বিভাগ: কূটনীতি

পশ্চিমবঙ্গে আবারও মমতা

61উত্তরণ ডেস্ক: দ্বিতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ মে কলকাতার প্রশস্ত রেড রোডের মুক্তমঞ্চে দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার অতিথির সামনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি মমতাকে শপথবাক্য পাঠ করান। মমতা ঈশ্বর ও আল্লাহর নামে শপথ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দূত হিসেবে উপস্থিত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। আমুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে পশ্চিমবঙ্গ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মমতা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ২০ কেজি ইলিশ মাছ উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান। দুই বাংলার এই দুই নেত্রীর রয়েছে বর্ণাঢ্য এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা প্রমাণ করলেন তার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি টেলিফোন করে মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অমিতাভ বচ্চন, সুরেশ প্রভ প্রমুখ।
প্রথা ভেঙে রাজভবনের চৌহদ্দির বাইরে বেরিয়ে এসে এবারই প্রথম রাজপথে শপথ নিয়ে নতুন নজির তৈরি করেছেন মমতা। সেদিনেই মুখ্যমন্ত্রীর সাথে শপথ নেন ৪২ মন্ত্রী। তাদের মধ্যে ২৯ পূর্ণ মন্ত্রী, পাঁচ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং আট প্রতিমন্ত্রী। বিপুল এই জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিজয় উৎসব চলেছে ৩০ মে পর্যন্ত। তবে উৎসবের ধরন ছিল একটু আলাদা। ১০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে চলেছে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ২৯৪ বিধানসভা আসনের মধ্যে ২১১ আসন পেয়ে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার করেছে। এই রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোট পেয়েছে ৭৬, বিজেপি ৩ ও অন্যরা পেয়েছে ৪ আসন। বুথফেরত জরিপ থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, এবারও তৃণমূলই ক্ষমতায় থাকছে। বাস্তবেও তাই ঘটেছে। বামের সাথে জোট করেও রক্ষা পায়নি কংগ্রেস। ভালো করেনি বিজেপিও। তবে আসামে ভালো করেছে বিজেপি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারে ফিরে আসার তৃণমূলের এমন সাফল্য পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরে ১৯৮২ ও ১৯৮৭ সালে পরবর্তী দুটি নির্বাচনে তারা আসন আরও বাড়িয়ে নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিল। কিন্তু তৃণমূলের জমানার পাঁচ বছরে সারদাকা- বা ভোটের মুখে নারদ পর্ব, উড়ালপুল বিপর্যয়ের মতো ঘটনা বিবেচনায় নিলে নতুন কোনো সরকারকে এত বিপর্যয় মোকাবিলা করতে হয়নি। সামলাতে হয়নি দুর্নীতির এত অভিযোগ। তারপরও মমতার এমন বিপুল সাফল্য উল্লেখযোগ্য অবশ্যই। কারণ জ্যোতি বসুরা লড়তেন বামফ্রন্ট হিসেবে। একসাথে কিছু বাম দলকে নিয়ে। তৃণমূল এবার লড়েছে একাই। একক ক্ষমতায় তাই এমন সাফল্য বাড়তি স্বস্তির কারণ।
১৯ মে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এতে সবচেয়ে ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। একমাত্র পুদুচেরি ছাড়া সব রাজ্যেই তারা হেরেছে। প্রত্যাশামতো অসমে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তামিলনাড়–তে দ্বিতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করেছে জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন এআইডিএমকে। কেরলে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ ভালো ফল করেছে। এই নির্বাচনে উল্লেযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল বুঝিয়ে দিল, কংগ্রেসের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সাথে জোট বেঁধে ভরাডুবি ছাড়াও কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তামিলনাড়–তে জোটসঙ্গী ডিএমকের সাথেই ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের। তামিলনাড়–র মোট ২২৪ আসনের মধ্যে জয়ললিতার দল এআইডিএমকে পেয়েছে ১৩৪ আসন। অন্যদিকে ডিএমকে পেয়েছে ৯৮ আসন। কেরালায় এলডিএফ পেয়েছে ৮৫ আর ইউডিএফ পেয়েছে ৪৭ আসন। অসমে মোট ১২৬ আসনের মধ্যে বিজেপি ৮৬ ও কংগ্রেস ২৬ আসন পেয়েছে। পুদুচেরির ৩০ আসনের মধ্যে ১৭ আসন পায় কংগ্রেস।
হিসাবে দেখা যায়, পশ্চিমবঙ্গে  প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশ ভোট ব্যাংক ধরে রেখেছে বিজেপি। মমতার নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরসহ বেশ কিছু আসনে তারা দ্বিতীয় স্থানে ছিল। প্রাথমিক হিসাবেই দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের নানা প্রান্তেই ভালো ভোট পেয়েছে বিজেপি। শেষ জাতীয় কংগ্রেস জিতেছিল ১৯৭২ সালে। তারপর ১৯৭৭ সাল থেকে প্রথমে ৩৪ বছর সিপিএম পরিচালিত বামফ্রন্ট এবং পরে পাঁচ বছর তৃণমূল জোট করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছিল।
Ñ অনিল সেন

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*