিন্দা করে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রুনাইতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের তাকে দেওয়া এক গণসংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীলংকার ৮টি স্থানে সংঘটিত বোমা হামলায় বহু লোক নিহত ও আহত হয়েছে। আরেকটি দুঃখজনক ঘটনা হলো শেখ ফজলুল করিম সেলিমের মেয়ের পরিবার শ্রীলংকায় বোমা হামলার শিকার হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে নিউজিল্যান্ডেও এ-ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। তিনি জানান, তার সরকার শুধু সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে কেবল জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেনি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও সতর্ক রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সন্ত্রাসবাদীদের চিহ্নিত করা মাত্রই তাদের বিরুদ্ধে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছি। বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসবাদী, দুর্নীতিবাজ ও মাদকাসক্তদের ঠাঁই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে পদক্ষেপ নিচ্ছি।

৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত
বাংলাদেশ ও ব্রুনাই ২২ এপ্রিল কৃষি, মৎস্য, পশুসম্পদ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া এবং এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য ৭টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ব্রুনাইয়ের সুলতানের সরকারি বাসভবন ইস্তানা নূরুল ইমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রুনাইর সুলতান হাজী হাসানাল বলকিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এ চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়।
৭টি চুক্তির মধ্যে ৬টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং একটি বিনিময় নোট। এগুলো হচ্ছেÑ কৃষিক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), মৎস্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, পশুসম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, সাংস্কৃতিক ও শিল্প সহযোগিতা সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক, যুব ও ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক, এলএনজি সরবরাহে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক এবং কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্ট হোল্ডারদের জন্য ভিসার ছাড় সংক্রান্ত বিনিময় নোট।

বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক বিরাজ করছে। মূল্যবোধ, ধর্ম, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং অনেক অভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সম্মানে ২২ এপ্রিল ব্রুনাইয়ের সরকারি বাসভবন ইসতানা নূরুল ইমানে রয়েল ব্যাঙ্কুয়েট হলে সুলতান আলহাজ হাসানাল বোলকিয়ার দেওয়া এক ভোজসভায় এ-কথা বলেন।

জামে আসর মসজিদ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাইয়ের দুটি জাতীয় মসজিদের একটি বৃহত্তম জামে আসর মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ২২ এপ্রিল বিকালে মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আসরের নামাজ আদায় করেন। শেখ হাসিনা এ-সময় দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি ও উন্নতির পাশাপাশি মুসলিম উম্মার শান্তি এবং ঐক্য কামনা করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মসজিদের ২৯টি স্বর্ণের গম্বুজ এবং ১৯০ ফুট উঁচু ৪টি মিনারসহ বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। তিনি এ-সময় মসজিদে অবস্থানরত মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রুনাই দারুসসালামে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় দেশে ফিরছেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*