বিভাগ: সম্পাদকীয়

বিজয়ী বাংলাদেশ, বিজয়ী শেখ হাসিনা : প্রাণঢালা অভিনন্দন

নতুন ইতিহাস গড়লেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ তাকে চতুর্থবার বিজয়ের বরমাল্য পরাল। গত ৭ জানুয়ারি, চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তিনি এবং তার মন্ত্রিসভা। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে এটাই একমাত্র নজির। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার মন্ত্রিসভা গঠিত হলো। আমরা বঙ্গবন্ধু-কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ভেতর দিয়ে দেশে কার্যকর বিরোধী দল বলে কিছু আর রইল না। ঐক্যফ্রন্ট মুখ রক্ষার মতো সম্মানজনক ভোট ও আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে। বস্তুত বাংলাদেশের মানুষ বিএনপি-জামাত গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও গণতন্ত্রের স্বার্থে ঐক্যফ্রন্ট যে কটি আসনে জয়লাভ করেছে, তা রক্ষা করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিচায়ক হবে। ’৭৩-এর নির্বাচনেও এর বেশি আসন তৎকালীন বিরোধী দলের ছিল না। বিরোধী দলের ভূমিকা কেবল সংখ্যা দিয়ে বিচার না করে, যে ৭-৮ জন জয়লাভ করেছে পার্লামেন্টে দক্ষতার সাথে ভূমিকা রাখলে, তারাই জনগণের একাংশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন। আমরা মনে করি, বিরোধী দলের নির্বাচিত সদস্যগণ অবিলম্বে শপথগ্রহণ করবেন এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তার মধ্যেই সমগ্র বাঙালি জাতির সুখী সমৃদ্ধ উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা মূর্ত হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা ও নতুন সরকারের কাছে এখন জনপ্রত্যাশা পূরণের বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিগত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় একদিকে যেমন রয়ে গেছে বাস্তবায়নাধীন বিশাল সব মেগা প্রজেক্ট, অন্যদিকে নির্বাচনে প্রদত্ত অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নের কর্তব্য। অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে বলতে পারি, জননেত্রী শেখ হাসিনা এসব কর্তব্য পালনে সক্ষম হবেন। তার প্রাজ্ঞ, দক্ষ ও যাদুকরি নেতৃত্ব অসম্ভবকে সম্ভব করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশের সোপান অবধি এগিয়ে নিতে সক্ষম হবে।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার শক্তির উৎস বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। দেশবাসী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে তাকে ও আওয়ামী লীগকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করেছে। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান শেখ হাসিনা আজ তাই অপ্রতিরোধ্য এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নেতৃত্বের আসনে সমাসীন। অতএব কোনো ষড়যন্ত্র, কোনো বাধাই তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা থেকে বিরত রাখতে বা তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না। এখন সর্বাগ্রে প্রয়োজন নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বাংলাদেশে একটা নতুন ধারার জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি এবং বাম ধারার দলগুলোকে বুঝতে হবে গতানুগতিক নেতিবাচক রাজনীতি আর মাঠ গরমের কর্মসূচি দিয়ে তারা জনগণের মন জয় করতে পারবে না। সবাইকে তাই জাতিকে আর বিভক্ত না করে মৌলিক প্রশ্নে ঐকমত্য সৃষ্টির আন্তরিক চেষ্টা চালাতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অভিন্ন ভাষায় ধারণ করতে হবে। জাতির পিতাকে নিয়ে বিতর্কের চির অবসান ঘটাতে হবে। ইতিহাস বিকৃতির ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তির ভূমিকাকে সমুজ্জ্বল করতে হবে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার ও সাম্প্রদায়িকতাকে চিরদিনের জন্য পরিহার করতে হবে। যুদ্ধাপরাধী জামাতের সাথে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল দলমতের মানুষের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। বাংলার মাটিতে জামাতের যুদ্ধাপরাধেরও বিচার সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, ধন বৈষম্য হ্রাস, জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে যদি সকল দলমতের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলেই বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন সাধন সম্ভব হবে।
দুর্বল ও ছত্রভঙ্গ বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য কল্যাণকর নয়। বিরোধী দলের দুর্বল অবস্থার জন্য আওয়ামী লীগের দায়িত্ব ও কর্তব্য কার্যত শতভাগ বেড়ে গেছে। আওয়ামী লীগকেই উদ্যোগ নিয়ে একটা সহিষ্ণু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এ দেশ স্বাধীন করেছে আওয়ামী লীগ। কাজেই দেশের প্রতি দায়িত্বও আওয়ামী লীগের বেশি। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো আরেকটু শক্তিশালী হলে তাদের সাথে আওয়ামী লীগ এই জাতীয় কর্তব্যভার কিছুটা ভাগ করে নিতে পারত। আমরা আশা করব, জনগণের পর্বত প্রমাণ প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়েই ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী আমরা শেখ হাসিনার পৌরোহিত্যে পালন করতে পারব। আওয়ামী লীগের কাজের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত হবে, অতীতের মতো ২০১৮ সালেও বাংলাদেশের জনগণ রায় দিতে ভুল করেনি।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*