বিভাগ: প্রবন্ধ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অভিযাত্রা

PddMরায়হান কবির :  ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠন। আহ্বায়ক : নঈমউদ্দিন আহমদ। স্থান : ফজলুল হক হল।
* ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম ধর্মঘট। শেখ মুজিবুর রহমানসহ তৎকালীন ছাত্র নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার।
* ১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পূর্ব বাংলা সফরে এসে জিন্নাহর ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণা। ছাত্র নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ ছাত্র নেতৃবৃন্দের এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ। এ বছর ১১ সেপ্টেম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানকে আবার আটক করা হয়। ১৯৪৯ সালের ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
* ১৯৪৯ : টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল হকের জয় লাভ। মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত। মুসলিম লীগে ভাঙনের সূত্রপাত।
*১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলনে নেতৃত্বদানের অভিযোগে ছাত্রনেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার। এপ্রিলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন।
* ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার কেএম দাশ লেনে অবস্থিত হুমায়ূন সাহেবের বাসভবন রোজ গার্ডেন প্রাঙ্গণে মুসলিম লীগ কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত। ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ। প্রথম সভাপতি মওলানা ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। জেলে থাকা অবস্থায় এই দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান। জুন মাসের শেষের দিকে মুক্তি লাভ করেন।
* ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া সংবিধানের ‘মূলনীতি’ বিরোধী আন্দোলন।
* ১৯৫০ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের পূর্ব পাকিস্তান আগমনকে উপলক্ষ করে আওয়ামী মুসলিম লীগ ঢাকায় দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিল বের করে। এই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে ১৯৫০ সালের ১ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমানের দুই বছর জেল হয়েছিল।
* হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে ১৯৫১ সালে নিখিল পাকিস্তান জিন্নাহ আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা। সভাপতি মানকি শরীফের পীর এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক ওসমানী।
*১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন; কারাবন্দি শেখ মুজিবের নির্দেশনা। বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্তে ছাত্রদের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ। রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বারসহ অগণিত আন্দোলনকারী পুলিশের গুলিতে শহিদ।
* ১৯৫২ সালের ডিসেম্বরে লাহোরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ও পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক জিন্নাহ আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিনিধিদের যৌথ সম্মেলন। সম্মেলনে শর্তসাপেক্ষে দুই দল একীভূত হয়ে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
* ১৯৫৩ সালের ৩, ৪ ও ৫ জুলাই ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।
* ১৯৫৩ সালের ১৪ ও ১৫ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে যুক্তফ্রন্টে অংশগ্রহণ ও ২১-দফা অনুমোদন নিয়ে আলোচনা হয়।
* ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২১-দফা প্রণয়ন। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়। সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে আওয়ামী লীগ জয়ী। ৩ এপ্রিল আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ। ১৫ মে আওয়ামী লীগসহ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত। আদমজীতে দাঙ্গার অজুহাতে ৩০ মে ৯২(ক) ধারা জারি এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত। তীব্র দমননীতি।
* ১৯৫৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। এই কাউন্সিলে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আত্মপ্রকাশ।
* ১৯৫৬ সালের ১৯ ও ২০ মে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে যথাসময়ে সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানানো হয়।
* ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব বাংলায় আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা গঠন। ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের কেন্দ্রে সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও রিপাবলিকান পার্টির কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠন।
* ১৯৫৭ সালের ৭-৮ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারীতে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দলে প্রকাশ্য মতবিরোধ। কাগমারী সম্মেলনের পর ১৯৫৭ সালের মার্চ মাসে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। অন্যদিকে ১৯৫৭ সালের ১৩ ও ১৪ জুন ঢাকার শাবিস্তান হলে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল আহ্বান করা হয়। এই কাউন্সিলে ভাসানীর পদত্যাগপত্র নিয়ে আলোচনা হয়; কিন্তু গৃহীত হয় না। দল থেকে পদত্যাগ করলেও কাউন্সিল ভাসানীকেই সভাপতি করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
* ১৯৫৭ সালের ২৫-২৬ জুলাই অনুষ্ঠিত গণতান্ত্রিক কনভেনশনে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন।
* ১৯৫৭ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে মার্শাল ল’ জারি। রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। শেখ মুজিবসহ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার। ২৭ অক্টোবর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জার অপসারণ, জেনারেল আইউব খানের ক্ষমতা দখল।
* ১৯৫৯ সালের ৭ ডিসেম্বর শেখ মুজিবের মুক্তিলাভ। গোপনে সহকর্মীদের কাছে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন শেখ মুজিব।
* ষাটের দশকের শুরুতেই বাংলাদেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে ছাত্রলীগ নেতাদের গোপন নিউক্লিয়াস গঠন। শেখ মুজিবের অনুমোদন।
* ১৯৬১ রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের উদ্যোগ। রবীন্দ্রসংগীত প্রচারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ।
*১৯৬২ সালে ছাত্রলীগ নেতৃত্বে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন। সোহরাওয়ার্দীর মুক্তি। সামরিক শাসন শিথিল। ১৯৬২ সালের ৪ অক্টোবর আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলো আলাদাভাবে পুনরুজ্জীবিত না করার সিদ্ধান্ত। ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ) নামে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গড়ে ওঠে।
* ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সোহরাওয়ার্দীর আকস্মিক মৃত্যুর পর এনডিএফ কার্যকারিতা হারায়। ১৯৬৪ সালের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি দলের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভা। এই সভায় দল পুনরুজ্জীবনের সিদ্ধান্ত। পুনরুজ্জীবিত দলে মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ও শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বহাল থাকেন।
* এনডিএফ-পন্থি নেতাদের আওয়ামী লীগ ত্যাগ। পুনরুজ্জীবন বিরোধী আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদ, জহিরুদ্দিন, নুরুর রহমান, খয়রাত হোসেন, আবদুল জব্বার খদ্দর, আলমাস রুহু বকস, কাজী রোহানউদ্দিন, একে রফিকুল হোসেন, আবদুল হামিদ চৌধুরী, জিল্লুর রহিম, জহুর আহমেদ চৌধুরী, আমির হোসেন দোভাষ, প্রফেসর নুরুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. মযহার উদ্দিন আহমেদ, রমিজউদ্দিন আহমেদ, জসিম উদ্দিন আহমেদ, শফিক আহমেদ, তোফাজ্জল আলী, জয়নুল আবেদীন, গাজী ইকবাল আনসারী, এ ওহাব ও শওকত আলী প্রমুখ আওয়ামী লীগ নেতা এনডিএফে থেকে যান। ১৯৬৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ইন্দিরা রোডে এনডিএফের অফিস নেওয়া হয়। নুরুল আমিনকে চেয়ারম্যান, মাহমুদ আলীকে সেক্রেটারি জেনারেল এবং হামিদুল হক চৌধুরীকে কোষাধ্যক্ষ করে এনডিএফের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
