বিভাগ: ইতিহাস : প্রবন্ধ

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি

4-9-2019 6-28-32 PMসাইমন জাকারিয়া: বাংলা ভাষার সাহিত্য-নিদর্শনের মধ্যে চর্যাপদ প্রাচীনতম, যাতে বাংলাদেশের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা কথা বর্ণিত রয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-র মতে, চর্যা রচিত হয়েছিল ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে আজকের পাহাড়পুরের প্রতœভূমি ‘সোমপুর বৌদ্ধবিহার’ গড়ে উঠেছিল। চর্যার কয়েকজন রচয়িতা এই বিহারের বসবাস করতেন এবং বৌদ্ধ ধর্মানুসারী ছাত্রদের জ্ঞান শিক্ষা দিতেন। গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া যায়, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে শিক্ষক তথা সাধক-কবিগণ প্রাচীন বাংলার সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার অনুসারী ছিলেন। তাই তাদের রচনায় সে-সময়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্যে গীত, নৃত্য, নাট্য ইত্যাদি পরিবেশনার সবিস্তার বিবরণ লাভ করা যায়। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের স্থাপত্যকীর্তি তথা তার মন্দিরগাত্রে উৎকীর্ণ টেরাকোটা-চিত্রেও স্থানীয় জনতার সামাজিক জীবনচিত্রের সাথে সেই পরিবেশনা শিল্পের কিছু শিল্পীত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করা যায়। অতএব, এসব তথ্যের আলোকে খুব সহজেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রাচীন ইতিহাসের কিছু পরিচয় তুলে ধরা সম্ভব। এই কাজটি বাংলাদেশের ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির বিবরণের ক্ষেত্রে যেমন সম্ভব তেমনভাবে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের পরবর্তীকালের ঐতিহ্যের ক্ষেত্রেও করা যেতে পারে।
১২০০ খ্রিষ্টাব্দের পরবর্তীকালে তথা ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাভাষায় রচিত বিচিত্র সাহিত্যকীর্তি (পুরাণকাব্য, কীর্তন, পাঁচালি, মঙ্গলকাব্য, প্রণয়কাব্য) ও তার সমসাময়িক কালে বা পরবর্তী নির্মিত প্রতœনিদর্শন বা সাহিত্য-সাংস্কৃতিক কীর্তিনির্ভর বিভিন্ন স্থাপত্যকীর্তির সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য চর্চার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনা করা যেতে পারে।
একইভাবে (মৌখিক ও লিখিত) সাংস্কৃতিক সাহিত্যকীর্তির সাথে স্থাপত্যকীর্তির সম্পর্ক রচনার আলোচনার সাথে ক্ষেত্রসমীক্ষাধর্মী গবেষণায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের চর্চা ইতিহাসের পথ ধরে কীভাবে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং বর্তমানে তার কিছু কিছু উপাদান বিবর্তন ও রূপান্তরের ধরায় কী ধরনের সম্ভাবনা ও সংকটে পতিত হয়েছে তার বিবরণও নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ৩টি বিষয়ের সমন্বিত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন মনে করিÑ ১. সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা, ২. প্রতœতাত্ত্বিক ঐতিহ্য বা স্থাপত্যকীর্তির সাথে সাংস্কৃতিক-সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সম্পর্ক বিচার, ৩. ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীতে চর্চিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের রূপান্তরের ধারা পর্যবেক্ষণ। এই ৩টি জ্ঞানের সমন্বিত বিশেষজ্ঞ পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। এখানে ব্যক্তি বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকা প্রণয়নের প্রতিষ্ঠানিক উদ্যোগের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস উল্লেখ করব। সে-সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক ও বিচিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পূর্ণাঙ্গ একটি বিবরণমূলক তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে গভীর ক্ষেত্রসমীক্ষণ কেন জরুরিÑ সে-সম্পর্কে প্রস্তাব রাখতে চাই।
