প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বক্তব্য

Posted on by 0 comment

1আমি গত ১৫ থেকে ১৬ই এপ্রিল সৌদি আরবে একটি সামরিক মহড়া ও ১৭ থেকে ২২-এ এপ্রিল লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করি এবং ২৬ থেকে ২৯-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফর করি। এই তিন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।

সৌদি আরব সফর
সৌদি বাদশার আমন্ত্রণে ২৩-দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে Gulf Shield-One শীর্ষক যৌথ সামরিক মহড়ার সমাপনী অনুষ্ঠান ও কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার জন্য আমি গত ১৫ই এপ্রিল দাম্মামে যাই।
সৌদি আরবের Eastern Province-এর আল জুবাইল-এ ১৬ই এপ্রিল এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ মহড়ায় অংশ নেয়।
আমিসহ অনুষ্ঠানে যোগদানকারী অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সৌদি বাদশাহ স্বাগত জানান। এ সময় আমি সৌদি বাদশাহ এবং অনুষ্ঠানে যোগদানকারী অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করি।
লন্ডনে কমনওয়েলথ সম্মেলনে যোগদান
১৬ই এপ্রিল সন্ধ্যায় সৌদি সরকারের বিশেষ বিমানে আমি দাম্মাম থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
লন্ডনে আমি ১৭ থেকে ২১-এ এপ্রিল ২৫তম কমনওয়েলথ সরকার প্রধানগণের শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করি। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
৫৩টি সদস্য রাষ্ট্রের অংশগ্রহণসহ ৪৬টি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ এবারের কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন।
পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায় কমনওয়েলথ কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগের সুফল সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিলÒTowards A Common Future। এতে ৪টি বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এগুলো হলো
1. A Fairer Future;
2. A More Sustainable Future;
3. A More Prosperous Future Ges
4. A More Secure Future.
এ ৪টি বিষয়ের আওতায় শীর্ষ সম্মেলনে গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার, আইনের শাসন সুসংহতকরণসহ বিভিন্ন বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে।
সম্মেলন শেষে আমরা সদস্য দেশসমূহের সরকার প্রধানগণ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি তথা Leader’s Statement প্রদান করি।
BREXIT এবং এর ফলশ্রুতিতে কমনওয়েলথ-এর মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রসমূহ বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের নতুন করে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সন্ধানের প্রয়াসের প্রেক্ষাপটে এবারের শীর্ষ সম্মেলন ছিল আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ববহ।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে আমি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত প্রশমন ও অভিযোজনের প্রযুক্তি আদান-প্রদান, জলবায়ু অর্থায়ন, সহনশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করি।
জলবায়ু পরিবর্তনে দায়বদ্ধতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং এ কারণে উদ্ভূত অভিবাসন সমস্যার প্রতি নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
এ প্রসঙ্গে আমি মহামান্য রানির সম্মানে রয়েল সোসাইটি কর্তৃক উৎসর্গীকৃত Queen’s Commonwealth Canopy (QCC) প্রজেক্টে ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জে অবস্থিত আমার সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত সংরক্ষিত ক্ষুদ্র এক শালবনকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগদানের ঘোষণা দেই।
নারীর ক্ষমতায়নে গৃহীত বাংলাদেশ সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপ ও সাফল্যের চিত্রও আমার বক্তব্যে তুলে ধরি। আমি কমনওয়েলথকে আরও কার্যকর এবং উন্নয়নমুখী একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে এর প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন ও সংস্কারের ব্যাপারে নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করি।
সম্মেলনে গৃহীত ব্লু ইকোনমি সংক্রান্ত Commonwealth Blue Charter বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে Blue Champion-এ পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
Commonwealth Women’s Forum-এর একটি বিশেষ সেশনে ১৭ই এপ্রিল আমি ‘Educate To Empower’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করি।
এতে বাংলাদেশে নারীর উন্নয়ন, সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়ন, উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের অর্জন ও দৃষ্টান্ত তুলে ধরি।
মূল সম্মেলনের পাশাপাশি একাধিক পার্শ্ব ইভেন্টে আমি অংশগ্রহণ করি। যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ থিংকট্যাঙ্ক  Overseas Development Institute (ODI) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে “BangladeshÕs development story : policy, progress and prospects” বিষয়ের ওপর মূল বক্তব্য প্রদান করি।
আমি আমার বক্তব্যে আমাদের সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিশদ চিত্র তুলে ধরি। এ ছাড়াও Commonwealth Business Forum (CBF) আয়োজিত Asian Leaders Roundtable : Can Asia keep growing? শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করি।
এতে আমি বিদ্যমান সম্ভাবনাময় তরুণ ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য এবং সুবিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।
একই ফোরাম আয়োজিত Heads of Government Roundtable with Senior Business Leaders শীর্ষক আরেকটি গোলটেবিল বৈঠকেও আমি অংশ নিই।
ফোরামটির উভয় সভায় আমি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য বিদেশি উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানাই।
এছাড়াও ২১-এ এপ্রিল রয়েল কমনওয়েলথ সোসাইটির আমন্ত্রণে ব্রিটেনের রানির জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত শীর্ষ পর্যায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেই।
এবারের কমনওয়েলথ ইশতেহারে দুটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেখানে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে প্রশংসার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ এবং তা নিরসনে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে টেকসই প্রত্যাবর্তনের ওপর গুরুত্ব আরোপসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহিতা ও স্বাধীন অনুসন্ধানের ওপরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে এটি বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক সাফল্য।
সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী জনাব নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হই। বৈঠকে কমনওয়েলথ সংশ্লিষ্ট ও রোহিঙ্গা সমস্যা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়াও সরকার প্রধানগণের একান্ত বৈঠককালে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোসহ বেশ কয়েকজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে আমার সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় হয়।
তারা বাংলাদেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন। তারা রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের জন্য আমার সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ বিষয়ে জোরালো সমর্থনদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
২১-এ এপ্রিল আমি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটি’র একটি অনুষ্ঠানে যোগদান করি।
কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক যুব নেতা, উদ্যোক্তা এবং সমাজকর্মী অংশ নেন।

