বিভাগ: ইতিহাস : প্রবন্ধ

বাংলাদেশের আলোকে সেক্যুলারিজম

june2018আবুল মোমেন: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত সংবিধানের অন্যতম স্তম্ভ সেক্যুলারিজম নিয়ে বিতর্ক বরাবর ছিল, এখনও আছে। বর্তমানে সমাজ ক্রমেই ধর্মাশ্রয়ী হয়ে পড়ছে। তাতে এ বিতর্ক আর তেমনভাবে আলোচিত হয় না। কিন্তু বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজম অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত, আবার ধর্মও মানুষের অন্তরের বিশ্বাসের বিষয়, তাকে বাদ দেওয়া বা খর্ব করার প্রশ্ন ওঠে না। আধুনিক জীবন বাস্তব কারণেই সেক্যুলার, তাই ধর্ম, গণতন্ত্র ও সেক্যুলারিজমকে বুঝে নেওয়া আধুনিক মানুষের চেতনারই দায়। এ দায় থেকেই আমরা এ আলোচনাটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি।
সেক্যুলারিজম গণতন্ত্রের মতোই পশ্চিম থেকে উদ্ভূত একটি ধারণা। এর বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে আজকাল ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ইহজাগতিকতাই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও আমার মনে হয় ধর্মনিরপেক্ষতাই সেক্যুলারিজমের অধিকতর নিকটবর্তী শব্দ, তবুও এ নিয়েও সমস্যা আছে। একটি ধারণাকে একটিমাত্র শব্দে অনুবাদ করা কঠিন, কারণ ধারণার পেছনে থাকে ভাবনার ঐতিহ্য এবং সংশ্লিষ্ট নানান অনুষঙ্গ। ইহজাগতিকতা বা ধর্মনিরপেক্ষতা এ দুয়ের কোনোটিই এ দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে স্বতন্ত্র দার্শনিক প্রত্যয় ও ধারণা হিসেবে চর্চা হয়নি। ফলে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা বলে প্রচার চালিয়ে নিন্দুকেরা সাধারণজনকে ভালোভাবে বিভ্রান্ত করতে পেরেছিল। এদিকে ইহজাগতিকতার বোধ এবং এর নানান অনুষঙ্গ ছাড়া কোনো মানবসমাজ তো বিকশিত হয় নি, বাঙালি সমাজও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু তাতেও দুটো বেশ বড় ফাঁড়া কাটানোর দায় এসে পড়েÑ এক. ইহজাগতিকতাকে মানুষ বস্তুতান্ত্রিকতা, এমনকি সুখবাদিতা বা ভোগবাদিতার সাথে গুলিয়ে ফেলতে পারে; দুই. ইহজগৎ শব্দের যেহেতু একটি পাল্টা বিপরীত শব্দ আছে পরজগৎ (ইহকাল-পরকালের মতো) তাই মানুষ ধরে নিতে পারে যে এ ধারণা পোষণ করার অর্থ পরজগৎ এবং সেই সূত্রে ধর্মকে অস্বীকার করা। এই ভক্তিবাদী বৈরাগ্যবাদী ধর্মরসে সিক্ত প্রধানত ধর্মভীরু মানুষের সমাজে ধারণা হিসেবে ইহজাগতিকতাকে নিয়ে মানুষ যে ফাঁপড়ে পড়বে এবং তাদের ভুল বোঝার সমূহ সম্ভাবনা যে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ইংরেজি সেক্যুলার শব্দের বিপরীত পাল্টা শব্দ নেই। এর সহজ কারণ রাষ্ট্রসাধনার সাথে সাথে ধারাবাহিক নানা সংগ্রাম-সাধনার একপর্যায়ে গণতন্ত্রের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হিসেবে এই প্রত্যয়টি তাদের মনে তৈরি হয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠিকই খেয়াল করেছেন যে ভারতবর্ষে, বাংলাসহ, সমাজই প্রধান, রাষ্ট্র নয়; রাজা আর তার শাসন নিয়ে এ অঞ্চল বহুকাল মাথাই ঘামায় নি। তাদের শাসন-পালন বিষয়ক চিন্তা ঘুরপাক খেয়েছে সমাজ আর সমাজপতিদের নিয়ে। রাষ্ট্রশক্তির দখল নিয়ে সপ্তম শতাব্দীতে যখন মাৎস্যন্যায় চলেছিল কিংবা ১৭৫৭-তে যখন পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজ শক্তির কাছে নবাবের পরাজয়ে বাংলার ‘স্বাধীনতা’ বিপন্ন হচ্ছে তখনও সমাজ এতে নাক গলায় নি, আপন বৃত্তে নিবিষ্ট ছিল।
