বিভাগ: অন্যান্য

দেশি ফলের পুষ্টিগুণ ও ঔষধিগুণ

uttaআলমগীর আলম: এই বাংলায় বারো মাস বিভিন্ন রকম ফল হয়, আমাদের দেশে ঋতু ভিন্নতায় ফল জন্মায়, স্থান ভেদে বিভিন্ন রকমের ফল আমরা খেয়ে থাকি। প্রত্যেক ফলের মধ্যেই রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ এবং ঔষধিগুণ। আমরা বাংলাদেশে প্রাপ্ত ফলসমূহের পুষ্টিগুণ, ঔষধিগুণ এবং অন্যান্য ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করার চেষ্টা করব।

আম
পুষ্টিগুণ : প্রচুর ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালোরি আছে।
ঔষধিগুণ : আয়ুর্বেদীয় ও ইউনানী পদ্ধতির চিকিৎসায় পাকা ফল ল্যাকজেটিভ, রোচক ও টনিক বা শক্তি বৃদ্ধির জন্য খেয়ে থাকি। লিভার বা যকৃতের জন্য উপকারী। এককাপ পাকা আমে ১০০ ক্যালরি, ১ গ্রাম প্রোটিন, দৈনন্দিন প্রয়োজনের ভিটামিন এ ৩৫ শতাংশ, ভিটামিন বি ৬ শতাংশ। ফাইবার সমৃদ্ধ ফল বলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পথ্য স্বরূপ। আমে বিদ্যমান ভিটামিন এ ত্বক ও চুলের টিস্যু বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। বিটা ক্যারোটিনয়েড ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের উৎস আম। গবেষণায় দেখা গেছে, বিটাক্যারোটিনয়েড-সমৃদ্ধ ফল খেলে স্বাভাবিকভাবে ত্বকের রং উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়। নিয়মিত আম খেলে শরীরের আয়রন ঘাটতি পূরণ হবে এবং হিমোগ্লোবিন থাকবে নিয়ন্ত্রণে। হিমোগ্লোবিনের অভাবে ডার্ক সার্কেল, চুল পড়া, ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পানিসমৃদ্ধ ফল হিসেবে হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। শুধু ত্বকের যতেœই নয়; হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, স্ট্রোক প্রতিরোধ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায় আম। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের কারণে আমের আধিপত্য অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি।
যারা পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন, আম তাদের জন্য ঔষধ। তাছাড়া পুষ্টিহীনতা, গায়ের রং মলিন হয়ে যাচ্ছে, ফ্যাটি লিভার ও ঘুমজনিত সমস্যা, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে পাকা এবং কাঁচা, উভয় প্রকার আমই মহৌষধ। শুধু ফল নয়, এর পাতা ও গাছের ছালও বেশ উপকারী। যেমনÑ রক্ত পড়া বন্ধকরণে আমগাছের ছালের রস উপকারী। কচি পাতার রস দাঁতের ব্যথা উপশমকারী। আমের শুকনো মুকুল পাতলা পায়খানা, পুরাতন আমাশয় এবং প্রস্রাবের জ্বালাযন্ত্রণা উপশম করে। গাছের আঠা পায়ের ফাটা ও চর্মরোগে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়। জ্বর, বুকের ব্যথা, বহুমূত্র রোগের জন্য আমের পাতার চূর্ণ ব্যবহৃত হয়। আম খালি পেটে সাধারণ খাওয়ার পরিবর্তে খেলে উপকার হয়। অনেকে ডায়াবেটিসের জন্য আম খাওয়া থেকে বিরত থাকেন, তাদের জন্য পরামর্শ ডায়াবেটিসের জন্য আম কোনো ক্ষতির কারণ নয়। খালি পেটে এক কেজি আম খেলেও কোনো ক্ষতি হবে না।
আম খেলে ঘুম ভালো হয়, আবার অনেকের পেট পাতলা হয়ে যায়, তাদের জন্য আম খাওয়ার উপযুক্ত সময় হচ্ছে সকালে নাস্তার পরিবর্তে। আবার যারা রাতে খাওয়ার পরে আম খেয়ে থাকেন তারা এ কাজটি ভুল করেন। আম দুপুরের মধ্যেই খাওয়ার উত্তম সময়।

