বিভাগ: আন্তর্জাতিক

পূর্ব এশিয়া ভূ-রাজনীতির চলমান উত্তেজনা

59সাইদ আহমেদ বাবু: পূর্ব এশিয়া হলো এশিয়া মহাদেশের একটি অংশ। পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করে থাকে। এটি এশিয়া মহাদেশ ও আমেরিকা মহাদেশের সংযোগস্থল বিধায় বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
চীন পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র। এর জনসংখ্যা প্রায় ১.৩ বিলিয়ন। এটি পূর্ব এশিয়ার একটি রাষ্ট্র। এর উত্তরে রয়েছে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া। উত্তর-পশ্চিমে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান। পশ্চিমে তাজিকিস্তান, পাকিস্তান। দক্ষিণ-পশ্চিমে ভারত। দক্ষিণে নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনাম। পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ান অবস্থিত। চীনের সাথে মোট ১৪টি রাষ্ট্রের সীমান্ত রয়েছে।
বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র এশিয়ার জলসীমায় রাজত্ব করেছে, তার বিশাল নৌবহর এমনভাবে এখানকার জলসীমা দাপিয়ে বেড়িয়েছে যে মনে হতো, তার রাশ টানার মতো কেউ নেই।
বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় সমুদ্রপথে। ফলে সব দেশই চায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক। হ্যাঁ, বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কার্যত সমুদ্রপথে বৈশ্বিক যোগাযোগের পাহারাদারের কাজ করছে। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন মার্কিন নৌ-শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি।
নতুন এক নৌ-শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন এই আন্তর্জাতিক সমুদ্রব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে উল্টে দিচ্ছে। চীন তার মহাদেশীয় প্রতিবেশীদের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, তার নৌ-শক্তিও ক্রমেই বাড়ছে, আবার তার হাতে বিপুল পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র রয়েছে। এই বলে বলীয়ান হয়ে চীন পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি সংকুচিত করেছে। হলুদ সমুদ্র (Yellow Sea) থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনী তার আশপাশের সমুদ্রসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌশক্তির উপস্থিতিকে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
দক্ষিণ চীন সাগরে চীন কৃত্রিম দ্বীপ বানিয়ে সামরিক স্থাপনার এক ছড়ানো-ছিটানো নেটওয়ার্ক ও বিমানঘাঁটি গড়ে তুলেছে। চীন পরবর্তীকালে এই ঘাঁটিকে সামরিক আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের একটি অংশ সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষপাতী, বেইজিংয়ের নৌ-শক্তি প্রদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা আরও আগ্রাসী অবস্থান নেবে। কিন্তু তারা যে চীনের সৃষ্ট কৃত্রিম দ্বীপের কাছাকাছি নজরদারি করার জন্য জাহাজ পাঠিয়েছে, তাতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরও বাড়তে পারে।
ব্যবসা-বাণিজ্যের লক্ষ্যে দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ সংযোগ পথ স্থাপনের জন্য এই অঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোর সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নিজের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে।
চীনের জন্য প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, উত্তর-পূর্বে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের সমন্বিত একটা বেষ্টনী এবং দক্ষিণে মালাক্কা প্রণালি, যেখানে চীনের কোনো প্রভাব নেই ও আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়াা নেশন্স) দেশসমূহের অবস্থান, যে দেশগুলো চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখলেও আমেরিকার বন্ধুত্বকে প্রাধান্য দেয়। এই বাধা উপেক্ষা করে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশের জন্য চীন উত্তর কোরিয়ার ‘রাজীন’ সমুদ্রবন্দর, যা পুরো বছর বরফমুক্ত থাকে, তার আধুনিকায়ন করছে। ভারত মহাসাগরে প্রবেশের বিকল্প হিসেবে পাকিস্তানের বেলুচিস্থানে ‘গোয়াদার’ সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করছে। যাতে প্রয়োজন হলে সড়কপথে পাকিস্তান