বিভাগ: প্রতিবেদন

নিরাশার দোলাচলে বিএনপি : দলে অবিশ্বাস আর দুর্নীতিবাজদের প্রাধান্য

10

কে এই আইনজীবী? তিনি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। জামাত নেতা মীর কাসেম আলীসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে সোচ্চার সেই লর্ড কারলাইলকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি।

আশরাফ সিদ্দিকী বিটু: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে বেগম জিয়ার পাঁচ বছরের জেল হয়েছে। তারেক রহমানসহ অন্য পাঁচ আসামির ১০ বছর সাজা হয়েছে এবং প্রত্যেককে ২ কোটি টাকার বেশি অর্থদ-ও দেওয়া হয়েছে। বেগম জিয়া এখন কারাগারে। নিয়মমাফিকভাবে কারাগারে। বিএনপি নেত্রীর শারীরিক অবস্থা ও সামাজিক মর্যাদা বিবেচনা করে তাকে এই দ-ে দ-িত করা হয়েছে। বিএনপি এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুধু দেখায় নি; বরং বিএনপি নেত্রী আদালতে যাবার সময় পথে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, ১০ জন পুলিশকে আহত করেছে, পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছে। রায়ের পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিবাদের নামে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। খালেদার বিচারের পর প্রতিবাদের নামে সহিংসতা করেছে। ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি দুদিনে ৮০টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে এবং ৪০ জন পুলিশসহ সাতজন সাংবাদিককে আহত করেছেন। লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসেও হামলা করেছে। এসব অপকর্মের হেতু কি? যদিও পরে নতুন পথে প্রতিবাদ করছে, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। বিএনপি এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রলেপ লাগিয়ে নেতা-কর্মীদের প্রবোধ দেওয়ার অপচেষ্টা করছে, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কান্নাকাটি করে জনগণের সমবেদনা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিএনপির চরিত্রই এমন, তা হলো সত্যকে অস্বীকার না করা, মিথ্যার বেসাতি করা।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এহেন কোনো কাজ নেই বিএনপি-জামাত করেনি। বেগম জিয়া সরাসরি যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিতে বলেছেন। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা যুদ্ধাপরাধীদের জন্য আইনি লড়াই করেছেন। বিচার ঠেকাতে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে মানুষ হত্যা করেছে; কিন্তু সত্যের জয় হয়েছে, বিচার হয়েছে, রায়ও কার্যকর করা হয়েছে। বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কার্যক্রমও চলমান আছে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আদ্যোপান্ত সারা জাতি জানে, কী করে টাকা এসেছে, কীভাবে টাকা অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এখানে আর বিস্তারিত বলার প্রয়োজন নেই, পত্র-পত্রিকা-টিভি দেখে সবাই বিস্তারিত জেনেছে; কিন্তু এতকিছুর পরও বিএনপি মানতে নারাজ। আইনি প্রক্রিয়ার সব ধরনের পথেই বিএনপি চেষ্টা করেছে এই মামলাকে উইথড্র বা বন্ধ করতে; কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। অপরাধ অপরাধই, বিএনপি নেত্রী বলে অপরাধ থেকে পার পাবেন সেই চিন্তা করা ঠিক নয়। বিএনপি ভেবেছে সরকারকে ভয়ভীতি দেখালে, বিচার বিভাগকে চাপে রাখলে বেগম জিয়ার অপরাধের শাস্তি হবে না। এমন ভাবনাই তাদের ছিল; কিন্তু সরকার বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করেনি, বিচার বিভাগও ন্যায়ের পথে থেকেই আইনের শাসনের বিধানকে সমুন্নত রেখে রায় প্রদান করেছে। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
বিএনপি বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই রায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নামে সহিংসতা করেছে। বিএনপি আইনের শাসনে বিশ্বাসী নয়। বেগম জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন বলেই কি তার অপরাধের শাস্তি হবে না? বিএনপি কি ভাবে তারা আইনের ঊর্ধ্বে? ভুলে গেলে চলবে না, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এমনকি বিএনপি নেত্রীও নয়। বিশ্বের কয়েকজন সাবেক সরকারপ্রধান দুর্নীতি এবং অপকর্মের জন্য বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন, শাস্তি পেয়েছেন। ইমপিচ হয়ে পদও হারিয়েছেন।
বিএনপি খালেদা জিয়ার অপরাধকে আড়াল করে সরকারকে দোষারোপের চেষ্টা করছে, অথচ এই মামলা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলার রায় প্রদান করেছেন আদালত। