বিভাগ: শোক সংবাদ/স্মরণ

প্রয়াতজন : শ্রদ্ধাঞ্জলি

61(a)উত্তরণ প্রতিবেদন: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন (৭৭) আর নেই। গত ১১ মে ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ভারতের মুম্বাইয়ের হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে হালুয়াঘাটসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রমোদ মানকিন ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মুম্বাইয়ের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি প্রমোদ মানকিন জাতীয় সংসদে ময়মনিসংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন চারবার। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৮ এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বাকালজোড়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে এক গারো খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রমোদ মানকিন। স্কুলশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে তিনি ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন প্রমোদ মানকিন। মেঘালয় শিববাড়ি শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজার বাংলাদেশির দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের ভোটে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯-১৪ মেয়াদের আওয়ামী লীগ সরকারের শুরুর দিকে প্রমোদ মানকিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম-বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে তাকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।
২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এলে আবারও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রমোদ মানকিনকে। গত বছর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর মৃত্যুর পর থেকে প্রমোদ মানকিনই মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করে আসছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশে মানবাধিকার সমন্বয় কাউন্সিল, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সোসাইটি, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মানবাধিকার কমিশন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং গোবরাকুড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৪ সালে গারো নেতা জোয়াকিম আশাক্রার মেয়ে মমতা আরেংয়ের সাথে তার বিয়ে হয়। স্ত্রী ছাড়াও পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন তিনি।
বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগম
62(b)সাপ্তাহিক ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম আর নেই। গত ২৩ মে সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে … রাজেউন)। তিনি ছিলেন নারী জাগরণে এক আলোকবর্তিকা। তিনি নেই এটা অবশ্যই শোকের। কিন্তু আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করতে চাই। একজন পরিপূর্ণ মানুষের জীবন তিনি যাপন করেছেন। একজন শিক্ষিত-সচেতন মানুষের যে দায়িত্ব তা অনগ্রসর নারী সমাজেও তিনি পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে। নূরজাহান বেগম সাম্প্রতিককালে নারী জাগরণের পথিকৃৎ। নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব তিনি। উপমহাদেশের প্রথম নারীবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকার এই সম্পাদক ব্যক্তিত্ব তার সাংবাদিকতা দিয়ে ঘরের চার দেয়ালে আবদ্ধ নারীদের জাগিয়ে তুলেছিলেন। নারী সমাজের অগ্রগতিতে পত্রিকাটির ভূমিকা ঐতিহাসিক। পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে নূরজাহান বেগম এদেশের নারী সমাজের শিক্ষা, অগ্রগতি ও নারী আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্য ক্ষেত্রেও বিশেষ অবদান রেখেছেন। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান ভাগের এক মাস আগে কলকাতা থেকে ‘সাপ্তাহিক বেগম’ প্রকাশিত হয়। বেগম সুফিয়া কামাল এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন। আর নূরজাহান বেগম ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। এর তিন বছর পর তিনি পিতা ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সাথে কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন। সেই সময় থেকে তার সম্পাদনায় বেগম পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। এ দীর্ঘ সময়ে বেগম-এর উদ্দেশ্যর কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের নারিন্দার ৩৮ শরৎগুপ্ত রোডের বাসায় নেওয়া হয়। মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন স্মৃতি ভবনের খোলা আঙিনায় বেলা আড়াইটার পর তার প্রথম জানাজা হয়। এরপরে বিকেল ৪টায় সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। এক ঘণ্টা রাখার পরে বিকেলে গুলশান ১ নম্বর জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, নূরজাহান বেগম ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রপথিক। নারী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে জাতি এক মহীয়সী নারীকে হারাল। উপমহাদেশের নারী জাগরণে যিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর খালেদা একরাম
63(a)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর খালেদা একরামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রফেসর খালেদা একরামের মৃত্যুতে জাতি এক বরেণ্য শিক্ষাবিদকে হারালো। তিনি ছিলেন বুয়েটের প্রথম নারী উপাচার্য।
প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত উপাচার্যের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। গত ২৩ মে রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিৎিসাধীন অবস্থায় প্রফেসর খালেদা একরাম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫।
উল্লেখ্য, এই শিক্ষাবিদের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ তহবিল (ত্রাণ ও কল্যাণ) থেকে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
আসফার হোসেন মোল্ল্যা
63(b)প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও গাজীপুরের কালিগঞ্জ থেকে ১৯৯১ সালে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. আসফার হোসেন মোল্ল্যার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। গত ১৩ মে এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কালিগঞ্জ তথা গাজীপুরবাসী এই আওয়ামী লীগ নেতার অবদান আজীবন গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*