পশ্চিমে নানা প্রকারের দাসপ্রথা আর সামন্তপ্রথার দাপটে প্রজারা রাজার শাসনের চোটপাট ভালোই বুঝত। আর যখন খ্রিস্টধর্মের প্রসার ঘটল তখন চার্চ ও রাষ্ট্রশক্তি জুটি বেঁধে প্রজাসাধারণের ওপর কড়া শাসন চালিয়েছে। অধিকাংশ প্রজার জন্য তা নিপীড়ন ও শোষণেই পরিণত হয়েছিল। ইউরোপে ১১৮৪ থেকে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত ইনকুইজিশনের নামে হাজার হাজার মানুষকে পুড়িয়ে মারা হয় ধর্মের দোহাই দিয়ে। ফলে শোষণমুক্তির দায় তো তাদের নিতেই হয়েছে।
চুম্বকে এটুকু এখানে স্মরণ করতে পারি, চতুর্দশ শতাব্দী থেকে সমুদ্রপথে বাণিজ্যের প্রসার, ইউরোপ ভূখ-ে খনিজ সম্পদের সন্ধান লাভ, শিল্প উৎপাদনের সূত্রপাত ইউরোপে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে থাকে। এই সমৃদ্ধির প্রভাবে বাহ্য বস্তুগত পরিবর্তনের সাথে সাথে চিন্তার জগতেও আলোড়ন ওঠে। সঙ্গে সৃজনশীলতার জোয়ার আসে। বাণিজ্য বিপ্লবের অনুবর্তী হয়ে পরপর ঘটে গেল রেনেসাঁস ও রিফর্মেশন, ধর্মযুদ্ধের অবসান ঘটে এলো যুক্তিচর্চার কাল, তাকে অনুসরণ করল আলোকন বা এনলাইটেনমেন্ট। কত রকম ভাবনা ও ধারণার চর্চা করলেন বিজ্ঞানী ও দার্শনিকেরা যা ধর্মের সংশ্লিষ্টতা-মুক্ত উদারনৈতিক ও ইহজাগতিক জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র-দর্শন তৈরিতে সাহায্য করেছে।
এনলাইটেনমেন্টের দার্শনিক, যেমন ভোলতেয়ার, রুশো ও হিউম বিরাজমান প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্র ও গীর্জা, উভয় সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন এবং উভয়ের দিকে সমালোচনার তোপ দেগেছেন। বুঝতে অসুবিধা হয় না ভোলতেয়ার-রুশোদের চিন্তায় অনুপ্রাণিত ছিল বলেই ফরাসি বিপ্লব কেবল রাষ্ট্রকে নয় চার্চসহ গোটা পুরনো সমাজব্যবস্থাকেইÑ তাদের ভাষায় ancient regime  চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। তখনকার মতো রাষ্ট্রবিপ্লব হিসেবে ব্যর্থ হলেও রাষ্ট্র, সমাজ, শিল্প, সাহিত্যসহ সর্বত্র আধুনিকায়নে এ বিপ্লবের প্রভাব হয়েছে সুদূরপ্রসারী।
ফ্রান্সের চার্চ (মূলত রোমান ক্যাথলিক চার্চ) বিপ্লবের ঝড় সামলে টিকে গেলেও ভূ-সম্পত্তির মালিকানাসহ দ্বিতীয় এস্টেটের মর্যাদাই হারায় নি শুধু, হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। এ ঘটনা থেকেই বলা যায়, ফরাসি দেশে সেক্যুলারিজমের সূত্রপাত হয়। আরও পরে ১৯০৫ সালে ফ্রান্সে গীর্জা ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের যে আইন গৃহীত হয় তাতে রাষ্ট্রের কোনো ধর্মকে স্বীকৃতি দান বা অর্থ জোগানো নিষিদ্ধ করা হয়। সংবিধানে ফ্রান্সকে Laique প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। ফরাসি এ শব্দটি ইংরেজি সেক্যুলারের অনুরূপ ভাবই বহন করে। সে অর্থে আদর্শ সরকার ও রাষ্ট্র ধর্মীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান নেবে।
১৮০২ সালের নববর্ষের দিন টমাস জেফার্সন আমেরিকার সংবিধানের প্রথম সংশোধনী উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন, I contemplate with sovereign reverence that act of the whole American people which declared that their legislature should ‘make no law respecting an establishment of religion, or prohibiting the free exercise thereof,’ thus building a wall of separation between Church and State. চার্চ ও রাষ্ট্রের মধ্যে দেয়াল তোলার কথা বলেছেন জেফার্সন।