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এ ধরনের মামলা ৩৬০ দিবসের মধ্যে সমাপ্ত করার কথা রয়েছে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া আদালতে অনুপস্থিত থেকেছেন এবং অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ইস্যুতে উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রাখেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই মামলা পরিচালনার জন্য নিম্ন আদালতের নির্দেশ প্রদান করেন। ১৫০ বারের বেশি সময়ে নিয়েছেন, কোর্টে অনুপস্থিত থেকেছেন, আইনও পাল্টেছেন, বিচারক পাল্টাতে বলেছেন, এমনকি কোর্ট পাল্টাতেও সচেষ্ট হয়েছেন। ৩২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং আসামিরা ২৮ দিন ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে বক্তব্য প্রদান করেছেন। দেশের সংবিধান, ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের সব সুযোগ-সুবিধা খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা পেয়েছেন। অথচ বর্তমান সরকারকে দোষারোপ করে রাজনৈতিকভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার হীন চেষ্টা বিএনপি করেছে। এমনকি রায়ের পরও মিথ্যাচার করছে, আবার জামিনের চেষ্টা করবে বলেও তাদের আইনজীবীরা বলছেন। এটা কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় মামলা নয়। এই সরকারের সাথে এই মামলার কোনো সম্পর্ক নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে এবং চলবে। এই রায় প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে বিএনপি আবারও প্রমাণ করল দেশের আইন, আদালতের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। বিচার বিভাগের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। আর থাকবেই বা কি করে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে জাল সার্টিফিকেটধারীকে বিচারপতি বানিয়েছিল, বিএনপির আইনজীবী প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে প্রিন্টারের অংশ ছুড়ে মেরেছিল। দেশের কোনো কিছুর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই। কারণ মিথ্যাচারই তাদের রাজনীতি।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ মুখে যা-ই বলুন, রায় মানুক না মানুক, এই রায়ের আগে তড়িঘড়ি করে তাদের গঠনতন্ত্রের সংশোধন এনে তা নির্বাচন কমিশনে জমাদানের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে, যে দুর্নীতিবাজদের দল বিএনপি। এবং রায়ের পর দ-প্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন বানিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে, গঠনতন্ত্র বিএনপি সংশোধন করছে যেন দুর্নীতিবাজরা দলে থাকতে পারে, দলের রাজনীতি করতে পারে। একটি দল যখন দুর্নীতিবাজদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয় তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে সেই দলের কোনো নৈতিক আদর্শ নেই। দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দ-প্রাপ্ত ও দুর্নীতিবাজদের সংগঠন করার অধিকার দিয়ে বিএনপি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতিবাজ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে পরিণত হয়েছে। তাদের মুখে তাই নীতিকথা আর মানায় না।
উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গঠনতন্ত্রের সপ্তম ধারাটি বিলুপ্ত করে এই ধারায় আগের ৮ নম্বর ধারাটি রাখা হয়েছে। আগের গঠনতন্ত্রের সপ্তম ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা ছিলÑ ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোনো পর্যায়ের যে কোনো নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তারা হলেনÑ ক. ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ৮-এর বলে দ-িত ব্যক্তি; খ. দেউলিয়া; গ. উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি; ঘ. সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি। অবশ্য সংশোধিত গঠনতন্ত্রের ৫-এর ‘ক’-এ ‘সদস্যপদ লাভের যোগ্যতা’ ও ‘খ’-এ ‘সদস্যপদ লাভের অযোগ্যতা’ উপধারা দুটি বলবৎ আছে। ‘খ’-এ বলা আছে, ‘বাংলাদেশের আইনানুগ নাগরিক নন এমন কোনো ব্যক্তি জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য হতে পারবেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অখ-তার বিরোধী; গোপন কিংবা সশস্ত্র রাজনীতিতে বিশ্বাসী ও সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা সমাজবিরোধী ও গণবিরোধী কোনো ব্যক্তিকে সদস্যপদ দেয়া হবে না।’
বিএনপি নেত্রীর সাজা হওয়ার পর বিএনপির কর্মকা- আরও বেশি বিতর্কিত হচ্ছে। বিদেশি মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করে মিথ্যাচার করে তারা কি বোঝাতে চাইছে, রায় হয়েছে কিন্তু বিদেশে যেন প্রচার না হয়? না-কি সরকার বা বিচারব্যবস্থা ঠিক নেই? এসব অসত্য ও অপচেষ্টা করে লাভবান হওয়ার সুযোগ আর নেই বিএনপির! বিএনপি নিয়মিতভাবে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে, নানা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ বিএনপি যেন বিচার বিভাগকে বিএনপির মুখোমুখি করতে চাচ্ছে, যা দেশের আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
বিএনপির আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করেছে, তার মানে আইনিভাবে বেগম জিয়ার রায়ের বিষয়ে মোকাবিলা করবে। প্রতিদিন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে অযথা বির্তক সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। মানুষ এখন ভুল বা অসত্যকে মানতে রাজি নয়।
বিএনপির এক নেতা বললেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকলে না-কি প্রতিদিন তাদের ১০ লাখ ভোট বাড়ে। তবে কি বিএনপি নেতৃবৃন্দ চান তাদের নেত্রী জেলে থাকুক। পাঁচ বছর জেলে থাকলে দেশের জনসংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভোট বিএনপির বাড়বে। তারা মনে হয় এটা হিসাব করেই সুখবোধ করছেন!