*১৯৬৪ সালের ৬, ৭ ও ৮ মার্চ ঢাকার হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগিশ ও শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বহাল থাকেন।
* ১৯৬৪ সালে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট-বিরোধী আন্দোলন। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। দাঙ্গার বিরুদ্ধে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ব্যাপক গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। ইত্তেফাকে প্রকাশিত ১৬ জানুয়ারি ১৯৬৪ ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ এবং দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে একই শিরোনামে একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়Ñ যা সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ব্যাপক মানবিক আবেদন সৃষ্টি করে।
* ১৯৬৪ সালে বুনিয়াদি গণতন্ত্রের নামে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কম্বাইন্ড অপজিশন পার্টি বা সম্মিলিত বিরোধী দলÑ ‘কপ’ গঠন। আইউব খানের বিরুদ্ধে মহম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহকে ‘কপ’-এর প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন। প্রতিনিধি পদে নির্বাচনে কপ প্রার্থীদের জয় লাভ; কিন্তু প্রেসিডেন্ট পদে পরোক্ষ নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহর পরাজয়। সর্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি জোরদার।
* ১৯৬৪ সালের ৫ জুন আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ‘দুই অর্থনীতি’ তত্ত্বের আলোকে ১১-দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১১-দফা দাবি কার্যত ভবিষ্যৎ ৬-দফা দাবিরই ভিত্তি রচনা করে।
* ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ। পূর্ববাংলা অরক্ষিত ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন।
* ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তি সনদ ৬-দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। ৬-দফা বিরোধিতা করে মওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশের আওয়ামী লীগ ত্যাগ।
* ১৯৬৬ সালের ১৮, ১৯ ও ২০ মার্চ হোটেল ইডেনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কাউন্সিলে ৬-দফা অনুমোদন। আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত। সারা বাংলায় শেখ মুজিবুর রহমানের ঝটিকা সফর। একাধিকবার গ্রেফতার, মুক্তি আবার গ্রেফতার।
* ১৯৬৬ সালের ৮ মে আইউব সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে জামিন অযোগ্য নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে। একই সাথে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদসহ সারাদেশে বিপুল সংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী গ্রেফতার। ৭ মে থেকে ১০ মে-র মধ্যে সারাদেশের সাড়ে ৩ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ইতোমধ্যে ওয়ার্কিং কমিটির পূর্ব নির্ধারিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬৬ সালের ৭ জুন ৬-দফা দাবিতে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করে। সর্বাত্মক হরতালে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ অচল হয়ে পড়ে। পাশবিক হিংস্রতা নিয়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হরতালে ঢাকার রাজপথ শ্রমিক-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়। শ্রমিক মনু মিয়াসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হন।
* ১৯৬৬ সালের ৭ জুনের হরতালের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে বহুমুখী আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র চালাতে থাকে। ১৩ জুনের মধ্যে আওয়ামী লীগের তৃতীয় সারির নেতারাও গ্রেফতার হয়ে যান। ৬-দফার সমর্থক দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে ১৫ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। ১৬ আগস্ট ইত্তেফাক নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
* ১৯৬৭ সালের ১৯ আগস্ট হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের একটি কাউন্সিল অধিবেশন হয়। নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য নয়; বরং দলকে চাঙ্গা রাখার জন্যই এই কাউন্সিল ডাকা হয়েছিল। কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে ৬-দফায় প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
* ১৯৬৭ সালের ২৭ আগস্ট ঢাকায় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত। শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে একটি নতুন কমিটি গঠিত।
* ১৯৬৮ সালের ১৯ ও ২০ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের দুদিনব্যাপী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিল নেতা-কর্মীদের ভয়-ভীতি কাটাতে এবং নতুন করে আন্দোলন গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। চরম বৈরী পরিবেশেও আওয়ামী লীগ তার কোনো দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল স্থগিত বা সাংগঠনিক কার্যক্রম যে বন্ধ রাখেনি, এ কাউন্সিল সেটিই প্রমাণ করে।
* ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামি করে ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব গং’ তথা আগরতলা মামলা দায়ের। শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর। বিচার শুরু।
* আইউব-বিরোধী আন্দোলনের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে গঠিত হয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সংগ্রাম পরিষদ ৬-দফা ভিত্তিক ১১-দফা দাবিনামা প্রণয়ন করে। সংগ্রাম পরিষদে ছিল ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া), ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন), এনএসএফ-এর একাংশ এবং ডাকসু।
* ১৯৬৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ১১-দফা দাবিতে ছাত্র-গণ-আন্দোলনের শুরু। ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থান। গণজাগরণের ব্যাপকতা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ প্রভৃতি বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে গঠন করে ডেমোক্রেটিক অ্যাকশন কমিটি বা ডাক। তবে আন্দোলনের নেতৃত্ব থাকে ছাত্রসমাজের হাতে। ২২ ফেব্রুয়ারি নিঃশর্তভাবে কারাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিলাভ এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রজনতার বিশাল সমাবেশে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত।
*  ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইউবের পতন। ইয়াহিয়ার ক্ষমতা গ্রহণ এবং পুনরায় মার্শাল ল’ জারি।
ক্স ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের ‘বাংলাদেশ’ নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ক্স সামরিক শাসনের মধ্যেই পাকিস্তানে নির্বাচনের ঘোষণা। এলএফও জারি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত। ১৯৭০ সালের ৭ জুন বঙ্গবন্ধু নির্বাচনকে ৬-দফার পক্ষে ‘গণভোট’ বলে ঘোষণা করেন।
ক্স ১৯৭০ সালের ৪ ও ৫ জুন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলে ১ হাজার ১৩৮ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই কাউন্সিলে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয় এবং ৬-দফা আদায়ের লক্ষ্যে নির্বাচনকে একটি গণভোট হিসেবে গ্রহণ করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতা-কর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমান সভাপতি ও তাজউদ্দিন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ক্স ১৯৭০ সালের ৬ জুন হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় এবং এই কাউন্সিলে শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
ক্স ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত। পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদে নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আওয়ামী লীগের জয়লাভ। ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৮৭টি আসনে জয়লাভ। সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনও পায় আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু স্বীকৃতি অর্জন। তিনি পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত।
ক্স ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি বিশাল জনসভায় আওয়ামী লীগের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

ক্স ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া কর্তৃক অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদসভা স্থগিত ঘোষণা। প্রতিবাদে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’ এই ১-দফা দাবিতে উত্তাল বাংলাদেশ। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন।
