বিভাগ: অন্যান্য

পাট পণ্যের উৎসবমুখর মেলা

43বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় মার্চ মাসে ‘সোনালি আঁশের সোনার দেশ, পাট পণ্যের বাংলাদেশ’ এই স্লোগান নিয়ে ঘটা আয়োজনে উদযাপিত হলো জাতীয় পাট দিবস। ১০ দিনব্যাপী উৎসবে কৃষ্টি-ঐতিহ্যের সোনালি আঁশ পাট এবং পাটজাত পণ্যের দুর্লভ প্রদর্শনীর উৎসবমুখর মেলা নবজাগরণ সৃষ্টি করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে পালিত হয়েছে পাট দিবসের নানা ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। ৬ মার্চ পাট দিবসকে ঘিরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ৪ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। যেখানে উৎসাহী জনতা বিপুল সমাগমে মেলা আঙিনায় জমজমাট পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পাট দিবসকে সামনে রেখে ৪ মার্চ বিকেলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ডিঙি নৌকায় পাট ভরে হাতিরঝিলে এক মনোরম নৌ-শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়। গত ৫ মার্চ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের পাটের তৈরি একটি ক্যানভাসে চিত্রাঙ্কন করা হয়। এতে অংশ নেন চারুকলার ২০০ শিক্ষার্থী। পাট দিবসে ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এবং দেশের সব জেলা-উপজেলায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়। পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুট ডাইভারসিফিকেশন মাশন সেন্টারের (জেডিপিসি) আয়োজনে পাটের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ৯ থেকে ১৩ মার্চ রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বসেছিল বহুমুখী পাটপণ্যের জমকালো মেলা। এই মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলার পাট বিশ্বমাত’। ৯ মার্চ পাট মেলার উদ্বোধন করেন কৃষ্টিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রথমবারের মতো জাতীয় পাট দিবস ও বহুমুখী পাটপণ্য মেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষিবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাটের বহুমুখী ব্যবহার হচ্ছে। যে শাড়িটা পরে এসেছি, এটা পাটের তৈরি, যে ব্যাগটা ব্যবহার করছি, সেটাও পাটের তৈরি। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে পাটের বহুমুখীকরণ করে যাচ্ছি। পাট থেকে উন্নত তন্তু, পলিথিনের মতো হালকা উন্নতমানের পাটের ব্যাগ, ঔষধি গুণসম্পন্ন চায়ের মতো পাট পাতার পানীয়, পাটের বস্ত্র, ব্যাগ, নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ব্যবহারে সুবিধা ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন ২০১০’ এবং ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা ২০১৩’ কার্যকর হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭টি পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পাটকে অবহেলা করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে রাজিয়া সুলতানাঃ এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশে বিএনপি-জামাত জোট সরকার বৃহৎ পাটকল আদমজী জুটমিল বন্ধ করে দেয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি-জামাত আন্দোলনরত পাট শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৭ জনকে হত্যা করে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে পাট খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেন। পাট বিষয়ে সারাদেশে আয়োজিত রচনা প্রতিযাগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে (যুক্তফ্রন্ট সরকার) তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী এবং তিনি ‘জুট মার্কেটিং করপোরেশন’ গড়ে তোলেন। এই পাটের রপ্তানি, উৎপাদন, বিপণন ও গবেষণা কার্য বৃদ্ধির জন্য তিনি কাজ করেন।
স্টলগুলোতে ছিল মনোমুগ্ধকর বেড কভার, কুশন কভার, সোফা কভার, কম্বল, পর্দা, টেবিল রানার, টেবিল ম্যাট, কার্পেট, ডোরম্যাট, শতরঞ্জি, পরিধেয় ব্লেজার, ফতুয়া, কটি, শাড়িসহ শো-পিস এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারযোগ্য বহুবিধ পাটপণ্য সামগ্রী, যা দেশি ক্রেতা থেকে শুরু করে বিদেশিদেরও মন কেড়ে নিচ্ছে। এবার সরকার দিবসটিকে উপজীব্য করে সেরা পাটচাষি, সেরা পাটবীজ উৎপানকারী, বেসরকারি সেরা পাটকল, সেরা কাঁচা পাট রপ্তানিকারক, সেরা পাটসুতা রপ্তানিকারক, সেরা বহুমুখী পাটপণ্য রপ্তানিকারক, সেরা উদ্যোক্তা, সেরা পাটপণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ আট ক্যাটাগরিতে এবং পাটসংশ্লিষ্ট গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য দুজনকে পুরস্কৃত করা হয়। এতে গবেষকদের কর্ম প্রেরণায় খোরাক জোগাবে এবং দেশকে তুলে ধরবে বিশ্ব দরবারে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*