দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস রেলসেতু উদ্বোধন

14

ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি

উত্তরণ ডেস্ক: বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে মৈত্রী ও বন্ধন জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। উভয় দেশের জনগণের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন তারা। গত ৯ নভেম্বর এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা-কলকাতা রেলপথে বন্ধন এক্সপ্রেসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তারা এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। এ সময় দুই প্রধানমন্ত্রী ৪টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। খুলনা-কলকাতা রেলপথে বন্ধন এক্সপ্রেসের পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসের উভয় প্রান্তে বহির্গমন ও কাস্টমস কার্যক্রম এবং ভারতীয় অর্থায়নে নির্মিত দুটি রেলসেতু উদ্বোধন করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা ভারত এবং অন্যান্য নিকট প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করতে চাই। যেখানে আমরা সুপ্রতিবেশী হিসেবে পাশাপাশি বাস করতে পারি এবং জনগণের কল্যাণের জন্য গঠনমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারি। তিনি বলেন, এই বন্ধন শুধু রেলের নয়, আমাদের এই বন্ধন যেন দুই দেশের জনগণের মাঝে বন্ধন সৃষ্টি করে, সার্বিক, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারি।
লাইন অব ক্রেডিট তহবিলের মাধ্যমে দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতুর পাশাপাশি বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ভারতের সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেলওয়ে খাতে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সহযোগিতা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এই সম্পর্ক আরও জোরাল হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত যে সমস্ত লাইন চালু ছিল, যা ১৯৬৫ সালের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তা পুনরায় চালু করার।
উদ্বোধনীতে বাংলাদেশ ও ভারত এখন শুধু রেল, সড়ক, নদী বা আকাশ পথে সংযুক্ত নয় মন্তব্য করে গত মে মাসে সাউথ-এশিয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে সহযোগিতার ক্ষেত্র মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ, উপকূলীয় নৌপথ, বিদ্যুৎ গ্রিড ইত্যাদির মাধ্যমেও সংযুক্ত। আমাদের সংযুক্ত হওয়ার এসব নতুন নতুন পথ সার্বিক সংযোগের কাঠামোতে বিচিত্র মাত্রা যোগ করেছে। এখানে আমি আনন্দের সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, সম্প্রতি আমাদের এই যোগাযোগ মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি এই চার প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও হাওড়ায় তার কার্যালয় নবান্ন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দিল্লিতে মোদির সঙ্গে অনুষ্ঠানে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আর ঢাকায় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি ও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। রেলসেতু উদ্বোধনের সময় ভৈরব থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এমপি।
কলকাতা-খুলনা রুটের নতুন ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস উদ্বোধনীর দিনে কলকাতার চিতপুর স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ভিডিও কনফারেন্সে দুই দেশের দুই সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সবুজ পতাকা উড়িয়ে এই যাত্রার উদ্বোধন করেন।

Category:

Leave a Reply