ক্স ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ, পল্টনের জনসভায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি জাতীয় সংগীত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ৫ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সারা বাংলাদেশে পাঁচ দিনব্যাপী হরতাল পালন।
ক্স ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে : ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণা। মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির দিক-নির্দেশনা প্রদান। অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা। ৭ মার্চের পর পূর্ব বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোর নেতৃত্ব চলে যায় বঙ্গবন্ধুর হাতে। ১৯৭১ সালের ১০ মার্চের দৈনিক আজাদ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর বাসভবনকে আমেরিকার হোয়াইট হাউস, ব্রিটেনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সাথে তুলনা করে মন্তব্য করে : বঙ্গবন্ধুর বাসভবন এখন একটি অঘোষিত সরকারি দফতর। ১৪ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক সরকার ১৫ নম্বর সামরিক আদেশ জারি করে সকল বেসামরিক লোককে চাকরিতে ফিরে আসতে নির্দেশ প্রদান করলে বঙ্গবন্ধু পাল্টা ৩৫-দফা নির্দেশনামা ঘোষণা করেন।
ক্স বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রশাসন হাতে নিয়ে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনার জন্য ৩৫টি নির্দেশ জারি করেন। শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে আলোচনা করে নির্দেশাবলী প্রণয়ন করেন এবং তা বঙ্গবন্ধু অনুমোদন করেন। ৩৫টি বিধি : ১. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সেক্রেটারিয়েট, সরকারি ও আধা সরকারি অফিসসমূহ, হাইকোর্ট ও দেশের অন্যান্য আদালত হরতাল পালন করবে। তবে অতিপ্রয়োজনীয় ও আন্দোলনের স্বার্থে নির্দিষ্ট অফিস ও দপ্তর ও সংস্থা হরতালের আওতা বহির্ভূত থাকবে। ২. বাংলাদেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ৩. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাÑ ডেপুটি কমিশনার, সাব-ডিভিশনাল অফিসার, আওয়ামী লীগ সংগ্রাম কমিটির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়ন কর্মসূচিসহ দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে। ৪. বন্দরসমূহÑ অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে সৈন্যদের সহযোগিতা করবে না। বন্দরের কাজ চলবে। ৫. মাল আমদানিÑ আমদানিকৃত সকল মালামাল খালাস করতে হবে। সংগৃহীত অর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের হিসাবে জমা হবে না। ৬. রেলওয়ে চলবেÑ তবে সৈন্য চলাচল বা তাদের রসদ বহন করতে পারবে না। ৭. সড়ক পরিবহনÑ ইপিআরটিসি চলাচল করবে। ৮. অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের কাজ চলবে। ৯. ডাক ও টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের মধ্যে কাজ করবেÑ বিদেশে মেল সার্ভিস ও টেলিগ্রাফ করা যেতে পারে। ১০. টেলিফোন বাংলাদেশের মধ্যে চালু থাকবে। ১১. বেতার, টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রÑ এগুলো চালু থাকবে এবং জনগণের আন্দোলনের সংবাদ প্রচার করতে হবে। ১২. হাসপাতালসমূহ চালু থাকবে। ১৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। ১৪. পানি, গ্যাস সরবরাহ চালু থাকবে। ১৫. কয়লা সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। ১৬. খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত থাকবে। খাদ্য আমদানি চালু থাকবে। ১৭. কৃষি তৎপরতাÑ ধান ও পাটের বীজ, সার ও কীটনাশক ওষুধ সংগ্রহ ও বণ্টন অব্যাহত থাকবে। পাওয়ার পাম্প ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ চালু থাকবে। কৃষি ব্যাংকের কাজ চালু থাকবে। ১৮. বন্যানিয়ন্ত্রণ ও শহর সংরক্ষণের কাজ অব্যাহত থাকবে। ১৯. উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ চলবে। ২০. সাহায্য ও পুনর্বাসনÑ ঘূর্ণিদুর্গত এলাকায় বাঁধ নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজসহ পুনর্বাসনের কাজ চলতে থাকবে। ২১. ইপিআইডিসি, ইস্টার্ন রিফাইনারি ও সকল কারখানার কাজ চলবে। ২২. সকল সরকারি ও আধা সরকারি সংস্থার কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন নিয়মিতভাবে প্রদান করতে হবে। ২৩. পেনশনÑ নিয়মিতভাবে সরকারি-বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের দেওয়া হবে। ২৪. এজি ও ট্রেজারিÑ বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক কর্মচারী কাজ চালিয়ে যাবে। ২৫. ব্যাংক সকাল ৯টা হতে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকিং কাজ করবে। পশ্চিম পাকিস্তানের সাথে লেনদেন চলবে না। বিদেশের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য চলবে। ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকিং কর্পোরেশনকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হবে। ২৬. স্টেট ব্যাংকÑ অন্যান্য ব্যাংকের মতোই কাজ করবে। ২৭. আমদানি ও রপ্তানি কন্ট্রোলারÑ আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিত করবে এবং কাজ চালিয়ে যাবে। ২৮. ট্রাভেল এজেন্ট ও বিদেশি এয়ারলাইন্স চালু থাকবে। ২৯. ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা চালু থাকবে। ৩০. পৌরসভার কাজ চালু থাকবে। ৩১. ভূমি রাজস্ব আদায় বন্ধ থাকবে। লবণ ও তামাক কর আদায় হবে না। আয়কর আদায় বন্ধ থাকবেÑ এছাড়া প্রাদেশিক কর আদায় হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কর আবগারী শুল্ক কর, বিক্রয় কর আদায় করে কেন্দ্রীয় সরকারের খাতে জমা না দিয়ে ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল বা ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন জমা দিতে হবে। ৩২. পাকিস্তান বীমা কর্পোরেশন, পোস্টাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স চালু থাকবে। ৩৩. সব ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের সেবাদান নিয়মিতভাবে চলবে। ৩৪. সকল বাড়ির ওপর কালো পতাকা উড়বে। ৩৫. সংগ্রাম পরিষদগুলো সর্বস্তরে তাদের কাজ চালু রাখবে এবং এসব নির্দেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে যাবে।
ক্স ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পূর্ব বাংলার সর্বত্র স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। এদিন সর্বত্র মুক্ত আকাশে পতপত করে উড়তে থাকে স্বাধীন সোনার বাংলার নতুন পতাকা। এমনকি এই সময় ঢাকায় অবস্থানকারী পশ্চিমা নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে (বর্তমানে শেরাটন) উঠেছিলেন, তার শীর্ষদেশেও উড়তে থাকে বাংলাদেশের পতাকা। ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসের ভবনের শীর্ষেও নতুন পতাকা উড়তে দেখা যায়। এদিন ভোর ৫টায় বিদ্রোহী বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে তার বাসভবনে বাংলাদেশের মানচিত্র-খচিত লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে দেন।
ক্স ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনা ভেঙে যায়। ওই দিন রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পাকহানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের শুরু। সারাদেশে বাঙালির প্রতিরোধ যুদ্ধ।
ক্স ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ইপিআরের ওয়্যারলেস মারফত গোপনে ওই ঘোষণা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু পাকহানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধের নির্দেশ দেন।
ক্স ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এক সভায় মিলিত হন। বাংলাদেশ সরকার গঠনের ঘোষণা। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর প্রবাসী সরকারের শপথ গ্রহণ। তারা ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ প্রণয়ন করেন, ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে অনুমোদন দেন এবং বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন করেন। গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী। বঙ্গবন্ধু সর্বাধিনায়ক।
ক্স ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আ¤্রকাননকে ‘মুজিবনগর’ (অস্থায়ী রাজধানী) ঘোষণা করে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালিত। জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রথম ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গাওয়া হয়।
