বিভাগ: অন্যান্য

ঢাকা উত্তরে নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম

Mfdউত্তরণ প্রতিবেদন: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদের উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচন, দুটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচন ও নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চরম বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। অত্যন্ত অবাধ সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে আতিকুল পেয়েছেন ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাতীয় পার্টির শাফিন আহমেদ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪২৯ ভোট। নির্বাচনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান আম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৬৯৫ ভোট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান বাঘ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৬০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪০ ভোট।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির এই নির্বাচনে ৩২৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। উত্তরের সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৬ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮ ওয়ার্ডের প্রথম নির্বাচনে ১৮ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৬ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

ঢাকা উত্তরে কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হলেন যারা
৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে মো. জাহাঙ্গীর আলম ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে ৮ হাজার ২৩৪ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. এমদাদুল হক পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৬১ ভোট (লাটিম)। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে শেখ সেলিম ৫ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (লাটিম), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ২ হাজার ৬১২ ভোট (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট)। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে মো. শফিকুল ইসলাম ৪ হাজার ৫৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফরিদ আহমেদ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৫ ভোট (ঘুড়ি)। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন নজরুল ইসলাম ঢালি (রেডিও)।
৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল ইসলাম ৩ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ঠেলাগাড়ি প্রতীকে)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবদুল্লাহ খান পেয়েছেন ২ হাজার ৯০০ ভোট (রেডিও)। ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক আহম্মেদ ৭ হাজার ৯৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ঘড়ি)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আবদুর রহিম শেখ সৈকত পেয়েছেন ২৩৮ ভোট (ঠেলাগাড়ি)। ৪৩ নম্বর বিজয়ী হয়েছেন ওয়ার্ডে হেলাল উদ্দিন (লাটিম)। ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শফিকুল (শফিক) ৮ হাজার ৭৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ঠেলাগাড়ি)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামালউদ্দিন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৮১ ভোট (ঘুড়ি)। ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদিন (ঠেলাগাড়ি)। ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ হাজার ৭৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মো. সাইদুর রহমান সরকার (ঝুড়ি প্রতীকে)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ জামাল উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট (টিফিন ক্যারিয়ার)। ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঝুড়ি প্রতীক নিয়ে মোতালেব মিয়া ৬ হাজার ৬৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. খায়রুল আলম পেয়েছেন ১ হাজার ৯৯৫ ভোট (ঘুড়ি)। ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুদুর রহমান দেওয়ান ৫ হাজার ৭৯৩ ভোট (ঠেলাগাড়ি) পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এসএম তোফাজ্জল হোসেন (লাটিম) পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৭৭ ভোট। ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘুড়ি প্রতীকে মো. আনিছুর রহমান নাঈম ৯ হাজার ৩৮ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সফিউদ্দিন মোল্লা পেয়েছেন ২ হাজার ৯৬৯ ভোট (ট্রাক্টর)। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন ডিএম শামীম (লাটিম)। ৫১ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদ শরীফুর রহমান ২ হাজার ৯২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মামুন সরকার পেয়েছেন ১ হাজার ১০৬ ভোট (মিষ্টি কুমড়া)।
৫২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. ফরিদ আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন ২ হাজার ৫৭ ভোট পেয়েছেন (লাটিম)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ইব্রাহীম গনি পেয়েছেন ২ হাজার ২৮ ভোট (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট)।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডে মো. নাসির উদ্দিন ৭ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ঘুড়ি)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. ফিরোজ আলম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৬৩ ভোট (লাটিম)।
৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন ৩ হাজার ৮৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (ঝুড়ি)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. মজিবুর পেয়েছেন ২ হাজার ২ ভোট (কাঁটা চামচ)।
১৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিজয়ী হয়েছেন মোসা. মাহফুজা ইসলাম। তার প্রাপ্ত ভোট ১৩ হাজার ৫৩২ (জিপ গাড়ি)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিলুফার ইয়াসমিন ইতি পেয়েছেন ১১ হাজার ৯৪০ ভোট (আনারস)।
১৪ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কামরুন নাহার (চশমা) ৮ হাজার ৭৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোসা. নাজমা সুলতানা পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৭৯ ভোট (আনারস)।
১৫ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে সোনিয়া সুলতানা রুনা ৭ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন (আনারস)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিনা আক্তার পেয়েছেন ৬ হাজার ১৯৭ ভোট (ডলফিন)।
১৬ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ইলোরা পারভীন ১০ হাজার ৪৯২ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন (বেহালা)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতেমা খাতুন পেয়েছেন ৮ হাজার ২৩১ ভোট (বই)।
১৭ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জাকিয়া সুলতানা ১০ হাজার ৩৪০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন (চশমা)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবেদা আক্তার পেয়েছেন ৭ হাজার ১২১ ভোট (বই)।
১৮ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে কমলা রানী মুক্তা জিপ গাড়ি প্রতীকে ১০ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোছা. জুলিয়া আক্তার বই প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৯৫০ ভোট।

ঢাকা দক্ষিণে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারাÑ
সাধারণ ১৮টি ওয়ার্ডে বেসরকারি ফলাফলে নির্বাচিত কাউন্সিলর হলেনÑ ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুর রহমান সাইজু ঠেলাগাড়ি, ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডে টাক্টর প্রতীকে আকাশ কুমার ভৌমিক, ৬০ নম্বর ওয়ার্ডে কাঁটা চামচ নিয়ে আনোয়ার মজুমদার। ৫৮, ৫৯ ও ৬০ নম্বর নিয়ে গঠিত ২৫ নম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে চশমা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন সুলতানা আহমেদ।
৬১ নম্বর ওয়ার্ডে জুম্মন মিয়া ৪ হাজার ৩১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে মোশতাক আহমদ ৭ হাজার ৬০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন এবং ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ হাজার ২৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন শফিকুল ইসলাম। ৬১, ৬২ ও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে সংরক্ষিত ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩ হাজার ৩৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন ফুলবানু পলি।
৬৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৪৪৪ ভোট পেয়ে মাসুদুর রহমান মোল্লা, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে শামসুদ্দিন ভুইয়া এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে নূর উদ্দিন মিয়া ৫ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ৬৪, ৬৫ ও ৬৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন মনিরা চৌধুরী।
৬৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৭৬ ভোট পেয়ে মো. ইব্রাহিম, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়ে মাহমুদ হাসান পলিন, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়ে হাবিবুর রহমান জয়ী হন। ৬৭, ৬৮ ও ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত ২২ ওয়ার্ডে ১৮ হাজার ১২৩ ভোট পেয়ে হোসনে আরা শাহীন জয়ী হন।
৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৫১৯ ভোট পেয়ে আতিকুর, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে খায়রুজ্জামান, ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে শফিকুল আলম শাহীন জয়ী হন। ৭০, ৭১ ও ৭২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৫৩৭ ভোট পেয়ে জয়ি হন রোকসানা আক্তার।
৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে আবুল কালাম আজাদ, ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে শফিকুল ইসলাম এবং ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২ হাজার ৯৬১ ভোট পেয়ে তোফাজ্জল জয়ী হন। ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন নাসরিন আহমেদ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*