দেশে এলো এলএনজি গ্যাস

Posted on by 0 comment

5-7-2018 7-06-57 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বহুল প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) এসে গেছে। গত ২৪ এপ্রিল কক্সবাজারের মাতারবাড়ি উপকূলে নবনির্মিত জেটিতে ভিড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার থেকে আসা এলএনজি বোঝাই বেলজিয়ামের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এক্সিলেন্স’। এতে রয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ঘনমিটার তরল গ্যাস। ৭৭ হাজার ৩৪৮ টন ক্ষমতাসম্পন্ন (বিডব্লিউটি-অর্থাৎ ডেড ওয়েট টন) বিশেষায়িত এই জাহাজটি ব্যবহৃত হবে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছর মেয়াদে ভাসমান টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে বিশেষায়িত জাহাজ। এরপর তা বাংলাদেশের মালিকানায় চলে আসবে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহমেদ মজুমদার জানান, জাহাজ এলেও তরলীকৃত এই গ্যাস স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আনতে কিছু ট্রায়ালের প্রয়োজন হবে। এই কাজটি জাহাজেই সম্পন্ন হবে। এরপর তা সমুদ্রের তলদেশের পাইপ দিয়ে চলে আসবে আনোয়ারায় নির্মিত সাবস্টেশনে। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই কর্ণফুলী গ্যাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের গ্যাস দিয়ে পাইপলাইন কমিশনিং করে রেখেছে। এখন শুধু জাহাজ থেকে গ্যাস এসে পৌঁছার অপেক্ষা। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কোম্পানির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।
এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। এই পাইপলাইনের ব্যাস ৩০ ইঞ্চি। আনোয়ারা থেকে সীতাকু- পর্যন্ত আরও ৩০ কিলোমিটার পাইপলাইনের কাজ চলছে, যার ব্যাস ৪২ ইঞ্চি। পরবর্তীতে মীরসরাই ইকনোমিক জোনেও গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যেও প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকু- পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপন সম্পন্ন না হওয়ায় প্রথম দিকে গ্যাস সরবরাহ করা হবে চট্টগ্রাম নগরীতে। এক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে ক্যাপটিভ পাওয়ার ইউনিটগুলো। নিকট ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের চাহিদা মিটিয়ে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কেননা, যে পরিমাণ গ্যাস আমদানি হচ্ছে তা চট্টগ্রামের চাহিদার চেয়ে বেশি।
মহেশখালীতে এলএনজির প্রথম চালান আসার আগে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছেছিল আরও ৫টি টাগ। ডাইডকে এগুলো অবস্থান করছে। এই টাগগুলো ব্যবহৃত হবে বাঙ্কারিং এবং ক্রুদের আনা নেওয়ার কাজে। প্রসঙ্গত, এলএনজি নিয়ে আসা বিশেষায়িত প্রথম জাহাজে রয়েছেন ক্যাপ্টেনসহ ৩০ জন ক্রু ও নাবিক।
দেশে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র গ্যাস সংকট থাকায় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এলএনজি আমদানির দাবি ছিল অনেক দিন ধরে। শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান সরকার যুগান্তকারী এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৫৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি। দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হবে পাইপলাইনে। এই লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা এবং এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

Category:

Leave a Reply