ক্স ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে ৯৩ হাজার পাকবাহিনীর সদস্যের আত্মসমর্পণ। ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান এবং ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জন। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় মুজিবনগর সরকার সদস্যদের ঢাকায় আগমন এবং দায়িত্ব গ্রহণ।
ক্স ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
ক্স ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে নতুন সরকার গঠন করেন। শুরু হয় যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন।
ক্স ১৯৭২ সালের ৭ ও ৮ এপ্রিল স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান।

১৯৭২-৭৫ : জাতীয় পুনর্গঠন, সাফল্য ও অর্জন
ক্স ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান অনুমোদন।
ক্স ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়।
ক্স স্বাধীনতার পর আওয়ামী সরকারের অর্জন :
Ñ যুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতু, রেলপথ, বন্দর, কল-কারখানা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাট-বাজার পুনর্নির্মাণ।
Ñ ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী ১ কোটি শরণার্থী এবং অভ্যন্তরীণ ৩ কোটি ঘরছাড়া মানুষের পুনর্বাসন।
Ñ স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, সচিবালয়, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, নির্বাচন কমিশন, প্ল্যানিং কমিশন গঠন, সুপ্রিমকোর্ট প্রতিষ্ঠা।
Ñ স্বাধীন বাংলাদেশের উপযোগী সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী গঠন।
Ñ বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ।
Ñ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ। বঙ্গবন্ধু কর্তৃক জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ প্রদান। কমনওয়েলথ ও ইসলামি ঐক্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ। বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বীকৃতি অর্জন।
Ñ সংকট মোকাবিলা করে অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার। সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন।
Ñ শিক্ষানীতি প্রণয়ন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং প্রাথমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করা।
ক্স ১৯৭৪ সালের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে এএইচএম কামারুজ্জামানকে আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জিল্লুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ দলের কর্মকর্তা পদে থাকতে পারবেন না বিধায় বঙ্গবন্ধু সভাপতির পদ ত্যাগ করেন। সৃষ্টি হয় গণতন্ত্র চর্চায় নতুন ঐতিহ্য।
ক্স ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেন। গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’।
ক্স ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একটি বিচ্ছিন্ন অংশকে নিয়ে খুনি মোশতাক-রশিদ-ফারুক চক্রের অভ্যুত্থান এবং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা। পাকিস্তানি ধারায় দেশকে ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র।
ক্স খুনি মোশতাক স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি, সামরিক আইন জারি, জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী প্রধান। আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি।
ক্স ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে হত্যা।
ক্স ১৯৭৫-এর ৭ নভেম্বর থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়ার স্বৈরশাসন। ক্যান্টনমেন্টে বসে বিএনপি গঠন, সংবিধান পরিবর্তন, প্রহসনের গণভোট, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন।
ক্স ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমান কর্তৃক কারাগারে বন্দী সকল যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের মুক্তি ঘোষণা। দালাল আইন বাতিল।
ক্স ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দল বিধি জারি করা হয়। প্রচ- ও হিং¯্র দমননীতির শিকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই সীমিত গণতান্ত্রিক সুযোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। দল পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ২৫ আগস্ট ঢাকায় দলের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদসহ নেতৃবৃন্দের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৫ আগস্টের বর্ধিত সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় দলের পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল সাপেক্ষে ১৯৭৫ সালের ৬ জুন পর্যন্ত যে কার্যনির্বাহী সংসদ ছিল সেটিই সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাবে। ১৯৭৪ সালে গঠিত নির্বাহী সংসদের সভাপতি এএইচএম কামারুজ্জামান ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ নিহত হন। সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ তখন কারাবন্দি। এমতাবস্থায় সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ক্স ১৯৭৭ সালের ৩ ও ৪ এপ্রিল ঢাকার হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত। কাউন্সিলের আগেই দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ঐকমত্যের অভাব প্রকাশ্য দলাদলির আকার ধারণ করে। কাউন্সিলে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। সিদ্ধান্ত হয় আপাতত পূর্ণাঙ্গ কমিটি না করে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হবে। সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করে ১০ দিনের মধ্যে ৪৪ সদস্য বিশিষ্ট সাংগঠনিক কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়। জোহরা তাজউদ্দীন ১৫ এপ্রিল সাংগঠনিক কমিটির সদস্যগণের নাম ঘোষণা করেন।
ক্স ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়া তার ক্ষমতাকে বৈধতার ছাপ মারার জন্য দেশব্যাপী গণভোটের আয়োজন করেন। আওয়ামী লীগ গণভোট বর্জন করে।
ক্স ১৯৭৮ সালের ৩, ৪ ও ৫ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আবদুল মালেক উকিলকে সভাপতি ও আবদুর রাজ্জাককে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
ক্স ১৯৭৮ সালের ২৩ নভেম্বর হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পাল্টা আওয়ামী লীগ গঠনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করতে ভূমিকা রাখে ওই কাউন্সিল।
ক্স ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারি হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলে দলে নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণ এবং দলকে অধিকতর শক্তিশালী ও সংহত করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আবদুর রাজ্জাক সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত হন। এই কাউন্সিলেই প্রথম গঠনতন্ত্র সংশোধন করে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক ‘সভাপতিম-লী’ গঠিত হয়।
ক্স ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
ক্স ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে জিয়া নিহত। ১৫ নভেম্বর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনার ব্যাপক জনসংযোগ। জনগণের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।
ক্স ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখল।
ক্স ১৯৮৩ সালের ১১ জানুয়ারি কুখ্যাত রাজাকার আবদুল মান্নান আহূত ‘জমিয়াতুল মোদাররেসিন’ নামক মাদ্রাসা শিক্ষকদের এক সমাবেশে জেনারেল এরশাদ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস ও শহিদ মিনার সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ কটূক্তি করেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জানুয়ারি ১৫টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে ১৫ দলীয় ঐক্য জোট।
ক্স ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে মৌন মিছিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, মোজাম্মেল ও দীপালি সাহা প্রমুখ পাঁচ ছাত্র নিহত হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ ১৫ দলের নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটে যান। ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে হরতাল পালিত হয়।
