বাঙালির বন্ধু ফাদার মারিনো রিগনের জীবনাবসান

11-7-2017 7-43-43 PMউত্তরণ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিক ও মুক্তিযোদ্ধা ফাদার মারিনো রিগন মারা গেছেন। ইতালির ভিচেঞ্চায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে তার ভাগ্নি মারতা আলেসান্দ্রো জানিনের বরাত দিয়ে প্যারিস প্রবাসী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রবীশঙ্কর মৈত্রী জানিয়েছেন।
২০১৪ সাল থেকে তিনি ইতালির ভিচেঞ্চায় বিশেষ যতেœ ছিলেন। তার আর বাংলাদেশে ফেরা হলো না। ফাদার রিগনের ভাগ্নি মারতা জানিন ইতালির ভিল্লভেরলা থেকে শোক সংবাদটি জানান। ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ইতালির ভেনিসের কাছে ভিল্লভেরলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশে বাংলাদেশে আসেন। দেশের নানা জায়গা ঘুরে বাগেরহাটের মংলা উপজেলার শেলাবুনিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন বসবাস করেন তিনি। ধর্মের গ-ি পেরিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষার প্রসার, চিকিৎসাসেবা ও দুস্থ নারীদের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় তিনি অসুস্থ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় ও সেবা দেওয়ার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তাকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করে।
বাংলা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে গবেষণার পর তা ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন ফাদার মারিনো রিগন। তার হাত দিয়ে ইতালীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলিসহ প্রায় ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের ৩৫০টি গান, জসীমউদ্দীনের নকশী কাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কবিদের অনেক কবিতা। ফাদার রিগনের ইতালীয় ভাষায় অনূদিত রবীন্দ্রকাব্যের একাধিক গ্রন্থ ফ্রেঞ্চ, স্পেনিশ ও পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত হয়। ১৯৯০ সালে তিনি ইতালিতে রবীন্দ্র অধ্যয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। ফাদার রিগন বাংলার নকশী কাঁথাকেও তুলে ধরেছেন ইতালির বিভিন্ন শহরে। তার প্রতিষ্ঠিত শেলাবুনিয়া সেলাই কেন্দ্রের উৎপাদিত নকশী কাঁথার ৪টি প্রদর্শনী হয় ইতালির বিভিন্ন শহরে।
ফাদার রিগনের কর্মপরিধির বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষামূলক কার্যক্রম। তার প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য তিনি বৃত্তির ব্যবস্থাও করেছিলেন।
১৯৮৬ সালে ফাদার রিগনের সহযোগিতায় বাংলাদেশের একটি নৃত্যনাট্যের দল ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ মঞ্চায়ন করে ইতালিতে। ২০০১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তার পরিবারের সদস্যরা তাকে ইতালি নিয়ে যেতে চান। তখন তিনি তার স্বজনদের শর্ত দিয়েছিলেন যে, ইতালিতে তার যদি মৃত্যু হয় তাহলে মরদেহটি বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। তিনি উন্নত চিকিৎসায় ইতালি যান।

শিলা ইসলামের প্রয়াণ
11-7-2017 7-43-19 PMআওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সহধর্মিণী শিলা ইসলাম (৫৭) আর নেই। গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৮টায় লন্ডনের এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের ইউসিএলএইচ ইনিভার্সিটি কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি ক্যানসার রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক মেয়ে রিমা ইসলামসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ক্যানসারে আক্রান্ত শিলা ইসলামকে গত এপ্রিলে জার্মানির একটি হাসপাতালে কেমোথেরাপিসহ ক্যানসারের কয়েক ধাপের চিকিৎসা করা হয়। সেখান থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন নিয়ে আসার পর সেন্ট্রাল লন্ডনের হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তাকে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তার মেয়ে রিমা ইসলাম ও পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা এ সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। শিলা ইসলামের জন্ম ও পড়াশোনা লন্ডনে। তিনি লন্ডনের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব নটিংহাম থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। শিলা ইসলাম লন্ডনের একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। সৈয়দ আশরাফ ও শিলা ইসলামের একমাত্র মেয়ে রিমা ইসলাম লন্ডনে থাকেন। তিনি লন্ডন এইচএসবিসি ব্যাংকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। শিলা ইসলামের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পৃথক বার্তায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তার পবিত্র রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। শোক প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।

Category:

Leave a Reply