গণতন্ত্রের সবলতা ও সার্থকতা যেহেতু সব নাগরিকের সমানাধিকারের ওপর নির্ভরশীল তাই রাষ্ট্র যেন কারও অধিকার, বিশেষত ধর্ম, ভাষা, বর্ণ, জাতি, মতামত ইত্যাদি নানা দিক থেকে যারা সংখ্যালঘু তাদের অধিকার ক্ষুণœ না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা আবশ্যিক। সেদিক থেকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সেক্যুলার হতেই হবে। হ্যারল্ড লাস্কি বলেছেন, “Secularism demands reason as its weapon”। ঠিকই, সমাজে যদি যুক্তির চর্চা না হয় তাহলে তার সেক্যুলার হওয়া অসম্ভব।
আমাদের দেশে ও সমাজে যুক্তি এবং তারই পরিপূরক বিজ্ঞান মনস্কতার চর্চা কতদূর এগিয়েছে সে আলোচনায় যাওয়ার আগে ভারতে সেক্যুলারিজম চর্চার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নেওয়া ভালো হবে বলে মনে হয়।
নেহেরু এবং গান্ধী ভারতবর্ষের স্বাধীনতা লাভ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়ে ওঠার ইতিহাসের দুই প্রতীক ও নায়ক। দুজনের একজন সংশয়বাদী, প্রায় নাস্তিক, অপরজনের জীবন-দর্শন, এমনকি রাজনৈতিক দর্শনেও ধর্ম কেন্দ্রীয় বিষয়। এ দুজনের একজন আধুনিক সেক্যুলার ভারতের জাতির জনক এবং অপরজন সেই রাষ্ট্রের স্থপতি। ভারতীয় সেক্যুলারিজম তাদের দুজনকেই ধারণ করবার চেষ্টা করেছে। এদের রাজনৈতিক সাথী খোদার খেদমতগার খান আবদুল গাফ্ফার খানের কথাও এ সূত্রে টানা যায়। মনে করা যেতে পারে ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং অনেকাংশে ভারতীয় এলিট শ্রেণি, সেক্যুলারিজম বলতে মনে করেছেন সরকার ও শাসনব্যবস্থা কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধ হবে না। বরং ধর্মকে গ্রহণ ও সহনের মনোভাব থেকে রাষ্ট্র সব ধর্মের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কাজ করবে। উপমহাদেশে ধর্মসাম্প্রদায়িক শান্তিসহিষ্ণুতা রক্ষার গুরুত্ব রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে পৃথক করার এজেন্ডার চেয়ে অনেক বেশি বলেই মনে করা হয়েছে সবসময়। ফলে অন্তর্নিহিত ভাব, প্রত্যয় ও শক্তি অনুধাবনের মাধ্যমে সেক্যুলারিজমকে বোঝার চেষ্টা এখানে হয়নি, বা হওয়া সম্ভব ছিল না, হয়তো তাই মোটা দাগে ধর্মীয় সহিষ্ণুতার সাথে একে এক করে ফেলা হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা দরকার নেহেরুর আমলে কিন্তু ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেক্যুলার রাষ্ট্র হয়নি, হয়েছে তার কন্যা ইন্দিরার আমলে আমাদেরও পরে ১৯৭৬-এ সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে। অনেক ইউরোপীয় তাত্ত্বিক ভারতীয় সেক্যুলারজিমকে আলাদাভাবে দক্ষিণ এশীয় একটি বিশেষ ধারণা হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন, অনেকে আবার একে ছদ্ম সেক্যুলারিজম আখ্যা দিয়েছেন।
এ আলোচনা থেকে আমরা এটুকু বুঝতে পারি যে পশ্চিমের সেক্যুলারিজমের ধারণার সাথে এদিককার ধারণায় কিছু পার্থক্য ঘটেছে। এর প্রেক্ষাপট অনেক জটিল এবং বিস্তৃত, আমরা অতবড় আলোচনায় এখন যাব না।
আমরা লাস্কির মন্তব্য থেকে সেক্যুলারিজমের হাতিয়ার যে যুক্তি তা জেনেছি। এখন জানা দরকার আর কোনো হাতিয়ার কিংবা বৈশিষ্ট্য এর থাকতে পারে? ইংরেজ দার্শনিক জর্জ জ্যাকব হোলিয়োক (George Jacob Holyoake) সেক্যুলারিজমের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে-

“Secularism is a code of duty pertaining to this life, founded on considerations purely human, and intended mainly for those who find theology indefinite or inadequate, unreliable or unbelievable.”

