বিশ্বে নারীর অধিকার আদায়ে শেখ হাসিনার ৪-দফা

Posted on by 0 comment
17

গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ

উত্তরণ প্রতিবেদক: বিশ্বে নারীর অধিকার আদায় করে নিতে নতুন জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আর এই লক্ষ্য পূরণে অস্ট্রেলিয়ায় এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ৪-দফা আহ্বান তুলে ধরেছেন তিনি।
সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’-এ গত ২৭ এপ্রিল জমকালো এক অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয় শেখ হাসিনার হাতে। সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলনের সভাপতি আইরিন ন্যাটিভিডাডের হাত থেকে সম্মাননা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি বিশ্বের নারীদের; যারা পরিবর্তনের চেষ্টায় নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।’
মিলনায়তনে উপস্থিত নারী অধিকার কর্মী ও বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের সহায়তায়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আমাদের নতুন করে জোট বাঁধতে হবে। যার যার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মূল্যবোধের জায়গায় থেকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে সেই নারীদের জন্য, যাদের সহায়তা দরকার।’
স্বাধীনতার পর থেকে নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে অগ্রগতি হয়েছে, সেসব তথ্য তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নের বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।’
২০১৭ সালের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদন থেকে উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে এ দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
এবার ২০০৯ থেকে পরপর দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকায় সুষ্ঠু, অধিকারভিত্তিক, লিঙ্গ সংবেদনশীল এবং বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বের নারীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্য পূরণে তিনি ৪টি প্রস্তাব এ সম্মেলনে তুলে ধরেন।
প্রথমত; নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে, তা ভাঙতে হবে।
দ্বিতীয়ত; প্রান্তিক অবস্থানে ঝুঁকির মুখে থাকা সেইসব নারীদের কাছে পৌঁছাতে হবে, যারা আজও কম খাবার পাচ্ছে, যাদের স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছে। কোনো নারী, কোনো মেয়ে যেন বাদ না পড়ে।
তৃতীয়ত; নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে।
চতুর্থত; জীবন ও জীবিকার সমস্ত ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী শিক্ষার উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক উদ্যোগে ভূমিকার জন্য শেখ হাসিনাকে এবার এই পুরস্কার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’।
শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার আগে নৈশভোজের পর তার জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র দেখানো হয় সম্মেলনে। ছোট বোন শেখ রেহানাও এ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং সম্মানিত বোধ করছি।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানোয় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকেও ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের সরকারপ্রধান।

‘২০ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা হচ্ছে’
বিএনপি-জামাত জোট দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিয়ে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২৮ এপ্রিল বিকেল অস্ট্রেলিয়ার সোফিটেল হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্বর্ধনায় এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর ওয়েবসাইটের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য আর ব্যবস্থাপনা ছিল বলেই দেশ আজ উন্নয়নের পথে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছিল বিএনপি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস যতই বিকৃত করুক। ইতিহাস কিন্তু প্রতিশোধ নেয়। ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বিকৃত ইতিহাস শিখানো হয়েছিল আমাদের প্রজন্মকে। কিন্তু আজকে সত্য উদ্ভাসিত। ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি জানি না এখন তারা লজ্জা পায় কি না।
তিনি আরও বলেন, ২০০৫-০৬-তে বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। আজ আমরা এ বছর যে বাজেট দিয়েছি তা ৪ লাখ কোটি টাকা। আমাদের প্রত্যেক কর্মসূচি হচ্ছে গ্রামের মানুষের উন্নতির জন্য। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি আমরা। বিডিনিউজ জানায়, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে ইতোমধ্যে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরুর কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা যেন থাকে সে প্রত্যাশাও জানান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনায় তার সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যে পরিকল্পনা নেই, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, বিএনপি কিন্তু পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিত না, অ্যাডহক বেসিসে তাদের পরিকল্পনা ছিল। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় আসার পর ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আওয়ামী লীগ সরকার বর্তমানে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কাজ চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও আশু বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়ার ফলে দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা ধরে রাখতে ক্ষমতার ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশকে যখন উন্নয়নের একটা ধারায় নিয়ে এসেছি, এটা যেন চলমান থাকে। ওই যুদ্ধাপরাধী, খুনি, জাতির পিতার হত্যাকারীদের পুরস্কৃত যারা করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না; স্বাধীন বাংলাদেশ মর্যাদা নিয়ে চলুক, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ হোকÑ এটা যারা বিশ্বাস করে না, তারা যেন আর ক্ষমতায় আসতে না পারে। আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। লাখো শহীদের রক্তের মর্যাদা আমাদের দিতে হবে।
বাংলার মানুষের জন্য আমার বাবা সারাজীবন কাজ করেছে। আমরা সেভাবেই কাজ করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যখন ভালো থাকে, একটা কিছু ভালো অর্জন হয় তখন সঙ্গে সঙ্গে রেহানাকে (শেখ রেহানা) ফোন করি, কথা বলিÑ আজকে আমরা এই অর্জনটা করতে পেরেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হাসিনা বলেন, আজকে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যেই উন্নয়নশীল দেশ না, উন্নত দেশ হিসাবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াত। তাকে তো বাঁচতে দেয়া হলো না, তাকে তো কেড়ে নেয়া হলো। ঘণ্টাব্যাপী বক্তব্যে তার সরকারের এই ৯ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

Category:

Leave a Reply