বাংলায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে প্রথম আগ্রহের সূচনা হয়েছিল ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে স্যার উইলিয়াম জোনস্ কর্তৃক ‘এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল’ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে। প্রথম পর্যায়ে শ্রীরামপুর মিশন ও ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের প-িতবর্গের হাত দিয়ে বাংলার কালচারাল হেরিটেজের মধ্যে জনমানুষের জীবনধারা, রীতিনীতি, আচার-বিচার, প্রথা ইত্যাদি বিষয়ক উপাদান ও উপকরণ সংগৃহীত হয়েছিল। এরপর ব্যক্তিগত পর্যায়ে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিচিত্র বিষয় তথা বাউলের গান, ছেলে ভুলানো ছড়া, কবি সংগীত, গ্রাম্যসাহিত্য, মেয়েলি ছড়া, লোকসাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখতে থাকেন এবং গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। পরবর্তীতে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা বেশ জোরালো হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, জজ গ্রিয়ারসন আবিষ্কৃত নাথগীতিকা ‘ময়নামতীর গান’; হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক বৌদ্ধ সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন ‘চর্যা’ আবিষ্কার; বসন্তরঞ্জন রায়-এর সনাতনশাস্ত্রীয় পৌরাণিক প্রণয়কাব্য ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ আবিষ্কার; আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ কর্তৃক বাংলাদেশের ইসলামী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক নিদর্শনের অফুরন্ত ভা-ার আবিষ্কার; চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন ও ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক কর্তৃক ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ মানুষের প্রণয়কাব্যের সংগ্রহ ও প্রকাশনা; আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, গুরুসদয় দত্ত, জসীম উদ্দীন, আশুতোষ ভট্টাচার্য, সুকুমার সেন, নীহাররঞ্জন রায়, শশিভূষণ দাশগুপ্ত প্রমুখ প-িতজনের আলোচনার সূত্রে আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিচিত্র উপাদান তথা বাংলাদেশের নৃত্য, গীত, নাট্য, কৃত্য ইত্যাদি প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনায় স্থান করে নেয়।
স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ রেখেছে বাংলা একাডেমি। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়োজিত ও অনিয়োজিত ফোকলোর সংগ্রাহকদের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিচিত্র উপাদানের মধ্যে লোকগান, নাট্য, প্রবাদ, ধাঁধা, ছড়া, পুথি ইত্যাদি সংগ্রহ করেছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে বাংলা একাডেমির সংগ্রাহকগণ এত উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন, যার পূর্ণাঙ্গ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি অদ্যাবধি সম্পন্ন করতে পারেনি। আশার কথা, বাংলা একাডেমি ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের ষাটের দশকে সংগৃহীত ফোকলোরের বিচিত্র উপাদান অঞ্চল ও বিষয়ভিত্তিক করে বিভিন্ন সময়ে ‘লোকসাহিত্য সংকলন’, ‘ফোকলোর সংকলন’ নামে দুটি পর্যায়ে ১ থেকে ৭১টি খ-ে দুটি সিরিজ গ্রন্থ প্রকাশনার কাজ করছে; এরপর ২০১০ থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত নতুন বিন্যাসে ‘ফোকলোর সংগ্রহমালা’ নামে ১৩৪টি খ-ে আরেকটি সিরিজ গ্রন্থ প্রকাশনার কাজ করেছে। তারপরও কথা থাকে, প্রায় ৬০ বছর আগের সংগ্রহ বর্তমানে প্রকাশনার ক্ষেত্রে নতুন করে ক্ষেত্রসমীক্ষার প্রয়োজন ছিল এবং ৬০ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশের জনজীবনে ফোকলোরের ওই উপাদানসমূহের উপযোগিতার কি রূপান্তর হয়েছে তা পর্যবেক্ষণসহ প্রকাশ করলে আরও ভালো হতো। এর বাইরে বাংলা একাডেমি বিভিন্ন সময়ে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপাদান হিসেবে ফোকলোর বিষয়ক বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প প্রণয়ন করেছে, এমনকি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ ২০০৩-০৫ খ্রিষ্টাব্দে ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষা’ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও বাংলা একাডেমি স্বতন্ত্রভাবে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ‘লোকজ সংস্কৃতি বিকাশ’ নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু অতীত ও বর্তমানের কোনো প্রকল্পে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকা তৈরির ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তবে, প্রকল্পসমূহের