এরপর হোলিয়োক সেক্যুলারিজমের ৩টি নীতির কথা বলেছেন. “The improvement of life by material means, 2. That science is the available Providence of man, 3. That it is good to do good. Whether there be other good or not, the good of the present life is good and it is good to seek that good.”
হোলিয়োকের সংজ্ঞার ভিত্তিতে সেক্যুলারিজমের বাংলা ইহজাগতিক করা খাটে বটে; কিন্তু তাতে বাঙালি এবং উপমহাদেশীয় মানসের খটকা দূর হবে বলে মনে হয় না।
এখন দেখা দরকার একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েমের আকাক্সক্ষা বারবার ব্যক্ত করে, এর জন্যে বহু ত্যাগ স্বীকার করে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে, এই আকাক্সক্ষা থেকে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে দেশ স্বাধীন করে, দীর্ঘ সংগ্রামমুখর আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার উৎখাত করে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করেও আমরা কেন সেক্যুলার নইÑ না রাষ্ট্রে না সমাজে। বরং ঐতিহ্যগতভাবে এ সমাজে যে সমন্বয়ধর্মী মানবতাবাদী ধারাগুলো ছিল দিনে দিনে সেগুলো স্তিমিত ও স্থবির হয়ে মৌলবাদের ধারা তৈরি ও পুষ্ট হয়েছে, এমনকি জঙ্গিবাদের দিকে ঝোঁকও দেখা দিয়েছে।
আমাদের সমাজে ভাব ও ভক্তিবাদের ঢেউ উঠেছে বারবার। বিশ্বাস ও সংস্কারের বেড়িও পুরনো বলে বেশ শক্ত তাদের শিকড়। এখানকার সংস্কৃত বিদ্যাপীঠে এককালে ন্যায়, নব্যন্যায়, ন্যায়বৈশেষিকের মতো লজিকের চর্চা হলেও তা সমাজে যুক্তিচর্চার পথ সুগম করতে পারে নি। বরং সমাজ চলেছে তার আপন মন্থর গতিতে ধর্মীয় সংস্কার ও বিশ্বাসের বেড়ি পায়ে। ভারতবর্ষে যখন স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় তখনও সমাজকে যুক্তিবাদিতা ও বিজ্ঞানমনষ্ক করে তোলার প্রয়াসগুলো ছিল সীমিত। রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াস ধর্ম ও সমাজের রক্ষণশীল দুর্গগুলো থেকে বাধার সম্মুখীন হয়। ঊনবিংশ শতাব্দীর জাগরণও সীমিত ছিল কলকাতা এবং বর্ণহিন্দু সমাজে। সমাজে ধর্ম-সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির প্রভাবমুক্ত ইহজাগতিক জীবন-ভাবনা, দর্শন, সংস্কৃতির এমন কোনো আন্দোলন বা চিন্তার ঢেউ ওঠে নি, যা নাগরিক জীবনকে সেক্যুলার ভাবনায় উদ্দীপ্ত করতে পারে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা, রক্ষণশীলতা ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে হিন্দুসমাজে কিছু প্রতিবাদী কাজ হয়েছে বটে; কিন্তু তা সমাজকে সেক্যুলারিজমের মূল হাতিয়ার যুক্তির পথে আনার জন্য যথেষ্ট ছিল না। মুসলিম সমাজে আরও পরে ১৯২৬ সাল নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সূচিত হয়েছিল তাতে যুক্তির ঝা-া ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হলেও রক্ষণশীল সমাজপতিদের দাপটে প্রায় অঙ্কুরেই তা থেমে যায়। তবে এর অন্তর্নিহিত শক্তি বোঝা যায় যখন দেখি এখনও এ আন্দোলন বাঙালি মুসলিম সমাজকে যুক্তির পথ ধরবার পথের দিশা দেয়।