কাঁঠাল
পুষ্টিগুণ : প্রচুর শর্করা, আমিষ ও ক্যারোটিন আছে।
ঔষধিগুণ : কাঁঠালের শাঁস ও বীজকে চীন দেশে শক্তির টনিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের গ্রামগঞ্জে এখনও মানুষ সকালে নাস্তা ও দুপুরের ভাত খাওয়ার পরিবর্তে শুধু কাঁঠাল খেয়ে থাকেন। এটা অতি উত্তম। কাঁঠালের পুষ্টিগুণ পেতে হলে কাঁঠাল একক ফল হিসেবে খেতে হবে। কাঁঠালে রয়েছে এমন কিছু খাদ্যগুণ, যা সারাবছর মানুষ তার ফল উপভোগ করতে পারে। ১০০ গ্রাম কাঁঠালের কোয়া ৯৫ ক্যালরি শক্তি, ২৩ শতাংশ ভিটামিন সি, ১০ শতাংশ ভিটামিন এ প্রদান করে। এছাড়া আছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। সুক্রোজ ও ফুট্রোজে ভরপুর কাঁঠালকে শক্তি উৎপাদিত ফল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফাইবার হজম শক্তি বাড়িয়ে পরিপাকে সহায়তা করে দূষিত পদার্থ অপসারণ করে ত্বককে রাখে সুস্থ। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল আপনার ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তুলবে। শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিক করে দেয়, শরীরে শক্তি দেওয়ার সাথে প্রচুর আঁশ থাকায় পেট পরিষ্কার হয়ে যায়, সেসঙ্গে ত্বক, হাড়ের মধ্যে জড়তা দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করে দেয়, অস্ট্রোপ্রোসিস রোগীদের জন্য বিশেষ উপকারী। মৌসুমি এই ফল খালি পেটে খাওয়া উত্তম, ভরা পেটে খেলে অনেকের পেটের সমস্যা হয়। তাই সকালে অন্য কোনো নাস্তা না করে শুধু কাঁঠাল খেয়ে নাস্তা করলে তা হবে ঔষধিগুণে ভরা একটি আহার। কাঁচা কাঁঠালের তরকারি আর কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই কাঁঠাল শুধু ফলের রাজাই নয়, পুষ্টির আঁধারও।

পেয়ারা
পুষ্টিগুণ : প্রচুর ভিটামিন সি আছে। ১০০ গ্রাম তাজা পেয়ারায় ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, তাই একে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল বলা হয়। ভিটামিন সি’র গুণাগুণ নতুন করে বলার কিছু নেই। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে ত্বকের সৌন্দর্যে ভিটামিন সি’র ভূমিকা অনস্বীকার্য। যারা কোলেস্টেরল কমাতে চান তারা মৌসুমি ফল পেয়ারার ওপর আস্থা রাখতে পারেন। প্রতিদিন সকালে নাস্তা পেয়ারা খান, পেয়ারা রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে। আর যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তারা নিশ্চিন্তে পেয়ারাকে বেছে নিতে পারেন, পেয়ারা লো জিআই ফল, তাই ধীরে ধীরে হজম হয়। সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ ফল। যারা কঠিন কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়ম করে এক মাস পেয়ারা খান। সেক্ষেত্রে পাকা পেয়ারা বেশি উপকারী। কোষ্ঠবদ্ধতা এক মাসে দূর হয়ে যাবে। অনেকে পেয়ারা শুকনো মরিচ ও লবণ দিয়ে খেয়ে থাকেন। সেটি ভুল করে থাকেন। পেয়ারার সাথে লবণ মিশালে পেয়ারার সাধারণ খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পেয়ারা ফল খালি খান, কোনো কিছু না মিশিয়ে যদি ঔষধিগুণ পেতে চান।
ঔষধিগুণ : পেয়ারা শিকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ব ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘা-এ থেঁতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারার কচি পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়।