প্রকাশনা পর্যবেক্ষণ করলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকার জন্য একটি প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করা যেতে পারে। কিন্তু এ-কথা মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক সেই তালিকাকে পূর্ণাঙ্গ করে তুলতে হলে নিশ্চিতভাবেই ফিল্ডওয়ার্কে যেতে হবে। কারণ, আমাদের তত্ত্ব অনুযায়ী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকা তৈরির জন্য সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও তার সাথে প্রতœসম্পদ বা স্থাপত্যের সম্পর্ক এবং সর্বশেষ সময় পর্যন্ত তার রূপান্তর প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ অতি জরুরি।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণমূলক তালিকা তৈরির বেশ কয়েকটি সমস্যার কথা ব্যক্তিগতভাবে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে বিগত ৩০ বছর ধরেই অনুভব করেছি। সেগুলো হলোÑ প্রথমত; বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা তথ্য মন্ত্রণালয় নিজস্ব উদ্যোগে কোনো কালচারাল সার্ভে রিপোর্ট পাওয়া যায় না, দ্বিতীয়ত; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ইত্যাদি জাতীয় প্রাতিষ্ঠান নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকা- পরিচালনা করলেও তাদের পক্ষ থেকেও কোনো কালচারাল সার্ভে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি, তৃতীয়ত; ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে কালচারাল হেরিটেজের বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করছেন, কিন্তু তাদের সংগ্রহের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা বিবরণ তারা প্রদান করতে সক্ষম হননি, যেমনÑ অধ্যাপক তোফায়েল আহমদ ও মোহাম্মদ সাইদুরের বিচিত্র সংগ্রহের তালিকা আমাদের হাতে নেই, চতুর্থত; বর্তমানে ফিল্ডওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে শিল্পীরা তথ্য গোপন করেন, অর্থাৎ একই এলাকার একজন শিল্পীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তিনি তার এলাকার অপরাপর জীবিত ও চর্চাকারী শিল্পীর পরিচয় সচরাচার দিতে চান না, এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিবরণমূলক তালিকার সামগ্রিকতা তথা চলমান ঐতিহ্যের অনেক তথ্য দিতে গবেষক ব্যর্থ হতে পারেন, তাই প্রয়োজন হয়ে পড়ে অধিক সময় ক্ষেপণ এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত চালচিত্রের বিবরণ নথিভুক্ত করা। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফিল্ডওয়ার্কে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বলেই এ-কথাগুলো উল্লেখ করতে সক্ষম হলাম।
বাংলাদেশের অঞ্চলভিত্তিক সাংস্কৃতিক ভা-ার অন্তহীন। এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্যে গানের সঙ্গে জ্ঞানের সম্পর্ক নিবিড়। কেননা, আদিকাল থেকে এদেশের মানুষেরা নিজেদের জীবনাভিজ্ঞতায় প্রাপ্ত জ্ঞান শিক্ষা ও দীক্ষার আলো বৃহত্তর মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেবার প্রয়োজনে গানকেই আশ্রয় করেছিল। গানের সুরের সঙ্গে জ্ঞানের বাণীকে মিশিয়ে দিয়ে জ্ঞানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন যুগের পর যুগ। তারই ফসল হিসেবে বৌদ্ধ সংস্কৃতির চর্যা বাংলার সীমান্ত ছড়িয়ে রাষ্ট্র হয়েছিল নেপালে, তিব্বতে। আজও সে সকল দেশের মানুষে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির চর্চায় নিবিষ্ট রয়েছে। একই সঙ্গে গানে ধৃত জ্ঞানের জন্য বাংলাদেশের বৃহত্তর জনজীবনে রাষ্ট্র ও সংবিধানের চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে ফাঁকি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি টিকে আছে যুগের পর যুগ। তাই হিন্দুদের দেবতার আখ্যান পরিবেশনে মুসলিম জনগণ কার্পণ্য করেনি মোটে; আবার মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পরিবেশনা-শিল্পে খুব সহজে অন্যরা স্থান নিয়েছে। পরিপূর্ণভাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির পরিচিতিমূলক একটি তালিকা তৈরি করতে পারলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিচিত্রতার সেই শক্তি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পৃথিবীর মানুষ তখন নব দীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*