কিন্তু পশ্চিমের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা, এমনকি একসময় সমাজতন্ত্রের জন্যে অঙ্গীকার ও আন্দোলনের জোয়ার চললেও, এমনকি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাসহ অনেক অর্জন আমাদের হলেও, পুরনো আধাসামন্ত ধারার বিশ্বাস-সংস্কারের অচলায়তন থেকে সমাজকে আমরা মুক্ত করতে পারি নি। রাষ্ট্র নতুন হলেও সমাজের নবায়ন ঘটে নি। মুক্তিযুদ্ধ পুরনো রাষ্ট্র ভেঙে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দিতে পারলেও রাষ্ট্রবিপ্লব হিসেবে ব্যর্থ ফরাসি বিপ্লবের মতো পুরনো সমাজকে খতম করতে পারে নি। দেখা যাচ্ছে পুরনো সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ পত্তন জরুরি, তা না হলে রাষ্ট্রের ভাঙা-গড়ায় যে প্রাপ্তি ঘটে তা রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোয় পরিবর্তন ঘটালেও সমাজসহ সামগ্রিকভাবে মৌলিক রূপান্তর ঘটাতে পারে না, যেটুকু ঘটে তা-ও টেকসই হয় না। বরং আমাদের দেশে দেখছি ঊনসত্তর বা একাত্তরের অমন গণজাগরণ সত্ত্বেও কত সহজেই ধর্মীয় পুনরুজ্জীবনবাদের ধাক্কা এসে স্থবির সমাজে লাগছে এবং সমাজ তাতে পিছু হটছে। সমাজপ্রগতি একেবারেই উপরিতলে বহিরঙ্গে পোশাকি চাকচিক্যের ফাঁদে আটকে পড়ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এত ভাঙাগড়া তোলপাড় হলেও পুরনো সমাজব্যবস্থাকে তার বিশ্বাস ও প্রথার সংস্কৃতি থেকে খুব বেশি টলানো যায় নি।
সেক্যুলারিজম এবং তার হাতিয়ার যুক্তি ও বিজ্ঞানমনস্কতার যথেষ্ট দুর্গতি এ সময়ে এ দেশে। পথের বাধা অনেকÑ পশ্চিমা কূটকৌশল ও আগ্রাসনের মুখে ইসলামি পুনরুজ্জীবনবাদ ও জঙ্গি মৌলবাদের উত্থান ও শক্তিবৃদ্ধি, আরব-বিশ্বের সাথে সাক্ষাৎ পরিচয়ের সূত্রে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আর্থিক সহায়তায় স্থানীয় মুসলিম সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিকভাবে ইসলামি ও আরবিকরণের ঝোঁক, ওয়াহাবি কট্টরপন্থার শক্তি বৃদ্ধি, আমাদের রাজনৈতিক এবং শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যর্থতা ও দীনতা, দারিদ্র্য, বিশ্বায়নের দাপটে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দিশাহীনতা, রাজনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে যথোপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব, মানসম্পন্ন সুশিক্ষার অভাব ইত্যাদি। একে বলা যায় তালগোল পাকানো জগাখিচুড়ি অবস্থা। তার ওপর পণ্যাসক্তি ও ভোগবাদিতার জোয়ারে পশ্চিমে এবং এখানে সর্বত্র আদর্শিক দারিদ্র্য প্রকট হয়ে উঠেছে। মানুষের অন্তর্নিহিত সৃজনশীল শক্তি অবহেলিত হচ্ছে। এর থেকে বেরিয়ে আমরা যে গণতান্ত্রিক মানবিক সহনশীল বিকাশমান সমাজে উত্তরণ চাইছি নিজেদের, সেটি আসলে এক ধরনের সেক্যুলার সমাজ। যেখানে একক নয় মানুষের বহু ও বৈচিত্র্যময় সত্তার প্রকাশ ঘটতে পারে। প্রশ্ন হলো কোন পথে কীভাবে আমরা এই সমাজে পৌঁছাতে পারব? আজ হয়তো আমরা সব পথের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করতে যাব না। তবে সেক্যুলারিজমের গোড়ায় যেমন যুক্তি তেমনি তাতে উত্তরণের সোপান হলো শিক্ষা।
একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য চাই সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থা। গত শতাব্দীর গোড়ার দিকে এ দেশের মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার করে ব্রিটিশ শাসকরা যে নিউ স্কিম ব্যবস্থা চালু করে তাতে কিছু সেক্যুলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যেমনÑ ইংরেজি, বাংলা, ভূগোল, ইতিহাস ইত্যাদি। তাতে বাঙালি মুসলিম সমাজে কয়েক প্রজন্ম সেক্যুলার চিন্তার আধুনিক মানুষ তৈরি হয়েছিল।
পাশাপাশি তারা অনেকটাই ব্রিটিশ আদলে ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ও পরে কলেজি শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে, যা এ দেশে পূর্ণাঙ্গ সেক্যুলার শিক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। এ শিক্ষা প্রবর্তনের পিছনে তাদের যে সীমিত লক্ষ্য ছিল তা আমরা জানি। মূলত জনসমাজ থেকে এই শিক্ষিত সম্প্রদায় বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকুক, সেটাই তারা চেয়েছিল। বাস্তবে ঘটেছেও তাই। ব্রিটিশ আমলে গ্রাম পর্যায়ে কিছু স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে তার সফল অংশ সাধারণত নগরে এসে ঔপনিবেশিক শাসকের অধীনে চাকরি করেছে, তুলনামূলকভাবে অসফল অংশ হয়তো গ্রামে থেকে সেখানে একটা নেতৃস্থানীয় তবে ক্ষুদ্র এবং অনেকটা জনবিচ্ছিন্ন সমাজ তৈরি করেছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগের সময় হিন্দু-মুসলিম বৈরিতার তীব্রতায় আমাদের সমাজের বহুকালে গড়ে ওঠা সহনশীল মানবিক বাতাবরণ নষ্ট হতে থাকে, এ সময় মুসলিম আত্মপরিচয় ও ইসলামি পুনরুজ্জীবনের এষণাও নানাভাবে প্রকাশ পাচ্ছিল। এখানে একটু স্পষ্ট করে বলতে চাই, মূলত সমাজের বড় দুই ধর্মসম্প্রদায় হিন্দু ও মুসলিম মিলেই বাঙালি সমাজের ঐতিহ্যবাহী সমন্বয়ধর্মী মানবতার সংস্কৃতি দাঁড় করিয়েছিল। বর্ণ হিন্দু এবং আশরাফ মুসলমানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভক্তির প্রণোদনা থাকলেও নিম্নবর্ণের বিপুল সংখ্যাধিক্যে গঠিত গ্রামসমাজে সমন্বয়ের ধারাটাই প্রধান ছিল। আমাদের রাষ্ট্রসাধনার রাজনীতিÑ কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, এমনকি বাম প্রগতিশীল ধারাÑ বাঙালি সমাজের এই স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ও শক্তির জায়গাটি অনুধাবন করতে পারে নি। কীভাবে এই সম্ভাবনার বিকাশের পরিবর্তে রাজনীতির সূত্রেই দুই সম্প্রদায় দূরে সরে যাচ্ছে এবং সমাজ ও সংস্কৃতি থেকে নিরন্তর সমন্বয়ধর্মী মানবতার উপাদান ক্রমে বিলীন হয়ে পড়ছে তাও যথাসময়ে খেয়াল করা হয় নি। ফলে বাঙালির রাষ্ট্র-সাধনায় বাঙালি সমাজের একান্ত নিজস্ব যে প্রত্যয় সমন্বয়ধর্মী মানবতা তাকে এগিয়ে নেওয়ার কোনো চেষ্টাই করা হয় নি।
