বিভাগ: অন্যান্য

নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিএনপির আর কী বিকল্প আছে!

33ভাষ্যকার: ‘আগামী নির্বাচনে বিএনপি কি যোগ দেবে? দিলে কি হবে আর না দিলে?’ এ ধরনের প্রশ্ন এখন সবখানে। এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা নতুন বছর হচ্ছে নির্বাচনের বছর আর দেশের মানুষ হচ্ছে নির্বাচন-পাগল। এমনটা হওয়ার পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ দিনের প্রতিবাদী সংগ্রামী ঐতিহ্য। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালি জাতিসত্তার ওপর আঘাত এলে দেশবাসী সংগ্রামের ভেতর দিয়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোটাধিকার আদায় করে এবং ভোটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই বিচারে জাতীয় স্বাধীনতা অর্জনের সাথে নির্বাচন ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। আর ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন তথা জনগণের জীবন-জীবিকা ও দেশের উন্নতি অগ্রগতির পথ নির্ধারিত হয় বিধায় দেশবাসী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে ভোটের প্রয়োজন ও গুরুত্ব বুঝে নিয়েছে। অর্জন প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় দেশবাসী ভোটকে মনে করে পবিত্র আমানত এবং নির্বাচনকে উৎসব হিসেবে বিবেচনায় নেয়।
প্রসঙ্গত বলতেই হয়, বিএনপি-জামাতের ২০-দলীয় জোট বিগত নির্বাচন বয়কট আর সেই সাথে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কাজ যুক্ত করায় দেশবাসী বিগত নির্বাচনের সময় ভোট-উৎসবে শামিল হতে পারে নি। এতে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপিরও সর্বনাশ হয়েছে। এটা সবারই জানা যে বিগত নির্বাচনের সময় কার্যত যে দাবি সামনে রেখে বিএনপি নির্বাচন বয়কট করেছিল, সেই তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবি এবারেও পূরণ হবে না। কারণ বিএনপি গতবারের মতো এবারেও এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা প্রদান করতে পারে নি। লন্ডনে সুদীর্ঘ সময় নীরব থেকে দেশে ফিরে আসার পর খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা প্রথমে জোরগলায় বলে যাচ্ছিল, দ্রুতই দেওয়া হবে ওই রূপরেখা। কিন্তু এখন আর ওই ব্যাপারে কোনো তোড়জোর লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নির্বাচন সামনে রেখেও যেখানে নিজেরাই নির্বাচনকালীন সহায়ক বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা দিতে পারছে না আর সর্বোপরি রাজনীতির মাঠেও যেখানে বিএনপি নেই, সেখানে এই দাবি আদায় হবে এমনটা মনে করার বিন্দুমাত্র কোনো কারণ নেই। এ অবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ভিন্ন বিএনপির আর কোনো পথ-বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। প্রকৃত বিচারে বিএনপি-জামাত জোটের গৃহযুদ্ধ বাধানোর অসৎ পরিকল্পনা ও অপতৎপরতা সত্ত্বেও বিগত নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী সংঘটিত করে এবং সংসদ অব্যাহত রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট সরকার যে সাহস দুরদর্শিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে, সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগের যে সুযোগ এখনও বহাল রয়েছে, এবারে সেই সুযোগ গ্রহণ করে আত্মহত্যার পথ থেকে বের হয়ে আসতে পারে বিএনপি। যদি যুদ্ধাপরাধী জামাত ও মুরব্বি পাকিস্তানের অনুপ্রেরণা ও মদদে পরিচালিত গতবারের পথ ও পন্থা পরিহার করে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তবে দেশের যেমন মঙ্গল, তেমনি সর্বনাশের পথ থেকে নিজেকে তুলে আনার প্রচেষ্টা এবারে বিএনপি নিতে পারে।
