বিভাগ: দিনপঞ্জি

দিনপঞ্জি : ফেব্রুয়ারি ২০১৯

Mfd০১ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কত ত্যাগ-তিতিক্ষা, রক্তপাতের মধ্য দিয়ে একটি জাতি তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেÑ বাঙালির স্বাধীনতার ইতিহাস তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানাতে হবে। বিকালে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ-কথা বলেন।

০২ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিগত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও সংগঠনের নেতাদের সম্মানে এক চা-চক্রের আয়োজন করেন। বিকেলে গণভবনের দক্ষিণ লনের সবুজ চত্বরে আয়োজিত এই চা-চক্রে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু), জাপা (মঞ্জু), জাসদ (আম্বিয়া), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে চা-চক্রের অনুষ্ঠানস্থলে আসেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

০৩ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও এক ধরনের দুর্নীতি। এর বিরুদ্ধে সরকার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। খাদ্যে ভেজাল বন্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল দেওয়া কিছু মানুষের চরিত্রগত বদ অভ্যাস। এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ভেজালবিরোধী অভিযান চলছে। আরও ব্যাপকভাবে অভিযান চালাতে একটি কর্তৃপক্ষ করে দেওয়া হয়েছে। হাটে-ঘাটে-মাঠে যেন ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকে সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা দরকার। এ ব্যাপারে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। জনগণ যদি সচেতন হয় তাহলে তাদের কেউ ঠকাতে পারবে না।

০৪ ফেব্রুয়ারি
* পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাদের হাতে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জনগণ হয়রানির শিকার হলে বা বিপদে পড়লে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। জনগণ এটাই প্রত্যাশা করে। জনগণের আস্থা অর্জনে ও জনবান্ধব হতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পুলিশকে সব সময় আইনের রক্ষকের ভূমিকায় দেখতে চাই। সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের সমস্যাকে দেখতে হবে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জনগণের মনে পুলিশ সম্পর্কে যেন অমূলক ভীতি না থাকে সেজন্য তাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এজন্য পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা জরুরি। দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। শেখ হাসিনা বলেন, নৈতিক স্খলন যে কোনো বাহিনীর মনোবল দুর্বল করে দেয়। জনগণের টাকায় আমাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়। আমরা সকলেই জনগণের সেবক। তাই জনগণ যাতে কোনোভাবে নিগৃহীত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। মনে রাখবেন, সকল সফলতার জন্য আপনারা পুরস্কৃত হবেন, পাশাপাশি জবাবদিহিও যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
* আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারাই শুধু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। আসলে বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতির গভীর খাদে পড়ে গেছে। তারা বেসামাল ও বেপরোয়া হয়ে যখন যা খুশি নির্বাচন নিয়ে তাই বলছে। এটা ব্যর্থ বিএনপির অসংলগ্ন প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

০৫ ফেব্রুয়ারি
* আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি বলেছেন, জামাত নিষিদ্ধ করা এখন জনদাবিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে বর্তমান সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখা হবে। জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। জামাতের সঙ্গ ত্যাগ না করায় বিএনপি শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। এখন জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে জামাতকে রাজনীতি থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে।

০৬ ফেব্রুয়ারি
* যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধে সরকারের দৃষ্টি আদালতের দিকে বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামাতকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আদালতে একটি মামলা রয়েছে। এই মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারের কিছু করার নেই। আশা করা যায়, শিগগির মামলার রায় হবে এবং জামাত নিষিদ্ধ হবে। তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর সম্পূূরক প্রশ্নের উত্তরে এসব মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জামাতের কোনো রাজনীতির নিবন্ধন নেই। তবে এটা ন্যক্কারজনক যে, তারা নিবন্ধিত না হয়েও জামাতের নামে ভোট করেছে। বিএনপির সঙ্গে একযোগে জোট করে ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হয়েছিল। কিন্তু জনগণ তাদের ভোট দেয়নি; সম্পূূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

০৭ ফেব্রুয়ারি
* সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে ভূমিকা রেখে যেতে হবে। ঢাকার মিরপুর ক্যান্টনমেন্টে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ‘ডিএসসিএসসি ২০১৮-১৯ কোর্সের’ গ্র্যাজুয়েশন কোর্সের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বেও সুনাম অর্জন করেছেন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর কৃতিত্ব সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির কল্যাণে এবং গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে অবদান রাখতে হবে। বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, তা যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

১০ ফেব্রুয়ারি
* দেশের উপজেলাগুলোকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা তৈরির জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষি জমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং রাস্তা ও চলাচলের ব্যবস্থা পরিকল্পিত হতে হবে। কারণ আমরা দেখি যত্রতত্র দালান হচ্ছে। কারণ টাকা হলেই ধানের জমি নষ্ট করে সেখানে দালান করে দিচ্ছে। কিন্তু কোনো হিসাব-নিকাশ নেই। সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