পাকিস্তানি অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একটা জোয়ার ঠিকই উঠেছিল। তাকে আমরা সেক্যুলার বলেও ভেবেছিলাম এবং সেই সূত্রেই রাষ্ট্রের চার মূলনীতির অন্যতম ঘোষিত হয় সেক্যুলারজিম বা ধর্মনিরপেক্ষতা। কিন্তু ক্রমেই আমরা টের পাচ্ছি কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজকে সেক্যুলার করা যায় না। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনীতি পাকশাসক বিরোধী ছিল বলেই উর্দুভাষী ও পাঞ্জাবি আধিপত্যের বিরুদ্ধে সেদিন বাঙালি হিসেবে একটা অবস্থান নিয়েছিল সবাই। ধর্ম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও সংস্কৃতি সরাসরি প্রশ্নের সম্মুখীন হয় নি বা এ নিয়ে খুঁটিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের প্রয়োজনও দেখা দেয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পঠন-পাঠনের যেটুকু বিস্তার ঘটেছিল তা চাকরি ও ইহজাগতিক ভাবনা-অভ্যাসে প্রভাব ফেললেও ধর্ম, বিশ্বাসসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও মননশীল জিজ্ঞাসা, বিতর্ক ও অনুসন্ধানের তেমন জন্ম দেয় নি।
ফলে নানা ঘটনায়Ñ স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ, পশ্চিমের যন্ত্রসভ্যতার নানা উপচারে অভ্যস্ততা, সব ধরনের যোগাযোগের ব্যাপক বিস্তৃতি, তথ্যপ্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রগতিÑ সমাজের বহিরঙ্গে মানুষের জীবনাচরণে অনেক পরিবর্তন, ধর্মীয় চিহ্নলোপকারী সেক্যুলার পরিবর্তন ঘটলেও সমাজমানসে বড় ধরনের কোনো ভাবান্তর ঘটে নি। এখানে আমাদের শিক্ষার অন্তঃসারশূন্যতা যে কত ব্যাপক তা ফাঁস হয়ে যায়।
এ শিক্ষা ডিগ্রি, সনদ এবং কিছু বিদ্যাও দেয়; কিন্তু দেয় না প্রশ্ন করার সাহস ও ইচ্ছাশক্তি, অনুসন্ধিৎসা চরিতার্থ করার উদ্দীপনা, মৌলিক চিন্তার প্রবণতা ও পুষ্টি। বরং এই শিক্ষাব্যবস্থা শিশু ও শিক্ষার্থীর মধ্যে এসবের যে কুঁড়ি থাকে তাকেই প্রতি স্তরে গুঁড়িয়ে দেয়। তাই কি শিক্ষিত কি শিক্ষাবঞ্চিত সকলেই প্রায় বিনা প্রশ্নে প্রচলিত সব বিশ্বাস ও সংস্কার মেনে নিচ্ছে এখানে। বরং দেখা যায় শিক্ষিতরাই দলে দলে প্রশ্ন ছেড়ে অন্ধবিশ্বাসের পতাকার নিচে আত্মসমর্পণ করছে আজ। ধর্মের নামে যেসব সংস্কার ও সংস্কৃতি চলে আসছে তাকে প্রশ্ন করার সংস্কৃতি এখানে গড়ে ওঠেনি।Ñ সেক্যুলার শিক্ষার ইতিহাস ২০০ বছরের পুরনো হলেও।
এবারে ধর্মের একটু ভেতরের কথা বলি। ইসলামে ইজতিহাদ বা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিধান থাকলেও গত কয়েকশ বছর ধরে মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক আর সর্বত্র মুসলিম সমাজের ধর্মীয় নেতাদের কর্তৃত্ববাদী ভূমিকার ফলে কোথাও থেকে এরকম মুক্ত আলোচনার খবর পাওয়া যায় না। ফলে সারাবিশ্বের প্রায় সকল মুসলিম সমাজ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং স্থবিরতাজাত নানা বিকার ও সংকটে ভুগছে। তার ওপর এখন পশ্চিমের আগ্রাসী মুক্তবাজার অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের থাবার তলায় পড়ে সংকট আরও জটিল হচ্ছে ও বেড়ে চলেছে।