কিন্তু যুদ্ধাপরাধী দল জামাতসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থি দলগুলোকে ২০-দলীয় জোটে রেখে এবং দেশের চিরশত্রু পাকিস্তানকে মুরব্বি হিসেবে রেখে বিএনপি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পথ আদৌ নিতে পারবে কি না এটাই নতুন ও নির্বাচনী বছরের শুরুতে রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন! যদি পারে তবে তা হবে অপমৃত্যু থেকে বিএনপির সর্বনাশের পথ এড়ানোর একমাত্র আশু সুযোগ। বিএনপির থিংক ট্যাংক ও হাইকমান্ডকে এটা স্মরণে রাখতে হবে যে, বিগত নির্বাচনের আগে পরে দু-দুবার বিএনপি সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কাজ চালালে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কানাডার আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এর আগে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকায় ওঠে। দেশে ‘বাংলাভাই ও মুফতি গং’দের আর বিদেশে দাউদ ইব্রাহীমের সাথে যোগাযোগ রেখে বিএনপি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে দেশবাসীর অর্জন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। এখন সরকারের বিরুদ্ধে থেকে যদি আবার সংবিধান ও গণতন্ত্রবিরোধী ওই ঘৃণ্য পথ গ্রহণ করে, তবে যে এবারে সন্ত্রাসী দলের তালিকায় স্থায়ীভাবে নাম উঠবে বিএনপির, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এ বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য রেখেই খালেদা জিয়াসহ বিএনপি নেতারা বারবার বলে যাচ্ছেন, বিএনপি একটি নিয়মতান্ত্রিক দল।
কিন্তু কথা অনুযায়ী অবস্থান কি নিতে পারবে দলটি? পারবে বলে মনে হয় না। কেননা পুতুল খেলার মতো দলের ওপর যে রয়েছে পরাজিত দেশি-বিদেশিদের দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সুতার নানামুখী টান। তাই উল্লিখিত রিক্সের কথা দলের বাস্তব সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিবেচনায় রাখতে পারছে না। দলটি এখন রয়েছে ত্রিভঙ্গ রূপ ধারণ করে। গত ৭ ডিসেম্বর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দল এখন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আর প্রথম থেকেই খালেদা জিয়া বলে আসছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে না। আন্দোলনই একমাত্র পথ। এদিকে মওদুদ বলছেন নির্বাচনে যোগ দেওয়ার কথা আর ড. মোশাররফ বলছেন উল্টো কথা। রিজভী একটা বলেন তো গয়েশ^র বলেন অন্য কথা। সবশেষে অবশ্য খালেদা জিয়া দলের সভায় নেতাদের এ বিষয়ে চুপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাভাবিকভাবেই তাই দেশবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, নেতাদের চুপ থাকার পরামর্শ কেন দিলেন খালেদা জিয়া। ইতোমধ্যে সুদীর্ঘ ৯ বছর বিএনপি ক্ষণে ক্ষণে চুপ থাকা এবং চুপ থাকা অবস্থায় দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাসহ অনভিপ্রেত নানা ঘটনা সংঘটিত হতে থাকায় জনগণ অভিজ্ঞতা থেকে মনে করছে, নির্বাচন সামনে রেখে আরও বড় ধরনের মারাত্মক কোনো চক্রান্ত ও নাশকতামূলক ঘটনা সংগঠিত করার পাঁয়তারা করছে বিএনপি-জামাত জোট! যদি সেটি হয় তবে দলটির মুখোশ আরও উন্মোচিত হবে এবং জনগণের উল্লিখিত ধারণাকে আরও পাকাপোক্ত হবে। তাতে দলের সমূহ ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই প্রাপ্তি ঘটবে না। মাইনাসে আরও অনেক মাইনাস পয়েন্টস যোগ হবে। তাই এ ব্যাপারে সরকার ও দেশবাসীর সতর্ক থাকা ভিন্ন কোনো পথ নেই। একটু খেয়াল করলেই এটা দেখা যাবে যে, সম্প্রতি চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উগ্র জঙ্গি সন্ত্রাসীদের ধরপাকড় করছে, আস্তানা ভেঙে দিচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাগড়াগড় বোমা বিস্ফোরণের নায়ক আবু সাইদ ওরফে শ্যামল শেখকে বগুড়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার চুপ করে থাকার নির্দেশ বিবেচনায় নিয়ে ওই ধরনের অভিযানকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা ভিন্ন সরকারের বিকল্প আর কিছু নেই।
