বিভাগ: ক্রীড়া

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে ফিলিস্তিন চ্যাম্পিয়ন

11-6-2018 6-20-46 PMঅনিন্দ্য আরিফ : ইতিহাসের রেকর্ড বুকে স্বর্ণখোদাই অক্ষরে ছাপা বাংলাদেশে অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। গ্রামে-বিলে-ঝিলের কোণায়, স্টেডিয়াম-মাঠে-ঘাটে-উঠানে ফুটবল জড়িয়ে আপন মহিমায়। সেই মহিমাকে সমুজ্জ্বল রাখতেই অতিথি দেশ নিয়ে ফুটবল আসরের আয়োজন নতুন নয়। ফিফা-এএফসির পাশাপাশি নিজস্ব আঙিনায় আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের বিষয়টি একটি দেশের জন্য গৌরবের। সেই কারণে বাংলাদেশে ১৯৯৬ সাল থেকে শুরু করা হয়েছে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। তবে নানা কারণে এই ফুটবল টুর্নামেন্টের নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে স্বাগতিক হয়েও সেমিফাইনালেই আটকে গিয়েছে বাংলাদেশ। তারপরও বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টকে ঘিরে নতুন করে ফুটবল উৎসব-গল্প সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নবজাগরণ। ছয় জাতির আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তানকে। টুর্নামেন্টের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা ফিলিস্তিন টপ ফেভারিট হিসেবে আসর শুরু করেছিল।
ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে ট্রফি ও ৫০ হাজার ডলারের চেক গ্রহণ করেছেন বিজয়ী ফিলিস্তিন। আর রানার্স-আপ তাজিকিস্তানকে প্রাইজমানি হিসেবে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সবাইকে ছাপিয়ে এই আসরে সেমিফাইনাল থেকে সিটকেপড়া বাংলাদেশের বিপুল আহমেদ হয়েছেন টুর্নামেন্টের উদীয়মান খেলোয়াড়। পাশাপাশি ফেয়ার প্লে ট্রফিও ঘরে তুলছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। পুরস্কার মঞ্চে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা।
গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক আসরের ফাইনাল সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, শত ব্যস্ততার মাঝে আমি যখনই সুযোগ পাই, খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়ামে ছুটে যাই। আসলে খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা আমার রক্তের মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা খেলাধুলা করতেন। স্কুলজীবনে তিনি ছিলেন একজন সেরা ফুটবল খেলোয়াড়। আমার দাদাও ফুটবল খেলতেন। শেখ কামাল ও শেখ জামাল ভালো খেলোয়াড় ছিলেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও তারা অনেক দক্ষতা দেখিয়েছেন। আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য সুলতানা কামাল খুকুও ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খেলাধুলা যুবসমাজকে বিপথে গমন থেকে রক্ষা করে। মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রাখে। আমার বিশ্বাস, যুবসমাজকে যদি আমরা ক্রীড়া কর্মকা-ের মাধ্যমে সক্রিয় রাখতে পারি, তাহলে সহজেই এদেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারব। যুবসমাজ এদেশের সম্পদ। উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এই যুবশক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*