বিভাগ: শিক্ষা

ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ

29রাজীব পারভেজ: দেশের ৩টি প্রধান ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হলো ইংরেজি জুলাই মাসে। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই ঢাকা কলেজ, ১ জুলাই ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১০ জুলাই ১৯৪৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। উত্তরণের জুলাই সংখ্যায় এই ৩টি বিদ্যাপীঠের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নিয়ে পেছন ফিরে দেখা।

১. ঢাকা কলেজের ১৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের ১৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করলেন শিক্ষার্থীরা। ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দের ১৮ জুলাই রোববার উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দের বাংলা, বিহার এবং উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং প্রকৃতপক্ষেই তারা এ অঞ্চলের শাসকে পরিণত হয়। ইংরেজরা এ সময় নিজেদের শাসক হিসেবে পরিচয় না দিলেও ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস-এ মুখোশ খুলে দিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে সরাসরি এ দেশের শাসনভার গ্রহণ করে। এরপর পরবর্তী ৬২ বছর পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসকরা তাদের রাজত্বের অধিবাসীদের জন্য কোনো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেনি। ইতোমধ্যে ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এবং পরে হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে এদেশে আধুনিক ইউরোপীয় ধারার
শিক্ষা চালু হয়। অবশেষে ১৮৩০-এর দশকে সরকার এক শিক্ষানীতি গ্রহণ করে এবং সেই নীতিমালায় যে শিক্ষানীতির প্রচলন হয়েছিল, তা মূলত পাশ্চাত্য বা ইংরেজি শিক্ষা নামে পরিচিতি পায়।
এই আধুনিক ধারার শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের জন্য সেই সময়ে ঢাকাতে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও শিক্ষা প্রসারের চেয়ে ধর্ম প্রচার সেখানে মুখ্য হয়ে ওঠে। ফলে উল্লেখ করার মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেখানে গড়ে ওঠেনি। পরবর্তীকালে, ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২০ এপ্রিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কিত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন লর্ড বেন্টিকের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল : সরকারের তত্ত্বাবধানে বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান প্রধান জনবহুল শহরে ইংরেজি সাহিত্য এবং বিজ্ঞানশিক্ষার জন্য যতগুলো সম্ভব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক। পরবর্তীকালে এই প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকার কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি প্রদান করা হলে ঢাকার সেই সময়ের সিভিল সার্জন ডা. জেমস টেইলার জানান, এখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা যে কেবল উচিতই নয়; বরং এজন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রকারের সুবিধা (আর্থিক এবং সামাজিক) পাওয়া যাবে। মূলত, তখন থেকেই শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮৩৫ সালের ১৫ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছিল ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি, যা বর্তমানে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল নামে পরিচিত।
এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতে একদিকে যেমন বদলে যেতে থাকে সমাজের সামগ্রিক চিত্র, তেমনি বিদ্যার্থীদের মানসসম্মুখে পাশ্চাত্যের কলাবিদ্যা, বিজ্ঞান এবং দর্শনকে উন্মোচিত করে। শিক্ষা এবং সমাজব্যবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তনে সেই সময়ের গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যান্ড এবং জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইনস্ট্রাকশন কতগুলো কেন্দ্রীয় কলেজ প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত ব্যয়ের কথা উল্লেখ এবং কর্তৃপক্ষ দ্বারা তার যথাযথ অনুমোদনসাপেক্ষে ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি স্কুলকে একটি কলেজে বা একটি আঞ্চলিক উচ্চতর ইংরেজি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ বা সংক্ষেপে ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা ইংলিশ সেমিনারি স্কুলের নাম দেওয়া হয় ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল। বলাবাহুল্য, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার পরপরই বদলে যায় সমগ্র ঢাকার চিত্র। ঢাকা হয়ে ওঠে সমগ্র পূর্ববাংলার ইংরেজি শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং হিন্দু কলেজের শিক্ষক জে. আয়ারল্যান্ডকে ঢাকা কলেজের প্রথম প্রিন্সিপাল নিযুক্ত করা হয়। তার আগমনের সাথে সাথে বদলে যেতে থাকে ঢাকা কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত ব্যবস্থাপনার ভিত্তি। সেই অর্থে আয়ারল্যান্ডই ঢাকা কলেজের সত্যিকারের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক। তিনি কলেজের শিক্ষাদান ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন।