হয়ে ‘গোয়াদার’ বন্দরের মাধ্যমে চীনের বাণিজ্য উপকরণ পার্সিয়ান গালফ, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল এবং দক্ষিণে আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহে পৌঁছতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত চীনের দ্বীপ ‘হাইনানে’ তারা বড় সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে। চীনের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আমেরিকা ২০২০ সালের মধ্যে তার সামরিক শক্তি বিশেষ করে নেভাল ফোর্সের ৬০ শতাংশ মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার উত্তর মাথায় অবস্থিত ডারউইন বন্দরে আমেরিকা ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনা নতুনভাবে মোতায়েন করছে। এই অঞ্চলে চায়না রুখো নীতির আওতায় আমেরিকার কাছে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যবর্তী জায়গায় বিশাল দেশ ইন্দোনেশিয়া। দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের সাথে চীনের দ্বন্দ্ব বহু দিনের পুরনো। এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তারের যে চাবিকাঠি তার মূল ভিত্তি হচ্ছে জাপান। জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে আমেরিকার বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোরিয়ান পেনিনসোলা এবং তাইওয়ান প্রণালিতে যে কোনো সংকটে ওকিনাওয়া সামরিক ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দক্ষিণ চীন সাগরের সেনকাকু দ্বীপের মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি চীন-জাপান সম্পর্কে নতুন করে চিড় ধরছে। তবে চীনের সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান ব্যাপক প্রসার, বিস্তার ও আধুনিকায়নের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে এ অঞ্চলের সব রাষ্ট্রেরই সন্দেহ এবং ভয় আছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশের অবস্থান যে অন্যদিকে তা চীনের উপলব্ধিতে আছে।
কোরিয়া দ্বীপ রাষ্ট্রটি উত্তর ও দক্ষিণ এই দুটি ভাগে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্র পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত। কোরিয়া দ্বীপটি উত্তর-পশ্চিমে চীন দ্বারা আবদ্ধ। আর উত্তর-পূর্বে রাশিয়া দ্বারা আবদ্ধ এবং কোরিয়া প্রণালি দ্বারা জাপান থেকে পৃথক। দক্ষিণে-পূর্ব চীন সাগর দ্বারা তাইওয়ান থেকে বিভক্ত। এই দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ এবং এই দেশটির ওপর চীনের প্রভাব বেশি।
উত্তাল বিশ্ব রাজনীতির পরিম-লে সমাজতান্ত্রিক ও মার্কসবাদী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ কমিউনিস্ট শাসিত উত্তর কোরিয়া এখন আলোচনার খোরাকে পরিণত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার প্রতিপক্ষ অর্থাৎ মহাশক্তিধর রাষ্ট্রবর্গ দেশটির কর্মকা-ে উৎকণ্ঠিত।
একের পর এক পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়া বিশ্ব দরবারে জানান দিচ্ছে যে, বৃহৎ শক্তিবর্গ যদি মারণাস্ত্র নির্মাণ করতে পারেÑ তাহলে আমরা কেন তা পারব না। তারা জানিয়ে দিচ্ছে শত্রুর কাছে মাথানত করার ন্যূনতম সুযোগ উত্তর কোরিয়ার নেই। বিশ্বব্যাপী নতুন করে যুদ্ধের দামামা শোনা যাচ্ছে। চলছে রণ-হুঙ্কার। একদিকে পরাশক্তি ও বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা, অন্যদিকে নব্য পারমাণবিক শক্তিধর উত্তর কোরিয়া। বাকযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত বাকযুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এখনও বিষয়টি বাকযুদ্ধ মনে হলেও পরিস্থিতি খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
উত্তর কোরিয়ায় জ্বালানি ও খাদ্য সংকট রয়েছে। তারপরও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় উত্তর কোরিয়া একাট্টা। দেশটির এক পাশে শক্তিধর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যদিকে রয়েছে শক্তিশালী জাপান। এ দুই শক্তিকে মোকাবেলা করার জন্য উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক ও হাইড্রোজেন বোমাসহ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে আমেরিকা তার মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে গিয়ে উল্টো বিপাকে পড়েছে। অর্থাৎ, পীত সাগরে মিত্র দেশের সমন্বয়ে সামরিক মহড়ার আগে পরে উত্তর কোরিয়া তার উদ্ভাবিত মারণাস্ত্রের পরীক্ষা অব্যাহত রেখে শত্রুপক্ষকে হুঁশিয়ারি প্রদান করছে।