কথা হলো একটা সমাজের বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই, না দেখার ভান করে কোনো সিদ্ধান্তও দেওয়া যাবে না। আমার মনে হয় মুসলিম সমাজ কেবল যে পশ্চিমের সামরিক আগ্রাসনের শক্তি ও প্রমত্ততাকে ভয় পাচ্ছে তা নয়, ধ্রুপদী ও আধুনিক সকল শিল্পকলা, ঢালাওভাবে বিজ্ঞান ও দর্শন চিন্তাগুলোকেও ভয় ও সন্দেহের চোখে দেখে আসছে এবং প্রায় চর্চা ও বিশ্লেষণ ছাড়াই আগেভাগেই একতরফা নাকচ করে বসে থাকছে। ফলে মুসলিম সমাজ সেক্যুলার শিক্ষাটা নিচ্ছে নানা স্বাদের খাবারের পার্টিতে শুচিবায়ুগ্রস্ত বিধবার মতো কায়ক্লেশে গা (এক্ষেত্রে মন ও বিশ্বাস) বাঁচিয়ে। এভাবে বৈধব্য জীবন কাটানো হয়তো সম্ভব; কিন্তু বিকাশমান যৌবন ও জীবনের জন্যে তা পথ ও পাথেয় নয়।
বড় কথা হলো সমাজমানসের গভীরে বদ্ধমূল হয়ে যাচ্ছে ভয়, অস্তিত্ব ও আত্মপরিচয় রক্ষার ব্যাকুলতা। এটা অসুস্থতা, মানসিক রোগ, সন্দেহ নেই। যা সে ভয় পাচ্ছে সেখানে তাকে একলা ছেড়ে দিলে হয়তো কাজ হবে না। এই ভীত মানসকে আশ্বস্ত করা দরকার। দরকার কোনোরূপ প্রশ্রয় না দিয়ে অভয় দেওয়া।
ইদানীংকালে সাংস্কৃতিক সেক্যুলার শিক্ষা বা Cultural secular education বলে একটা কথা চালু হয়েছে। এটা এ কারণেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ তো বাস করে মূলত একটি সাংস্কৃতিক আবহে। সেখানে ধর্ম একটি উপাদান; কিন্তু সাংস্কৃতিক রূপ ও তাৎপর্য স্থিত নয়, সংস্কৃতি সবসময় বহমান এবং তাই বলা যায় পরিবর্তমান, সংযোজন বিয়োজনের চলমান প্রক্রিয়ায় এসবের নবায়ন রূপান্তর চলতেই থাকে। ফলে শিক্ষাটা সাংস্কৃতিকভাবে এমনভাবে সমৃদ্ধ হওয়া দরকার যাতে নিজের সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা ও অন্যান্য সংস্কৃতির বৈচিত্র্য অনুধাবনেরও সামর্থ্য অর্জিত হয়। শিক্ষা তাই অন্য জাতির সাথে পরিচয় করানোর পাশাপাশি অন্য সংস্কৃতি, অন্যান্য ধর্ম, বিশ্ব ইতিহাস, বিজ্ঞানের মূল অর্জনসমূহ, দর্শনের কিছু বিষয়, বিশেষভাবে বিশ্বের নানা অঞ্চলের পুরাকাহিনির (mythology) সাথে পরিচয় করাবে। পরিচয় স্কুলেই ঘটতে হবে। স্কুলে ছাত্র কেবল পড়া ও পরীক্ষা দেওয়ার ছাত্র হবে না, (নাচ, গান, বিজ্ঞানের টেস্টসহ) দেখাশোনাসহ একটা জ্বলজ্যান্ত প্রাণবন্ত জিজ্ঞাসু মানুষ হবে। সকল ভয় থেকে সে যেন মুক্ত থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই মানুষ তার জ্ঞান অর্জন করে নেবে, এবং তখন ধর্মও একটা বাধ্যবাধকতা না হয়ে চর্চা করে অর্জনের এবং তাই সত্যিকারের ভালোবাসার বিষয় হতে পারবে।
বিশ্বাসীর সেক্যুলারিজমকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা সামাজিক ধর্মপালনে সেক্যুলারিজমের আপত্তি নেই। বরং ইহজগৎটা অধিকতর মনোযোগ ও যতœ পেলে জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে, তাতে পরকাল নিয়ে যারা ভাবিত তাদের লাভ বৈ ক্ষতি নেই। আর সেক্যুলার চেতনা জোরদার হলে ইহজগৎটা সুন্দর ও মানবিক হবেÑ তাতেও সর্বশেষ গন্তব্য হিসেবে স্বর্গে পৌঁছানোর সম্ভাবনাই বাড়ে! লাস্কির কথা দিয়ে শেষ করি, “ÒThe lights of heaven are not extinguished but their illumination seems more distant as the secular spirit grows.” বেহেস্ত একটু দূরবর্তী হওয়াই ভালো, খেটে অর্জন করতে হবে তো!

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*