বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

প্রকাশ পেল সবচেয়ে বড় ব্ল্যাকহোলের ছবি

PMউত্তরণ ডেস্ক: জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই প্রথম ব্ল্যাকহোলের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন। গত ১০ এপ্রিল এই ছবি প্রকাশ করা হয়। ব্ল্যাকহোল ছায়াপথের দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত। এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাকহোলের ব্যাপ্তি ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার, যা পৃথিবীর আকারের চেয়ে ৩ মিলিয়ন গুণ বড়। বিজ্ঞানীরা এটাকে ‘দৈত্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ব্ল্যাকহোলটি ৫০০ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর ছবি তুলতে বিশ্বজুড়ে ৮টি টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে। এই পরীক্ষামূলক কাজের প্রস্তাবকারী নেদারল্যান্ডসের রেডবাউন্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেইনো ফালকে জানান, ব্ল্যাকহোলটি এমএইটিসেভেন নামের একটি ছায়াপথে পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, এটা আমাদের পুরো সোলার সিস্টেমের চেয়ে বড়। তিনি আরও বলেন, যেসব ব্ল্যাকহোল আছে বলে আমরা মনে করি সেগুলোর মধ্যে এটা সবচেয়ে বড়। এটা সত্যিকার অর্থেই দৈত্যাকার, ব্ল্যাকহোলদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ব্ল্যাকহোলটি একটি আগুনের আংটির মতো, যার ভেতরের অংশটি কালো। ছায়াপথের বিলিয়ন বিলিয়ন তারার সমন্বয়ে যে আলো হবে তার চেয়ে ব্ল্যাকহোল থেকে আসা আলোর পরিমাণ অনেক। এ কারণেই পৃথিবী থেকে এত দূরে হওয়ার পরও তা দেখা যায়।

ব্ল্যাকহোলের ছবির পেছনে যার কৃতিত্ব সবচেয়ে বেশি
প্রথমবারের মতো ‘ব্ল্যাকহোল’ বা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তোলার পেছনে সব থেকে বেশি যার অবদান, তার নাম কেটি বাউম্যান। ২৯ বছর বয়সী এই নারী একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানী। অ্যালগরিদম পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্ল্যাকহোলের ছবি তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন এই কেটি বাউম্যান।
নাসার প্রকাশ করা এই কৃষ্ণগহ্বরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি বৃত্তাকার কালো আভার চারদিকে এক উজ্জ্বল আগুনের বলয়। পৃথিবীর নানাপ্রান্তে বসানো ৮টি রেডিও টেলিস্কোপের এক নেটওয়ার্কের সাহায্যে এই ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। একক টেলিস্কোপের সাহায্যে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তোলা সম্ভব ছিল না বিজ্ঞানীদের। কৃষ্ণগহ্বরটির দেখা মিলেছে এমএইটসেভেন নামের একটি বহু দূরবর্তী গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে। পৃথিবী থেকে এই কৃষ্ণগহ্বরের দূরত্ব ৫০ কোটি ট্রিলিয়ন কিলোমিটার দূরে এবং এটির ভর সূর্যের চেয়ে ৬৫০ কোটি গুণ বেশি।
এস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্সে এই আবিষ্কারের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। নিজের ল্যাপটপে কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তৈরি করার পর নিজেই বিস্মিত হন কেটি বাউম্যান। নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে কেটি বাউম্যান ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে যখন এই ছবিটি প্রথম যখন দেখি তখন নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। মজার বিষয় হলো, কেটি বাউম্যান প্রথম যখন অ্যালগরিদমটি তৈরি করেছিলেন তিন বছর আগে, তখন তিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) স্নাতকের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে এমআইটি’তে ইভেন্ট হোরিজন টেলিস্কোপ প্রজেক্টে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো। সামনেই কালটেক’স কম্পিউটিং অ্যান্ড ম্যাথামেটিক্যাল সায়েন্স ডিপার্টমেন্টে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেবেন। তিন বছর ধরে এমআইটির কম্পিউটার সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারের গবেষক দলের অধীনে একটি প্রকল্পে কাজ করে এই সাফল্য লাভ করেন কেটি।
এই প্রকল্পে ২০০-র বেশি বিজ্ঞানী কাজ করলেও কৃষ্ণগহ্বরের ছবিটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক হিরো বনে গেছেন কেটি। টুইটারে তার প্রশংসায় ভাসছে মানুষ। অনেকেই তাকে অভিবাদন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*