চীন ও রাশিয়া মনে করে যে, উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে আমেরিকা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধ আতঙ্কে ব্যস্ত রাখতে চায়। আমেরিকাসহ তার মিত্ররা ভালো করে জানে উত্তর কোরিয়াকে চটালে এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। তাই উত্তর কোরিয়ার হাঁকডাক নীরবে হজম করে যাচ্ছে মার্কিন মিত্ররা।
কারণ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভা-ার রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও উত্তর কোরিয়া অনেকদূর এগিয়েছে। এখন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রহর গুনছে। ১২৫টি সাবমেরিন বহর, সেনা ও গোলন্দাজ ডিভিশনের পাশাপাশি বিমান বাহিনীর দক্ষতাও চোখে পড়ার মতো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে তার দেশ ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে। দুদেশের মধ্যে যখন বাকবিত-া চরম আকার ধারণ করেছে তখন ট্রাম্প যুদ্ধ-প্রস্তুতির কথা বললেন।
ট্রাম্প সামরিক শক্তি প্রয়োগের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা দ্বিতীয় অপশনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং আমরা যদি তা বেছে নিই তাহলে তা হবে ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক। যদি আমাদের সামরিক ব্যবস্থা নিতে হয় তাহলে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে ছাড়ব।
২০০৬-এর পর এ নিয়ে দেশটির ওপর অষ্টমবারের মতো অবরোধের প্রস্তাব আনা হলো।
যদিও পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে পিয়ং ইয়ং-কে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। কয়লা, সীসা, তৈরি পোশাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী এবারের অবরোধের তালিকায় রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আনা অবরোধের প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছে ১৫ ভোট, আর বিপক্ষে একটিও না।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ জারির জন্যে এই বৈঠকের আহ্বান জানায় আর তাতে রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মিত্র দেশ চীনও সম্মতি জানালো।
পিয়ং ইয়ং সম্প্রতি যে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে তা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা। আর ক্রমাগতই তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার বিষয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল।
কোরীয় উপদ্বীপে আপাতত যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা দেখা না গেলেও উভয় পক্ষের হুমকি-পাল্টা হুমকি প্রত্যক্ষ করবে বিশ্ববাসী।
জাপান হলো পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত। এটি জাপান সাগর, চীন, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং রাশিয়ার পূর্বে অবস্থিত। জাপানের উত্তর-পূর্বে চীন সাগর এবং দক্ষিণে তাইওয়ান অবস্থিত। জাপানের বৃহৎ ৪টি দ্বীপ হলোÑ হনসু, হোক্কাইডো, কিনসু এবং শিকোকো। জাপানের জনসংখ্যা প্রায় ১৩০ মিলিয়ন এবং জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
মার্কিন জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড মনে করেন, রাশিয়াকে হটিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দেখা দেবে। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে সম্ভবত চীন হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩টি বড় সামরিক হুমকি হলোÑ রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়া।
এ মুহূর্তে চীন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা প্রদর্শনের সামর্থ্য খর্ব করা এবং মিত্র দেশগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
চীনের সাথে চলতি বছর এই দুটি দেশের যথাক্রমে দক্ষিণ চীন সাগর ও ডোকলাম উপত্যকায় ভূখ- নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। গত বছর আফ্রিকার জিবুতিতে চীন প্রথমবারের মতো তার বৈদেশিক সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায় আরও এক ডজন এমন ঘাঁটি স্থাপনের চিন্তা-ভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*