জাম
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন, ভিটামিন সি, লৌহ ও ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ। মিষ্টি, সরস ও রঙিন ফলটি শিশুদের ভীষণ প্রিয়। ত্বক, চুল ও নখের সুস্বাস্থ্যের জন্য এর ভূমিকা অপরিসীম। প্রথমত; এই ফলের ৮৫ শতাংশই পানি, যা সুস্থ ও প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য অপরিহার্য। অলিফেনল ও অ্যালথোসায়ানাইড এ দুই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কোলাজেন বৃদ্ধিতে যৌথ ভূমিকা পালন করে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করার কারণে জামকে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন বলা হয়। স্বল্প ক্যালরি ও অধিক ফাইবারÑ এ দুটো গুণের সংযোজনে ওজন কমানোর ডায়েট চার্টে জামের গ্রহণযোগ্যতা অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন কে, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম-সমৃদ্ধ জাম প্রেগনেন্সিতে আদর্শ ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঔষধিগুণ : জামের কচি পাতা পেটের পীড়া নিরাময়ে সাহায্য করে। জামের বীজ থেকে প্রাপ্ত পাউডার বহুমূত্র রোগের ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। পাকা জাম সৈন্ধব লবণ মাখিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে চটকিয়ে ন্যাকড়ার পুঁটলি বেঁধে টানিয়ে রাখলে যে রস বের হয়, তা পাতলা পায়খানা, অরুচি, বমিভাব দূর করে। জাম ও আমের রস একত্রে পান করলে ডায়াবেটিস রোগীর তৃষ্ণা প্রশমিত হয়।

বরই বা কুল
পুষ্টিগুণ : বরই অ্যান্টি অ্যাজিং খাদ্য। বরই-এ আছে হরেক রকমভেদ। তবে সব কুলেই ভিটামিন সি আছে। কোনোটা মিষ্টি আবার কোনোটা টক। ওজন কমানো, রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ অনেক গুণাগুণ রয়েছে বরই-এ। ফাইবারে পরিপূর্ণ বরই কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি নখ ও চুলের জন্য বিশেষ কার্যকর। অ্যান্টি অ্যাক্সিডেন্ট ত্বকের কালো দাগ ও বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে, তাই তো একে অ্যান্টি অ্যাজিং খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ঔষধিগুণ : কুল ও কুলের পাতা বাটা বাতের জন্য উপকারী। ফল রক্ত পরিষ্কার এবং হজম সহায়ক। পেটে বায়ু ও অরুচি রোধে ফুল থেকে তৈরি ঔষধ ব্যবহার করা হয়। শুকনো কুলের গুঁড়া ও আখের গুড় মিশিয়ে চেটে খেলে মেয়েদের সাদাস্রাবের কিছুটা উপকার হয়।

কলা
পুষ্টিগুণ : কলায় ক্যালরি, শর্করা, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি আছে। কলা ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর কলা সারাবছরই সহজেই পাওয়া যায়। এই জনপ্রিয় ফলটি সুষম খাদ্য তালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কলার হরেকরকম শ্রেণিভেদ থাকলেও সাগর, শরবি, চিনিচাম্পা বেশি সমাদৃত। কলা একটি ভালো প্রবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। এর এই যাদুকরি ক্ষমতা পরিপাকে ক্রিয়া বৃদ্ধি ও শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অতুলনীয় ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন একটি কলা খেলে হিমোগ্লোবিন ঘাটতি হবে না। এছাড়া অ্যানিমিয়া রোগীর জন্য আদর্শ খাদ্য কলা। যারা অনিদ্রা ও বিষণœতায় ভুগছেন, সকালে ও দুপুরে অবশ্যই দুটি কলা খাবেন। কারণ, এর ট্রিপটোফ্যান ঘুমের প্রাকৃতিক ওষুধ। পর্যাপ্ত ঘুম দূর করবে চেহারার ডার্ক সার্কেল ও অবসন্নতা। কলার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ত্বক, চুল ও নখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাবে চুল পড়া, আগা ফাটাসহ নানারকম সমস্যা দেখা দেয়।
ঔষধিগুণ : পাকা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে ব্যবহার করা হয়। কলার থোড় বা মোচা এবং শিকড় ডায়াবেটিস, আমাশয়, আলসার, পেটের পীড়া নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়। আনাজি কলা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাকা বীচিকলার বীজ কৃমিনাশক।