ক্স ১৫ ফেব্রুয়ারি ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে বৈঠকরত অবস্থায় সেনাবাহিনী আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা, আবদুস সামাদ আজাদ, আবদুল মান্নান, ড. কামাল হোসেন, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল জলিল, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমেদ, মো. রহমত আলী, ডা. এসএ মালেক, গোলাম আকবর চৌধুরী, সাহারা খাতুন, অধ্যাপক মানিক গোমেজ, সিপিবি-র মোহাম্মদ ফরহাদ, মঞ্জুরুল আহসান খান, একতা পার্টির সৈয়দ আলতাফ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের দীলিপ বড়–য়া ও বাসদের খালেকুজ্জামান প্রমুখ ১৫ দলের নেতাদের গ্রেফতার করে। সেনা সদস্যরা নেতৃবৃন্দকে চোখ বেঁধে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। ওই দিন সন্ধ্যা থেকে সান্ধ্য আইন বলবৎ করা হয়।
সারাদেশে সৃষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশেই ঐক্যবদ্ধভাবে ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস পালিত হয়। ১৫ দলের উদ্যোগে রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিটি সর্বজনীন দাবিতে পরিণত হয়। জনমতের চাপে অবশেষে ১ মার্চ ১৯৮৩ শেখ হাসিনাসহ গ্রেফতারকৃত ২৭ নেতা মুক্তি লাভ করেন।
ক্স ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ঘরোয়া রাজনীতির অনুমতি দেওয়া হয় এবং ১৪ নভেম্বর দেশে প্রকাশ্য রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহৃত হয়। ১৯৮৩ সাল থেকেই সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনকে অভিন্ন লক্ষ্যে এবং অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় সংগঠিত করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫ দল ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত সাতদলীয় জোট দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর একটি অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। ১৯৮৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর উভয় জোটের সর্বসম্মত ৫-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ক্স ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্র মিছিলের ওপর ট্রাক চালিয়ে হত্যা করা হয় সেলিম-দেলোয়ার নামে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে। ১ মার্চ আদমজীতে শ্রমিক নেতা তাজুলকে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর হরতালের দিন কালীগঞ্জে সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ ময়েজউদ্দিনকে সরকারি জনদলের গু-াবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে হত্যা করা হয়। ১৪ অক্টোবর মানিক মিয়া এভিনিউতে ১৫ দলের উদ্যোগে স্মরণকালের বৃহত্তম মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহসমাবেশ থেকে ১৫ দল ২১-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
ক্স বিরোধী দলের প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে একবার উপজেলা নির্বাচন তারিখ ও সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেও পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন এরশাদ। পরে সামরিক আইনের কড়াকড়ি পুনর্বহাল, রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বন্ধ ঘোষণা এবং রাজনৈতিক নেতাদের আটক রেখে ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ এরশাদ তার ১৮-দফা কর্মসূচির পক্ষে গণভোট অনুষ্ঠান করেন।
ক্স ১৯৮৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ঘরোয়া রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ্য সভা-সমাবেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
ক্স ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ১৫ দল ও সাত দলের মধ্যে ঐকমত্য হয়। সিদ্ধান্ত হয় সামরিক শাসন অবসানের মূল লক্ষ্য হাসিলের উদ্দেশ্য সামনে রেখে দুই জোট ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। ১৫ দল ১৮০টি আসনে এবং সাত দল ১২০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে জাতীয় পার্টিকে মোকাবিলা করবে বলে ঐকমত্য হয়। কিন্তু হঠাৎই রহস্যজনক কারণে সাত দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। ১৫ দলের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, সাম্যবাদী দলও নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার কথা ঘোষণা করে। স্বভাবতই এরশাদ ও জাতীয় পার্টি এতে উৎসাহিত হয়। ১৫ দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
সন্ত্রাস, ভোটকেন্দ্র দখল, টাকার ছড়াছড়ি এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক ভূমিকার মধ্যেও ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এত কিছু করেও ১৫ দলের বিজয় ঠেকাতে না পেরে ৭ তারিখ রাতে আকস্মিকভাবেই নির্বাচনের ফল ঘোষণা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা গণমাধ্যমে ফল ঘোষণা বন্ধ রাখার পর মিডিয়া ক্যুর মাধ্যমে ফল উল্টে দিয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় জাতীয় পার্টিকে।
ক্স ১৯৮৬ সালের ১০ জুলাই সংসদ অধিবেশন বসলেও সামরিক আইন বহাল থাকে। সামরিক আইন বহাল রেখেই ১৯৮৬-এর ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়। সামরিক শাসকরা বিরোধী দলগুলোর হরতাল, সমাবেশ এবং জনগণের অংশগ্রহণের তোয়াক্কা না করেই গায়ের জোরে ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। ১ নভেম্বর সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী উত্থাপন করা হয় জাতীয় সংসদে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল সপ্তম সংশোধনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সংসদে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। বিরোধিতার মুখেও ১০ নভেম্বর সপ্তম সংশোধনী পাস করা হয়। সপ্তম সংশোধনীর দ্বারা ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে জারিকৃত সকল সামরিক ফরমান, আদেশ, অধ্যাদেশ এবং শাসকদের সকল কৃতকর্ম ‘বৈধতা’ অর্জন করে।
ক্স ১৯৮৬-এর ১০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক আইন প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্স ১৯৮৭ সালের ১, ২ ও ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চতুর্দশ জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও সাজেদা চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কার্যনির্বাহী সংসদ গঠিত হয়।
ক্স ১৯৮৭ সালের ২৮ অক্টোবর দুই বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে বৈঠক হয়। ১৫ দল, ৭ দল এবং ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা ৫-দলীয় বাম জোট যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায়। ১০ নভেম্বর বিরোধী দলগুলোর উদ্যোগে ঢাকা অভিযানের কর্মসূচি নেওয়া হয়। সরকার কর্মসূচি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ১০ নভেম্বর ঢাকার সকল প্রবেশ পথ সরকার বন্ধ করে দিলেও হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়। সেদিন পুলিশের গুলিবর্ষণে ঢাকার জিরো পয়েন্টের কাছে শরীরে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক’ লিখে বিক্ষোভরত যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন ও কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর থেকে আসা সিপিবি-র কর্মী আমিনুল হুদা টিটু নিহত হয়। সরকার শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে ১১ নভেম্বর গৃহে অন্তরীণ করে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ব্যাপক ধরপাকড় করে। বিরোধী দলের আহ্বানে ১১ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত অর্ধদিবস এবং ২১ নভেম্বর থেকে একটানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল বাংলাদেশকে অচল করে দেয়। ২৭ নভেম্বর জেনারেল এরশাদ সারাদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
ক্স ১৯৮৮-এর ২৪ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে ১৫ দলের মিছিলে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ জন নিহত হয়। ১৯৮৮ সালের ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ছোট-বড় প্রায় সকল দল এই নির্বাচন বর্জন করে।
ক্স ১৯৮৮ সালের ১২ এপ্রিল ১৯৮৭-এর ২৭ নভেম্বর জারিকৃত জরুরি আইন প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৮৮ সালের ৭ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বিল পাস করে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১০ জুলাই পাস করা হয় নবম সংবিধান সংশোধনী।
ক্স ১৯৮৯ সালের ১০ আগস্ট শেখ হাসিনার প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে তার বাসভবনে ফ্রিডম পার্টির দুষ্কৃতিকারীরা হামলা চালায়। সমগ্র দেশে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
ক্স ১৯৯০ সালের ৫ জুন শেখ হাসিনা অবিলম্বে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করেন এবং নতুন করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দল (৮ দল) আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। ১৯৯০-এর ১০ অক্টোবর বিরোধী জোট ও দলগুলোর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিবর্ষণে ৫ জন নিহত হয়।