অবস্থাদৃষ্টে চুপ করে থাকার নির্দেশ দেওয়ার আরও একটি কারণ থাকতে পারে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত অনলাইন খবরে জানা যাচ্ছে, ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা ড. মঈন খানের সাথে ভারতীয় দূতাবাসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে না-কি ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে ভারত সমর্থন করে না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এই নিয়ম থাকতে পারে না। এই দাবি ছাড়া আর কোন শর্ত পূরণ করলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। উত্তরে ওই বিএনপি নেতা না-কি বলেছেন, বেগম জিয়া যদি দুর্নীতির দুই মামলায় গ্রেফতার হন, তবে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার পথ থাকবে না। এদিকে আবার রয়েছে সৌদি আরবসহ বিদেশে লুণ্ঠিত সম্পদ পাচারের অভিযোগ। বেগম জিয়াকে নির্বাচন করার সুযোগ দিতে হবে। এটাই বিএনপির প্রথম শর্ত। আর দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার। প্রকাশ্যে নির্বাচন প্রশ্নে চুপ থেকে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি বহাল রেখে ভেতর ভেতরে ওই দুই শর্ত কার্যকর করার পথ বিএনপি খুঁজছে বলে জনগণের মনে করার তাই যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উল্লিখিত খবরটি যদি সত্য হয়, তবুও কিন্তু আত্মসন্তুষ্টির কোনো অবকাশ নেই। কেননা মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের সাথে সাথে দেশে অরাজকতা বিশৃঙ্খলা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে তৎপর থাকবে বিএনপি ও জামাতের ২০-দলীয় জোট। কেননা নিজের নাক কেটে পরের অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ গতবারের মতো এবারেও বন্ধ করতে চাইতে পারে বিএনপি-জামাতের ২০-দলীয় জোট। যে দলের জন্ম সেনা ছাউনিতে আর যে দল সামরিক ফরমানে সংবিধান সংশোধন ও ‘হ্যাঁ ভোট’ ‘না ভোট’ করে ক্ষমতার মসনদ চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল, যে দলের ‘আত্মার আত্মীয়’ ও সঙ্গী পাকিস্তানিদের দালাল-ঘাতকরা, সেই দলের এমন নীতি ও কৌশল থাকাটাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
এক্ষেত্রে নির্বাচন বয়কট ও আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাসের লাইনেই যদি যায় বিএনপি, তবে গতবারের চাইতে আরও বেশি সর্বনাশের পথে পা দেবে দলটি। গতবার বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচন বয়কটের লাইনে দেশের কয়েকটি বাম ও ডান দলকে রাখতে পেরেছিল। সেই সাথে এরশাদদের জাতীয় পার্টিকেও টালমাটাল অবস্থায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু এবারে নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কয়েকটি জোট গঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি অগণিত দল নিয়ে জোট বেঁধে কার্যত নির্বাচনের মাঠে নেমেছে এবং রংপুর সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঘোষণা করেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। ড. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকল্প ধারা, জাসদ (রব), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও নাগরিক ঐক্য জোট গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বে বাম জোট কোথায় কোন প্রার্থী দাঁড়াবে, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসব জোটগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক বা সহায়ক সরকারের দাবি এবারে আর সামনে আনছে না। নির্বাচনে অংশ নিলে কিছু আসন পেতে পারে বিবেচনায় ওই সব জোট যে বিএনপি-জামাত জোট ভোট বয়কট করলেও নির্বাচনে যোগ দেবে, তা অবস্থা বিবেচনায় প্রায় নিশ্চিত। এদিকে বিএনপির সাথে জামাতের ঐক্য থাকলেও ওই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টির লক্ষণ সুস্পষ্ট। খালেদা জিয়া গ্রেফতার হলে বিএনপির পক্ষের নেতাকর্মীরা রাস্তায় নামবে সেই সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে কোর্টের রায়ে বের হয়ে আসার সময়ও কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা বিন্দুমাত্র সক্রিয়তা দেখাতে পারেনি। এসব দিক বিচারে ফাঁটা বাঁশের চিপায় পড়া বিএনপির নির্বাচন বয়কট করার সম্ভাবনা একেবারেই কম। যদি করে তবে বিএনপির অবস্থা হবে পিপিলিকার পাখা ওড়ে মরিবার তরে প্রবাদের মতো।