বিদেশে পালিয়ে থাকা, দ-প্রাপ্ত ফেরারি আসামি তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব দিয়ে এটাও প্রমাণ হলোÑ এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দলে রাখা বা দ-প্রাপ্ত হয়েও যেন রাজনীতি করতে পারেন, দলের প্রধান থাকতে পারেন সেজন্যই করা হয়েছে। অবশ্য বিএনপির চরিত্রই হলো দুর্নীতিবাজদের প্রমোট করা। এ নিয়ে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তার বইতে আরও সত্য প্রকাশ করেছেনÑ “বিএনপির সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এই দলের জন্ম কোনো স্বাভাবিক সামাজিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে হয়নি।… একদিকে ছিল সুযোগ সন্ধানী, সুবিধাবাদী, গণবিরোধী, স্বার্থপর এবং রাজনৈতিকভাবে সমাজে ধিকৃত ব্যক্তিরা। বিএনপির জন্ম হয়েছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে।” [চলমান ইতিহাস : জীবনের কিছু সময় কিছু কথা; ১৯৮৩-১৯৯০, পৃষ্ঠা : ১৫৯-১৬০]
এখানে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন, তারেক রহমানের অপকর্মের কথা সারা জাতি অবগত। হাওয়া ভবন ছিল সমান্তরাল সরকার। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ হয়েছিল দুর্নীতিবাজ দেশ, হত্যা সন্ত্রাসের দেশ, অধিকার হরণের দেশ। তারেক রহমান ও তার আরেক ভাই আরাফাত রহমান কোকো বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার সেই টাকা ফেরত এনেছে। বিশ্বের সেরা অর্থপাচারকারীর তালিকায় নাম উঠেছিল কোকোর। আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের কোর্টে বিচার হয়েছে। চুরির টাকা সিঙ্গাপুরের আদালত বাজেয়াপ্ত করে দেশে পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস তারেক রহমানের ১২ কোটি টাকা আটক করেছিল। এই সরকার ২০১২ সালে সেই টাকা দেশে ফেরত আনে। বাংলাদেশের কোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে সিঙ্গাপুর ৮ কোটি টাকা ফেরত দেয়। তারেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন সিঙ্গাপুরে সিটিএনএ ব্যাংকে ২১ কোটি টাকা পাচার করে। আমেরিকার এফবিআই এ ব্যাপারে তদন্ত করেছে। ২০১২ সালে এফবিআই-র উবনৎধ খধঢ়ৎবাড়ঃঃব ঢাকায় বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। এই মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের সাত বছরের সাজা এবং ২১ কোটি টাকা জরিমানা হয়। একইভাবে লন্ডনের ঘধঃ ডবংঃ ব্যাংকে প্রায় ৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। সেই টাকা জব্দ করা হয়েছে। মামলা চলছে টাকা ফেরত আনার জন্য। এছাড়া বিশ্বের আরও অনেক জায়গায় খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকা ও সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি (ঠিকানা : স্প্রিং ১৪, ভিলা : ১২, এমির‌্যাটস হিলস, দুবাই)। সৌদি আরবে মার্কেটসহ অন্যান্য সম্পত্তি। এমন দুর্নীতিবাজরা কী করে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করবে? অথচ জিয়াউর রহমান না-কি ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া কিছুই রেখে যায় নি। এত সম্পত্তির উৎস হলো দুর্নীতি, যা বিএনপি নেত্রী ও তার ছেলেরা এবং পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অপব্যবহার করেই অর্জন এবং বিদেশে অবৈধভাবে বিনিয়োগ ও পাচার করেছে। যারা বিদেশে টাকা পাচার করে তারাই যদি কোনো দলের প্রধান হয়, তবে বুঝতে হবে সেই দলের কোনো নীতি-আদর্শ আর অবশিষ্ট নেই।
শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে বিএনপি আন্তর্জাতিকমহলে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৭-এর মে মাসে কানাডার ফেডারেল আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এ বছরের ২৫ জানুয়ারি কানাডার আরেক বিচারক বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে আখ্যা দিয়েছে। পরপর টানা দুবার সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃতি পায় বিএনপি। এদের দ্বারা দেশের মঙ্গল সম্ভব নয়।
বিএনপি নেত্রীর জামিন চেয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতে গিয়েছেন, এখনও জামিন পান নি। এটা বিচারিক বিষয়, আদালতের সিদ্ধান্ত। আগামী মে মাসে আবার এ নিয়ে আদালত শুনানি করবে। এরই মধ্যে বিএনপি একজন ব্রিটিশ আইনজীবীকে নিয়োগ করেছে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পরমার্শক হিসেবে ও আইনি সহায়তা প্রদান করতে।
কে এই আইনজীবী? তিনি বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। জামাত নেতা মীর কাসেম আলীসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে সোচ্চার সেই লর্ড কারলাইলকে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে বিএনপি।
পোল্যান্ড থেকে যুক্তরাজ্যে অভিবাসিত ইহুদি আইনজীবী লর্ড কারলাইল বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কঠোর সমালোচক। তিনি এই বিচারের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে নানা সভা, সেমিনার এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে দূতিয়ালি করেছেন। বাংলাদেশের সুপ্রিমকোর্ট ২০১৬ সালের ৮ মার্চ জামাত নেতা যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মৃত্যুদ-ের রায় বহাল রাখার পর লর্ড কারলাইল বাংলাদেশ সরকারের কাছে একটি চিঠিও লিখেছিলেন। এতে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং ঐ আদালতের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার সুপারিশ করেন। আলবদর নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর না করার দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের কাছে চিঠিও লিখেছিলেন ব্রিটিশ এই আইনজীবী। ২০১৫ সালে বিএনপি-জামাত জোটের আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশে ‘গ্রহণযোগ্য’ সরকার গঠনে উদ্যোগ নিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অনুরোধ করেছিলেন লর্ড কারলাইল। এমন ব্যক্তিকে আইনি পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি প্রমাণ করল, দেশের স্বাধীনতা বিরোধের সাথেই তাদের উঠাবসা, সখ্যতা এবং পাকিস্তানি মানসিকতার মধ্যেই তারা আবদ্ধ।
আজকে বিএনপি নেত্রীর এই সাজা তার ও তার দলের নিয়মিতভাবে চলে আসা অসততা, অপকর্ম ও দুষ্টাচারের নির্মম শাস্তি। শাক দিয়ে যে মাছ ঢাকা যায় না তা প্রমাণ হলো। কিন্তু বিএনপি নেতৃবৃন্দের কর্মকা- হচ্ছে এমন যে, বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমারÑ প্রাচীন এই প্রবাদের মতোই। রায়ের পর বিএনপির ভেতরে যে হতাশা, অবসাদ তা থেকে নেতা-কর্মীদের মুক্তি দিতে সরকার বা বিচার বিভাগকে দোষারোপ করে এলেও নিজেদের সাথে আত্মপ্রবঞ্চনা করছে বিএনপি। পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতাকারী আইনজীবীকে পরামর্শক বানিয়ে বিএনপি প্রমাণ করলÑ দেশের স্বাধীনতার প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল নয় এবং খালেদা জিয়ার জামিনের চেয়ে বিতর্ক সৃষ্টিই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এখন প্রশ্ন ওঠে, আসলেই কি বিএনপির নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার জামিন চান, না-কি তাদের নেত্রীকে জেলে রেখেই দলের সিনিয়ররা রাজনৈতিক সুবিধা চানÑ এমন প্রশ্ন কিন্তু বিএনপির ভেতরেই!

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*