আমড়া
পুষ্টিগুণ : ভিটামিন সি, ক্যারোটিন ও শর্করা আছে। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পাওয়া যায়, তাই এর ফল পেতে হলে নির্দিষ্ট সময় প্রতিদিন একটি করে আমড়া খাওয়া উচিত। বিশেষ করে শরীরে যাদের এসিডিটি আছে তাদের জন্য এটা ফল আদর্শ, অনেকে অভিযোগ করেন যে টক খেলে পেটে গ্যাস হয়। কথাটি আংশিক সত্য, টক ফল ভরাপেটে খেলে গ্যাস হতে পারে; কিন্তু খালি পেটে খেলে তা হবে গ্যাস নিরাময়ের ঔষধ।
ঔষধিগুণ : কফ নিবারণ করে, আমনাশক ও কণ্ঠস্বর পরিষ্কার করে। অরুচিতে, দাঁতের যতেœ আমড়া অনেক কার্যকর ফল। এক মাস খেলে দাঁতের বহু সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।

পেঁপে
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ। পেঁপে এমন একটি ফল যা পুরোটাই ঔষধের গুণে ভরা। এর পুষ্টিগুণ বর্ণনায় শত পাতার বইও কম পড়বে। পেটের অজীর্ণ, কৃমি সংক্রমণ, আলসার, ত্বকে ঘা, একজিমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, ডিপথেরিয়া, আন্ত্রিক ও পাকস্থলির ক্যানসার প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে পেঁপে বিশেষ উপকারী। কাঁচা পেঁপের পেপেইন ব্যবহার করা হয়। পেঁপের আঠা ও বীজ ক্রিমিনাশক ও প্লীহা, যকৃতের জন্য উপকারী।
পেঁপে মহৌষধ মাখনের মতো তুলতুলে নরম পাকা পেঁপেকে রোগের পথ্য বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকা, পর্তুগাল, স্পেন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডে সারাবছরই পেঁপের চাষ হয়।
ঔষধিগুণ : পেঁপের গুণাগুণগুলোর সাথে একে একে পরিচিত হই। প্রথমত; পেঁপেতে প্রচুর জলীয় অংশ থাকায় এটি ত্বককে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের উৎস পেঁপে। বিটা ক্যারোটিন ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের মৃত কোষ সারিয়ে তুলে ত্বককে রাখে দাগ ও বলিরেখামুক্ত। ফাইবারযুক্ত পেঁপে এমনই একটি ফল, যা সহজেই শরীরের ওজন কমিয়ে ওজনকে রাখে নিয়ন্ত্রণে। হজম প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে শরীরের টক্সিন বের করে দেয়। তাই ডায়েট চার্টে সকালের দিকে খেতে পারেন। ফলে সারাদিনের কাজের শক্তি জোগাবে। ইনটেস্টাইনে কৃমি থাকলে দেখা দেয় এলার্জি, চুলকানি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। কিন্তু আপনি জানেন কি পেঁপেতে বিদ্যমান এনজাইম কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। নিজেকে রোগমুক্ত ও সুন্দর রাখার জন্য প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় চাই মহৌষধ পেঁপে।

