বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক, সাফল্য

বিশ্বের সৎ নেতার তালিকায় শেখ হাসিনা তৃতীয়

15উত্তরণ প্রতিবেদন: প্যারাডাইস পেপার্স আর পানামা পেপার্সের পর এবার পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস, বিশ্বের পাঁচ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে চিহ্নিত করেছে, যাদের কোনো দুর্নীতি স্পর্শ করেনি। এদের বিদেশে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টও নেই, উল্লেখ করার মতো কোনো সম্পদও নেই। বিশ্বের সবচেয়ে সৎ এই পাঁচ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত ২২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে সারা বিশ্বের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় স্থান অধিকার করায় জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চান।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে। খবরে বলা হয়, বিশ্ব রাজনীতিতে যাদের সৎ ভাবা হতো, যাদের অনুকরণীয় মনে করা হতো তাদের অনেকেই কলঙ্কিত হয়েছেন পানামা পেপার্স এবং প্যারাডাইস পেপার্সে। তবে বিপরীতধর্মী প্রতিবেদন ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নেতৃত্বের সততার মান বিচার হয়েছে। প্রথম প্রশ্ন ছিল, সরকার/রাষ্ট্রপ্রধান হয়ে তিনি কি তার রাষ্ট্রের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করেছে? দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর তার ব্যক্তিগত সম্পদ কতটুকু বেড়েছে। তৃতীয় প্রশ্ন ছিল, গোপন সম্পদ গড়েছেন কি না। চতুর্থ প্রশ্ন সরকার/রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ আছে কি না। আর পঞ্চম প্রশ্ন ছিল, দেশের জনগণ তার সম্পর্কে কী ভাবেন?
এই ৫টি উত্তর নিয়ে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস ১৭৩ দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের কর্মকা- বিশ্লেষণ করেছে। এই গবেষণায় সংস্থাটি এ রকম মাত্র ১৭ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছেন যারা ৫০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১৭৩ সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকারপ্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। ৫টি প্রশ্নে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৯০।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং ৮৮ পেয়ে সৎ সরকারপ্রধানদের তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন আর ৮৭ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫ নম্বর পেয়ে বিশ্বে চতুর্থ সৎ সরকারপ্রধান বিবেচিত হয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ। আর ৮১ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।
পিপলস অ্যান্ড পলিটিকসের গবেষণায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনার বাংলাদেশের বাইরে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। সংস্থাটি গবেষণায় দেখেছে, বেতন ছাড়া শেখ হাসিনার সম্পদের স্থিতিতে কোনো সংযুক্তি নেই। শেখ হাসিনার কোনো গোপন সম্পদ নেই বলে নিশ্চিত হয়েছে পিপলস অ্যান্ড পলিটিকস। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন সৎ এবং ব্যক্তিগত লোভ লালসার ঊর্ধ্বে। তবে, তার সরকারের বিরুদ্ধে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংস্থাটির গবেষণা প্রতিবেদেন উল্লেখ করা হয়েছে।

বরিশালে হবে ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস’
বরিশালে নতুন একটি সেনানিবাস তৈরির অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এই সেনানিবাস স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। চলতি বছর অক্টোবর থেকে শুরু করে ২০২১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। একনেক বৈঠকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে কোনো সেনানিবাস নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলটিতে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়। সেনানিবাস না থাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রায় ২০০ কিমি দূরে অবস্থিত যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় হতে যশোর সেনানিবাসকে এ অঞ্চলের ২১টি জেলার প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার কর্তৃক গৃহীত ফোর্সেস গোল ২০৩০-এর আওতায় এই সেনানিবাসটি বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যবর্তী স্থান লেবুখালীতে স্থাপন করা হবে।
গত ১৫ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল হতে ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপি প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া কিছু মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় ৭১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে মংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*