বিভাগ: প্রতিবেদন

‘নৌকায় ভোট দিয়ে আগুন সন্ত্রাসীদের জবাব দিন’

বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

PMউত্তরণ প্রতিবেদন: গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় প্রথম নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের শাস্তি হয়েছে তাদের দোসরদের প্রার্থী করা হয়েছে। যারা স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, আগুন সন্ত্রাসীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে, নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের উপযুক্ত জবাব দিন।
শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতায় আসলে তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে। আবার এদেশের মানুষ ক্ষুধার্ত হবে, অশিক্ষিত হবে, মানুষের ভাগ্যের বিপর্যয় ঘটবে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর যেন তারা ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্যই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
গত ১২ ডিসেম্বর বিকেলে কোটালীপাড়ার উপজেলা সদরে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি, জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছি। তিনি বলেন, আমাদের প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকে সমগ্র দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাই, নৌকা মার্কায় ভোট চাই, জনগণের সেবা করতে চাই। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, ২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সেই সময় যেন স্বাধীনতাবিরোধী, খুনি, রাজাকার, অগ্নিসন্ত্রাসকারীরা ক্ষমতায় না থাকে।
গোপালগঞ্জে পৌঁছেই জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বপ্রথম টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তার মাজার জিয়ারত করেন। এ-সময় তার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন। এরপরই তিনি তার নিজের নির্বাচনী আসন গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া)-এর ভোটারদের কাছে নিজের জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চান। আর এর মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন শেখ হাসিনা।
তিনি তার নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব এলাকার ভোটারদের ওপর ছেড়ে দিয়ে বলেন, আপনারাই নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেন। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পাই। এজন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এবারও আমি আপনাদের সেই দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি। আমার আপনজন বলতে ছোট বোন আছে আর আছেন আপনারা। আপনারা আমার আপনজন হয়ে টুঙ্গিপাড়া ও কোটালিপাড়ায় গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে গিয়ে আমার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট চাইবেন। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আরেকটিবার দেশ সেবা করার সুযোগ করে দেবেন।
বঙ্গবন্ধু-কন্যা আরও বলেন, আমাদের সবসময় একটাই লক্ষ্য থাকে, জাতির পিতা এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এই বাংলাদেশ কারও কাছে ভিক্ষা করে চলবে না। এই বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে চলবে। সেই মর্যাদা নিয়ে চলবে। সেই মর্যাদাটা যাতে মানুষ পায় আমরা সেভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, যেখানে দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ ছিল, আজকে ২১ ভাগে কমিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য সামনে, আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব, তখন দেশ হবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

জনসভা পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে
সড়কপথে বেলা দেড়টার দিকে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেই শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মাজারে যান এবং জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, শ্রদ্ধা জানান এবং বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা জাতির পিতার মাজার জিয়ারত করেন। নিজ পৈতৃক নিবাসে দুপুরের আহার ও নামাজ আদায় শেষে বিকেল ৪টায় কোটালিপাড়ার জনসভাস্থলে যান। এদিকে এই জনসভাকে ঘিরে অন্যরকম উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেছে শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকায়। সকাল ১১টা থেকেই মানুষের ঢল নামতে শুরু করে জনসভা অভিমুখে। হাজার হাজার মানুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে জনসভায় আসতে থাকেন। জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র সূত্রধরের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় সদস্য এসএম কামাল হোসেন, যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার, গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক প্রমুখ। সভায় শেখ রেহানার অনুরোধে জনসভায় বক্তব্য রাখেন দেশের জনপ্রিয় দুই চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস ও রিয়াজ।
শেখ হাসিনা বলেন, বারবার আমাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আমি কখনও মৃত্যুকে পরোয়া করি না, কোনো ষড়যন্ত্রকে আমি ভয় করি না। তিনি দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করে বলেন, দেশের ৯৬ ভাগ মানুষ আজকে বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে। বিএনপি-জামাতের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর নামে ওই বিএনপি-জামাত জোট মিলে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
১২ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। ১৩ ডিসেম্বর সকালে তিনি ভাঙ্গা, ফরিদপুর মোড়, রাজবাড়ি মোড়, পাটুরিয়া ঘাট, মানিকগঞ্জ, সাভারসহ মোট ৭টি স্থানে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। রাতেই ঢাকায় ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*