বিভাগ: উত্তরণ ডেস্ক

‘ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়ে’

11-6-2018 6-34-03 PMউত্তরণ ডেস্কঃ বিশ্বব্যাংকের নতুন ‘মানবপুঁজি সূচক’ বলছে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ মানবসম্পদ উন্নয়নে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় এগিয়ে আছে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলংকা। এই সূচকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো। বিশ্বব্যাংকের সদস্য ১৫৭ দেশের মধ্যে সবার পেছনে রয়েছে শাদ আর দক্ষিণ সুদান। শিশুদের আরও সম্ভাবনাময় করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এশিয়ার দেশগুলো। সূচকের শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকং।
গত ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্সে (মানবপুঁজি সূচক) বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন শহর বালিতে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় প্রথমবারের মতো এ সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে, পরিণত বয়সে তাদের উৎপাদনশীলতা হবে সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ। ধনী দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া শিশুরা বড় হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকা-ে যতটা সফল হবে, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর শিশুরা ততটা হবে না। এজন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকরভাবে বিপুল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আজ যে কন্যাশিশুটি জন্ম নিচ্ছে, দেশের বিদ্যমান পুরো শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ভোগ করে যখন সে বড় হবে, তখন তার উৎপাদনশীলতা হবে ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশের ছেলেশিশুদের তুলনায় কন্যাশিশুদের ভবিষ্যৎ উৎপাদনশীলতা বেশি হবে। মেয়েশিশুদের উৎপাদনশীলতার সম্ভাবনা যেখানে ৪৯ শতাংশ, সেখানে ছেলেশিশুদের সম্ভাবনা ৪৭ শতাংশ।
বর্তমান সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা কোন দেশে কীভাবে বেঁচে থাকে, তাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেমন, তার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে বিশ্বব্যাংক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজকে জন্ম নেওয়া শিশু বড় হয়ে কতটা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হবেÑ প্রতিবেদনটিতে তার বিশ্নেষণ রয়েছে। কোনো দেশ তার শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করলে ওই দেশের স্কোর বা নম্বর ১ ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের স্কোর এক্ষেত্রে দশমিক ৪৮। অর্থাৎ শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ যে মানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা থাকা দরকার, বাংলাদেশে তার অর্ধেকও নেই।
পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে নেপাল দশমিক ৪৯ ও শ্রীলংকা দশমিক ৫৮ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে আছে। এছাড়া ভারত দশমিক ৪৪, পাকিস্তান দশমিক ৩৯ ও মিয়ানমার দশমিক ৪৭। দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ চীনের স্কোর দশমিক ৬৭। ধনী দেশগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির স্কোর দশমিক ৮১। এরপর কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেনের স্কোর দশমিক ৮০। ফ্রান্স, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির স্কোর দশমিক ৭৫ থেকে দশমিক ৭৯-এর মধ্যে।
বালির ওয়েস্টিন হোটেলে গত ১১ অক্টোবর আলাদা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম ও আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টিন লাগার্ডে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের খাতিরে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মূল চালিকাশক্তি হলো মানবসম্পদ। কিন্তু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না। আমি আশা করছি, দেশগুলো তাদের নাগরিকদের জন্য আরও কার্যকরভাবে আরও বেশি অর্থ এ দুটি খাতে বিনিয়োগ করবে। তিনি আরও বলেন, সবার জন্যই প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে। বিশ্বে বাণিজ্য বিরোধ বাড়ছে, বাড়ছে পরিবেশ ঝুঁকি। ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো সক্ষম করে বিভিন্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর হিউম্যান ক্যাপিটাল গড়ে তোলা সব দেশের জন্যই কঠিন কাজ। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টিন লাগার্ডেও মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশের শিশুদের ৩৬ শতাংশই শরীরের প্রতি যতœশীল নয়Ñ এ কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে শারীরিক দুর্বলতা ও অক্ষমতা নিয়ে তাদের সারাজীবন বেঁচে থাকতে হয়। বাংলাদেশে আজ যে শিশুটি জন্ম নিল, তার পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ, ৩ শতাংশ শিশু পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে। যে শিশুটি ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচল, ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ, ১৫ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন রোগে তাদের ১৩ শতাংশই মারা যায়।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বলছে, বিশ্বব্যাপী জন্ম নেওয়া শিশুদের ৫৬ শতাংশই উপযুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবে তাদের অর্ধেক সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের শিশুরা সাড়ে ছয় বছর বয়সে স্কুলে যায় এবং স্কুল শিক্ষা (১১ ক্লাস পর্যন্ত) সম্পন্ন করতে ১৮ বছর লেগে যায়।

পাঠকের মন্তব্য:

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না। তারকাচিহ্নযুক্ত (*) ঘরগুলো আবশ্যক।

*