আনারস
পুষ্টিগুণ : ক্যারোটিন, ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম আছে।
ঔষধিগুণ : আনারসে পাকা ফলের সদ্য রসে ব্রোমিলিন নামক এক জাতীয় জারক রস থাকে বলে এটি পরিপাক ক্রিয়ার সহায়ক হয় এবং এর রস জন্ডিস রোগে প্রতিকার রয়েছে, জ্বর বা ফ্লুতে সারাদিন আনারস খেলে জ্বর ফ্লু থাকবে না। আধুনিক গবেষণায় প্রকাশিত হয়েছে যে, আনারসে এমন কিছু ঔষধিগুণ রয়েছে যা চিকনগুনিয়া, ডেঙ্গু, নিপাহ ভাইরাসজনিত রোগে কোনো সাধারণ আহার গ্রহণ না করে শুধু আনারসের জুস খেয়ে তিন দিন থাকলে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই এই ভাইরাস দমন হয়ে যায়। আনারস খেলে শরীরের ইমিউন সিস্টেম ঠিক হয়ে যায়, শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা দূর করার জন্য আনারসে রয়েছে প্রচুর ফাইবার।
কচি ফলের শাঁস ও পাতার রস মধুর সাথে মিশিয়ে সেবন করলে ক্রিমির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

বাতাবি লেবু বা জাম্বুরা
পুষ্টিগুণ : ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ একটি পুষ্টিকর ফল। প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক শুধু রুচিবর্ধকই নয়, লেবু বা জাম্বুরাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক বলা হয়। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের মহান উৎস এই ফলগুলো ত্বক, নখ ও চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ কার্যকর। নিয়মিত জাম্বুরা খেলে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়ে ত্বক হয়ে ওঠে মসৃণ। জাম্বুরা শরবত শুধু রিফ্রেশিং পানীয়ই নয়, উষ্ণ পানি ও জাম্বুরা মিশ্রণ ওজন কমানোর জন্য আদর্শ টনিক। ডায়েটেশিয়ানরা ডায়েট চার্টে জাম্বুরাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। ভিটামিন ই, ফোলেট, কপার, জিংক, ফসফরাস, পটাসিয়াম-সমৃদ্ধ লেবু ও জাম্বুরা ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজমসহ অনেক সমস্যার মহৌষধ। খাবারের পর এক টুকরো জাম্বুরা চুষে খেলে মুখগহ্বরে জীবাণুর সংক্রমণ হয় না। নিজেকে সুস্থ ও তারুণ্যকে ধরে রাখতে প্রতিদিন বেশি বেশি জাম্বুরা খাবেন।
ঔষধিগুণ : পাতা, ফুল ও ফলের খোসা গরম পানিতে সেদ্ধ করে পান করলে মৃগী, হাত-পা কাঁপা ও প্রচ- কাশি রোগীর প্রশান্তি আনয়ন করে এবং সর্দি-জ্বর উপশম হয়।
আমাদের দেশে আরও অনেক ফল আছে যা ঔষধিগুণে ভরা, নিয়মিত এবং মৌসুমের সাথে ফল খাওয়ার অভ্যাস করলে কোনো রোগই কাছে আসবে না। আর যদি রোগ থেকে থাকে তাহলে তাও দূর হবে। মৌসুমি ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম হচ্ছেÑ সকালে নাস্তার পরিবর্তে মিক্সড ফল দুপুর পর্যন্ত খাওয়ার অভ্যাস করলে ৯০ দিনের মধ্যে জটিল এবং কঠিন রোগও নির্মূল হয়ে যাবে। অনেকে ভাবেন খালিপেটে ফল খেলে গ্যাস হয়! কথাটি ভুল। খালিপেটে কোনো ফল খেলে গ্যাস করে না, ভরাপেটে ফল খেলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস তৈরি হয়। আবার অনেকে ভাবেন ডায়াবেটিস রোগী বেশি ফল খেলে সমস্যা হয়, এ কথাটাও ঠিক না। নিয়ম মেনে ফল খেলে ডায়াবেটিসও ভালো হয়Ñ এ সম্বন্ধে চায়না স্ট্যাডি বলে একটি ফর্মুলা রয়েছে।
দেশি ফল নির্দিষ্ট মৌসুমেই খেতে পারলে ভালো, অসময়ে ফল খেলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখক : ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞ

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*