বিভাগ: সংস্কৃতি

বিক্রমপুরে হাজার বছর পুরনো বৌদ্ধ নগরীর সন্ধান

57উত্তরণ প্রতিবেদন : জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের নাটেশ্বর গ্রামে প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনসহ প্রায় এক হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ নগরীর সন্ধান মিলেছে। চীন ও বাংলাদেশের যৌথ খনন কাজে মিলেছে এই প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে খননস্থলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক খনন ও গবেষণা প্রকল্পের পরিচালক নূহ-উল-আলম লেনিন এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়, গত দুমাসে যৌথ প্রতœতাত্ত্বিক খনন কাজে আবিষ্কৃত হয় অষ্টকোণাকৃতি স্তূপের বাহু, অভ্যন্তরীণ অষ্টকোণাকৃতি স্তূপ, প্রকোষ্ঠ ও ম-প প্রভৃতি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিং, প্রকল্পটির গবেষণা পরিচালক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান, চীনের হুনান প্রভেন্সিয়াল ইনস্টিটিউট অব কালচারাল রেলিকস অ্যান্ড আর্কেওলজির অধ্যাপক চাই হুয়াংবো এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ উপস্থিত ছিলেন।
ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রায় ৪ মিটার প্রশস্ত সীমানা প্রাচীর বিশিষ্ট দুই জোড়া চতুস্তূপের সন্ধান মিলেছে। আর্দ্রতারোধক হিসেবে ভিত্তি দেয়ালে ঝামা ইটের ব্যবহার, ৪টি স্তূপের স্থানিক পরিমিতি, বর্গাকৃতি ভারসাম্য, দেয়ালের অপ্রচলিত নজিরবিহীন কাঠামো বাংলাদেশের প্রাচীন উন্নত স্থাপত্যের ইতিহাসের একটি নতুন সংযোজন। তিনি বলেন, প্রাচীন ইট নির্মিত দুটি পাকা রাস্তা তৎকালীন সড়ক নির্মাণ কৌশল, বসতি পরিকল্পনা ও বিন্যাসের অসাধারণ তথ্য দিচ্ছে। ইট নির্মিত ২ দশমিক ৭৫ মিটার প্রশস্ত আঁকাবাঁকা একটি বিশেষ দেয়াল দেখিয়ে তিনি বলেন, এটি বিস্ময়কর স্থাপত্যের আভাস দিচ্ছে। ৭ মিটার গভীরতায় পাওয়া প্রতœ-নিদর্শন বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে।
ড. গওহর রিজভী বলেন, মাটির নিচে যে সম্পদের সন্ধান মিলেছে তাতে বিক্রমপুর তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করবে। বাঙালির প্রসিদ্ধ ইতিহাস যে কত বেশি সমৃদ্ধ ছিল এগুলো তারই সাক্ষ্য বহন করছে।
58চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিংকিং জানান, শেকড়ের সন্ধানের এই খনন কাজে চীন অংশ নিতে পেরে গর্বিত বোধ করছে। এদিকে প্রায় ৩০ ফুট নিচে কালো সিমেন্টের মতো মাটি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ এই মাটি পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরাও কাজ করছেন। এ ছাড়া খননস্থলে বড় মাছের কাঁটা, মাটির পাত্রসহ নানা কিছু পাওয়া যাচ্ছে।
যৌথ খনন কাজে চীনের চারজন এবং দেশের ২০ গবেষক অংশ নিচ্ছেন। চলতি মাস পর্যন্ত চলবে খনন কাজ। আগামী নভেম্বরে পুনরায় খনন শুরু হবে। নাটেশ্বর গ্রামটির প্রায় ১০ একর বিশাল দেয়ালটির খনন শুরু হয়েছে ২০১২ সালে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এবং ঐতিহ্য অন্বেষণের গবেষণা পরিচালনায় সরকারের অর্থায়নে এই খনন কাজ চলছে। সদর উপজেলার রঘুরামপুরে এক বছর আগে দলটি বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কার করে।

সহিংসতার প্রতিবাদী উচ্চারণে পালিত হলো পহেলা ফাল্গুন
প্রকৃতি চলে তার আপন নিয়মে। সেই নিয়ম মেনেই শীতের কাতরতা ছাপিয়ে উষ্ণতার বার্তা নিয়ে আসে ঋতুরাজ বসন্ত। আর উৎসবপ্রিয় বাঙালি তাতে শামিল হয়েছে হৃদয়ের টানে। বোমাবাজের হামলার শঙ্কাকে উড়িয়ে শহরজুড়ে বয়ে গেল আনন্দের হিল্লোল। গানের সুরে, কবিতার ছন্দে, বক্তার কথায় কিংবা নৃত্যের মুদ্রায় ছিল সহিংসতার প্রতিবাদী উচ্চারণ। বসন্তের রঙিলা আবহে অপমৃত্যুর মিছিল থেকে মুক্ত হয়ে ব্যক্ত হলো শান্তির পুণ্যভূমি গড়ার প্রত্যয়। বর্ণিল বসন্তের কাছে যেন ধূসর হলো শঙ্কা আর সহিংসতা।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল মনের অলিন্দে উত্তাপ ছড়ানো বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন। যান্ত্রিক শহর ঢাকায় সেদিন বিরাজ করেছে নাগরিকের মন উতলা করা ¯িœগ্ধ আবহ। অনেকেরই মনে মনে গুঞ্জরিত হয়েছে ‘ওরে ভাই ফাগুন এসেছে বনে বনে।’ শুধু বনে নয়, মানুষের মনেও লেগেছিল ফাগুনের ছোঁয়া। আর রূপময় এ ঋতু বরণে নিজের সুবিধামতো সময়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে রাজধানীবাসী। পোশাক ও মননে ছিল বসন্ত বরণের নয়নজুড়ানো দৃশ্য। বাসন্তী কিংবা হলুদ রঙের শাড়ির সঙ্গে খোঁপায় বেলিফুল অথবা মাথায় ফুলের টায়রা পরে ঘুরে বেড়িয়েছে নারীকূল। বাহারি রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া জড়িয়েছে পুরুষের শরীরে। শিশুদের পোশাকেও ছিল রঙের সমাহার। সব মিলিয়ে মন আর প্রাণের মমতায় উচ্চারিত হয়েছে বসন্তের জয়গান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ছিল বসন্ত বন্দনার নানা আয়োজন। আর সেসব আয়োজনে শামিল হয়ে নিজেদের প্রাণ প্রাচুর্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন শহরবাসী। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাজুড়েই উদযাপনের মাত্রাটা ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনটি বসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এখানে বসন্ত আবাহনের অনন্য আয়োজনটি করে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল থেকে রাত অবধি নাচ-গান ও কবিতায় মুখরিত ছিল শিল্পাচার্য জয়নুলের স্মৃতিধন্য এ আঙিনা। এর বাইরে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছিল বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একুশের বইমেলায়। বসন্তের আনন্দ আবাহনের পাশাপাশি নতুন বইটি সংগ্রহের তাগিদে অনেকেই গিয়েছেন একুশে গ্রন্থমেলায়। বেড়েছে মেলার ঔজ্জ্বল্য। এর বাইরেও ঢাকাবাসীর অনেকেই কোনো আয়োজনে না গিয়েও বসন্তের উদাসী হাওয়া গায়ে মেখে ঘুরে বেড়িয়েছেন আপন খেয়ালে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*