ক্স ১৯৯০ সালের ১৯ নভেম্বর ১৫, ৭ ও ৫ দল অর্থাৎ তিন জোট এরশাদের পদত্যাগ এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি ফর্মুলা, যা ‘তিন জোটের রূপরেখা’ হিসেবে পরিচিত ঘোষণা করে।
ক্স ১৯৯০-এর ২৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর অব্যাহত ছাত্র ধর্মঘট, পেশাজীবীদের আন্দোলন, হরতাল-সমাবেশ-প্রতিবাদের মুখে শাসকগোষ্ঠী মরিয়া আঘাত হানে। ২৭ নভেম্বর বিএমএ নেতা ডা. শামসুল আলম মিলনকে এরশাদের সন্ত্রাসী গু-ারা গুলি করে হত্যা করে। এই দিন বিকেলে শেখ হাসিনাকে আটক করে গৃহবন্দি রাখা হয়। ৪ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথে নেমে আসে। শেখ হাসিনা ১৫ দলের সমাবেশ থেকে ‘এই মুহূর্তে এরশাদের পদত্যাগ’ দাবি করেন। জেনারেল এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৫ ডিসেম্বর তিন জোট প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব করেন। অবশেষে তিন জোটের রূপরেখা অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর এরশাদ বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। অবসান ঘটে দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের।
ক্স ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি শাহাবুদ্দিনের নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী জোটভুক্ত দলগুলো ৯৯টি আসন লাভ করে। বিএনপি পায় ১৪২টি আসন। তারপরও সরকার গঠনে বিএনপিকে জামাতের ১৮ সদস্যের সমর্থন নিতে হয়।
ক্স ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন বাকশাল আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ১৪ আগস্ট থেকে তা কার্যকর হয়। অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে দলের অভ্যন্তরে আবার উপদলীয় কর্মকা- শুরু হয়। ১৯৯২ সালের ২১ জুন ড. কামাল হোসেন ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট ‘গণতান্ত্রিক ফোরাম’ গঠন করেন। এই গণতান্ত্রিক ফোরামই ১৯৯৩ সালের ২৩ আগস্ট ‘গণফোরাম’ নামে রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
ক্স ১৯৯২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি গোলাম আযম ও তার সহযোগীদের বিচারের লক্ষ্যে জাহানারা ইমামকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় জাতীয় সমন্বয় কমিটি। ১৫ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ মানুষের সমাবেশে গণ-আদালতের এজলাস বসিয়ে যুদ্ধাপরাধের জন্য গোলাম আযমের ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। শেখ হাসিনা একে জনতার বিজয় বলে অভিহিত করেন। কবি সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম ও শেখ হাসিনা এক মঞ্চ থেকে গোলাম আযমের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। সরকার জাহানারা ইমামসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
ক্স ১৯৯২ সালের ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের দ্বিতীয় দিন ২০ সেপ্টেম্বর নতুন অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকে দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রের সংশোধনী সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়। ওই দিন রাত ৮টায় কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সমন্বয়ে গঠিত সাবজেক কমিটি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের রুদ্ধদ্বার কক্ষে বৈঠক বসে এবং শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতভাবে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন প্রশ্নে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর ২১ সেপ্টেম্বর ভোর পৌনে ৪টায় জিল্লুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে কাউন্সিল।
ক্স ১৯৯৪ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফ মেয়র পদে জয়লাভ করেন। কিন্তু সরকার-দলীয় পরাজিত কমিশনার প্রার্থীর ব্রাশফায়ারে ওই দিন ঢাকার লালবাগে ৬ আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক নিহত হন।
ক্স মিরপুর ও মাগুরা উপনির্বাচনে বিএনপির ভোট ডাকাতি ও কারচুপির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার’-এর অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি উত্থাপন করে। বিরোধী দলগুলো এই দাবি সমর্থন জানায়। গড়ে ওঠে আন্দোলন।
ক্স ১৯৯৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা উত্তরবঙ্গে গণ-সংযোগের জন্য ট্রেন অভিযাত্রা শুরু করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোরে শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, বোমাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী তা-ব চালায় বিএনপি ক্যাডাররা। ৬ ডিসেম্বর সংসদের বিরোধী দলগুলো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ থেকে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামাত ও এনডিপি দলীয় সংসদ সদস্যগণ একযোগে পদত্যাগ করেন।
ক্স ১৯৯৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
ক্স ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি কর্তৃক একদলীয় ভোটারবিহীন নির্বাচন। তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে খালেদা সরকার পদত্যাগ করে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।
ক্স ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ মোট ভোটের ৩৭.৫৩ শতাংশ ভোট ও ১৪৬টি আসন পায়। বিএনপি পায় ৩৩.৪০ শতাংশ ভোট ও ১১৬টি আসন। জাতীয় পার্টি পায় ১৫.৯৯ শতাংশ ভোট ও ৩২টি আসন এবং জামাত পায় ৮.৫৭ শতাংশ ভোট ও ৩টি আসন। বামফ্রন্ট কোনো আসন পায়নি, ভোট পায় ০.৪২ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ জনগণের রায় নিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা দিবসে শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করেন।

১৯৯৬-২০০১ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামল
Ñ বিএনপি আমলের খাদ্য উৎপাদন ১ কোটি ৮০ লাখ টন থেকে ২ কোটি ৬৯ লাখ টনে উন্নীতকরণ। খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতার পথে দেশ। শেখ হাসিনার জাতিসংঘের ‘সেরেস’ পুরস্কার অর্জন।
Ñ ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়।
Ñ পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী হানাহানি বন্ধ। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর। শেখ হাসিনার ইউনেস্কোর হুফে বয়েনি শান্তি পুরস্কার লাভ।
Ñ যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণকাজ সম্পন্ন।
Ñ নারীর ক্ষমতায়ন। স্থানীয় সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন প্রথা চালু। পিতার সাথে মাতার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা।
Ñ প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪ শতাংশে উন্নীতকরণ এবং মুদ্রাস্ফীতি ১.৪৯ শতাংশে নামিয়ে আনা। ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।
Ñ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা দান করে।
ক্স ১৯৯৭ সালের ৬ ও ৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও জিল্লুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক পুনর্নির্বাচিত করে।
ক্স ২০০০ সালের ২৩ জুন পল্টন ময়দানে আওয়ামী লীগের বিশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।
ক্স ২০০১-০৬, ১ অক্টোবর কারচুপির নির্বাচন। বিএনপি-জামাত জোটের ক্ষমতা দখল। হত্যা, নির্যাতন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো অধ্যায়।
ক্স ২০০২ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। কাউন্সিলের ভেতর দিয়ে আওয়ামী লীগের নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়। নির্বাচিত হয় নতুন নেতৃত্ব। শেখ হাসিনা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদক হন মো. আবদুল জলিল এমপি।
ক্স ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা। আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী নিহত। শেখ হাসিনার কানের পর্দা ফেটে গিয়ে আহত।
ক্স ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে বিএনপি-জামাতের নীলনকশার নির্বাচন বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বঘোষিত প্রধানের পদ থেকে ইয়াজউদ্দিনের পদত্যাগ। জরুরি অবস্থা ঘোষণা।
Ñ ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ।
Ñ শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে অপসারণের উদ্দেশ্যে মাইনাস টু ফর্মুলা প্রদান।
Ñ ১৬ জুলাই, ২০০৭-এ জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার।