ইতোমধ্যে অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, বিএনপির দুই নম্বর নেতা তারেক জিয়া না-কি টেলিফোনে নেতাদের বলছেন, সরকারের সাথে সমঝোতা হলো কি না কিংবা কে নির্বাচন করে ক্ষমতায় এলো সেটি বড় কথা নয়। মূল কথা হলো, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিএনপিকে মিত্র দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচনে যোগ দিতে হবে। এমনটা বলার কারণ যে রয়েছে, তা অবস্থা পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। বিএনপি কখনও গণসম্পৃক্ত আন্দোলনের দল নয়। ইস্যুভিত্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলন পর্যন্ত গড়ে তুলতে পারে না দলটি। জনসভা বা মিছিল করতে নেতা-কর্মীদের রাস্তায় নামতে পারে না। সর্বোপরি গ্রেফতারের রিক্স নেওয়ার সাহস খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়ার নেই। যদি থাকত তবে মামলায় আদালতে গিয়ে বিএনপি নেত্রী কেঁদে দিলেন কেন? আর তারেক রহমানই বা মামলা মোকাবিলা করতে দেশে ফিরে আসছে না কেন? কেন নেতাদের ‘আঙ্গুল চোষা’ বলতে হয় নেত্রী খালেদা জিয়ার। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, বিএনপির দুই নম্বর নেতা তারেক রহমানের উল্লিখিত টেলিফোন বয়ান সত্য।
এটা সত্য হওয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। বিএনপি এটা ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে, আন্দোলন করে তাদের পক্ষে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তীব্র আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে বিএনপি যেভাবে পালিয়ে বেঁচেছিল, সেই অবস্থা কখনও গণভিত্তিসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী দল আওয়ামী লীগের হবে না। গতবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করেছিলেন খালেদা জিয়াকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের জন্য। এমনকি নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকার গঠনেরও প্রস্তাব করেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এবারে যে ওই লাইনে ক্ষমতাসীন জোট যাবে না, তা অবস্থা পর্যবেক্ষণে সুস্পষ্ট। সংবিধানের বাইরে গিয়ে সমঝোতায় যাবে কেন ক্ষমতাসীন দল-জোট। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন যে, আলোচনার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। বিএনপি নিজেদের প্রয়োজনে নির্বাচনে অংশ নেবে। কার সাথে আলোচনা? ঝাড়ি খাওয়ার জন্য কিংবা মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা এবাবে ঘটবে না। সংশ্লিষ্ট দলগুলো সিদ্ধান্ত নেবে সংবিধানের ভিত্তিতে নির্বাচনে আসবে কি না। নাকে খত দিয়ে বিএনপি নির্বাচনে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। এর কোনো অন্যথা হবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা নির্বাচন হচ্ছে রাজনৈতিক-সাংবিধানিক যুদ্ধ। যুদ্ধে একবার সুযোগ হারালে আর সুযোগ ফিরে পাওয়া যায় না।
বিএনপির যদি দল হিসেবে টিকে থাকার কোনো ইচ্ছে থাকে, তবে নির্বাচনে যোগ দিতেই হবে। ক্ষমতায় থেকে ‘হাওয়া ভবন’ সৃষ্টি করে অপশাসন দুঃশাসন চালানো, হত্যা-ক্যু করে পাকিস্তানি আমলের মতো সামরিক বাহিনীকে ক্ষমতার রাজনীতিতে টেনে আনা, যুদ্ধাপরাধী জামাতসহ সাম্প্রদায়িক দলগুলোকে রাজনৈতিক দল করতে দেওয়া ও সাথে রাখা, সংবিধানকে সামরিক ফরমান বলে এক কলমের খোঁচায় সংশোধন করা প্রভৃতির দায় মাথায় নিয়ে বিএনপি যদি জামাতকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের লাইনে আসে তবে দলটি যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি দেশবাসীও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথকে বাধাবিঘœহীন ও অবারিত করার সুযোগ পাবে। নতুন বছরে কোনো পথে যাবে বিএনপি, এটাই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*