অস্ট্রেলিয়া সফর
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জনাব ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে আমি ২৬ থেকে ২৮-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া সফর করি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিত Global Summit of Women-2018 সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং কয়েকজন নারী রাজনীতিবিদ ও নারী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ আমার সফরসঙ্গী ছিলেন।
২৭-এ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Julie Bishop এবং ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্টDang Thi Ngoc Thinh আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২৭ তারিখ সন্ধ্যায় সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক জমকালো অনুষ্ঠানে আমাকে “Global WomenÕs Leadership Award-2018” প্রদান করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনজিও ‘Global Summit of Women’ বাংলাদেশ এবং সমগ্র এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি-স্বরূপ আমাকে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান করে।
‘Global Summit of Women’ এর প্রেসিডেন্ট মিজ আইরিন নাতিভিদাদ আমার হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তিনি তার বক্তব্যে নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল টেকনোলজি এবং নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় প্রদানের মাধ্যমে মানবিক নেতৃত্বের যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের জন্য অনুকরণীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুরস্কার প্রদানের সময় সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১ হাজার নারী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা দাঁড়িয়ে এবং করতালির মাধ্যমে আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
পুরস্কার প্রদানের আগে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যাতে আমার রাজনৈতিক জীবন, নারী উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তুলে ধরা হয়।
আমি আমার বক্তব্যে বিশ্বের সমগ্র নারী জাতির প্রতি Global WomenÕs Leadership Award-2018 উৎসর্গ করি। নারীর ক্ষমতা কাজে লাগাতে ও তাদের সহযোগিতা ও অধিকার তুলে ধরতে একটি নতুন বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান জানাই।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান ও গৃহীত উদ্যোগসমূহের কথা উল্লেখ করি।
আমি বিশ্বে নারীর অধিকার আদায়ে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরি। এগুলো হচ্ছেÑ
১. নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তা ভাঙতে হবে।
২. যারা আজও অভুক্ত থাকছেন, যারা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছেনÑ এ ধরনের প্রান্তিক অবস্থানে থাকা নারীদের কাছে পৌঁছতে হবে।
৩. নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবং
৪. জীবন ও জীবিকার সমস্ত ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৮-এ এপ্রিল সকালে আমি ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করি। সেখানে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করি।
সেখানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমি অস্ট্রেলিয়ার সেরা জ্ঞান আহরণের সুযোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সভাপতি প্রফেসর বার্নি গ্লোভার আমাকে ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড গফ হুইটলামের বাংলাদেশ সফরকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তোলা কিছু দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদান করেন।
অ্যাডওয়ার্ড হুইটলাম ১৯৭১ সালে সংসদে বিরোধী দলে থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকারের সমর্থন আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
ঐদিন বিকেলে আমি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হই। বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে চলমান সংকট ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে তার সরকারের বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আমি রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া এবং গৃহীত পদক্ষেপসমূহ টার্নবুলকে অবহিত করি।
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয় এবং এক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় খুঁজে বের করতে আমরা উভয়ে সম্মত হই। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে অস্ট্রেলিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি বিষয়ে আলোচনা হয়।
আমি তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সুবিধাজনক সময়ে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের Royal Melbourne Institute of Technology (RMIT) বিশ্ববিদ্যালয়ের Deputy Pro-Vice Chancellor Professor Geoffrey Stokes আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
একই দিন সন্ধ্যায় আমি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের আয়োজনে এক নাগরিক সম্বর্ধনায় যোগ দেই।
অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। উন্নত বিশ্ব থেকে অস্ট্রেলিয়া সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ৩১-এ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুতে দুদেশের অভিন্ন অবস্থান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গভীরতর করেছে। আমার এ সফর দুদেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই ৩টি সফর অনুষ্ঠিত হয়। সবগুলোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সফরগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

সবাইকে ধন্যবাদ।
খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
২ মে ২০১৮।

Category:

Leave a Reply