Ñ ড. মুহম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক দল গঠনের ব্যর্থ চেষ্টা।
Ñ বিএনপিতে সংস্কারবাদীদের ভিন্ন কমিটি গঠন। আওয়ামী লীগে সংস্কারবাদীরা কোণঠাসা।
ক্স ২০০৮ : গণ-আন্দোলনের মুখে মাইনাস টু ফর্মুলা ব্যর্থ। শেখ হাসিনাকে মুক্তিদান। ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ৩০০টির মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২৬৪টি আসন লাভ।
ক্স ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অষ্টাদশ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে। কাউন্সিলে পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে নতুন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ক্স ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলের আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
ক্স ২০০৯-১৪ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের সময়কালে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। সবগুলো সূচকেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ থেকে ২০১৬ বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বের এ সময়কালে দুর্বারগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
Ñ গত ৬ বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৬.৩ শতাংশ। যেখানে দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ সেখানে ২০১৫ সালে তা ২২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২৩ থেকে ৭.৯২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক চালু; ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব, দরিদ্র্যদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল। প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ৫ কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলার। বাংলাদেশ নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিগণিত। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অবস্থানে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম স্থান অধিকার করেছে। রপ্তানি আয় ৩৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩১.০২ বিলিয়ন ডলার।
Ñ নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন। বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই বিতরণ। প্রাথমিক স্তরে ভর্তির বয়সী শিশুদের প্রায় শতভাগ ছেলেমেয়ে স্কুলগামী। প্রাথমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক স্তরে সফল পাবলিক পরীক্ষার পদ্ধতি প্রচলন। শিক্ষার হার ৭১ শতাংশে উন্নীত। ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম। সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ১৭২টি কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা তৃতীয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত। ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ। ১ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ। বিদ্যালয়বিহীন ১ হাজার ১২৫টি গ্রামে নতুন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন।
Ñ মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়ে এখন ৭১ বছর। দক্ষিণ এশিয়ায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার সর্বনি¤œ পর্যায়ে নামাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। মাতৃমৃত্যু প্রতি হাজারে ১.৭ জন এবং শিশুমৃত্যু ৩০ জনে নেমে এসেছে।
Ñ এমডিজি-তে নির্ধারিত ২০১৫ সালের এই লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশ ২০১৩ সালেই অর্জন করেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ও সন্তান জন্মদানের সময় মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান করেছে জাতিসংঘ। ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
Ñ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১৫০০০ মেগাওয়াটে। লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। শিল্প-কারখানায় নতুন করে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ প্রদান হয়েছে। ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কাজ চলছে। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে।
Ñ খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। কৃষিতে বিপুল ভর্তুকি, ধানের বাম্পার ফলন। এখন ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ। সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, মাছ উৎপাদনে পঞ্চম এবং আলু উৎপাদনে সপ্তম স্থানে রয়েছে।
Ñ উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম সোনালি আঁশ পাটের জিন প্রযুক্তির আবিষ্কার। সম্ভাবনার স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত। বন্ধ পাটকল চালু। শিল্পায়নের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ।
Ñ গার্মেন্ট শ্রমিকদের পে-স্কেল পুনর্নির্ধারণ। সরকারি কমকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বর্ধিত বেতন স্কেল কার্যকর করা। শিল্প পুলিশ বাহিনী গঠন। শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
Ñ কর্মসংস্থান ও হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি সম্প্রসারণ।
Ñ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে সংশোধিত শ্রমনীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি দুই দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে। জিডিপিতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান বেড়েছে।
Ñ সফলভাবে ক্রিকেট বিশ্বকাপ অনুষ্ঠান। ক্রীড়াক্ষেত্রে অব্যাহত সাফল্য। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বের শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
Ñ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের কাজ শুরু। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে একাধিক উড়াল সেতু নির্মিত হয়েছে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ দ্রুতগতিতে অগ্রসরমান। মেট্রোরেল ও বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু। পায়রা সমুদ্র বন্দর ও দেশে প্রথমবারের মতো আট লেনের মহাসড়ক চালু।
Ñ ডিজিটাল দুনিয়ায় বাংলাদেশের অভিযাত্রা আজ বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশে এখন মোবাইল সিম গ্রাহকের সংখ্যা ১৩ কোটি ২০ লাখের বেশি। ইন্টারনেট গ্রাহক ৬ কোটি ২০ লাখের বেশি।
Ñ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার লাভ।
Ñ বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দ-প্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদ- কার্যকর। জাতি কলঙ্কমুক্ত।
Ñ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু। ইতোমধ্যে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদ, মতিউর রহমান নিজামী, আবুল কাশেমের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযম এবং আবদুল আলিমকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে (দ-াদেশ বহাল থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ)। দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী রাজাকারকে আমৃত্যু কারাদ- প্রদান করা হয়েছে। অন্যদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
Ñ বিডিআর বিদ্রোহের শান্তিপূর্ণ সমাধান। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ব্যর্থ।
Ñ সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ১৯৭৫ পরবর্তী সামরিক আইন জারি, সামরিক ফরমান বলে সংবিধান সংশোধন ও জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ ঘোষণা। ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী গৃহীত। ১৯৭২-এর সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদসহ মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিমালা পুনর্বহাল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ সংযোজিত।
Ñ ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার লক্ষ্যে বিএনপি-জামাত জোট সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। আন্দোলনের নামে হিংসাশ্রয়ী ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে। বিএনপি-জামাতের প্ররোচনায় হেফাজতে ইসলাম নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও সারাদেশে ভয়াবহ তা-ব চালায়। আওয়ামী লীগ ও সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।
Ñ পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্য অর্জিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি। ৪২ বছরের অমীমাংসিত মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে নতুন সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ।
