বিভাগ: ক্রীড়া

বাংলাদেশ-লাওস যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন

PMআরিফ সোহেল: ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া; আর না খেলে প্রকৃতির কল্যাণে শিরোপার ভাগ পাওয়ার মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। তবে প্রকৃতির কারণে মাঠে এমন ঘটনা নতুন নয়। খেলা নয়; প্রকৃতি নিজ দায়িত্বতে শিরোপা তুলে দেয় ভাগ্যবানদের। ঠিক তেমন এক বাধা ‘ফণী’ সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনালে। বাংলাদেশ-লাওস না খেলেই যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন। বিষয়টি নিশ্চয়ই দু-দলের কাছেই অল্প-মধুর আমেজের।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব পড়তে পারে; তা আগেই জানা ছিল। ফলে ৩ মে আদৌ ফাইনাল ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ওই সকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছিল থেমে থেমে বৃষ্টি। তারপরও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রস্তুত ছিল বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের ফাইনাল আয়োজনে। গ্যালারিতে দর্শকও উপস্থিত হয়েছিল। বৃষ্টির টালবাহনা, বাতাসের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ওয়ার্মআপও করেছিল বাংলাদেশ এবং লাওসের ফুটবলাররা। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে ম্যাচটি বাতিল করে দু-দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আয়োজকরা। উপস্থিত দর্শকরা ক্ষোভ ও হতাশা নিয়েই বাড়ি ফেরে।
ফাইনাল ম্যাচ বাতিলের আগে আয়োজকের অন্যতম প্রধান সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের ফাইনাল খেলা ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ফণীর কারণে বাতিল করা হয়েছে। ফাইনালে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ ও লাওসকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হচ্ছে।’ অবশ্য লাওস শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আশায় ছিল। ফাইনালের প্রাইজমানি ৪০ হাজার ডলার দু-দলের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
আসরে দুর্দান্ত খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে সেমিফাইনালেই নিজেদের পুরনো রূপে ফিরে পেয়েছিল বাংলাদেশ। অন্যদিকে র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা লাওসও ছিল আপ টু দ্য মার্ক। ফলে অনূর্ধ্ব-১৯ বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপের দারুণ এক ফাইনালের অপেক্ষায় ছিল সবাই। পূর্বাভাষ থাকায় ফাইনালের নির্ধারিত সূচি ৩ মে পরিবর্তন করে ৪ মে নেওয়া হয়েছিল প্রথমে। পুনরায় আবার সূচি পরিবর্তন করে নিয়ে আসা হয় ৩ তারিখেই। কিন্তু তাতেও ফাইনাল হেরে গেছে ঘূর্ণিঝড় ফণীর কাছে। অবশ্য এই ম্যাচের জন্য যারা টিকিট কেটেছিলেন তারা টিকিটের অংশ দেখিয়ে অর্থ ফেরত পাবেন।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত ছয় জাতির এই আসর শুরু হয়েছিল ২২ এপ্রিল। ‘এ’ গ্রুপে অংশ নেয় লাওস, মঙ্গোলিয়া, তাজিকিস্তান। ‘বি’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল কিরগিজস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয়। শেষ ম্যাচে লাল-সবুজ ২-১ গোলের ব্যবধানে হারায় কিরগিজদের। সেরা দল বাংলাদেশ ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় মঙ্গোলিয়ার। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জয় নিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। অন্যদিকে সেমিফাইনালে কিরগিজদের বিপক্ষে ৭-১ গোলের বড় জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লাওসের মেয়েরা।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*