১২ ফেব্রুয়ারি
* বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় সংকটকালে ও জরুরি মুহূর্তে তারা দক্ষতা ও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের সব সময় সজাগ থাকতে হবে। গাজীপুরের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে এ বাহিনীর ৩৯তম জাতীয় সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্র, ভোটের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশের জনগণকে উপহার দিয়েছেন। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পাঁচ আনসার সদস্যকে জীবন দিতে হয়েছে। তাদের মরণোত্তর সাহসিকতা পদক দেওয়া হয়।
* আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, আদর্শগত দিক থেকে বিএনপি-জামাত দুটি দলই সাম্প্রদায়িক। তাদের চিন্তাচেতনা অনেকটা একই। তাই এই দুই দলের কেউ কাউকে ছেড়ে রাজনীতি করবে না। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, এটা আমার কাছে মনে হয় না যে, বিএনপি জামাতকে অথবা জামাত বিএনপিকে ছাড়বে। এটা হলেও কৌশলগত হতে পারে।

১৩ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী সংসদ সদস্যদের সংসদে না আসাকে ‘রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত’ উল্লেখ করে বলেছেন, যারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছেন বলে অভিমানে তারা পার্লামেন্টে আসছেন না। আমার মনে হয়, এটা রাজনৈতিক একটা ভুল সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন। কারণ ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই জনগণ ভোট দিয়েছে। কাজেই আমার আহ্বান থাকবে, যারাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন। এটাই আমি আশা করি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ ৯৭টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং বিভিন্ন সংস্থান প্রধানরা তাকে অভিনন্দন জানানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অভিনন্দন বার্তায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য আমাদের সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার ইচ্ছে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি
* বিভিন্ন ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মালিকানায় থাকা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে যাতে মালিকের স্বার্থে ব্যবহার করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপ এখন অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক। এটা নিঃসন্দেহে গণমাধ্যমের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বেসরকারি খাতের এ উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে একইসঙ্গে এটাও মনে রাখতে হবে, এসব গণমাধ্যম যাতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক প্রদান অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির এ বক্তব্য আসে।

২০ ফেব্রুয়ারি
* একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সবাই মিলে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথানত না করা। আমি মনে করি, একুশে পদকজয়ীদের অনুসরণ করে আমাদের আগামী প্রজন্ম নিজেদের গড়ে তুলবে। একুশ আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়, নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করা যায়। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি, শিক্ষা, ঐতিহ্য সবকিছুকেই রক্ষা করা ও তার মর্যাদা দেওয়া। তাই আসুন, আমাদের মাতৃভূমিকে আমরা গড়ে তুলি। আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে বিশ্বে যেন অনন্য মর্যাদায় চলতে পারি। স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারি। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে একুশে পদক প্রদান ২০১৯ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

২৪ ফেব্রুয়ারি
* রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, নেতৃত্ব বিকাশের আদর্শ স্থান হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা প্রদান করে না, শিক্ষার্থীদের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের যোগসূত্র ঘটায়; তাদের সমকালীন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন করে তোলে এবং বিশ্বনাগরিকে পরিণত করে। রাষ্ট্রপতি বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি খাতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে সঠিক ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আর তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

২৫ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে করা অঙ্গীকার অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আমরা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু মিয়ানমার সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বন্ধু সম্মাননা অর্জনকারী ড. পল কনেট ও এলেন কনেট সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী এ-কথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

২৬ ফেব্রুয়ারি
* প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা এ মাটিরই সন্তান। তারা দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে পারেন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, শিল্পোৎপাদন, যোগাযোগ এবং সমুদ্রসম্পদ আহরণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারেন তারা। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনাবাসী (এনআরবি) প্রকৌশলীদের প্রথম কনভেনশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রবাসী প্রকৌশলীদের স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, বাংলাদেশের কোনো-না-কোনো গ্রামেই আপনাদের বাড়িঘর, সেখানে আপনাদের শিকড় রয়ে গেছে। শিকড়ের সন্ধান করে আপনারা নিজ নিজ অঞ্চলের কীভাবে উন্নয়ন করতে পারেন, সে অনুরোধ আমি করব। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে। সেখানে বিদেশিরা তো বিনিয়োগ করবেনই, প্রবাসীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। প্রবাসীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সরকার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কেবল শহর কিংবা রাজধানীভিত্তিকই নয়, তার সরকার গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন করতে চায়। তার সরকার গত ১০ বছরে দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছে। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে।
* আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদে স্বাধীনতাবিরোধীদের কোনো স্থান হয়নি। অথচ বিএনপি সরকারের সময় মন্ত্রী পর্যন্ত তারা করেছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলা ভাষা আন্দোলন : অসাম্প্রদায়িক জাতিসত্তার বিজয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে দেশ চলছে। গত ১০ বছরে বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে বিস্ময়কর উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নের একমাত্র কারণ পরিকল্পিতভাবে দেশ পরিচালনা করা। কিন্তু বিএনপি-জামাত কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই দেশ চালিয়েছে।

২৭ ফেব্রুয়ারি
* রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামাত জোট দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। দেশকে লুণ্ঠন করা, হত্যা-খুন-অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার রাজনীতির দিন শেষ। এদের কোনো ষড়যন্ত্রই এদেশে আর বাস্তবায়িত হবে না। প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে প্যানেল সভাপতি শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে রাতে রাষ্ট্রপতি ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় অংশ নেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুল হক শরীফ ডিলু, তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সরকারি দলের অসীম কুমার উকিল, পংকজ দেবনাথ, নজরুল ইসলাম বাবু, আবদুল মজিদ খান ও বেগম সেলিমা আহমাদ।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*