বিভাগ: সম্পাদকীয়

নৌকার বিজয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন

PMএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে একটি অংশগ্রহণমূূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি তার কথা রেখেছেন। নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি দল ছাড়াও বিভিন্ন জোট ও দলের মার্কা নিয়ে আরও বিপুল সংখ্যক অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী ১ হাজার ৮৪১ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৪৫ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ৯৬ জন। প্রতিটি আসনে গড়ে ৬-এর অধিক প্রার্থী রয়েছে। ধরে নেওয়া যায় এবারের নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ও ভূমিকা দেশবাসী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রশংসার চোখে দেখছে। বলা যেতে পারে, এটা আওয়ামী লীগের এক বিরাট নৈতিক জয়।
নির্বাচন যতই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক, জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে এখন নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। গত ১০ বছরের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় দেশের যে অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে, তার ধারা অব্যাহত রাখতে না পারলে দেশবাসীর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। আমরা তা হতে দিতে পারি না। যে কোনো মূল্যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
ইতোমধ্যে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার জনমত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নেতা। তার কোনো বিকল্প নেই। প্রায় একই কথা আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। দেশের প্রাচীন এবং বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছে। দেশবাসী আরেকবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চায়।
কিন্তু দেশবাসীর এই প্রত্যাশা আপনা-আপনি পূরণ হবে না। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশি-বিদেশি নানা অপশক্তির ষড়যন্ত্রের কথা ভুলে গেলে চলবে না। নির্বাচন বানচাল করা, দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং সহিংসতার উসকানিদাতার অভাব নেই। দেশবাসী এই ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না। আর এজন্য আওয়ামী লীগ ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। অঙ্কুরেই সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে।
নির্বাচনে দলের অনেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তাদের এই প্রত্যাশা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতাও প্রশ্নাতীত। কিন্তু দলের নেত্রী ও পার্লামেন্টারি বোর্ড সবদিক বিবেচনা করে যাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, তাদের বিজয়ী করে আনাই এখন আওয়ামী লীগ কর্মীদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। সকল ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমান ও সংকীর্ণ উপদলীয় কোন্দল ভুলে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী-সমর্থককে জননেত্রী শেখ হাসিনার পেছনে, নৌকার বিজয়ের জন্য ইস্পাতদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে, এগিয়ে নিতে হলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবশ্যই আমাদের সফল হতে হবে। দলের ঐক্য, জোটের ঐক্য এবং জনগণের ঐক্যকে সুদৃঢ় করে একাদশ জাতীয় সংসদে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সমুন্নত রাখা এবং একটি সুখী সুন্দর সমৃদ্ধশালী অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আসুন, আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে হলেও নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করি।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*