২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করা হলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সাথে উত্তোলন করা হয় জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি উত্তোলন করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হলের পতাকা। পরে একটি আনন্দ র‌্যালি ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবন থেকে টিএসসি চত্বর ঘুরে অপরাজেয় বাংলায় এসে শেষ হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের তথা পূর্ব বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের ১ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ববঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো একটি মুসলমান মধ্যবিত্ত সমাজ সৃষ্টি করা। এই মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজই পরবর্তীকালে পূর্ববঙ্গের সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনে নেতৃত্ব দান করে। বঙ্গভঙ্গের সময় থেকে পূর্ববঙ্গে মুসলিম সমাজে যে নবজাগরণ শুরু হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারই ফল।
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গে ঢাকাকে রাজধানী করে নতুন ‘পূর্ব বাংলা’ ও ‘আসাম’ প্রদেশ সৃষ্টি হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার সবচেয়ে উন্নতি ঘটে। কিন্তু ১৯১১ সালের ১ নভেম্বর দিল্লির দরবারে ঘোষণার মাধ্যমে ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গে শিক্ষার যে জোয়ার এসেছিল, তাতে অচিরেই ঢাকাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা অবধারিত ছিল। বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে সে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। ১৯১২ সালের ২১ জানুয়ারি ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকা সফরে আসেন এবং ঘোষণা করেন, তিনি সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুপারিশ করবেন। ১৯১২ সালের মে মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যারিস্টার রবার্ট নাথানের নেতৃত্বে নাথান কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ২৫টি সাব-কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ভারত সরকার প্রস্তাবিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য রূপরেখা স্থির করে। ভারত সচিব ১৯১৩ সালে নাথান কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন দেন। কিন্তু, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পথে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইমপেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড চেমস্ফোর্ড কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাসমূহ তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। সেই কমিশনের ওপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কমিশনের প্রধান ছিলেন মাইকেল স্যাডলার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (স্যাডলার কমিশন) ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে। কিন্তু, এই কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি বা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় করার নাথান কমিটির প্রস্তাব সমর্থন করেনি। কিন্তু, ঢাকা কলেজের আইন বিভাগের সহ-অধ্যক্ষ ড. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তিরূপে অভিহিত করেন। একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির অধ্যাপক টি. সি. উইলিয়ামস অর্থনৈতিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা শহরের কলেজগুলোর পরিবর্তে বিভিন্ন আবাসিক হলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিট রূপে গণ্য করার সুপারিশ করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল হাউসের পাঁচ মাইল ব্যাসার্ধ এলাকাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত এলাকায় গণ্য করার কথাও বলা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ১৩টি সুপারিশ করেছিল এবং কিছু রদবদলসহ তা ১৯২০ সালের ভারতীয় আইন সভায় গৃহীত হয়। ভারতের তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ তাতে সম্মতি প্রদান করেন। স্যাডলার কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক রেজিস্ট্রার পি. জে. হার্টগ। তিনি ১৯২০ সালের ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু করে।

৩. ঢাকা মেডিকেল কলেজ : গৌরবের ৭২ বছর
১০ জুলাই। দেশের প্রাচীনতম মেডিকেল কলেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। চলুন জেনে আসি এই চিকিৎসা বিদ্যাপীঠের ইতিহাস। সময়টা ১৯৩৯। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু হয়েছে। সেই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিল তদানীন্তন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব পেশ করে। কিন্তু যুদ্ধের ডামাডোলে প্রস্তাবটি হারিয়ে যায়। পরে আবার আলোর মুখ দেখে ছয় বছর পর ১৯৪৫ সালে যে বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।
ব্রিটিশ সরকার উপমহাদেশের ঢাকা, করাচি ও মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) ৩টি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উপলক্ষে ঢাকার তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মেজর ডব্লিউ জে ভারজিন এবং অত্র অঞ্চলের প্রথিতযশা নাগরিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাদের প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করেই ১০ জুলাই ১৯৪৬ তারিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চালু হয়। তাই প্রতিবছর ১০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা ডিএমসি ডে উদযাপিত হয়।
এফআরসিএস ডিগ্রিধারী কুশলী অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মেজর উইলিয়াম জন ভারজিন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ। এই মহৎপ্রাণ শল্যবিদ ১ জুলাই ১৯৪৬ থেকে ১৯ জুলাই ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এই পদে অধিস্থিত থাকেন। ডা. ভারজিন ১৯৮৬ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণের একপর্যায়ে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ স্থাপনের আলোচনা সেরে তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লি থেকে ফেরার পথে ট্রেনে ডা. ভারজিন এবং সেই সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রমেশ চন্দ্র মজুমদারের মধ্যে আলাপচারিতায় রমেশ চন্দ্র বলেন, মেডিকেল কলেজের জন্য যদি আমার নিজের বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়, তাও ঢাকায় মেডিকেল কলেজ হবে। ডা. ভারজিনের স্মৃতি রক্ষার্থে কলেজ ভবন থেকে হাসপাতাল যাওয়ার মধ্যবর্তী ছাউনিঘেরা করিডোরটির নামকরণ করা হয়েছে “ভারজিন’স করিডোর”।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরই একটা অংশে ছিল তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস বিল্ডিং। আর ঐতিহাসিক সেই আমগাছ ছিল এরই চত্বরে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত হয় এই প্রাঙ্গণেই। ছাত্রদের নিরস্ত্র শান্তিপূর্ণ মিছিলে খাজা নাজিমুদ্দিনের পুলিশ গুলি করে। অনেকের সাথে সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্র এমআই চৌধুরী, আবু সিদ্দিক, আলী আসগর, জসিমুল হক ও ফরিদুল হক কারাবরণ করেন। ২০নং ব্যারাকের পাশেই এক অনামি শহীদের লাশ পড়েছিল সেদিন। ভাষা আন্দোলনের এই গৌরবময় স্মৃতিকে অমর করে রাখতেই ১২নং ব্যারাকের পাশে রাতারাতি শহীদ মিনার নির্মিত হয়। এর মূল উদ্যোক্তারা ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজেরই ছাত্র। ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের বীরত্বগাথা অবিস্মরণীয়।
ভাষা আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে নানা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক অবদান রয়েছে।  ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ৩৪ ব্যাচের ছাত্র, ফিজিওলজি বিভাগের প্রভাষক ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হন।
২০১৩ সালের নভেম্বরে মুক্তিযুদ্ধে এই প্রতিষ্ঠানে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২-এ নির্মিত হয়েছে খোদাইকৃত ছবি সংবলিত ফলক। এ ফলকে স্থান পেয়েছে ৮১ চিকিৎসক এবং ১৭ শিক্ষার্থীর নাম। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ চত্বরে সত্তরের দশকে শুধু নাম সংবলিত একটি ফলক স্থাপন করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*