বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

ফাঁসির অপেক্ষায় মুফতি হান্নান

28উত্তরণ ডেস্ক: তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ তিন জঙ্গির রিভিউ পিটিশন খারিজের রায় গত ২২ মার্চ পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ করেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। ৫ পৃষ্ঠার ওই রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, এই মর্মে দালিলিক প্রমাণ রয়েছে যে মুফতি হান্নান একজন হার্ড-কোর সন্ত্রাসী (জঙ্গি)। তিনিই ছিলেন এই জঙ্গি হামলার মূল হোতা এবং বোমা সরবরাহকারী। অন্য অভিযুক্তরা ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, এটা ছিল বাংলাদেশের অন্যতম হন্তারক ঘটনাগুলোর একটি। যে মামলায় মৃত্যুদ- দেওয়াটাই হলো যুক্তিযুক্ত। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ আপিল বিভাগের অন্য দুই বিচারক বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর স্বাক্ষরের পর গত ২১ মার্চ এই রায় প্রকাশ করে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে তা পাঠিয়ে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, হাইকোর্ট ও সিলেটের বিচারিক আদালতে।
এ প্রসঙ্গে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, রিভিউ পিটিশন খারিজের রায়ের বিষয়টি দ-প্রাপ্ত আসামিদের অবহিত করবে জেল কর্তৃপক্ষ। রায় অবহিত করার পর জেল কর্তৃপক্ষ আসামিদের জিজ্ঞেস করবে রাষ্ট্রপতির কাছে তারা প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কি-না? যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান সে দরখাস্ত রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। আর যদি তারা প্রাণভিক্ষা না চান তা হলে জেল কর্তৃপক্ষ কারাবিধি অনুযায়ী দ- কার্যকর করবে। তবে এটি সাত দিনের আগে নয় কিন্তু ২১ দিনের মধ্যে।
ফাঁসির রায় পুনঃবিবেচনা চেয়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের রিভিউ পিটিশন ১৬ মার্চ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ওই পিটিশন খারিজের ছয় দিনের মধ্যে রিভিউর রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়, ঘটনাটি এতই নৃশংস ছিল যে, কারও মনেই এটা আসতে পারে না যে, হাই কমিশনারকে হত্যা করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু মারাত্মক আহত হয়ে ঘটনাক্রমে তিনি বেঁচে যান। তার সাথে থাকা অন্যরা বিস্ফোরকের আঘাতে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। দরগাহ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক কামাল উদ্দিন নিহত হন। বাকি দুজন মারা যান হাসপাতালে। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*