Ñ ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ও ছিটমহল বিনিময়ের ফলে দীর্ঘ ৬৮ বছরের মানবিক লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেয়েছে ছিটমহলবাসী।
Ñ বিএনপি-জামাত জোট ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন বর্জন এবং নির্বাচন বানচালের জন্য একই কায়দায় চেষ্টা চালায়। অসাংবিধানিক ধারা সৃষ্টির এই চেষ্টা ও ব্যর্থ হয়।
ক্স ২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নারী ও কন্যা শিশুদের সাক্ষরতা ও শিক্ষা প্রসারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ (ট্রি অব পিস) পুরস্কার তুলে দেন ইউনেস্কোর মহাপরিচালক।
ক্স ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন ‘ভিশনারি’ পুরস্কার পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯০ দিনব্যাপী বিএনপি-জামাত জোটের নাশকতামূলক ধ্বংসযজ্ঞ। পেট্রলবোমা ও অগ্নিসন্ত্রাসে হাজার হাজার মানুষ হতাহত। জনতার প্রতিরোধে খালেদা জিয়ার পিছুটান।
ক্স ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাজনীতিতে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমাতে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ‘উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড’ পায় বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিন মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত হন।
ক্স ২০১৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংস্থার (আইটিইউ) ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত ২৬৫টি পৌরসভার মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত ২০২ প্রার্থী জয়লাভ করেন।
ক্স ২০১৬ সালে ৬ ধাপে দেশের ৪ হাজার ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৬৬৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বিজয় লাভ করে।
ক্স ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলাÑ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সফল অভিযান; শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ, কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানা থেকে সশস্ত্র জঙ্গিদের আটক। উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সৃষ্ট জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের দৃষ্টান্ত স্থাপন।
ক্স ২০১৬ সালের  ২২ সেপ্টেম্বর লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার প্রদান করে জাতিসংঘ।
ক্স ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে জননেত্রী শেখ হাসিনা সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যা ৭১ থেকে ৮১-তে উন্নীত করা হয়। একইভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যান্য শাখার কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয় এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড গঠনসহ বেশ কিছু সংশোধনী ও নতুন ধারা সংযোজিত হয়।
ক্স ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান প্রাইস ওয়াটার হাউসকুপারস (পিডব্লিউসি) বলে ২০৫০ সাল পর্যন্ত  অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শীষ ৩টি দেশের একটি হবে বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাবী উত্থাপিত হওয়ায় ২৫ মার্চকে ‘গণহত্যা দিবস’ ঘোষণা করা হয়  এবং ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়।
ক্স ২০১৭ সালের ১২ মার্চ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে বানৌজা ঈশা খাঁ ঘাঁটিতে ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে দুইটি সাবমেরিন কমিন করেন। এর মধ্যে দিয়ে বিশ্বের ৪১টি দেশের পর বাংলাদেশও সাবমেরিন এলিট জাতিভুক্ত হয় এবং প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
ক্স ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংসদীয় সংস্থা ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন-আইপিইউ’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আইপিইউ’র ১৩৬তম সম্মেলনে সারাবিশ্বের ১৩২টি দেশের দেড় সহ¯্রাধিক প্রতিনিধি যোগদান করেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৭ সালের ২০ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
ক্স ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর স্বল্প খরচে উন্নতমানের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দান ও তাদের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করায় ব্রিটেনভিত্তিক গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বা মানবতার জননী বলে ভূষিত করেন।
ক্স ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৭-১৮’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদনে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা সূচকে (জিসিআই) এক বছরে সাত ধাপ এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৭ সালের ১-৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন সিপিএ-এর ৬৩তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাইস প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সিপিএ নির্বার্হী কমিটির চেয়ারম্যান ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
ক্স ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস’র জরিপে বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় প্রদানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০তম ক্ষমতাধর নারী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ক্স ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ‘জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো)’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল হেরিটেজ রেজিস্টার’ বা বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে ঘোষণা করে।
ক্স ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৭ সালের নভেম্বরে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণা প্রতিবেদনে সৎ সরকার প্রধান হিসেবে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তি সেবা ফোর-জি সেবা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’ প্রদানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনাকে ‘গ্লোবাল লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।
ক্স ২০১৮ সালের ১১ মে শুক্রবার (বাংলাদেশ সময়) দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মহাকাশ কেন্দ্র ‘স্পেস-এক্স’ থেকে নিজস্ব উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ।
ক্স ২০১৮ সালের ২৬ মে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্মজয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার (ডি-লিট)’ প্রদান করে।  গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন থেকে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ সম্মাননা প্রদান করে ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’।
ক্স ২০১৮ সালের ২৩ জুন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’য়ের পুরনো ঠিকানায় দশমতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ও সুদৃশ্য নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৮ সালের ২৩ জুন গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্স ২০১৮ সালের ৭ জুলাই গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃতীয় পর্যায়ের বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ক্স ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮ পাসের মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বৃদ্ধি করা হয়।
ক্স ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে মানবিক ও দায়িত্বশীল নীতির জন্য অনন্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট’ প্রদান করা হয়।
ক্স ২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর হোটেল সোনারগাঁওয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা।
ক্স ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টিকারী বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২৫৯টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং ১৪ দলীয় জোটের শরীরা ৯টি আসনে বিজয় লাভ করে।
ক্স গত ৭ জানুয়ারি দেশের ইতিহাসে নজির ও রেকর্ড সৃষ্টি করে চতুর্থবারের মতো এবং টানা তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*